আপনি কি জানেন, অপরজন এখন প্রকাশনার পথে? অপরজন প্রকাশনীর ছয়টি বই এখন প্রকাশের অপেক্ষায়। বইগুলির নাম খুব শিগ্রীই জানানো হবে।

গল্প : অর্ক চট্টোপাধ্যায়

আত্মপ্রেতহনন

থাকলে কেটে যায়, কিন্তু না থাকাগুলো? না থাকাগুলো কিভাবে কাটে? লোকটার যখন বয়স কম ছিল, দোস্তলোগ প্রায়ই বলতো, একটা সময় আসবে যখন তার গন্তব্য হবে পাগলাগারদ কিম্বা আত্মহত্যা। তখন মনে হত বন্ধুরা মজাক করছে, কিন্তু আজ অনেক বছরের পার, মনে হয় কে জানে হয়তো তারা মজা করছিল না! হয়তো লোকটা ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছিলো, অ্যাসাইলাম বা আত্মহননের পথে। 

“I loved Science, Stars, Nature, but then I loved people without knowing that people have long since divorced from nature. Our feelings are second handed. Our love is constructed. Our beliefs colored. Our originality valid through artificial art. It has become truly difficult to love without getting hurt. The value of a man was reduced to his immediate identity and nearest possibility. To a vote. To a number. To a thing. Never was a man treated as a mind. As a glorious thing made up of star dust. In every field, in studies, in streets, in politics, and in dying and living.”

বড়ো আম্মীর কথাগুলো আশি ছোঁয়ার পর থেকে কান্নায় জুড়ে গেছে। কথার থেকে কান্নাই বেশি মনে হয়। অন্তত শুনতে গেলে অমনটাই লাগে।  কথা বলে না। দেখলে কাঁদে। আবার কান্নার তোড়ে অনেকসময় হঠাৎ হঠাৎ অনেকগুলো কথা বেরিয়ে আসে। যেমন সেদিন বেরিয়ে এলো। লোকটা বসেছিল কান পেতে। বড়ো আম্মী বলে চলছিল।   

বড়ো আম্মীর এক ভাই ছিল। সে গলায় দড়ি দেয়। কেন জানা যায়নি। বড়ো আম্মী তখন খুব ছোট। দরজা খুলে দেখেছিল ভাইজান পাখা থেকে ঝুলছে। তারপর থেকেই ভয় পেতো। লোকটা আম্মীর থেকে এই ভয়ের গল্প শুনেছে। সারাজীবন। আজ অনেকদিন পর আবার কান্নার তোড়ে বেরিয়ে এল পুরোনো গল্প। বাড়ি থেকে বেরিয়ে কলতলায় যাবার সময় ভয়। গাছের ছায়ায় ভয়। পুকুরপাড়ে ভয়। ভাইজানের রূহ এসে ভর করতো। তারপর কাটতো কি করে? থাকলে কেটে যায়, কিন্তু না থাকাগুলো? না থাকাগুলো কিভাবে কাটে?

বড়ো আম্মীরও তো এক আম্মী ছিল। তার ততদিনে নিধন হয়ে গেছে। তিনি আসতেন। এসে ভাইজানের রূহকে তাড়িয়ে দিতেন। ভাইজান আম্মীকে নিয়ে যেতে চাইতেন আর আম্মীদিদা ওকে আটকাতেন। এরকম এক বছর চলে। ভালো আর মন্দ রূহের এই গল্প শুনে শুনে বড়ো হয়েছে লোকটা কিন্তু আজকের আগে খেয়াল হয়নি যে এগল্পের রূহে দফন রয়েছে আত্মহত্যা। আজ মনে হচ্ছে, এগল্প যত ভূতের, তার থেকে বেশি আত্মহত্যার। কিন্তু লোকটার দোস্তলোগ তো আর এই গল্প কখনো শোনেনি। লোকটা পরিবারের বাইরে কাউকে বলতে চায়নি। তাও তারা কি করে বুঝতে পেরেছিল, লোকটাও একদিন?  

আজ এতবছর ধরে বন্ধুদের সঙ্গে লোকটার নানা ছবি উঠেছে। তখনো স্মার্টফোন আসেনি বাজারে। সোশ্যাল মিডিয়া ছিল না। ছবি উঠতো ক্যামেরায়। আগে অ্যানালগ, তারপর ডিজিটাল। সেসব ছবির অধিকাংশই লোকটা কোনদিন দেখেনি। হয়তো সেগুলো রয়েছে বন্ধুদের অ্যালবাম বা কম্পিউটারে। হয়তো অধিকাংশ আদৌ নেই। কোনওদিন সেসব না দেখা ছবির কথা বিশেষ মনেও হয়নি লোকটার। কদিন আগে এক পুরনো বন্ধুর সঙ্গে যখন দেখা হল, কেন জানিনা লোকটা নিজেই তার বন্ধুকে বললো, এতোবছরে বন্ধুদের সঙ্গে তার যা যা ছবি আছে, সে-সব সে দেখতে চায়। বন্ধু বললো, বেশ, চেষ্টা করবে সেইসব ছবি জোগাড় করতে। 

অনেকক্ষণ ধরে লোকটা একটা চিঠি পড়ছিল। ইংরেজিতে লেখা এক আত্মহননপত্র। পড়ছিল: “I am writing this kind of letter for the first time. My first time of a final letter. Forgive me if I fail to make sense. My birth is my fatal accident. I can never recover from my childhood loneliness. The unappreciated child from my past. May be I was wrong, all the while, in understanding world. In understanding love, pain, life, death. There was no urgency. But I always was rushing. Desperate to start a life. All the while, some people, for them, life itself is curse. My birth is my fatal accident. I can never recover from my childhood loneliness. The unappreciated child from my past. I am not hurt at this moment. I am not sad. I am just empty. Unconcerned about myself. That’s pathetic. And that’s why I am doing this.”

লোকটা ভাবছিল বড়োআম্মীর কথা। আম্মীদিদার কথা। ভাইজানের কথা। এদের কজনকে ও দেখেছে? আর কজনকে দেখেনি? লোকটা ভাবছিল, ভালো রূহ, খারাপ রূহ, ভূত, ভয় আর আত্মহত্যার গল্পগুলো কি করে বলে যাবে? কাকে বলে যাবে? ভাবছিল, ওর বন্ধু ওদের ছবিগুলো পাঠাবে কিনা? ভাবছিল পাগলাগারদ আর আত্মহত্যার ব্যাপারটা কি মজাক ছিল না অন্যকিছু? লোকটার হাতে ব্লেড ছিল। থাকলে কেটে যায়, কিন্তু না থাকাগুলো? না থাকাগুলো কিভাবে কাটে?  

Facebook Comments
Advertisements

Leave a Reply