বিশ্বরূপ বিশ্বাস-এর কবিতা

১.

জনপ্রিয়তার ঊর্ধ্বাংশে পুড়ে যাওয়া মানুষ। কতবার
ক’য়েছি বিখ্যাত হ’তে নেই। গাছের চোখে কাছকে
ভাবো। ভাবো গাছের কত সহ্য ক্ষমতা শিকড়বাকড়ে
ডালে ফলেফুলে। দেবতার চেয়েও অধিক দেবতা
পৃথিবীর প্রতিটি বৃক্ষ। ময়ূরীর মাংস-পুচ্ছ ডিনারের
টেবিলে ঢুকিয়ে দিলেও মানুষ শাপমুক্ত শরীর নয়।
নচেৎ আমার ক্যানো হয় না কোনো নারী। শুকনো
চন্দ্রোদয়ে পালিশের তরবারি জিওলের দোকানদারিতে
কেনা। গরমবসন্তে দেনা হ’য়ে গ্যাছি টাকার প্রচুর।
তাই মক্কেলদের সুর চড়া। কি আর ক’রি তবে এই
কড়া কপাল নিয়ে। বিয়ের মামলায় ঘোরলাগা সঙ্গম
রুখে দিতে হবে তাই। তখন ঘুমের আগে যেন
উষারাত্রির কথা কাটাচাঁদে শুনতে পারি জন্মকালীন
মৃত্যুর মতন। তখন প্রত্যেক শিশু-ই যেন আমার
ভগবান হয়। প্রত্যেক গাছ-ই যেন হয় আমার নিজেস্ব-
ঈশ্বর। তারপর দ্যাখো স্বাচ্ছন্দ্যের সানন্দে নিজে-ই নিজের
ডেথ সার্টিফিকেটে নিজের নাম-ই লিখে দিচ্ছি আমি।।

২.

সম্পূর্ণ পেকেছে ধানের সংসার। শূককীট বিরেচক
ফুলের শবরোদ। টোপাকুল পেড়ে আর ট্যাক্সি ধ’রে
অরুন্ধতী রাও টেক্কা দেবে সব ঘাতুককে। সব ধাতুকে
বৈরাগ্যে অংশগ্রহণ ক’রিয়ে চাঁদকে বানানো যায় না
মোহিত। বেঁধেছে কত রূপ কত অপরূপের গান।
শুধুমাত্র আত্মা উদ্ধারকের জন্য কেউ স্বর্গ চায় না।
একটানা মন ভুলানো নাইয়ার এই সেই ভীরু ভীরু
সনেটের মৌ। এই সেই মাটির ইস্টিকুটুম-কাটাম।
কুসুমের মোষ থমথমে গোয়ালের রূপালি শামিয়ানা।
তাকে বহুদূর বিস্মরণে চকিতে শরীরবাদী কওয়া
বারণ। তাকে শুদ্ধতম আল মাহমুদের সোনালী কাবিন
পড়ানো মানা।।

Facebook Comments

Leave a Reply