আপনি কি জানেন, অপরজন এখন প্রকাশনার পথে? অপরজন প্রকাশনীর ছয়টি বই এখন প্রকাশের অপেক্ষায়। বইগুলির নাম খুব শিগ্রীই জানানো হবে।

সোনার তরী – দেবাঞ্জন দাস

রবীন্দ্রনাথ লাইভ সংখ্যায় দেবাঞ্জন দাস
রবীন্দ্রনাথ লাইভ সংখ্যায় দেবাঞ্জন দাস

প্রেক্ষাপট : তিরিশের কোঠায় পা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ পৈত্রিক জমিদারী দেখার কাজে এই নদীমাতৃক বঙ্গদেশের কুষ্টিয়া, শিলাইদহ, রাজশাহী, শাহাজাদপুরে ঘুরে বেড়িয়েছিলেন। বোটে যাত্রা করে বোটেই রাত্রিযাপন। প্রকৃতিকে এতটা অন্তরঙ্গে দেখার সুযোগ সেই প্রথম।
এই নদীমাতৃক বাংলাদেশের বহু কবি, মানুষের কাছেই তার জনপদের পাশ দিয়ে আপনমনে বয়ে যাওয়া ঐ ছোট্ট নদীটি কোন অজান্তে গঙ্গা-পদ্মা-মেঘনা হয়ে ওঠে। সেই নদীর চরাচরে জোছনা, কুয়াশা, হিম, ধান্যক্ষেত্র কবিকে কবিতার কাছে নিয়ে যায়। দেবাঞ্জনের বাড়ি কোন কুলীন নদীর পাড়ে নয়। ঐ ছোট্ট যমুনা নদীটিকে হয়ত বঙ্গের মানচিত্র স্থানই দেয় না। তবু আমরা ‘সোনারতরী’-র প্রতিস্থাপন পেলাম কবি দেবাঞ্জন দাসের কলমে।

সোনারতরী
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা।
কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা।
রাশি রাশি ভারা ভারা
ধান কাটা হল সারা,
ভরা নদী ক্ষুরধারা
খরপরশা।
কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা।

একখানি ছোটো খেত, আমি একেলা,
চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা।
পরপারে দেখি আঁকা
তরুছায়ামসীমাখা
গ্রামখানি মেঘে ঢাকা
প্রভাতবেলা—
এ পারেতে ছোটো খেত, আমি একেলা।

গান গেয়ে তরী বেয়ে কে আসে পারে,
দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে।
ভরা-পালে চলে যায়,
কোনো দিকে নাহি চায়,
ঢেউগুলি নিরুপায়
ভাঙে দু-ধারে—
দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে।

ওগো, তুমি কোথা যাও কোন্‌ বিদেশে,
বারেক ভিড়াও তরী কূলেতে এসে।
যেয়ো যেথা যেতে চাও,
যারে খুশি তারে দাও,
শুধু তুমি নিয়ে যাও
ক্ষণিক হেসে
আমার সোনার ধান কূলেতে এসে।

যত চাও তত লও তরণী-’পরে।
আর আছে?— আর নাই, দিয়েছি ভরে।
এতকাল নদীকূলে
যাহা লয়ে ছিনু ভুলে
সকলি দিলাম তুলে
থরে বিথরে—
এখন আমারে লহ করুণা করে।

ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই— ছোটো সে তরী
আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি।
শ্রাবণগগন ঘিরে
ঘন মেঘ ঘুরে ফিরে,
শূন্য নদীর তীরে
রহিনু পড়ি—
যাহা ছিল নিয়ে গেল সোনার তরী।

প্রতিস্থাপন :: দেবাঞ্জন দাস
নদীর দেয়ালা

নদীর সাথে দেয়ালা করছে অনিচ্ছুক ঘাট
আজ বুঝি আর রাত হবে না
আলোকে নির্লজ্জ বলে সবাই গাছের কাছে যাবে
বলতো এমন রাস্তায় কেন হাঁটব যেখানে
অপেক্ষা গাছের নাম হয়নি

একা যখন জলের কাছে গ্যালো
তখন থেকে নদী ডাকলে
আর যারা মেঘ নামানোর জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল
গায়ের জল দিল গামছাকে
ক্ষেতকে দিল বেহস্তের নূর
তবু ধানকে সোনা বলতে শেখেনি

চোখ থেকে গড়ানো জলকে যেদিন বিকেল চিনবে
দেখবে ভোরের কুয়াশাকে নামতা শেখাচ্ছে জনৈক কোদালরা
তখন ধানে বসা চড়াইকে কুশল জিজ্ঞেস কোরো অবশ্যই

Facebook Comments
Advertisements

Leave a Reply