অনুবাদ কবিতা : হিন্দোল গঙ্গোপাধ্যায়

[২০০৮ সাল পরবর্তী পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক মন্দা সমগ্র বিশ্বের মতো প্রভাব ফেলেছিল গ্রীসেও। প্রবল মূল্যবৃদ্ধি, দেশীয় মুদ্রার মূল্য হ্রাস, কর্মহীনতা, সরকারী ঋণ গ্রীসের অর্থনীতিকে প্রায় পঙ্গু করে দিয়েছিল। ২০০৯ সাল নাগাদ গ্রীস এই অর্থনৈতিক মন্দার মোকাবিলা করার জন্য ব্যয়সঙ্কোচের নীতি বা ‘অস্টারিটি মেজারস’ চালু করে। ইতিমধ্যে গ্রীসের সংসদে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্তে ভোট গ্রহণ হয়ে গিয়েছে। হয়েছে ‘গ্রেক্সিট’ আন্দোলন। প্রবল অর্থনৈতিক সঙ্কটে জর্জরিত গ্রীসের মধ্যবিত্ত সাধারণ মানুষ তখন ধুঁকছে। এবং তাদের সামনে বেঁচে থাকার অবলম্বন হয়ে উঠছে শিল্প। অর্থাভাবে বড় এবং মাঝারি আর্ট গ্যালারিগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই, আশা-নিরাশা, প্রতিবাদ চিত্রিত হচ্ছে রাস্তায়, দেওয়ালে, গ্রাফিত্তিতে। মিশ্র মাধ্যমের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করছে ২০১০ পরবর্তী গ্রীস। লেখা হচ্ছে কবিতা।
এবার থেকে ‘অপরজন’-এর ওয়েব এডিশনে ধারাবাহিক ভাবে সেই কবিতার অনুবাদ। অনুবাদ করেছেন হিন্দোল গঙ্গোপাধ্যায়। পেশায় পরিসংখ্যানবিদ হিন্দোল কর্মসূত্রে এখন কলকাতা ছেড়ে ব্যাঙ্গালুরুতে । তরুণ কবি হিন্দোল ভালোবাসে পড়তে, অনুবাদ করতে। তারই কিছু ঝলক ‘অপরজন’-এর পাঠকের জন্য।
আসুন পাঠক, আমরা হিন্দোলের কলমে ছুঁয়ে দেখি মানুষ কেমন বেঁচে থাকার আনন্দ-ক্ষোভ-বেদনা-প্রতিবাদে প্রকাশিত হয় শিল্পকর্মে। – অপরজন]      

গ্রীক কবিতা – অর্থনৈতিক অবনমন ও ব্যয়সংকোচের আলোকে

“সাইরেনে আর ভোঁ বাজে না, তবু মৌন নয়

 তারা শুধুমাত্র গতিহীন আর

 হতভম্ব, ঢেউদের বেসরকারীকরণে|

 কোনো কবিতাই যথেষ্ট নেই আর

 যবে থেকে সমুদ্র ভরে উঠেছে বর্জ্য আর নিরোধে

[“Poetry Does Not Suffice” by Stamatis Polenakis,মূল গ্রীক থেকে ইংরেজি অনুবাদ করেছেন এ. ই. স্টলিংস]

একবিংশ শতকের শুরু থেকেই পৃথিবীর বিভিন্ন মহাদেশে আশু অর্থনৈতিক অবনমনের পূর্বাভাস প্রকট হতে শুরু করে, যা চূড়ান্ত রূপ নেয় ২০০৮ সালে| আন্তর্জাতিক অর্থ-সংস্থা (International Monetary Fund /IMF) এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রাবল্যের অভিঘাত ১৯৩০ সালের গ্রেট ডিপ্রেসন এর পরেই বলে উল্লেখ করে| আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে শেয়ার বাজারের সূচক অতিদ্রুত পতনের সাথে সাথে সারা পৃথিবীতে তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে এবং ন্যাশনাল ব্যুরো অফ ইকোনোমিক রিসার্চের তথ্যানুসারে টানা উনিশ মাস এই অর্থনৈতিক অবনতির প্রত্যক্ষ্য প্রভাব স্থায়ী হয় সমস্ত ক্ষেত্রে| প্রথম বিশ্বের দেশগুলিতে, বিশেষত উত্তর আমেরিকা আর ইউরোপ মহাদেশ জুড়ে এই মূল্যবৃদ্ধির রেশ সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়| বহু ব্যাংক প্রায় দেউলিয়া হয়ে যায়, কিছু ব্যাংক প্রতারিত হয় যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারি সংস্থা দ্বারা| এই দুই মহাদেশের অন্তর্গত প্রায় সব দেশেরই (জার্মানি, অস্ট্রিয়া,স্লোভেনিয়া বাদে) জিডিপি (মোট দেশীয় পণ্যের উৎপাদন) বহুলাংশে হ্রাস পায়, এবং বেকারত্ব লাফিয়ে বেড়ে ওঠে| আমেরিকায় জিডিপি ৬৫০ বিলিয়ন ডলার (৪.৩%) নেমে যায়  এবং ২০১১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তা প্রাক-মন্দার স্তর পুনরুদ্ধার করেনি। শেয়ার বাজার এবং স্থাবর সম্পত্তির মূল্যের প্রতিফলনকারী গৃহস্থালির নেট মূল্য ১১.৫  ট্রিলিয়ন ডলার (১৭.৩%) হ্রাস পায়| ২০০৯ সালের অক্টোবরে বেকারত্বের হার ১০% এ উন্নীত হয়েছিল এবং  তা মন্দাপূর্ব অবস্থা অর্থাৎ ৪.৭%এ পৌঁছতে মে ২০১৬ পর্যন্ত সময় লেগেছিল| ইউরোপে সংকট সাধারণত ব্যাংকিং সিস্টেমের সংকট থেকে সার্বভৌম ঋণ সংকটের দিকে অগ্রসর হয়| ২০১০ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত স্পেন, গ্রীস, ইতালি, আয়ারল্যান্ড, পর্তুগাল এবং ব্রিটেনের  বেকারত্বের হার বেড়েছে পাল্লা দিয়ে, প্রায় পৌঁছে গেছে ১১.৬%এ| সরকারি ঋণ ও জিডিপির অনুপাত একই নিয়ম মেনে বেড়ে চলেছিল|

[ছবি সৌজন্য – https://en.wikipedia.org/wiki/Great_Recession#/media/File:GDP_Real_Growth_in_2009.svg খয়েরি রঙের গভীরতা অর্থনৈতিক মন্দার প্রাবল্য নির্দেশ করছে]

এসময়েই জন্ম হয় Austerity Measures বা ব্যয়সংকোচ মাত্রার| এই নীতি মূলত ব্যয় কমাতে, করবৃদ্ধি বা উভয়ের সমন্বয়ের মাধ্যমে সরকারী বাজেটের ঘাটতি হ্রাস করার লক্ষ্যে নিয়োগীকৃত হয়| সরকারি ঋণ পরিশোধের পথ সহজ করাও এই মাত্রার অন্যতম উদ্দেশ্য| এই পদক্ষেপগুলি বাজেটের ঘাটতি হ্রাস করে, এবং সরকারের আয় ও ব্যয়কে  কাছাকাছি এনে রাজস্ব বৃদ্ধি এবং ঋণপ্রদান  সহজতর করে। কিন্তু আমেরিকা এবং ইউরোপের জন্য তা বিশেষ ফলপ্রসূ হয়নি| অর্থনীতিবিদ মার্টিন উলফ ২০০৮- ২০১২ পর্যন্ত জিডিপি বৃদ্ধির সম্পর্ক এবং ২০১২  সালের এপ্রিল মাসে বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশে ব্যয়সংকোচ নীতির কারণে বাজেটের ঘাটতিকে বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি বলেন “সর্বোপরি, এটি কিছুতেই বলা যায়না যে সরকারের ব্যয়সংকোচ নীতি আসলে অর্থনৈতিক উন্নতির পক্ষে অনুকূল আবহাওয়া পরিবেশন করেছে|” অর্থনীতিবিদ পল ক্রুগম্যানের মতে এই নীতি সার্বিক বৃদ্ধির পথ মন্থর করেছে| “এক ইউরো থেকে হ্রাস ঘাটতি বাবদ ০.৪ ইউরো মাত্র পাওয়া যাচ্ছে, কিছু আশ্চর্যের নেই যে এই নীতি সম্পূর্ণ বিপর্যয়ে পরিণত হতে চলেছে|”[উইকিপিডিয়া]

ব্যয়সংকোচ নীতি এবং অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব খুব বেশি পড়ে গ্রীসের ওপর| এইদেশ সর্ববৃহৎ সরকারি ঋণের বোঝায় জর্জরিত ছিল| বর্তমান সংখ্যা এবং আগামী আরো সংখ্যাগুলিতে আমরা এই ক্রান্তিকালে দাঁড়িয়ে গ্রীসদেশের সংস্কৃতি নিয়ে কথা বলব, কথা বলবো কবিতা ও আনুষঙ্গিক কাজ নিয়ে|

[A graffiti by Greek street artist Cacao Rocks pictured on a street in Athens. Photograph: Angelos Tzortzinis/AFP/Getty Images

https://www.theguardian.com/world/2015/jul/04/greece-street-art-anti-austerity-murals ]

ব্যয়সংকোচ ও গ্রীক সংস্কৃতি

২০১০ থেকে ২০১৭ এই টানা আট বছরে বিপুল সরকারি ঋণ পরিশোধের অভিপ্রায়ে গ্রীক সরকার চৌদ্দবার গুচ্ছ ব্যয়সংকোচ নীতির প্রবর্তন করে, যার মধ্যে ছিল ব্যাংকের পুনর্মূলধন, নতুন করব্যবস্থা, শ্রমিকসুবিধা, বয়স্কভাতা এবং সঠিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনা| দেশের জিডিপি অতিদ্রুত হ্রাস পায়, মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারত্ব চরমসীমায় পৌঁছে যায়| ক্রমশ কমে যেতে থাকে ইউরোর অর্থমূল্য| এই পর্যায়ে দাঁড়িয়ে গ্রীক সরকার ‘ইউরোজোন’ বা ইউরো যেসব অঞ্চলে মুদ্রা হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সেখান থেকে বেরিয়ে আসার এক প্রকল্পিত নীতি গ্রহণ করে এবং নতুন করে গ্রীসের মুদ্রা ‘ড্রকমা’র প্রচলন করে| এই ঘটনা ইতিহাসে ‘গ্রেক্সীট’  নামে পরিচিত| ২০১২ সালের ২৯শে মে গ্রীসের জাতীয় ব্যাংক সতর্কতা জারি করে যে “ইউরোজোন থেকে প্রস্থান আদতে গ্রীসের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান যথেষ্ট হ্রাস করবে”| ঘোষণায় আরো বলা হয় যে মাথাপিছু আয় ৫৫% কমে যাবে, ইউরোর প্রেক্ষিতে স্থানীয় মুদ্রার মূল্য কমে যাবে ৬৬% পর্যন্ত, সার্বিক মন্দা পৌঁছবে আরো ২২% গভীরতায়| এছাড়াও বেকারত্ব বর্তমান ২২% থেকে ৩৪% হতে পারে, মূল্যবৃদ্ধির মান বেড়ে যাবে ৩০% অবধি|

[ছবি সৌজন্য – http://www.spiegel.de/international/europe/interview-with-greek-writer-nikos-dimou-on-crisis-a-837024.html ]

উল্লিখিত ঘোষণা সত্যি করে গ্রীসে শুরু হয় প্রবল দুরবস্থা| সরকারি ঋণের বোঝা এক বিপুল ভিন্ন বিপর্যয় শুরু করে যার প্রভাব ধীর এবং বিমূর্ত হলেও যাঁরা সরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রত্যক্ষ ভাবে যুক্ত তাঁদের ওপর অত্যন্ত রূঢ় বাস্তব ভেঙে পড়ে [নিউইয়র্কার]| মোট জিডিপি হ্রাস ২৫%এ গিয়ে দাঁড়ায়| বেকারত্ব বেড়ে যায় ২৭%, যা ছিল ইউরোপের ইতিহাসে সর্বাধিক| তরুণদের কর্মহীনতা ৪৫% বেড়ে যায়| রেকর্ড সংখ্যায় বাড়ে গ্রীসের সরকারি ঋণ ও জিডিপির অনুপাত (critical debt-to-GDP ratio), তা পৌঁছে যায় ১৭৯%এ| ২০১১ সালের সাতাশে জুন ব্যয়সংকোচের প্রতিবাদে এবং বিধানসভা ভোট এগিয়ে আনার দাবিতে ট্রেড ইউনিয়ন টানা ৪৮ ঘন্টার শ্রমিক ধর্মঘট শুরু করে, যা ছিল ১৯৭৪ সালের পর সবচেয়ে অভিঘাতপূর্ণ| সারাদেশ জুড়ে চলা এই তীব্র দুঃসময় রাজনৈতিক ভিত্তি সম্পূর্ণ নাড়িয়ে দেয় এবং বহু উচ্চশিক্ষিত মানুষ গ্রীস থেকে দেশান্তরে পাড়ি দেন| [উইকিপিডিয়া]

কর্মীছাঁটাই, দারিদ্র্য, কর্মহীনতা ও প্রবল মূল্যবৃদ্ধির এই আঙ্গিকে কোথায় দাঁড়িয়ে থাকবে কবিতা? কোথায় দাঁড়িয়ে থাকবে সংস্কৃতি ও শিল্পসাহিত্য? যখন মানুষের জীবনধারণের সাধারণ মাপকাঠিগুলিই সংকটে, তখন কলাবিদ্যার বিকাশ ঠিক কেমন হতে পারে?  এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পথে নামলেন, তুলি ধরলেন, কলম ধরলেন অজস্র গ্রীক শিল্পী,সাহিত্যিক,চিত্রকর,অভিনেতা ও সমস্ত সংস্কৃতিমনস্ক মানুষ| পৃথিবীব্যাপী আর্থিক অবনমনের চারবছর পর, ২০১২ সালে এথেন্সের কান গ্যালারির অধিকর্তা ক্রিস্টিনা এন্ডরৌলিডাকি বললেন, “সাম্প্রতিক শিল্পের জন্য এতগুলি ভাল বছর আগে আসেনি| এই চর্চা আসলে ছিল লড়াই, যা বহুক্ষেত্রেই সহজ ছিল না, কিন্তু আমার এই সংগ্রহশালাটিতে বিক্রি হোক আর না হোক, প্রতিদিন আমাকে আসতেই হবে”[আর্টসি.নেট]| জার্মানির কাসেল শহরে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর ‘ডকুমেন্টা’ অনুষ্ঠান হত| ২০১৩ সালে সিদ্ধান্ত হয়, এই অনুষ্ঠান দুভাগে ভাগ করে দেওয়া হবে, এক অর্ধ অনুষ্ঠিত হবে জার্মানিতেই, আর বাকি অর্ধ এথেন্সে| ৮ই এপ্রিল-১৬ই জুলাই অবধি চলতে থাকা এই অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয় ‘এথেন্স থেকে শিক্ষা’ বা ‘লার্নিং ফ্রম এথেন্স’ আর প্রায় ১৬০জন শিল্পী তাদের নতুন কাজ প্রদর্শন করেন, যা ছুঁয়ে গিয়েছিল অভিপ্রয়াণ, বিবাচন এবং অর্থনৈতিক সংকটের আঙ্গিককে| ২০১৭ সালে  ‘ডকুমেন্টা’১৪’ এথেন্সের ৪৭টি কলাকেন্দ্র এবং প্রদর্শনশালা জুড়ে অনুষ্ঠিত হয়, জনসমাগম হয় প্রায় সাড়ে তিন লক্ষাধিক | আড়াই হাজার স্কুলপড়ুয়াও এতে অংশগ্রহণ করে|[www.documenta14.de]

বহু কবি,মঞ্চাভিনেতা, সমাজকর্মীরা তাদের মত করে প্রতিবাদ শুরু করলেন| ইউরোর অর্থমূল্য ক্রমশ কমতে থাকাও শিল্পের মাধ্যমে উঠে এসেছে। কবিতায় আর দেওয়ালচিত্রে

[ছবি সৌজন্য – https://i-h2.pinimg.com/564x/0f/10/ca/0f10cad88c6312cd9542e32be8a8711b.jpg ]

তার একাধিক প্রমান পাওয়া যায়| কভার আর্ট হিসেবে একটি ছবি খুব ছড়িয়ে পড়ে যেখানে দেখা যায় এটলাস তার পিঠে পৃথিবী নয়, বরং একটি বৃহৎ ইউরো ধরে আছেন, যার মূল্য শূন্য|

১৯৭৭ সালে এথেন্সে জন্মগ্রহণ করা কবি ইয়ানিস স্টিগাস ‘সরল গণিত’ (Simple Math) নামের কবিতায় ইউরোর মূল্যমানহ্রাস চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন| ইয়ানিস গ্রীসের অন্যতম প্রখ্যাত কবি এবং বহুবার বহুদেশে অনূদিত হয়েছেন| পেশায় ডাক্তার ইয়ানিস কবিতার পাশাপাশি আজও তাঁর ডাক্তারি চালিয়ে যাচ্ছেন|

নৈঃশব্দের চতুর্থ মাইলফলকে পৌঁছে,

সূর্য আর ঈশ্বরের জন্য বয়ে আনা পেরেকগুলি আমি ফেলে দিয়েছিলাম

তারপর থেকেই আমার হাতের নীচে

মহৎ শূন্য নিয়ে আমি ঘুরে বেড়াচ্ছি

প্রাথমিকভাবে, যা ছিল এক সাধারণ ঘুমোনোর ব্যাগ

অর্থাৎ, যাতে ঢুকে পড়লেই তুমি স্বপ্ন দেখা শুরু করতে পারো

তা এখন মানসিক প্রদাহজনক

একটা বড় বোর্ডিং স্কুলে বদলে গেছে

শূন্যের সাথেই যদি হয়ে থাকতে পারে এতকিছু

তবে ভাবো, একের সঙ্গে কি কি হতে পারে

[Yannis Stiggas,জন্ম ১৯৭৭, ইংরেজি অনুবাদ Katerina Anghelaki-Rooke]

[‘Death of Euro’,Street art in Athens shows a stack of euros depicted as a coffin. Photograph: Socrates Baltagiannis/dpa/Corbis]

কবিতাটি আর্থিক কর্তৃত্বের জটিল চিত্রের সাথে শুরু হয়, যেখানে কবি ক্রুশের বাহ্যিক পেরেকগুলি পরিত্যাগ করছেন গাণিতিক শূন্যের বিমূর্তন বোঝানোর জন্য| দেশীয় ঋণের বোঝা যেন তাঁর বয়ে চলা ক্রুশ হয়ে উঠেছে| ব্যয়সংকোচ নীতির ওপর প্রথমে একটি আরামদায়ক ঘুমের ব্যাগের মত বিশ্বাস থাকলেও, কিছুদিনের মধ্যেই তা হয়ে উঠেছে অস্থিরতার সূচক এবং মানসিকভাবে উৎপীড়ক|

দেওয়ালচিত্রে এইসময় প্রায় বিপ্লব দেখা যায়| দেশের প্রায় সমস্ত দেওয়াল ভরে উঠে রংবেরঙের গ্রাফিটিতে| পাল্লা দিয়ে বাড়ে গ্রাফিক আর্ট| ফুটবল, রাজনীতি আর কৈশোর প্রেম নিয়ে মজে থাকা গ্রাফিটি তার লক্ষ্য পরিবর্তন করে, এবং তাতে ক্রমশ প্রতিভাত হতে শুরু করে ক্রোধ, হতাশা, রাজনৈতিক সচেতনতা এবং নিম্নবর্গীয় মানুষের প্রবহমান সংকট|[ওয়াশিংটন পোস্ট]

স্টিগাস যেমন ডাক্তারি থেকে কবিতায় এসেছিলেন, তেমনি অন্য পেশার মানুষ যোগদান করতে থাকেন দেয়ালচিত্রকর হিসেবেও| মাপেট এমন একজন দাঁতের ডাক্তার, যিনি এই সময়ে রংতুলি ধরলেন| “নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত গ্রীকেরা এই সময়ে সবচেয়ে বিপর্যস্ত| সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে এটি প্রচারের জন্যই আমার শিল্পের প্রয়োগ, যাতে মানুষকে আরো চিন্তা করানো যায়” মাপেট বলেন| ইনো নামে আরেকজন স্ট্রিট আর্টিস্টের মতে, “যদি শহর সম্পর্কে জানতে ও শিখতে চান, তবে তার দেওয়ালগুলির দিকে তাকান| সারা শহর হেঁটে ঘুরলেই সেটা আপনি  বুঝতে পারবেন|” ছবির সাথে ম্যুরাল আঁকা হতে থাকে| এনগ্রামের আঁকা N€IN ম্যুরাল সবিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করে|[ওয়াশিংটন পোস্ট]

[N_Grams’ N€IN mural,The word painted over the European Union flag reads, “No.” Photograph: Alkis Konstantinidis/Reuters

https://www.theguardian.com/world/2015/jul/04/greece-street-art-anti-austerity-murals ]

কাকাও নামের একজন চিত্রগ্রাহক ও শিল্পী, কাকাও রকস(Cacao Rocks) এইনাম নিয়ে একের পর এক স্মরণযোগ্য দেওয়ালচিত্র এঁকেছেন| এর মধ্যে আছে ‘Europe without Greece is like a party without drugs’, ‘Cut the Dept, IMF go home’, ‘Then they used tanks. Now they use banks’ এরকম বহুল জনপ্রিয় কাজ|

[ছবি সৌজন্য –http://www.spiegel.de/international/europe/greece-struggles-to-get-europe-to-change-course-on-austerity-a-1017533.html, by Cacao Rocks]

“শিল্পের মাধ্যমে প্রতিবাদের এই পথ কঠিন, কিন্তু হয়ত এর ফলেই ভবিষ্যতে আমরা মুক্ত হতে পারব|” কাকাও বলেন[গার্ডিয়ান]| তিরিশবর্ষীয় এই যুবক অর্থনৈতিক সংকটের সময় থেকে উদীয়মান শিল্পকলার সাক্ষী| “মূলত এই সব ছবি ও ম্যুরাল ২০০৮ থেকে শুরু হওয়া রাগের বহিঃপ্রকাশ, যে রাগ শুধু জমছিল আর বেড়েই চলেছিল| আমরা অনেক খালি বাড়ি আর বন্ধ দোকানের দেওয়াল পেয়েছিলাম, যার ওপর বাধাহীন ভাবে পেইন্ট করতে পেরেছি| আমরা অর্থের বিনিময়ে কোনোদিন এই শিল্প বিক্রি করতে চাইনি কারণ সংকট আমাদের নিজস্ব|”

[‘Then they used tanks. Now they use banks’. Mural and photograph by Cacao Rocks]

গ্রীক কবিপরিচিতি ও অনুবাদ

অন্যান্য শৈল্পিক কাজের সাথে সাথেই কবিতাও উঠে আসে মূলমঞ্চে| বর্তমানে ‘গ্রীক সাহিত্য ও ক্লাসিক’ বিভাগে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনারতা ক্যারেন ভ্যান ডাইক এই বিষয়ে শ্রমসাধ্য   গবেষণামূলক কাজ করেছেন ও একাধিক বই প্রকাশ করেছেন| তার বই Introduction to Austerity Measures -এ ৪৮জন কবি স্থান পেয়েছেন| এই সংখ্যায় আমরা তরুণতমদের নিয়ে(যারা চল্লিশোর্ধ নন) কাজ শুরু করছি, যা পরেও চলতে থাকবে| কবিদের সামান্য পরিচিতির সঙ্গে রইল তাদের মূল কবিতার অনুবাদ|

Anna Griva: (জন্ম ১৯৮৫, এথেন্স)

আনা গ্রিভা তাঁর কবিতায় জীবজন্তুর রূপক ব্যবহার করেন| ইতালীয় ভাষা থেকে অনুবাদক হিসেবেও তিনি যথেষ্ট প্রসিদ্ধ| মূলত নারী ও সমাজমূলক কবিতা যা তেমন বিখ্যাত নয় সেগুলি উদ্ধার ও অনুবাদের কাজ তিনি করে থাকেন|

[স্বামীর সাথে আনা গ্রিভা, ছবি সৌজন্য- ফেসবুক]

মারিও স্পিলিওপুলোস দ্বারা পরিচালিত অনুবাদ ওয়ার্কশপ ‘গামা’র সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন এথেন্স স্কুল অফ আর্টসে| তাঁর প্রজন্মের অনেক প্রশিক্ষিত ভাষাবিদদের মতো, তিনি গ্রীক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসাবে জীবিকা নির্বাহ করেন|

গভীরতা থেকে (From Depths)

সন্তরণ একটি ব্যাপ্তি হতে পারে মরুভূমির-

পামগাছেরা তার প্রশান্তিকে উত্তেজিত করে;

আর জীবনকে থামিয়ে দেয় এগোনোর থেকে|

কুকুরের পিঠের সওয়ারীর মত,

যে বলেছিল আমাকে অশ্বারোহীর সাথে তুলনা করোনা-

কারণ আমার খাপবন্দী তরবারি নেই কোমরবন্ধে|

এখনো অবধি আমি ভেবেই দেখিনি

যে সে অন্যকিছু হারিয়ে ফেলেছে|

[মূল গ্রীক থেকে ইংরেজি অনুবাদ করেছেন ক্যারেন ভ্যান ডাইক]



Stathis Antoniou: (জন্ম ১৯৮২,এথেন্স)

বাস্তব এবং নাটকীয়তার মেলবন্ধন স্ট্যাথিসের কবিতার মূল উপজীব্য| তার পড়াশোনার বিষয় গণিত এবং বর্তমানে তিনি এথেন্সের ন্যাশনাল টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলিত গণিত বিভাগে কর্মরত| 

[ছবি সৌজন্য- https://www.researchgate.net/profile/Stathis_Antoniou ]

গাণিতিক মডেলিং, কসমোলজি, টোপোলজি ইত্যাদি তাঁর পছন্দের বিষয় হলেও স্ট্যাথিস এথেন্সের টাকিস সিনোপোলাস ফাউন্ডেশন এবং প্যারিসের বইয়ের দোকান শেক্সপিয়ার এন্ড কোং থেকে কবিতা বিষয়ে স্বশিক্ষিত হয়েছেন| এখনো অবধি কোনো মৌলিক বই প্রকাশিত না হলেও তাঁর কবিতা বহু প্রথমসারির গ্রীক পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে|

কুকুরগুলো (The Dogs)

সড়কচিহ্ন নির্দেশ করলো যে সে একটি বসতি অঞ্চলে প্রবেশ করতে চলেছে| এটা ভেবে সে অবাক হল যে এমন ঘিনঘিনে জায়গায় মানুষ কি করে থাকার কথা ভাবতে পারে!

ঠিক প্রথম বাড়িটির আগে গাড়ির হেডলাইট গাছের ডালে আটকানো লাল কাপড়ের টুকরোয় ঝলমল করে উঠল| পোশাকটি এমভাবে ঝুলছিলো যেন গাছটা মেয়েটিকে ভোগ করার পর তার অবশেষ ঝুলিয়ে রেখেছে শাখাপ্রশাখায়|

তার গাড়ির গতি কিছুটা কমিয়ে আনল সে|

বুনো ঘাস সমস্ত পথ ভরে রেখেছে| কিশোর ছেলেমেয়েরা তার দিকে তাকালো, আর পরিবর্তে বিচার করে নিল অবস্থানমূল্য| গাড়ির জানালা ছাড়া, ভাঙা কাচের টুকরো ছড়িয়ে ছিল ইতঃস্তত|

হঠাৎই বাড়িগুলির মধ্যেকার শূন্যতা থেকে পোড়া মাংসের গন্ধ ভেসে এল বাতাসে| অপটু হাতে লেখা স্লোগানে ছেয়ে ছিল দেওয়ালগুলি| আর সবচেয়ে সুখের দৃশ্য ছিল যে দুজন প্রৌঢ় রং করা টিনের বাক্সের ওপর বসে একহাত দাবা খেলে নিচ্ছেন|

যদিও ময়লা ছিল না, তবু রাস্তা ধূলিধূসর| অশক্ত আলোয় আলোকিত বাড়িগুলির লণ্ঠন যেন কড়িবরগা থেকে ঝুলতে থাকা উপড়ানো চোখের মত প্রতিভাত হচ্ছিল|

এইখানে বেড়ে ওঠা মানুষের বস্তুত কিরকম সৌন্দর্যবোধ তৈরী হতে পারে?

নতুন জায়গা দেখার উত্তেজনা কিছুটা থাকলেও, সে স্বস্তি পেয়েছিল যখন পাতলা হয়ে আসছিল বাড়ির অবয়বগুলি|

চাকার পাশাপাশি দৌড়ে আসতে আসতে তিনটি কুকুর চিৎকার করা শুরু করল| এর আগেও এটি অনেকবার হয়েছে, তবু কিছু যেন অভিনবত্ব ছিল এতে, তাদের ডাকের সুরে| তার সবসময় ধারণা ছিল যে পথচলতি কুকুরেরা ওকে দেখলেই তাড়া করে বেড়ায়, কিন্তু এই ডাক যেন সেই কথা বলছিল যা ওখানকার বাসিন্দারা বলতে সংকোচ বোধ করেছিল| ওরা প্রবলভাবে চেয়েছিল সে আরেকটু থাকুক , যাতে তারা ওদের নিঃসঙ্গতা কিছুটা ভাগ করে নিতে পারে|

[মূল গ্রীক থেকে ইংরেজি অনুবাদ করেছেন ক্যারেন ভ্যান ডাইক]


Danae Sioziou: (জন্ম ১৯৮৭, এথেন্স)

ড্যানি জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করেন আর বেড়ে ওঠেন জার্মানি ও গ্রীস জুড়ে| ইংরেজি ভাষাসাহিত্য এবং  ইউরোপীয় ইতিহাস তার পড়াশোনার বিষয়|

[ছবি সৌজন্য-https://danaesioziou.wordpress.com/2019/02/06/the-spider-danae-sioziou-in-the-ilanot-review/ ]

ড্যানির রচিত কবিতায় অদৃষ্টবাদ এবং নারীবাদের প্রভাব পাওয়া যায়, যা মহিলাদের অবস্থা রূপকার্থে চিহ্নিত করে| তাঁর কবিতা, প্রবন্ধ এবং অনুবাদ বহু পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে|


প্রহরীরা(The Guards)

আমরা ঘুমোতে পারিনি

কুকুরগুলো সারারাত চিৎকার করেছে,

আমরা এক মুহূর্তের জন্য ভুলে গেছিলাম

যে এই ডাক ওদের নয়|

যেন মৃত্যুদূতেরা

সতর্ক প্রহরীদের মত আমাদের সচেতন করে দিচ্ছিল-

যেকোনো সময়ে আমাদের বাড়িতে;

একটা অনুপ্রবেশ ঘটে যেতে পারে|

আমরা জেগে ছিলাম

আমাদের শান্ত ছোট্ট ঘরে, জেদীর মত

আর গুঙিয়ে উঠছিলাম,

অনাদৃত শিশুদের মত|

অপেক্ষা করছিলাম নৈশভোজ ছাড়া,

একসাথে একরাতেই সবাই বড় হয়ে উঠব বলে|

শেষ পর্যন্ত পেয়েছিলাম কৈফিয়ত;

তাদের আর এই পৃথিবীর অন্যায্য শাস্তির…

[মূল গ্রীক থেকে ইংরেজি অনুবাদ করেছেন ক্যারেন ভ্যান ডাইক]


বাড়ির মধ্যে চারপাশ(Around the House)

সে মনোযোগ দিচ্ছিল না

হয়ত লক্ষ্যও করেনি

যে সে শুধুই কেটে চলছিল

তার নিজের হাত নাশপাতির আড়ালে

রক্ত তার সমস্ত নরম নিয়ে

দৌড়ে যাচ্ছিল ভাগ্যরেখা থেকে

ভালোবাসার জীবন থেকে

নামছিল সিংকে

আর গড়িয়ে পড়ছিল উচ্ছিষ্ট থালা ও ভুক্তাবশেষের মধ্যে

মেয়েটির অস্থির বেড়াল

তার কাছে ছুটে এসেছিল

আর সচেতন বন্ধুমনোভাবাপন্নে

চেটে দিচ্ছিল তার সমস্ত ক্ষত

তখন

এক ভগ্নাংশ মুহূর্তে

বেড়ালটির কাচবৎ চোখে সে দেখতে পেয়েছিল

এক আগন্তুক,

বন্দী হয়ে রয়েছে এক নোংরা খাঁচায়

যার ছাদে সূর্যোদয় নেই

মেঝে ভরে আছে ছোট পোকায়

সিংকটার অন্ধকার জলাশয়ে

সে তার হাত ভিজিয়েছিল

যা এখন ঝলসে উঠছে

সাবানের সাদা ফেনিল বুদ্বুদে

সিংকের গভীর কালো থেকে

বুঝি উঠে আসছে পূর্ণিমা চাঁদের দীপ্যমান ধবলতা

মেয়েটি ভাবলো

আজ অন্তত তাকে এই সবকটি থালা

ধুয়ে তুলে ফেলতে দেওয়া হোক


[মূল গ্রীক থেকে ইংরেজি অনুবাদ করেছেন রেচেল হেডাস]


Thomas Tsalapatis: (জন্ম ১৯৮৪, এথেন্স)

সালাপাটিসের কবিতায় গদ্যধর্মিতা লক্ষ্যণীয়| এথেন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি নাটক নিয়ে পড়াশোনা করেছেন| তাঁর প্রথম কবিতার বই ‘Daybreak is Execution, Mr. Krack,’, জাতীয় পুরস্কার লাভ করে|

[ছবি সৌজন্য – http://popaganda.gr/thomas-tsalapatis-interview/ ]

দ্বিতীয় কবিতার বই ‘এলবা’(Alba) ২০১৫ সালে প্রকাশিত হয়| নাটক এবং বই পর্যালোচনার পাশাপাশি তাঁর উর্বর রচনা অর্থনৈতিক বিপন্নতার অস্থিরতা তুলে ধরে এবং রসিকমহলে সবিশেষ খ্যাতিলাভ করে| ইংরেজি,ফরাসি,স্প্যানিশ ও ইতালীয় ভাষায় তাঁর কবিতা অনূদিত হয়েছে| তিনি নিজেও ইয়েটস এবং অডেনের কবিতা অনুবাদ করেছেন|

সেই বাক্সটি (The Box)

আমার ছোট বাক্সটির ভেতরে সবসময় ওরা কাউকে না কাউকে নির্মমভাবে হত্যা করে চলেছে|

জুতোর বাক্সের চেয়ে একটু বড়, আর সিগারের কৌটোর চেয়ে কিছু মসৃণ এই বাক্সের ভেতরে আমি জানিনা কে, জানিনা কাকে অনবরত হত্যা করেই চলেছে| শব্দও শোনা যায়না কিছু সেই সময় ব্যতিরেকে যখন আসলে কিছু শোনা যায়| যখন বাক্সটা দেখে সময় কাটাতে ইচ্ছে করে তখন ওটাকে আমি টেবিলের ওপর বইয়ের তাকের মধ্যে রাখি, সূর্যকিরণ থেকে অনেকটা দূরে যাতে ওটা বিবর্ণ হলুদ না হয়ে যায় , আর আমার কু-ইচ্ছার সময় রাখি বিছানার তলায়| সবসময়ই কাউকে না কাউকে ওরা হত্যা করেই চলেছে, এমনকি যখন বাড়িতে অনুষ্ঠানের আয়োজন, বা রবিবার অথবা বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছে চরাচর|

যখন আমি বাক্সটা পেয়েছিলাম, আমি বলবোনা কিভাবে, বলবোনা কোথায়, নিজের ওপর খুব খুশি হয়ে সেটাকে বাড়ি নিয়ে এসেছিলাম| প্রথমে ভেবেছিলাম ওটার ভেতর থেকে আমি শুনতে পাবো সমুদ্রের স্বর, কিন্তু সেখানে নিত্য শিরশ্ছেদ ঘটে চলেছে|

কি হয়ে চলছে ভেতরে, আমার ক্রমবর্ধমান এই আগ্রহ অন্তর্বর্তী কোলাহলে স্তিমিত হয়ে আসছিল| বাক্সটা আমাকে অস্থির করে তুলেছিল, আমার কিছু করা অবশ্য প্রয়োজন হয়ে উঠেছিল নিজেকে মুক্ত এবং শান্ত করার জন্য| স্নান করলে কিছু শান্ত হবো কি? আমি ভীষণভাবে কর্তৃত্ব নিতে চাইছিলাম|

তাই, আমি বাক্সটা আমার এক বন্ধুকে ডাকযোগে পাঠিয়ে দিলাম ,এমনই একজন বন্ধু যাকে আমি শুধু উপহার দেব বলেই বেছে রেখেছি| প্রথমে নিষ্পাপ রঙিন কার্ডবোর্ড দিয়ে বাক্সটা ঘিরলাম, তারপর ততোধিক নিষ্পাপ রঙিন ফিতে দিয়ে সেটাকে মুড়ে দিলাম| ভেতরে ছিল চিঠি যাতে লেখা আছে এর মধ্যে একটি বাক্স আছে, যার ভেতর প্রতিনিয়ত নির্মিত হয়ে চলেছে হত্যাকল্প | ডাকবাক্সে বসে সে এখন আমার বন্ধুর কাছে প্রেরিত হওয়ার অপেক্ষায়, সেই বন্ধু, যাকে আমি শুধু উপহার দেব বলেই বেছে রেখেছিলাম|

[মূল গ্রীক থেকে ইংরেজি অনুবাদ করেছেন জেকব মো]


শব্দ সোমবার(Word Monday)

এলবা’দের পাড়ায়

আজ আমার প্রথমদিন

আর সে শুধু জল গরম করে চলেছে, করেই চলেছে

ভাষার সমস্ত তোবড়ানো অংশে

যেখানে শব্দদের গতি রুদ্ধ হয়েছে

অব্যবহৃত শব্দেরা, দেওয়ালে গাঁথা শব্দেরা

অধূমপায়ী শব্দেরা

লেগে রয়েছে ফুটন্ত জলে আর বাস্পে

আর সে

জল গরম করছে, অনবরত করেই চলেছে

যা ফুরিয়ে আসে তাইই কর্তা হয়ে ওঠে, এই বোধে|

সে শিখছে কিভাবে পাই এবং টি তাদের সমতল ছাদ হারালো

কিভাবে জিটা আর জাই শুকিয়ে গেল মূলদেশে

কিভাবে স্বরবর্ণ নিহত হল

কিভাবে ভাষাসাহিত্য হয়ে উঠল ফেনিল বুদ্বুদময়

এ যেন মূকদের নৈবেদ্য

যা আগেই মূক হয়ে গিয়েছে, তার প্রতি|

[মূল গ্রীক থেকে ইংরেজি অনুবাদ করেছেন ক্যারেন ভ্যান ডাইক]

Facebook Comments
Advertisements

Leave a Reply