কাব্যগ্রন্থ---হারাবার সময় পরনে ছিল/ ইন্দ্রনীল ঘোষ

এই ডিসেম্বরেই প্রকাশ পেতে চলেছে ইন্দ্রনীল ঘোষের নতুন কবিতার বই "হারাবার সময় পরনে ছিল"। প্রকাশক নিবিড় প্রকাশনী।
বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন।

রোয়াল্ড হফম্যান-এর কবিতা অনুবাদ – অনিন্দ্য রায়


তৃতীয় কিস্তি

Roald Hoffmann
রোয়াল্ড হফম্যান



ফ্লুরাইট

(FLURITE)



কেউ আমার হবির ব্যাপারে জিগ্যেস করলে

বলি “খনিজপদার্থ সংগ্রহ” আর   

থেমে ভেবে দেখি,

“আকরিক অবস্থায় খনিজ

আমার সবচেয়ে পছন্দের।”

                        ফ্লুরাইটের তো নানারকমের স্বভাব।

বিশুদ্ধ হলে বর্ণহীন, পাথর হলে

ভোদকার মতো, সাধারণত

অ্যান্দোলিত হয় গোলাপি থেকে নীলে

কখনও হলুদে। এক ইঞ্চি-লম্বা ঘনাকৃতির

কয়েকটা নমুনা আছে আমার কাছে

একে অপরের ওপর চেপে, একে অপরের ভেতর ঢুকে

মুখে আঁচড়ানোর দাগ।

একটা স্পর্শগ্রাহ্য অন্ধকার আছে তাদের,

একটা দানাদার অন্ধকার, বয়ন

কালোর থেকের কালো।

কঠিন কিন্তু ভঙ্গুর, আলোর ভাস্বরতায় ধরলে, দশ লক্ষ 

বছর আগে সুবিন্যস্ত আণবিক গঠনে

জমাট বাঁধা অন্ধকারের মধ্যে দিয়ে

কিছুটা আলো পার হতে দেয়।

তাও শুধু সরু ধারের দিকগুলোতে

অলক্ষুণে বেগুনি। 

                   ছেনি হাতুড়ি দিয়ে ঠুকলে

তারা দ্বিধাহীনভাবে ভেঙ্গে যায়

আর অষ্টতলাকৃতি বেরিয়ে আসে।

যাক, কাজটা হয়ে গেল, তবু আমার হাত কাঁপে।

বুঝতে পারি কেন এমনিভাবে বিদীর্ণ হল,

কয়েক শতাব্দী লেগেছে যা তৈরি হতে,

তারপর কন্দরে, পাথরের শীতল খাঁজে

অপেক্ষা করেছে লক্ষ লক্ষ বছর

কেন এভাবে ধ্বংস হয় ?

                        অতিপ্রাকৃত স্ফটিক।

মঙ্গলগ্রহের ছবি বড়ো করে

যদি এমনি বহুতলীয় সুযমা পাওয়া যায়

সবাই ভাববে যে বুদ্ধিমান কেউ

এটা বানিয়েছে। কিন্তু

এখানে যা হয়েছে, আর যা স্বাধীন

                                তা কেবল এনট্রপি।



ফ্লুরাইট: ক্যালসিয়াম ফ্লুরাইডের খনিজ আকরিক ।
এনট্রপি: তাপগতিবিদ্যায় কোনো বস্তুর এনট্রপি বলতে আমরা এমন একটি রাশিকে বুঝি যা বস্তুর রুদ্ধতাপীয় প্রত্যাবর্তী প্রক্রিয়ায় সর্বদা স্থির থাকে।



স্বপ্ন বাহিনী

( DREAM CORPS )



আমার এ দেশে ঘুম ভেঙে যদি, আধ-দেখা কোনো

স্বপ্নের থেকে লুঠ হয়ে যদি অ্যালার্ম বাজাও

সে আওয়াজ ঠিক সব বিছানায় ছড়িয়ে পড়বে


( আমার এ দেশে ) আর এক্ষুনি রাত্রে গাড়িতে

সবুজ আলোর ঝল-ঝলকানি বন্ধুরা আসে

ওরা তো জানেই কী করতে পারি ওদের জন্য


ওরা তো এসেছে আমাকে আবার স্বপ্নে ফেরাতে

দৃশ্য বানায় – আমি বসি তাতে, সেতু একখানি

নীচের ছায়াকে হত্যা করছে, আর এই সব


ওরা আঁকে, কত তাড়াতাড়ি কত, পানশালা এক

ট্রাক থেকে আনে আয়না, দেরাজ, একটি বালক

সে এলিজাবেথ স্ট্রিটের পোষাকে এবং শেখানো    


মদ ঢেলে দিতে, আধো-আঁধারেই বন্ধুরা সব

নিজেদের পিঠ চাপড়ায় আর অভ্যেস করে

নিজেদের কলি, ফিসফিস করে, “ দাঁড়াব কোথায়?


কী বলতে হবে?” আমাকে শুধায়, “পরিচালক তো

তুমিই” বলছে, ভাবছে যা নিয়ে, আমি যেন শুধু

স্বপ্নটা দেখি, স্বপ্নটা দেখি আমার এ দেশে।

Facebook Comments
Advertisements

1 thought on “রোয়াল্ড হফম্যান-এর কবিতা অনুবাদ – অনিন্দ্য রায় Leave a comment

Leave a Reply