শানু চৌধুরী-এর কবিতা

১.

অদৃশ্য মিথুন। আমার জন্ম তারিখে জড়িয়েছো আপামর স্মৃতি। এত ভাঙা ভাঙা সুখচরের ভাস্কর্যে কত না পহেলগান! যার অভিনয়ের ভূমিতে ফলিয়েছ শান্ত বেহাগ। আকর্ষণবোধ আর তোমার কাছে নেই। নেই সুরক্ষিত কোনও ছিঁটেফোঁটা ডানা। যার পালকের জলে মায়াবী কোনও বাড়ি কেড়ে নেবে সস্তায় কেনা কাঠবাদামের গ্রাস।

২.

পদ্মের খোলস খুঁড়ে যে পঙ্কিল দ্রাব্যতা পেলে, তার বড় হওয়ার ছাপ থেকে ফুটে ওঠে রাত। এই নেশার খোলসে সারাৎসার ওঠানামার ভিতর মানুষ হও তুমি। প্রতিমা তুমি এত নিখুঁত! এত আয়োজনের শেষে ঢুলে পড়ো রিফু হওয়া চোখে। কোথাও নাবিক নেই, শেষ ঝঞ্ঝায় সন্ত্রস্ত আলোটুকু বয়ে নিয়ে যাও তুমি। যাদের অনুচ্চারিত শাসনে প্রণাম রাখা আছে পাথরের দেহে। লাগবে বলে নিবৃত্তি করেছো আজ।

৩.

জ্যোৎস্নার নিবিড়ে আকুল দুধ। চুঁইয়ে পড়ছে এক অযান্ত্রিক ছোঁয়ায়। এ আড়ষ্ট জপমালা কোনও রাজকুমারীর পোষকে উঠোন পেতে দাও। যেখানে রত্ন পেটিকার শোভায় রয়েছে আলোকিত তাঞ্জিন। আমরা খুঁজে নেব, দিনমান রেখাবের টানা চোখ। যেখানে অশ্রুর অভিমানের দোয়ায় কেটে যায় চিতলের প্রাচীন। অদ্ভুত রঙীন মাছের মতো স্বাভাবিক অরুণার ছেঁড়া ছেঁড়া বাসস্থান তোমাকে ভেবে বসে আহত সম্ভ্রমের আবাদ। আমি দেবতাদের পদ্মপাতায় শুদ্ধতা জেনেছি। জেনেছি জ্ঞানের লন্ঠন এক তুল্য আশীর্বাদ! অতএব নিরালোক শস্যের দানায়  তুমি যার বন্ধু হলে তাকে শত্রুর মুখোশে কেন নিঃশব্দ করাও?

৪.

আমার ঠিকানা খুঁজে ম্রিয়মাণ হয়েছো তুমি
এখনও আলোর অঞ্চলে যে ফলের মতো,
স্বীকারোক্তির দানা। তার ভেদাভেদ পার করে
ক্ষয়ে যাচ্ছে জিঙ্কের ধাতুবিদ্যা। এখানে সমর্পণ করো
আমাদের ঢেউ আছড়ে পড়া সীমান্তের নাভিশ্বাসে।

পিতা- মাতার যে ভগ্নদশা তার গোপনে রেখেছে এক
সভ্যতা। কিন্তু, আদল ভেঙে যে চিৎকার তার বহ্নিতে
তুমি রেখেছিলে দিনকা জনগোষ্ঠীর অর্থহীন হিংসা
হায় ইয়াবাক! অসামান্য প্রকৃত মানুষ। তুমি জন্ম দিচ্ছ
ভুলে যাওয়া সাম্রাজ্যের। কুড়িয়ে নিচ্ছ সহনশীল প্রয়োজন
এত দ্যোতনা! এত ভার! খুলে যাচ্ছে অন্যায়, রক্তপাতের শিরায়।  
যেখানে পাণ্ডুলিপি স্খলিত হচ্ছে অবশ্যম্ভাবী জীবনচক্রের ইয়োরুবায়।

Facebook Comments

Leave a Reply