আপনি কি জানেন, অপরজন এখন প্রকাশনার পথে? অপরজন প্রকাশনীর ছয়টি বই এখন প্রকাশের অপেক্ষায়। বইগুলির নাম খুব শিগ্রীই জানানো হবে।

সম্পাদকীয়

মাত্র কয়েকটা বছরে আমাদের চারপাশটা কেমন যেন আরও কুৎসিত বীভৎস হয়ে উঠলো। আকাশ থেকে টপকে পড়লো না। এর ভয়ঙ্কর পরিণতি কোথায় কারও জানা নেই।  সমগ্রতার বিচারে একটা গুণগত পরিবর্তন ইতিমধ্যেই ঘটে গেছে! একদিকে শিশুর হাতে বই নয় খোলা তরবারি অপরদিকে তরবারির মাথায় পেট চিরে আনা শিশুর ভ্রূণ। ভারত কোন দিন এ দৃশ্য দেখেনি কোনদিন কল্পনা করেনি! দেখল তো! নিত্য দেখছে তো! সয়ে যাচ্ছে তো! যে কোন ধরণের বর্বরতায়, বীভৎসতায় একাংশ দৃশ্যত খুশি প্রাণ মন যেন ঐ ‘স্বরাজ আসিছে চড়ি জুড়িগাড়ি’! ভাবটা এমন এরই জন্য ছিল অনন্ত প্রতীক্ষা! অবশেষে যেন আসা গেল এমনই বডি ল্যাঙ্গুয়েজ! আনন্দ স্বস্তি ও আত্মতৃপ্তির বিভঙ্গে!! তবে এখানেই অঙ্ক শেষ নয়। শেষ বলে কিছু নেই।  

স্মরণে আছে এই ‘স্বরাজ ঝুটা হ্যায়’ শব্দ চয়নে, মূল্যায়নে কেউ কেউ ছিলেন ‘নাখুশ’- কুপিত ছিল নব্য শাসক। ব্রিটিশের কারাগারও স্বাধীন হল। সেই স্বাধীন কারাগারেই বন্দী হল ‘ভিন্ন স্বর’। ভিন্ন স্বরকে আটক করার সেই ছিল প্রথম ‘স্বরাজ’। অতঃপর সেই স্বরাজের  হাঁটি হাঁটি পায়ে পরিক্রমা ‘তরোয়াল হাতে’ আজ ডাইনি খুঁজছে—সব তো আছে লেখা আছে ইতিহাসে—যে যেমন দেখেছে। মুখ লুকোবে কোথায়! ‘আজাদি’র ভিন্ন স্বর আবার তিহার জেলে বন্দী! একদিকে দীর্ঘ হয়ে চলেছে নিকেশ তালিকা আর অপরদিকে বীরের আসনে স্থাপিত ‘নাথুরাম’। ‘স্বরাজ’ আজ আপন ভাষা, আপন শিক্ষা-সংস্কৃতি, ঐতিহ্য-পরম্পরা, আপন যাপনের তাবৎ ডিটেল রিস্ট্রাকচার, অবিরত রিসেট করে চলেছে। সাথে সাথেই কেউ ডিক্টেট করবে ‘নৈব নৈব চ’ উচ্চারণে, আত্মনিয়ন্ত্রণে স্বরাজের আত্মফল ও আত্মপ্রসাদে আজ গর্ভবতী! বিয়োন সন্তান তারই!! তবু নিজের ঔরসজাতকে দেখে আঁতকে ওঠে, স্বীকৃতি মেলে না। হতচকিত হলে হবে কি! পিতা নিন্দা ভয়ে পিতৃত্ব স্বীকারে ভীত, সন্তান অধিকার প্রতিষ্ঠায় একলব্য! এই এখন ডুয়েট!! ‘স্বরাজ’ আজ ‘স্বৈরাচার’—একাকার এক পংক্তিতে—‘গণতন্ত্র’ তফাতে দাঁড়িয়ে, কখনও কখনও মূল স্টেজের বাইরে লুণ্ঠন হাতিয়ারের ভূমিকায়। ভাবা হয়নি? নাগরিক আজ রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করবে না। রাষ্ট্র প্রশ্ন করবে, ফরমান অথবা হুলিয়া জারী করবে। হাত তুলে বা না তুলে মৌন সমর্থন অথবা প্রশান্ত প্রশস্ত গুলির মুখ ছাড়া নাগরিকের সামনে নো অপশন?! আপাতত এখানেই থামা যাক তবে। ‘ম্যাজরিটি’ এখন এক ভুল ভুলাইয়া। নানা গলি তস্য গলি। কম সমর্থন বেশি আসন, বেশি ক্ষমতা এবং ক্ষমতার ধর্ষণ-রূপ। নিশ্চিত শক্ত ফাঁদ। সেদিন সুন্দরবনে হরিণ ধরতে জাল পেতেছিল শিকারিরা। জালে পড়ল হরিণ নয় এক্কেবারে রয়েল বেঙ্গল টাইগার। গল্প নয়। কাগজের পাতা উল্টে দেখুন। এমন ফাঁদ বুনতে পারেন কেউ? 

এপ্রিল, ২০১৯

    

Facebook Comments

Posted in: April 2019, Editorial

Tagged as: ,

Advertisements

Leave a Reply