আপনি কি জানেন, অপরজন এখন প্রকাশনার পথে? অপরজন প্রকাশনীর ছয়টি বই এখন প্রকাশের অপেক্ষায়। বইগুলির নাম খুব শিগ্রীই জানানো হবে।

অনুবাদ কবিতা : হিন্দোল গঙ্গোপাধ্যায়

গ্রীক কবিতা – অর্থনৈতিক অবনমন ও ব্যয়সংকোচের আলোকে
পঞ্চম কিস্তি

 

[https://www.cnbc.com/2018/06/21/greece-awaits-debt-relief-measures-after-nearly-a-decade-of-austerity.html]

Kyoko Kishida (গ্রীস, ১৯৮৩)

কিয়োকো কিশিদা’র(একটি লেখকনাম যা তিনি গ্রহণ করেছিলেন এক জাপানি অভিনেত্রীর নামানুসারে, যিনি ১৯৬৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত জাপানি চলচ্চিত্র ‘দ্য ওম্যান ইন দি ডিউন্স’ এর পর বহুল পরিচিতি লাভ করেন ) সব কবিতাই জাজরা খালিদ (Jazra Khaleed) তাঁর ‘টেফলন’ পত্রিকায় প্রকাশ করেছেন|

প্রথম সংখ্যা, যা ল্যাংস্টন হিউজ থেকে ইউসেফ কুমুনায়াকা সবার কবিতা অন্তর্ভুক্ত করে, কবিতাকে ‘ডাইনি-কৃত রান্না’ বলে উল্লেখ করে ও তা রূঢ়ভাবে তুলে ধরার দাবি রাখেন| সূত্রটি কিশিদার নিজস্ব কবিতাগুলির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যা প্রায়শই অভাবনামূলক, চিন্তার ক্ষণিকের উপলব্ধির মতো পড়ে এবং বোধের নিদর্শন দীর্ঘকাল ধরে এই পর্যায়ের নীচে তৈরি হয়। তিনি সম্প্রতি আফ্রিকান আমেরিকান লেসবিয়ান কবি প্যাট পার্কার এবং চেরিল ক্লার্কের কবিতা অনুবাদ করেছেন ও প্রবন্ধ লিখেছেন|

 

Kleine Nachtmusik*

 

আমি বারণ করেছিলাম দিনের আবর্তনকে
আর জ্যামের শিশিতে নিজের বাসা খুঁজে নিয়েছিলাম
যাতে বিশ্বাসঘাতকরা আর এমফিটামাইনের স্পন্দন
আমায় ছুঁতে না পারে
এবার দেখি
কতদিন তুমি পিস্তল তাকে করে থাকো দিনের মন্দিরে
যার ব্যারেলে সাইক্লেমেন ফুলের সুপ্ত অভিলাষ|
দ্রুত তোমার সন্তানেরা
দেশান্তরী হবে অন্য ছায়াপথে
কি করবে তারপর তুমি একা একা;
ছাদে প্যাঁচার ডাকের কর্কশ তীক্ষ্ণতায়?

[Kleine Nachtmusik মোৎজার্টের সৃষ্ট একটি সিম্ফনি (সময়কাল ১৭৮৭) , যার অর্থ ‘একটি ছোট সান্ধ্য প্রেমসংগীত’]

[মূল গ্রীক থেকে ইংরাজি অনুবাদ – রেচেল হেডাস]

পদ্মভোজী

এই না বলা সমঝোতা
মিলতে পারেনা আমার কাটানো কয়েক ডজন বছরে
এ’কে হত্যা করো
বিষপ্রদান করো খন্ডে খন্ডে
ঠিক যেভাবে আমাদের সে দূষিত করে এসেছে এতদিন
আমরা যারা, এখন থেকে দূরে সরে গেছি বারবার|
মিছরির ভেতর, পাথর কে পুঁতে রেখেছিলো?
কে বেঁধে রেখেছিল লৌহখন্ড সিগালের ডানায়?
কেন এখনো ‘আবেগহীন’ বিশেষণটি আমরা ব্যবহার করি?
সম্মান?
কার জন্য?
পদ্মভোজীদের জন্য?

[মূল গ্রীক থেকে ইংরাজি অনুবাদ – রেচেল হেডাস]

সিরোকো* বা সৈনিকেরা

যেদিন তারা সব শস্য জ্বালিয়ে দেবে
তুমি প্রস্তুত থেকো
যদি তোমার ডানা ওরা কেটে দিয়ে থাকে ইতিমধ্যেই
একটা চিৎকার ছুঁড়ে দিও
আমাকে খুঁজে পাওয়ার জন্য, যেখানে আমি শুয়ে থাকব
আগুনের শিখারা ঘিরে ফেলবার আগে|
আমি লুকিয়ে থাকব খড়ের গাদায় পরের দিনগুলো,
জেনে রাখো, মনে রেখো
ঠিক এখানেই সব পাপিয়া’রা চূর্ণ হয়ে ঝরে পড়বে
আমাদের খুঁজে পেতে হবে, এবং দ্রুত
একটা ভূগর্ভস্থ কুয়ো
যা আমাদের যূপকাষ্ঠে বিদ্ধ করবার মত যথেষ্ট শীতল|
একের উপর এক মৃতদেহ
তমসাঘেরা এই সময়

শেষদিনটির বিরোধিতায় সেজে উঠছে

[Sirocco একটি ভূমধ্যসাগরীয় হাওয়া, যা সাহারা থেকে আসে এবং সাধারণত গ্রীষ্মকালে যা উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইউরোপীয় দেশগুলিতে হারিকেনের গতিবেগে আছড়ে পড়তে পারে]

[মূল গ্রীক থেকে ইংরাজি অনুবাদ – রেচেল হেডাস]

Elena Polygeni (পেত্রা, গ্রীস, ১৯৭৯)

মহিলাদের জীবন থেকে উঠে আসা ছোট প্রতিভাসগুলি এলিনা পলিগেনির অভিনয়-মূলক কবিতাকে চিহ্নিত করে। তিনি একজন এথেন্স ভিত্তিক অভিনেত্রী এবং সংগীতশিল্পী। ২০০৮ সাল থেকে তিনি কেবলমাত্র পরীক্ষামূলক থিয়েটার সংস্থা ম্যাগের সাথেই কাজ করেছেন, যারা প্রায়শই তাদের অভিনয়গুলিতে এলেনার লেখার ব্যবহার করেন। তার কবিতা সুইডিশ এবং ইংরেজি ভাষায় অনূদিত হয়েছে|

যে বিষয়ে আর কাজ বাকি নেই

আমি নই, আমার মুখও নয়
তা’ও নয়, যা লুকিয়ে রয়েছে আমার জামার তলায়
আমি কথা বলি, যদিও জানি আমার কণ্ঠস্বর
বরফের বাক্সকে ডুবিয়ে দেবে
যেখানে হিমায়িত প্রাণীরা
ফাঁসিতে ঝুলছে

কে গ্রাহ্য করে, ওরা রইল কি রইল না?

এই কোলাহলের মধ্যে আমি আমার হাত তুলি
স্বর্গের দিকে
কি অপরূপ সেইসব দেবদূতীরা,
মৃত
বিষণ্ণ চোখ নিয়ে তারা আমাদের দেখছে

[মূল গ্রীক থেকে ইংরাজি অনুবাদ – ক্যারেন ভ্যান ডাইক]

Facebook Comments
Advertisements

Leave a Reply