আপনি কি জানেন, অপরজন এখন প্রকাশনার পথে? অপরজন প্রকাশনীর ছয়টি বই এখন প্রকাশের অপেক্ষায়। বইগুলির নাম খুব শিগ্রীই জানানো হবে।

উদোমডাঙা নিয়ে দু’-পাঁচটা কথা যখন বলতে ইচ্ছা করছেই – নীলাব্জ চক্রবর্তী

“একটি উপন্যাসের গল্প”

এক কাজ করি। এক মিনিট দাঁড়ান প্লিজ। উদোমডাঙা বইটার শুরুতে পরিচয়ের পাতায় কী লেখা আছে দেখি আগে।

UDOMDANGA: A story about a fiction in Bengali by BARIN GHOSAL

আর… বইয়ের প্রথম পাতায় লেখা…

উদোমডাঙা

……………..

একটি উপন্যাসের গল্প

আচ্ছা। একটু একটু বোঝা যাবে এবার তবে। একটা উপন্যাস লেখার গল্প তাহলে। সেই উপন্যাসটার নামও আবার ‘উদোমডাঙা’। বাপী লাহিড়ী নামের একজনের লেখা উপন্যাস উদোমডাঙা বই হয়ে প্রকাশিত হতে চলেছে। প্রায় এইভাবেই শুরু হয় বারীন ঘোষালের ‘একটি উপন্যাসের গল্প’… ‘উদোমডাঙা’…

এটা ঘটনা যে বারীন ঘোষালের কবিতা, কবিতার বইগুলো তথা কবিতাতত্ত্ব যতটা আলোচিত, আড্ডায়িত, চর্চায়িত এবং ব্যক্তিগত বারীন যতটা এবং যতবার উঠে এসেছেন বিভিন্নভাবে – গল্পকার অ্যাণ্ড / অর ঔপন্যাসিক বারীনকে নিয়ে তার এক সামান্য ভগ্নাংশও লেখা হয়নি। হয়তো মাটাম একটু হয়তো জিন্দাবাদ খালকো কখনও… ব্যাস। যদি ভাবি, বারীনের ‘উদোমডাঙা’ অনালোচিতই রয়ে গেছে এবং ফলতঃ, খানিকটা চোখের আড়ালেই… ভুল হবে না বোধহয়। কী বলেন ?

“সবুজ পিগমেন্টে এত ক্ষমতা ছিল ভাবা যায়নি

অবনী, যমুনা, কুসুম এই নামকয়েকটা নিয়ে কিছু লিখি বরং এখন।

বাংলা ভাষার অন্যতম বিখ্যাত এক কবিতা শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের অবনী বাড়ি আছ। বারীন অবনী নামটি নিয়ে একটা চরিত্র বানালেন যে কিনা, বস্তুতঃ, উদোমডাঙার প্রোটাগনিস্ট বাপী লাহিড়ীর স্ত্রী রেবা-র প্রেমিক। যে কিনা রেবার তথা বাপী লাহিড়ীর বাড়ির দরজার সামনে এলাকার লোকের হাতে চোর হিসেবে ধরা পড়ে আর তারপর রেবা-প্রবীর-বাপী-অবনীর এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য রচিত হয়। তারপর ধরুন যমুনা। যমুনা, আ, বস্তুতঃ, এ উপন্যাসের প্রাণ, টার্মিনাল অসুখে আক্রান্ত, উচ্চশিক্ষিতা, প্রেমের প্রতীক? জানিনা মশাই। তবে, জানেন, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস আত্মপ্রকাশের যমুনাকে মনে পড়বে আমার। মনে পড়বে, ‘যমুনা কোথায়’। আরও বলি? হায় কুসুম… হায় শরীর শরীর… আরও বলবো? তোমার মন নাই কুসুম? মানিকবাবুর পুতুলনাচ মনে পড়বে না বারীন ঘোষাল? এগুলো কতদূর ইচ্ছাকৃত তাই ভাবি আসলে। কতদূর উসকে দেওয়া এসব ব্যবহার… কার স্মৃতি কোথায় রাখতে চেয়েছেন ঘোষাল… কতরকমভাবে হাত ফিরিয়ে তৈরী করেছেন নানা অবিশ্বাস্যতা… হয়তো বোঝাতে চেয়েছিলেন উদোমডাঙার বিশেষ গুরুত্ব এর ফ্রেম আর অবিশ্বাস্যতায়। হ্যাঁ, অ্যাবসার্ডিটি। হয়না, তবু, যদি এমন হতো…

নার্সিংহোমের বিছানায় যমুনা ভাবছে… ফ্ল্যাশব্যাক… মোষের পিঠে যমুনা আর বাপীর সঙ্গম-দৃশ্য… এয়ারপোর্ট থেকে ট্যাক্সিতে ওঠা বিদেশ-ফেরত জ্যোতির্ময়ের একা একা কথা বলে যাওয়ার দৃশ্য… এরকম কত অভূতপূর্ব… একদম শেষদিকে, যমুনা মারা যাচ্ছে আর জ্যোতির্ময়-বাসন্থী বৃক্ষায়ন-সবুজায়ন-চিপকো নিয়ে কথা বলতে বলতে মনের মতো স্বপ্ন খুঁজে নিচ্ছে…

ভাবি, কীভাবে ফ্রেম ভাষা হয়ে ওঠে… এক ব্যবহার হয়ে ওঠে… চশমা বদলে বদলেও আমি তার সবটা ধরতে পারিনা… সিনেম্যাটিক বলব উদোমডাঙাকে। আমি জানি না, কেউ কখনও সিনেমা বানাবার কথা ভেবেছেন কিনা উদোমডাঙা নিয়ে। ভাববেন প্লিজ? নেড়েচেড়ে দেখবেন না এর মধ্যে থাকা সিনেমা-মেটেরিয়াল?

“পিছন থেকে পরিচালক চিৎকার করে উঠল –‘লাইটস্’হুড়মুড় করে আলো জ্বলে উঠল

জ্যান্ত এক লেখা উদোমডাঙা। জ্যান্ত এক ত্রিভুজ উদোমডাঙা। এর তিনটে বাহু। না। কোণ। লেখক, কাহিনী আর পাঠক। তারপর, লক্ষ করতে হয়, ত্রিভুজের তিনটি কোণের সমষ্টি একশো আশি ডিগ্রি নয় এখানে। বদলে যাচ্ছে। এমনকি, কখনও যাকে সূক্ষ্মকোণ মনে হচ্ছে, কিছু পরে সে আসলে সমকোণ, আবার পরে স্থূলকোণের মতো আচরণ করবে হয়তো। ফলতঃ, আপনাকে একটা অশান্তি দেবে, খোঁচা দেবে এই কৌণিক ভরবেগ, তুমুল ডিস্টার্বেন্স তৈরী করবে…

এখানে প্রোটাগনিস্ট নগ্ন হয়ে নিজেকে নানাভাবে জরিপ করবে অন্যকে নানাভাবে জরিপ করবে একটি শিশুকে নানাভাবে জরিপ করবে… ব্যালেন্স আর ইমব্যালেন্স নিয়ে… সিমেট্রি আর অ্যাসিমেট্রি নিয়ে… আর… সিদ্ধান্তে পৌঁছবে, “সে শিশু সে এখনো ডান বাঁয়ের তফাৎ জানেনা সে সামাজিক নয়।” এরপর হয়তো আপনিও আস্তে আস্তে ভাবতে পারবেন উদোমডাঙা একটি রাজনৈতিক উপন্যাস… না, স্রেফ যমুনার ভাই চিরঞ্জীবের জন্য নয়… তার কাঠামোর জন্য… বক্তব্যের জন্য… বারীন ঘোষালের ভাষা-ভাবনার কবিতা –ভাবনার গভীর ইঙ্গিতময়তার জন্য… আরেঃ ছোঃ, রাজনৈতিক বলতে আপনি স্রেফ কয়েকটা ভোটে-লড়া দল ভেবে এসেছেন বুঝি এতদিন?

একটু লক্ষ করি উদোমডাঙা নির্মাণের ভাষা-ভাবনার বারীন ঘোষালকে… মদের ঠেকে একজনের মুখে “আর কোন ভয় নাই আরপিঅ্যাফ পন্দে কাঠি দিয়া ঘুমায়…” শুনে বাপী ভাবছে “পোঁদের চেয়ে পন্দে শব্দে ভালগারিটি কম অ্যাডজেকটিভিটি বেশী। পন্দে পন্দে পন্দে বন্দে বন্দে একই বর্গের কথা হয়ে বন্দে মা – মাই হচ্ছে শব্দ যা হচ্ছে ওম্-এর বাংলা আবেদন যা নাভি থেকে উঠে আসে, কিন্তু ওই বন্দে মাতরম বলে অন্যের ওখানে কাঠি গুঁজে দেবার অভ্যাস আমাদেরই তো আছে।”

আবার, এক জায়গায় দেখি প্রবীর কবিতা লেখা নিয়ে আট দফার এক “কারিয়াক্রম” তৈরী করেছে আর বাপীকে শোনাচ্ছে। তার মধ্যে থেকে একটা-দুটো এখানে লিখতে ইচ্ছা করছে।

১) উপমা থেকে বেরিয়ে এসেছি, ‘মতো’ শব্দটা ব্যবহারই করছিনা।

২) ছবি ফুটে উঠলেই ছিঁড়ে ফেলছি, ছবি চাইনা জ্ঞানতঃ।

ইত্যাদি প্রভৃতি… এমনকি “প্রতীক চিনতে পারলেই বাদ, কেটে দাও শূন্য। বরং বিপ্রতীক।”

হ্যালো পাঠিকা-পাঠক, মনে পড়ছে কোনও কবিতা-আন্দোলনের কথা? কোনও প্রায়-ইশতেহারের কথা? বাস্তবের কথা? কবিতার ভবিষ্যৎ এবং বারীন ঘোষাল এখানে এভাবে উদোমডাঙায়… চরিত্রদের সাথে…

এভাবে, চরিত্রদের স্বগতোক্তি আর কোলাহলে ক্রমশ ডায়নামিক হয়ে ওঠে উদোমডাঙা। ক্রমশ টাইম-ফ্রেম-স্পেস-ক্যারেকটার গুলিয়ে যেতে দেওয়া হয়… গল্পের ভেতর গল্প, এই বুননের ফলে তখন উদোমডাঙার ভেতরকার গল্পের কাঠামো একইসাথে খুলে পড়ে আর জুড়ে যায় উপন্যাসের কাঠামোর সাথে। উপন্যাসের বাস্তব আর কল্পনা, স্বপ্ন আর মাতলামি, এক্সট্রাপোলেশন আর বর্ণনা, কে কার ভেতর অনুপ্রবেশ করতে থাকে বলা মুশকিল করে দেন বারীন। আমরা লক্ষ করি, পরিস্থিতিগুলো ওভারল্যাপ করতে থাকে আর যেন বা রোল রিভার্সালের মহড়া চলতেই থাকে পুরো বইটার শরীর জুড়ে। যেন বোতামের মতো ঘর বদল করছে চরিত্ররা। অর্থাৎ কখনোই প্রেডিক্টেবল হয়ে উঠছে না এই উদোমডাঙা। কী বলবেন? ক্যাওটিক চলন? জটিল নির্মাণের জন্য বেছে নেওয়া এই স্ট্রাকচারাল অ্যাপ্রোচের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকলেন বারীন আর দাঁড় করিয়ে রাখলেন গোটা উদোমডাঙা, যা নাকি, প্রাথমিকভাবে ১৯৮১ তে ‘গল্পহীন প্রবন্ধহীন একটা নিরোধ গদ্য’ হিসেবে লেখা হয়েছিল আর WASTELANDএর বাংলা করে নাম দেওয়া হয়েছিল, উদোমডাঙা! যা, বস্তুতঃ, বারীন ঘোষালের নিজের কথায়…‘অনবরত স্ববিরোধ করতে থাকা’…

সামান্য একটা উদাহরণ রাখা যাক এখানে। বাপী ও রেবার পুত্র বাবলু কতবার কতভাবে এসেছে এই আখ্যানে। অথচ, খালাসিটোলা থেকে মদ খেয়ে একসাথে বাপীর বাড়ি যাওয়ার সময় প্রবীর যখন বাবলুর জন্য ক্যাডবেরী কিনতে চায়, প্রবীরকে এবং উদোমডাঙার সমস্ত পাঠিকা-পাঠককে বিপর্যস্ত করে দিয়ে বাপীর মুখ দিয়ে বারীন ঘোষাল বলিয়ে দেন, “যাঃ বাবলু কোথায়? বাবলু তো নেই এর মধ্যে!”… আরও বলান, “বাবলু আমারই বানানো তো, নয়? উপন্যাস বা উদোমডাঙাও তো আমারই বানানো, নয়? তাহলে দু’টো বানানো মেকী ব্যাপার মিশিয়ে ফেলার যুক্তি কোথায় পেলে তুমি? দুটো মিথ্যে, দুটো মেকী কখনও মেশেনা, খাপ খায় না…”

এই বিভ্রান্তির মধ্যে এসে, মনে পড়ে আমার অত্যন্ত প্রিয় লেখক শহীদুল জহিরের কথা। তাঁর নির্মিত সমস্ত গল্প ও উপন্যাস এই সঙ্কটে ফেলে দেয়। অপশনস রাখা পছন্দ করতেন শহীদুল, নিজেই বলেছিলেন এক সাক্ষাৎকারে। তাঁর চরিত্ররাও প্রায়শই বিভ্রান্ত, ফলতঃ, পাঠিকা-পাঠকও। অনিঃশেষ এই খেলা সহজ নয়। ইনফ্যাক্ট উদোমডাঙায় শহীদুল জহিরের কথা মনে পড়বে একেবারে শেষেও। উদোমডাঙার শেষ “হাওয়া উঠলে” এইটুকু লিখে। কোনও যতিচিহ্ন ছাড়া! এরপর শহীদুল জহিরের ‘আমাদের কুটির শিল্পের ইতিহাস’ গল্পটির কথা মনে না পড়লে চলবে কেন? সেই গল্পে কোথাও কোনও দাঁড়ি নেই। এমনকি শেষেও না, হুঁ, নির্মাণ!

উদোমডাঙায় ফিরি। কার্যতঃ, গোটা উপন্যাস জুড়ে আমরা দেখি, উদোমডাঙা আর উদোমডাঙার ভেতরের উদোমডাঙার মধ্যেকার যে যাতায়াত, যে সেতু, তা ইচ্ছাকৃতভাবে গুলিয়ে দেওয়া হয়। ভেঙে দেওয়া হয় অন্তর্বর্তী লজিক্যাল রিজনিং। এভাবেই ন্যারেটিভের নিশ্চিন্ত রুটম্যাপকে আক্রমণ করেন আর বারবার তছনছ করে দেন বারীন ঘোষাল।

এভাবে… বাপী, প্রবীর, এস আর, শর্মিলা, কুসুম, রেবা, যমুনা, বাবলু, জ্যোতির্ময়, সুভাষ, বাসন্থী, অবনী, আমি, বারীন… ওহহহ…

আমি কোথায় ? বারীন কোথায় ? বারীঈঈঈঈন… বারীনদাআআআ…

বারীন ঘোষাল চলে যাওয়ার প্রায় সাড়ে ন’ মাস দশ মাস বাদে শ্রাবণে ভাদ্রে তৈরী করা এইসব আষাঢ়ে সংলাপ

— হ্যালো বারীনদা…

— হ্যালো নীল। কেমন আছিস বল…

— এই তো। লড়ে যাচ্ছি অ্যাজ ইউজুয়াল…

— হুঁ। আর বল। কী পড়ছিস এখন? কী চলছে? কোথাও যাস না… মিশিস না কারোর সাথে…

— দাঁড়ান দাঁড়ান। ওসব ছাড়ুন। আজ ‘উদোমডাঙা’-র ব্যাপারে একটু কথা বলব আপনার সাথে…

— আচ্ছা (হাসি)… তুই বল… আমি শুনি… পড়লি তাহলে উদোমডাঙা?

— হ্যাঁ (হাসি), অনেক কিছু গুলিয়ে গেল যে। আগে পড়লে ভাল হতো…

— (হাসি) সে ঠিক আছে।

— হ্যাঁ, আসলে উদোমডাঙা নিয়ে কথা তো হতেই পারে, লিখলাম তো কিছু কিছু যা মনে হল, পড়াতে চাইছি আপনাকে… তবে, জানেন, এখন আপনাকে আরও অনেক কিছু বলতে ইচ্ছে করছে বারীনদা…

— হুঁ। দ্যাখ, তোর যা মনে হয়েছে তুই লিখবি… এতে আমার কী বলার থাকতে পারে… তোর আরও কিছু বলার থাকলে বল বরং…

— (হাসি) একটা মাইনর খটকা আছে কিন্তু বারীনদা, সত্যি… দেখুন একটা শব্দের, র‍্যাদার, একটা ফ্রেজের ব্যবহার নিয়ে আমার সিরিয়াসলি একটু বক্তব্য আছে… না না, তেমন কিছু না, ধরুন, সেই যে, রাস্তার পাখিওয়ালা বিহারী জ্যোতিষী ভাগ্য বিচার করে রেবাকে ‘প্রেম দিওয়ানি’ বলবে, বলবে, ‘কপাল মা’ আর রেবা পরে ‘প্রেম দিওয়ানি’ এই শব্দদুটির মোহে পড়বে অল্প, এখানে শব্দটির ব্যবহার আমার কাছে গণ্ডগোলের মনে হয়েছে। প্রেমের জন্য পাগলিনী, এই তো মানে হওয়া উচিৎ, না? অথচ প্রেম / ভালোবাসা পাবে সারাজীবন… সবাই রেবার প্রেমিক হবে, এরকম একটা মানে রাখা হয়েছে… এইটুকু বলার।

— কী বলি নীল, এখন, এ ব্যাপারে… তোর যা মনে হয়েছে তুই লেখ…

— আর… আজ আপনাকে বলতে ইচ্ছে করছে… কখনও আপনার চিঠি পড়ে রাগ করেছিলাম বারীনদা। দশ-বারো বছর আগে। কখনও রাগ করে বলেছিলাম, গুরুদেব তো আজকাল শান্তিনিকেতনে থাকেন না, জামশেদপুরে থাকেন আর মাঝেমাঝে কলকাতায় এসে বলে যান কার কোন কবিতা ‘নতুন কবিতা’ হল কি হল না। সেও মোটামুটি দশ-বারো বছর আগে… পরে… ধীরে ধীরে…

— আমি সবটা জানিনা নীল। তাছাড়া আমি কিছু মনে করিনা। কতলোক তো কতকিছু বলেছে… ছাড়… আগে বল। অন্য কথা বল এবার। ভ্যাঁপ্রসাদ কেমন আছে? সাঁতার শিখল পুরোপুরি?

— এবার কিন্তু সত্যি সত্যি অবাক হচ্ছি বারীনদা। এটা আমার টেক্সট। আপনাকে ইচ্ছেমত কথা বলাব বলে এই আষাঢ়ে গপ্পো ফাঁদলাম… এখন… মুশকিল… এখানে এগুলো আসছে কীভাবে? সাঁতারের ব্যাপারটা তো আপনার কোনোভাবেই জানার কথা না…

— (হাসি)

— হ্যাঁ বারীনদা… ভ্যানোপ্রসাদ ভাল আছে… সাঁতারে এখনও অল্প ভয়… আর… জানেন… আপনার কথা বলে মাঝেমাঝে… ইয়ে, এবার এই অংশটা শেষ করি বারীনদা… আরও অনেক কিছু বলতে ইচ্ছে করছে এখন… কিন্তু, থাক। লোকে বলবে…

— আরে লোকে কী বলবে না বলবে সেই নিয়ে তুই কখনও… কিছু পাওয়ার আছে তোর? কিছু হারাবার আছে? তাহলে?… আচ্ছা ছাড়… চল… শেষ করি… ভাল থাকিস নীল…

“পূব আর ফুরোয় না”

উদোমডাঙা বইটির গোড়ায় আসি আরেকবার। উৎসর্গপত্র। লেখা আছে, ‘শংকর ও কণিকা লাহিড়ী’। আজ্ঞে, মোটরহোমের আর মুখার্জী কুসুমের আর… হ্যাঁ, আরও অনেক অনেক কিছুর শংকর লাহিড়ী। মনে পড়বে, বইটির ৩৫ নম্বর পাতায় প্রবীর যখন লেখক বাপীকে উদোমডাঙা বিষয়ে প্রশ্ন করে, উপন্যাসটা সম্পর্কে আগ্রহ দেখায়, তখন বাপী বলে, “শঙ্কর নামে এক বন্ধু আছে আমার। তার থেকেই খানিকটা বাপী লাহিড়ী আমি, বুঝলে? কিছুটা পড়ার পর সে এখন চশমা চোখে রাখে, অত সুন্দর বাবরী চুল কেটে ছেঁটে একজন ননডেস্ক্রিপ্ট হয়ে গেল। তুমিও গর্তে পড়ে যাবে, তার চেয়ে একটা ধাঁধা বল দেখি।”

শুধু এই কথাটুকু লেখার জন্য একটা আলাদা অনুচ্ছেদ বানাতে হল আমায়! তাও আবার সবার শেষে! নিজেরই আশ্চর্য লাগছে এখন। যাই হোক, আমার কথা শেষ। পাঠিকা হে পাঠক হে, আপনার আপনাদের উদোমডাঙা ভ্রমণ শুরু হোক এবার…

Facebook Comments
Advertisements

Leave a Reply