প্রণব পাল-এর কবিতা

ফয়সালা

অস্থির নক্সিকাঁথা আঁকার বাসস্টপ ধরি। এই যে হাওয়ায়া শূন্য আঁকা আর শূন্যের পেটে বুনে চলা সোয়েটার জুড়ে কুরুশ কাঁটার ঘর ডিঙোন নাচ। একটা ধুলো চাই। ধুলোর তুলেধোনা অদৃশ্য। তবে না গাছের ডগায় মুন্ডু দুলিয়ে দোলখাবে গ্লোব। মাচায় কুমড়ো ঝুলবে। মহাবিশ্বের বিগ ব্যাং তোমার মাথায় ছুটবে। চোখে খেলবে খোকা-আলোর এক্কাদোক্কা। ভুল হলেও যাত্রা আছে তবেনা অভিমান। তুমি ভ্রমণ আঁকছো আর ভ্রম টুকলে না! আমার ধুলো যারায় এসো, দেখবে তিন নম্বর পৃথিবীর টেকনোলজিতে কান্নাকে বাষ্পীয়ে এক অদ্ভুত গণতন্ত্র চলছে নুলোদের নিয়ে। কতো জগন্নাথ মন্দির ছেড়ে গ্রামগঞ্জের সিমকার্ডে হাডুডু খেলছে। কেউ কাউকে ছুঁতে পারছে না আর সংবিধান চিবোচ্ছে এক নম্বর পৃথিবীর চাঁদমামা। মরুভূমি পেরচ্ছি আর একবিন্দু বালুও লাগছেনা গায়। বড়ো মিথ্যেমজার অক্ষর খেলা। ধ্বনি কাঁকার নতুন ইস্‌কুলে একটা বিমূর্ত ব্রহ্মান্ড ছুটছে মাতাল ডাঙায়। ডিলিরিয়ামকে মিলিনিয়ামের অভ্যর্থনা। তার চেয়ে চলো অন্ধকার ফাটাই। আর বহুমুখী লাল পিঁপড়েরা ছড়িয়ে পড়ুক ভুবন ডাঙায়। না বলা কথার একটা ফলসালা হোক।

মানচিত্র

মানচিত্রের মুখোমুখি। জলছবির আয়নায় ঘেরাও আমাকে আঙুল তুলছে। গলে যাওয়া অরণ্যের সবুজ না দেখে শুধু বরফের গয়নায় রানীদের সাক্ষাতকার দিয়েছি। ছুটন্ত চৌরাস্তার পেটের ব্যাথায় সুবর্ণ গোলকধাঁধাঁইয় কফিবাড়ি আর বৃষ্টি কুড়িয়েছি নতুন বাগানে। একটা মাকড়সার জালে গোটা গ্রহ ফাঁসিয়ে যারা একটু একটু ক’রে খোকলাচ্ছিল তাদের ভিটামিন দিতে এক একটা কাব্যগ্রন্থ উৎসর্গ হচ্ছিল। বইমেলার মোচ্ছবে বিকোচ্ছিল আপদমস্তক বেশ্যার জামা আর শেয়ারে দর বাড়ছিল চড়া রোদের।

শান্ত ঘুমের মধ্যে কত চাঁদ ওঠে মানুষের। জোছনামৃত বারান্দায় রোমান্টিকবাদের ধোঁয়া ওড়ে অথচ কোথাও কেউ পুড়ছে না। অদ্ভুত এলাস্টিক যুগ। আগুন ও ওয়াটারপ্রুফ জ্যাকেটে ভারি হচ্ছে পোয়াতির পেট। গাছেদের প্রেগনেন্সি নেই। ওয়াটারপ্রুফ জ্যাকেট নেই। গলে পড়ছে আর পচে যাচ্ছে সবুজ। ধুসর হচ্ছে মানচিত্র।

যাযাঘর

নীরবের পায়ে বসি। আমার উল্লাস শুয়ে নদীর ওপারে। একশ ফুট বেঁচে আছি একলক্ষ ছিয়াশি হাজার ডিঙিয়ে। গাছের নাম অন্ধকার। তাকে ঝাঁকাই। বন্ধুরা কলরব করে ওঠে। এক হাজার পৃথিবীর শূন্যস্থান বলে ওঠে মুদ্রাস্ফুরণে। রোদ ঠোক্কর খাচ্ছে জোছনা হবার আগে আর বিমুর্ত পেনের ডগায় ঝরছে ঝলমলের অন্ধকার। ফোটার আগে ফুলের নীরবতায় গ্রহের জন্মগ্রহনের মধ্যে ঢুকে পড়ছে চশমার অজ্ঞাতবাস। গন্ডি ভেঙে রাখা পা কাঁপছে চোখের সুরমায়। বিন্দু ভাঙছে আলো ভাঙছে, অন্ধকার খানখানিয়ে বহুমুখী আলোর্ণায় ছুটন্ত মহাকাশ পেটে ধরছে আমায়। আমায় পয়দা করছে হাজার পৃথিবীর হাহাকাশ। মহাকাশের বাচ্চায় ভুরে যাচ্ছে অজানা স্পিলবার্গীয় নাঙ্গা ভুবন। হুল্লোড়মুখী দুনিয়ায় পকেট ভরা বদনাম। গাছেদের ছানাপোনায় শূন্যে আঁকা এই সবুজ ম্যায়ফিল আমার ঘুমনো মাথায় লিখছে জাদুর জাগরণ। বহুবচন সূর্যে বহুমুখী আলোয় ঘরহারা কবিতা আজ ছন্নছাড়া যাযাঘর।

পুব উঠছে

মানো চপ্পল জাগাই। একলার মাইলস্টোন ভেঙে স্টেশনহারা ট্রেনরুট লিখি। চোখে চোখে কত জাগরণ আর অবুঝ কুরুশ বুনে যাচ্ছে বুনো অন্ধকার। মেট্রো থেকে রোজ কারা নামে! কারা ওঠে সূর্যের আগে! পাহাড় ও মেঘের দোস্তি নিয়ে তুলি উঠছে রং নামছে আর ফুল খুলছে ক্যারামতির গায়। একটা ভুল চলনেই যতো আনন্দ। তাস বাটতে বাটতে একটা জিন্দেগী খরচ করার আগে এই সিকিমি রুটির উত্তাপ মাখা সোয়েটার পরি। গরম চায়ের ভাপে জবরদস্ত মাইনাস ডিগ্রী মিশিয়ে বুটে রোদ্দুর পালিশ। জোনাকির সোনাকি আলোয় জঙ্গল আঁকি পাগল রংভাসে। চার চাকায় ছুটছে একটা মহল। কবিতা ছিঁড়ে ভ্রমণ পড়ছে আমাদের পায়। সব চুরমারের মধ্যে একটা নির্মাণ আঁকছে বর্ণমালা। গাছে গাছে কারা যেন স্বরবর্ণ বুলিয়ে অক্ষর ফোটায় ফলের ডগায়। কচি আমের গন্ধে পাগল মুকুল অস্থির পংক্তি লিখছে নিজের সোনালিমায়। জল ফোটানো ইলেকট্রিক কেতলির বুদবুদ উঠছে ফুলেফেটে। হাতের পাতায় শ্বাস নিচ্ছে শব্দহারা নিঃশব্দের কথাবলি। একটা দীর্ঘ আঁকা হচ্ছে হ্রস্বস্মিতার অনুস্ফূরণে। কোথাও ডিম ফুটছে কুসুমে কুসুমে আর সাত পাগল রং ছড়িয়ে পুব উঠছে খাতার উল্টোপাতায়।

Facebook Comments
Advertisements

Leave a Reply