কাব্যগ্রন্থ---হারাবার সময় পরনে ছিল/ ইন্দ্রনীল ঘোষ

শীঘ্রই প্রকাশ পেতে চলেছে ইন্দ্রনীল ঘোষের নতুন কবিতার বই "হারাবার সময় পরনে ছিল"। প্রকাশক নিবিড় প্রকাশনী।
বিস্তারিত জানতে +919163449625

ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী – ইন্দ্রনীল ঘোষ

রবীন্দ্রনাথ লাইভ সংখ্যায় ইন্দ্রনীল ঘোষ
রবীন্দ্রনাথ লাইভ সংখ্যায় ইন্দ্রনীল ঘোষ

প্রেক্ষাপট: ‘ভানুসিংহের পদাবলী’ রবীন্দ্রনাথের কৈশোর ও তারুণ্য। প্রেম, রিক্ততা এবং সৃষ্টির সৌকর্য্য ব্রজবুলির মধুর শ্রবণে অনন্য হয়েছে ‘ভানুসিংহের পদাবলী’-তে।

আমরা চেয়েছিলাম কোনো সদ্য তরুণের কলমে প্রতিস্থাপিত হোক ভানুসিংহের কোনো রচনা। কিন্তু শেষ অব্দি তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। পরিবর্তে আমাদের হাতে আসে পত্রিকার ওয়েব ডেভেলপার কবি ইন্দ্রনীল ঘোষের তরুণ বয়সের এক গল্প, যা সেই প্রেম ও রিক্ততায় হয়ত কোথাও গিয়ে আত্মীয় হয়ে ওঠে তরুণ ভানুসিংহের।

প্রসঙ্গত গল্পটি ২০০০ সালে, জলপাইগুড়ি গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের বার্ষিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।

ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

শুনহ শুনহ বালিকা,
রাখ কুসুম-মালিকা,
কুঞ্জ কুঞ্জ ফেরনু সখি শ্যামচন্দ্র নাহিরে।
দুলই কুসুমমুঞ্জরী
ভমর ফিরই গুঞ্জরি,
যমুনা জল বহয়ি যায় অলস গীত গাহিরে।
শশি-সনাথ যামিনী,
বিরহ-বিধুর কামিনী,
কুসুমহার ভইল ভার, হৃদয় তার দাহিছে
অধর উঠই কাঁপিয়া,
সখি-করে কর আপিয়া;
কুঞ্জভবনে পাপিয়া কাহে গীত গাহিছে।
মৃদু সমীর সঞ্চলে
হরয়ি শিথিল অঞ্চলে,
চকিত হৃদয় চঞ্চলে কানন-পথ চাহিরে;
কুঞ্জপানে হেরিয়া,
অশ্রুবারি ডারিয়া
ভানু গায় শূন্যকুঞ্জ শ্যামচন্দ্র নাহি রে।

প্রতিস্থাপন :: ইন্দ্রনীল ঘোষ

পেরিস্কোপ

মেয়েদের দেখলেই কেমন জানি আমার চেয়ে অল্প বয়সী বলে মনে হয়, ফুলগাছের বয়েস যেমন কোনদিনই বাড়ে না মানুষের থেকে — মানুষ যেমন যত্ন করে, প্রত্যহ জল দেয় গাছে আমিও তেমনি ধূপ নকুল দানা দিয়ে সেই ছোট ছোট মেয়েদের সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করি, বলি, মা তোমার ছেলেদের দেখো… মা দ্যাখেনও, শুধু একটা মন্দির তৈরি করে রোজ চার প্রহর পুজো চরাতে হয়, ব্যাস্‌, বাড়ি পাওয়া যায় ভ্রমণের জন্য গাড়ি পাওয়া যায় — আর আমি একটু ভ্রমণবিলাসী লোকও, আমার এই বিলাসিতা নিয়ে আড়ালে খুবই হাসি ঠাট্টা হয় জানি — যাই হোক আমার সামনে দিয়ে রোজ দশটায় যখন ওরা স্কুল পথে এ ওর গায়ে ধাক্কা মারতে মারতে হাসি তুলতে তুলতে যায়, মনে পড়ে ছোটবেলায় দেখা চোঙের মধ্যে দিয়ে কাচের চুড়ি টুকরোগুলো রংবেরঙের নকশায় রূপান্তরের মজাটা, মনে পড়ে গুপী বাঘা শেষ দিককার সিনে অভিনেতার ছুটি ছুটি বলে চিৎকার… এরপর রোদ ফ্ল্যাট হতে আরম্ভ করে এবং তার পরের সারাটা দিন সারাটা দুপুর মুহূর্তে মুহূর্তে আমি দেখতে পাই তার সমস্ত ক্রিয়া টান, তার টিফিনে আইসক্রিম কেনা থেকে আরম্ভ করে ক্লাসে পড়া বলতে বলতে হঠাৎ মাঝপথে গুলিয়ে ফেলা অব্দি সবকিছু। সন্ধের দিকটায় আমি ছাদের ওপর দাঁড়িয়ে মুড়ি খেতে থাকে এ সময়টাতে এখানে অনেকটা অব্দি দেখা যায় — দূরের মাঠ গুলোতে আস্তে আস্তে খেলা ভেঙে যাচ্ছে, উইকেট কাঁধে করে সবাই ঘরের দিকে ফিরল… এ’ রকমই কিছু একটা দেখে আমার মনকেমন ধীরে ধীরে সূক্ষ হচ্ছিল, তখনই তাকে ওই দেখতে ইচ্ছে করাটা বেশ পেকে ওঠে আর তাকে স্মরণ করি আর সে আসে — এই মাত্র গা ধুয়ে একটা শাড়ি পরে এসেছে, আমার পাশেই দাঁড়িয়ে —

“মুড়ি খাচ্ছেন?”

আমি ওর প্রশ্নের কোন উত্তর না দিয়েই বলি, “শাড়ি পড়ে তোকে বেশ বড় মনে হয়।”

এবার ও আমার দিকে তাকিয়ে একটা মুখ ভঙ্গি করে বলবে, “বড়ই তো!”

যেই এটা করতে গেল সে মুহূর্তেই ওর গালে একটা টোল পড়বে আর ওই টোলটা দেখামাত্র সাথে সাথেই চোখ বুজিয়ে ফেলি আমি… মনের মধ্যে মন্ত্র চলছে তখন। এরপর সে আমার কাছে পড়তে বসে।

আমার গল্প এত অব্দি শুনে হয়তো ভাবছেন কোন মনোরোগীর ডায়েরি, নিশ্চয় বিশ্বাসই করতে চাইছেন না এভাবেও কোনও প্রেমের গল্পের গঠন হতে পারে। আমারও এরকমটা মাঝেমধ্যে হয়, বিশ্বাসই হতে চায় না, তখন প্রথমেই আমি করি কী ওর একটা নাম দি’ — ধরুন রেবেকা, আর তারপর রেবেকাকে ঘিরে ঘিরে নানা ঘটনা বসাতে থাকি… যেমন ওদের বসার ঘরে ওর মা ব’সে বাবার শার্ট সেলাই করছে, ভাই খেলা থেকে ফিরে রান্না ঘরে জলখাবার খাচ্ছে, পুষ্যি বিড়ালটা শোবার ঘরের মেঝেতে গুটিয়ে শুয়ে আছে… এইসব।

আর এরকম ঘটনার মধ্যে দিয়েই আমি ও রেবেকা ছাদ থেকে নেমে আসি। নামবার সময় ও সিঁড়ির লাইটগুলো জ্বালতে জ্বালতে নামে। তারপর ওদের ঘরের সামনেটায় দাঁড়িয়ে বলি, “তুই ভেতরে গিয়ে বই নিয়ে বস আমি নিচ থেকে বাকিটা রেখে আসছি।” একই বাড়ির দোতলায় রেবেকারা আর এক তলায় আমরা ভাড়া থাকি। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরে এসে দেখি, কাকিমা শোবার ঘরে শিফট হয়ে গেছেন এবং একইভাবে সেলাই করে চলেছেন, আর তার সামনে বসে রেবেকার ভাই খাতা খুলে কত কী লিখছে। বসার ঘরে ঢোকা মাত্রই রেবেকা বলে উঠলো,

“আজ হাফ ইয়ারলির খাতা বেরিয়েছে।”

“এতক্ষণ বলিসনি? কীরম হল?”

“বাংলায় আটান্ন পেয়েছি।”

“কই দেখি, খাতাটা দে…”

রেবেকা দের স্কুলে খাতা বাড়িতে আনতে দেয়, আমাদের স্কুলে দিত না। খাতা দেখতে দেখতে লক্ষ্য করি ওর গালে আবার সেই টোলটা পড়েছে… রেবেকাকে আজ রচনা লিখিয়ে দেব ‘নদীমাতৃক বাংলা’-র ওপর।

এরপর আমরা দুজনই এই ব্যাপারটাতে ঢুকে পড়ি আর একের পর এক প্রসঙ্গে সন্ধে গড়ায়, কখনো পড়তে পড়তে ও অন্যমনস্ক হয় তো তার চেয়েও বেশি বার আমি অন্যমনস্ক হই ওকে পড়াতে পড়াতে।

আটটার পাঁচ-দশ মিনিট পরে আমাকে উঠে পড়তে হয়, ওর বাবা ততক্ষণে ফিরে এসেছেন, ভেতর ঘরে টিভি চলছে। রেবেকা সিঁড়ির কাছটা অবদি এগিয়ে দেয়, পিছন থেকে কাকিমা বললেন, “সন্তু বৌদিকে একবার আসতে বলিস তো পারলে”

“আচ্ছা”, ফিরে রেবেকাকে বলি, “ওটা করে রাখিস” তারপর দুমদাম ক’রে সিঁড়িগুলো নেমে যাই। মাকে কাকিমার কথাটা বলে আমি নিজের ঘরে ঢুকে পড়ি। বছরের এই দিকটায় ভীষণ ভ্যাপসা গরম হয়, গায়ের জামাটা অল্প অল্প ঘামে ভিজে গেছে, সেটা পেরেকে টাঙিয়ে ফ্যানটা ফুল স্পিড করে দি’ আর তারপর সব কটা জানলা খুলে দিয়ে বিছানায় চিৎ হয়ে পড়ি। মা বোধহয় ওপরে গেছে, আমার জন্য কী একটা মেসেজ দিয়ে গেল, সেসব আর আমার কানে আসছে না, জানলা দিয়ে বহির্বিশ্ব হুড়হুড় করে ঘরে ঢুকছে, আমের মুকুলের সঙ্গে আরো কয়েকটা কী সব ফুলের গন্ধ মিশে একটা বেশ কম্প্যাক্ট পারফিউম তৈরি করেছে। আমার শরীরের মধ্যে যেটাকে ধড়ফড় হওয়া বলে এখন ঠিক সেই জিনিসটাই চলছে। গেল সন্ধেটা ভেতরে বেশ ভালো রকমের নড়াচড়া আরম্ভ করতেই আমারও খাটের উপর লাফিয়ে দুমদাম নাচতে ইচ্ছা করে, কিন্তু ঠিক অতটা না করে আমি শুয়ে শুয়ে কয়েকবার ৯ এর মত হালকা ডিগবাজি খাই এপাশ-ওপাশ নড়ি। মুহূর্ত কয়েকের ব্যাপার আর তাতেই বেশ ক্লান্তি নেমে আসে দশদিক জুড়ে, সন্ধে থেকে ঘটা সবকটা ঘটনা এলোমেলো ঘরময় উড়তে থাকে, কনস্ট্রাক্ট ডি-কনস্ট্রাক্ট হয়, আর ধীরে ধীরে অনেক দূরের কোনও দৃশ্যপট অন্য কোনও গল্প তৈরি হয়ে যায়। আমি জানি এরপর কী হবে, প্রথমে একটা অনেক অনেক যতদূর চোখ যায় ছড়ানো মাঠ আসবে, মাঠটায় কোন গাছপালা কিছু নেই, ধূ-ধূ করছে, সূর্য প্রায় মাথার ওপর গরম লু-এর মত হয়ে গেছে হাওয়া, আকাশে কোথাও একটা মেঘ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না সেখানে, শুধু কয়েকটা চিলের মত পাখি উড়ছে, ঘুরে ঘুরে বার বার প্রদক্ষিণ করছে, আস্তে আস্তে স্পষ্ট হয়ে উঠছে একটা আওয়াজ — ক্রমশ বোঝা যায় ভেরি বাজছে… যুদ্ধের বাজনা।

এ সমস্ত ঘটনার মধ্যেই কখন মা ফিরে আসে, খেতে দেয় আর কখনই বা খেয়েদেয়ে আমি আবার চলে আসি বিছানায় কিছু টের পাই কিছুটা বা পাই না — প্রতিটা তরকারি টানা, ভাত মেখে তোলা, খাওয়া শেষে হাত মুখ ধোয়া মোছা সমস্ত কাজই করে চলেছি অথচ সে সবের সাথে সাথেই মাথার মধ্যে দূরবর্তী সেই মাঠটাতে একে একে সৈনিক জমছে, বিপক্ষ দলের সৈনিক। এদের সবার মুখই অস্পষ্ট আবছা, ধীরে ধীরে এগিয়ে আসতে থাকে আর এরই মধ্যে একজনের মুখ আমি চিনতে পারি — আমার লাস্ট ইন্টারভিউ প্যানেলের মোটা করে লোকটা যে ভীষণ রেগে আমার দিকে চেঁচিয়ে বলেছিল ননসেন্স, ছেলেবেলায় এক চোখ ট্যারা ছেলেটা স্কুল শেষে যে একদিন দলবল মিলে আমায় পিছনে নিয়ে গিয়ে উদোম কেলিয়েছিল, অর্থাৎ মৃত্যুর কালার কনট্রাস্ট… এখন দেখি এরা সবাই সার বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে, হাতে বল্লম অস্ত্র সারা দেহে যুদ্ধের পোশাক, এদের মধ্যে একজনকে দেখে আমি অবাক হই একটু মজাও লাগে — এ আমার পিসতুতো দাদা, বয়েসে পাঁচ-ছ’ বছরের বড়, ছোটবেলায় একদিন আমার প্লেট থেকে পিঁয়াজ কেড়ে নিয়ে বলেছিল, ছোটরা আবার পেয়াজ খাবে কি? একটা বয়েস অব্দি ভীষণ রাগ হতো, তা ব’লে এখন ওকে এখানে দেখে হাসিই পাচ্ছে।

এরই মধ্যে কারা যেন একটা ঘোড়াকে তাড়া করতে করতে মাঠের ঠিক মদ্যিখানে নিয়ে চলে আসে। দূর থেকে দেখা যাচ্ছে তার ওপর দুজন সওয়ারী, ঘোড়ার রঙটা বাদামি, সূর্যের আলো পড়ে তেল চকচক করছে গা। কাছাকাছি হতে বোঝা গেল তার চালক আর কেউ নয় আমিই… আর আরোহী স্বয়ং রেবেকা। ধীরে ধীরে সেইসব সৈনিক এগিয়ে আসতে থাকে আর বূহ্যের মত ঘিরে ফেলতে থাকে আমাদের ঘোড়া, পথ খোঁজার জন্য গোল হয়ে একই জায়গায় ঘুরতে ঘুরতে তার খুরে ধুলো উঠতে আরম্ভ করে, ঠিক কতটা ধুলো – সত্যিকারে অতটা হয় কিনা বলতে পারব না, তবে আমি দেখি আস্তে আস্তে তাতে আকাশ ঢেকে যাচ্ছে, জনযুদ্ধের একটা মজবুত প্রেক্ষাপট গড়ার জন্যই আমার গল্পে কালবৈশাখীর মত মেঘ জমে যায় হঠাৎ আর তীর ছুটে আসে, ঠিক যেভাবে বি আর চোপড়া মহাভারতে দেখিয়েছিল, রুপোলী তীরের ফলা কালো আকাশ চিরে এগিয়ে আসছে… প্রচন্ড জলতেষ্টা পেয়ে যায়, আমার কাছে যে অস্ত্র ঢাল কিছুই নেই! আমি চোখ বন্ধ করে মনে মনে মন্ত্র পড়তে থাকি… অথচ আমার সেই গোপন উচ্চারণ কীভাবে যেন আকাশে আকাশে ইকো হয়ে যাচ্ছে — শক্তিরূপেণ সংস্থিতা। এই সময় হঠাতই বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি নামল আর পিছনে বসা রেবেকার শরীর থেকে বেরিয়ে এলো দশটা হাত, সেই হাতে মুহুর্তের মধ্যে সে আমাকে ঘিরে তৈরি করে ফেলল একটা দুর্গ…

সকালে যখন ঘুম ভাঙলো — আমাদের যুদ্ধের রিলে হচ্ছে আকাশবাণী থেকে।

শরীরে এখনো ঘুমের জড়তা রয়ে গেছে — কিছুক্ষণ ওইভাবে পড়ে থাকি, এক বন্ধুর দাদা আজ কী একটা কাজের ব্যাপারে কথা বলবে বলে ডেকেছিলো, যাওয়াটা জরুরি কিন্তু ইচ্ছা হচ্ছে না। আরো খানিকটা সময় একই ভাবে থেকে ঝেড়ে উঠলাম — নাহ্‌ যাওয়াটা সত্যিই দরকার, কাজটা হয়ে গেলে…

বাড়ি থেকে বেরোলাম শুধু এক কাপ চা খেয়েই, মাকে বললাম ফিরে এসে জল খাবার খাব। বাইরে পা রাখতেই বুঝলাম ন’টার সময় আজ রোদের বেশ ভালো তাত আছে অথচ ঘরের মধ্যে থেকে এই সকালটাই কীর’ম পিকনিক পিকনিক লাগছিল।

আমাদের বাড়ির থেকে মিনিট দশেকের হাঁটা পথ বন্ধুর বাড়ি। প্রায় কাছাকাছি পৌঁছতেই রাস্তার সাইডে দেখা গেল সেটাকে, বাস পথের পাশাপাশি যেখানে খানিকটা মাটি থাকে হেঁটে যাওয়ার জন্য সেখানেই একটা ষাঁড় শিং ঘষছে মাটিতে, মুখ থেকে ঝরে পড়ছে লালা — আমার কেমন একটা গলা শুকনো ভাব তৈরি হয়, ষাঁড়টা মুখ তোলে এবং তারপর আবার নামিয়ে নিঃশ্বাসে ধুলো ওড়াতে থাকে। আমি মুহূর্তমধ্যে সতর্ক হয়ে পড়ি, মনের ভিতর মন্ত্র চলছে অবিরাম।

দু’ পা পিছিয়ে এসেও আমি নিশ্চিত জানি এক্ষুনি চলে আসবে রেবেকা আর তার শরীর থেকে বেরিয়ে পড়বে সেই দশটা হাত।

প্রাথমিক কিছু ট্রিটমেন্টের পর পাড়ার লোকজনই আমায় বাড়ি পৌঁছে দিয়ে যায়। ঘর থেকে ভিড় আস্তে আস্তে স’রে গেছে। সারাটা দুপুর খুব যন্ত্রণায় কেটেছে আজ। বাইরে সন্ধে নামছে এখন। প্রতিদিনই এই সময়টা রেবেকাকে পড়ানোর। সারা দুপুর ধরে ঠিক করেছিলাম আর কোনদিনই দোতলায় উঠবো না আমি — হঠাৎ করে সব কেমন ওলট-পালট হয়ে যাচ্ছে। আমাকে না যেতে দেখে হয়তো রেবেকাই নিচে নেমে আসবে। যদি না-ও আসে, দোতালায় ওঠা ছাড়া সন্ধেগুলোকে আর কীভাবে চিনেছি এতদিনেও? জীবনে কোনদিনই নাস্তিক হতে পারবো না আমি, কিন্তু – যেকোনো মুহূর্তেই নাস্তিক হয়ে যেতে পারি – এই আমার একটা ভালো দাঁড়াবার জায়গা।

Facebook Comments
Advertisements

Leave a Reply