শৌনক দত্ত-এর কবিতা

কোচবিহার


বিকালের জানালা ক্রমশ গোয়েন্দা সিরিজের পাতা হয়ে উঠছে৷ সিঁড়িঘরের ছায়ায় শুয়ে আছে তামাকপাতার ঘ্রাণ । দক্ষিণে পাঁচিল ঘেরা বাগানবাড়ি…চিঠির শব্দরা চুপচাপ। আযানের সুরে গড়িয়ে পড়ছে সন্ধ্যা, ঘরবাড়ী ডুবে আছে গোধূলির খুনে, মনে হল, আমার চুল উড়ে যাচ্ছে, সাগরদীঘির বিকালগুলো উড়ে যাচ্ছে লেডিবার্ড সাইকেলের পিছন পিছন…রানীবাগানের দিকে।  

জলছবির দিন গলে ঢুকে পড়ছে ঘুঘুমারির নির্জনতা… একদিন,ঐ শহরের ভিতরে আমি একজন মানুষ হয়ে বেঁচে ছিলাম


ঘ্রাণ ও তার স্মৃতিলিপি


এখানে মন খারাপ জুড়ে ঘুন পোকার বিলাপ।  

তুলসি তলার উলুধ্বনিতে সন্ধ্যা নামে৷

এই রকম সন্ধ্যার নাম চিনচিন  । বুকের ভিতর এইসব সন্ধ্যার নাম পেতে একটা ফুরিয়ে যাওয়া দৃশ্যের পাশে চুপচাপ বসে থাকি। ঘিরে থাকে আতরের মত তোমার গন্ধ।  

স্বপ্নের ভিতর অচেনা আমি… নিজেকে আয়নার ভেতর থেকে খুঁটে তুলি৷ চিরুনীর মত তল্লাসি করে ইনিয়েবিনিয়ে খুঁজে বের করি ভুলে যাওয়া মুখের আদল।  

মফঃস্বল দুপুরে ফেরিওয়ালার ডাক থেকে উড়ে যায় যে পাখিটা, তার পালক জুড়ে জবাকুসুম তেলের ঘ্রাণ… মায়ের বেনী খুললে ঘর, দুয়ারে ছড়িয়ে পড়ত যে ঘ্রাণ, তেমনটা।

নিঃশ্বাসের টানাপোড়েন জুড়ে আমার শুধু ঘ্রাণের স্মৃতি।


তোমার বৃষ্টি ঘোর


মুগ্ধতায় হেঁটে  যাই হিয়া বাগানের দিকে তোমার বর্ষাপ্রধান ব্যালকনি… থইথই, বৃষ্টি ঘোরে চিঠি লিখছ পরিযায়ী ছাতাকে।

ঘুমাও মেঘ… ক্রমশ রেইনি ডে -র ঝোঁক
ঘুমের ভিতর চুরি করে আনা গতমরশুমের চোখ আটকে আছে।

চামড়ার নিচে রঙচটা হেঁয়ালি নাচে, কারও গায়ে বিবাদের বাতাস… হিংসুটে আবেশে
উড়িয়ে দিচ্ছে বিষপোড়া ছাই
স্বপ্নে জিরিয়ে নিচ্ছে সাইকেল ঊণকুটি পাহাড়ের পাশে

এখানে অতীতের স্লেট থেকে উড়ে আসা কতগুলো ঝিঁঝিঁপোকার অসুখ। ফুটে উঠছে বিষণ্ণবেলার রিভিউ কিংবা তুমি…….

Facebook Comments

Leave a Reply