আপনি কি জানেন, অপরজন এখন প্রকাশনার পথে? অপরজন প্রকাশনীর ছয়টি বই এখন প্রকাশের অপেক্ষায়। বইগুলির নাম খুব শিগ্রীই জানানো হবে।

রহাস্য গল্প : শুভ্র চট্টোপাধ্যায়

লেখনকুমারের কবিজীবন শুরু হয়েছিল আঠাশ বছর পাঁচ মাস বয়সে। খুব সাহস করে তিনি একটা কবিতা পোস্ট করেছিলেন ফেসবুকে। লাইক পড়েছিল ছশো বাইশ। পাশের পাড়ার প্রাজ্ঞ প্রাবন্ধিক, লেখনকুমারের ফেবুফ্রেন্ড গদাই ব্যানার্জি ইনবক্সে বলেছিলেন, “এত লাইক থাকবে না। যেদিন লাইক কমতে কমতে দশে এসে ঠেকবে সেদিন থেকেই জানবে তোমার কবিতা কবিতা হচ্ছে। ইনফ্যাক্ট একজন বিশুদ্ধ কবির দু-জন পাঠক থাকে।”

কিন্তু তেমনটা হচ্ছিল না। গড়পড়তা সাড়ে চারশো লাইক কবিতা পিছু বাঁধা ছিল লেখনকুমারের। দুই বাঙলা মিলিয়ে অন্ততঃ সাতশ জন কবি-গল্পকার-টেক্সট লিখিয়ে যার হাত ধরে উঠে এসেছেন, সেই ঘনরাম বসু নিয়মিত মন্তব্য পোস্ট করে উৎসাহ যোগাচ্ছিলেন তাঁকে। প্রথম কবিতা পোস্টের পর মাত্র এগার মাসের মাথায় যখন লেখনকুমারের প্রথম বই ‘মালায় এসেছে আগন্তুক পিপড়ে’ ঘনরাম বসুর তত্ত্বাবধানে পান্ডুলিপি হব হব করছে, তখনই এক রহস্যময় কারণে সব কিছু বদলে গেল।

মাত্র দু-মাস আগে যে কবিতাটি লেখনকুমার রচনা করে সবচে’ তৃপ্তি পেয়েছিলেন, তা লাইক পেল মাত্র উনপঞ্চাশটি। এরপর আরো কবিতা পোস্ট করেছেন। লাইক কখনোই ষাট ছাড়ায় নি। ঘনরাম বসু কোন রহস্যময় কারণে একদমচুপ। আর গাঁদাফুল সরকার নামের যে মেয়েটি প্রতি কবিতায় “লাভ” জানিয়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করত, সে-ও নিষ্ক্রিয়। মনে হয় সে লেখনকুমারকে ব্লক করে দিয়েছে।

এসব নিয়ে কিছুদিন কিংকর্তব্যবিমূঢ় থাকার পর লেখনকুমার বিষয়টি জানালেন গদাই ব্যানার্জিকে। তিনি স্মিত হেসে বললেন, “এটাই স্বাভাবিক। কিছুদিন হল দেখছিলাম তোমার কবিতায় ডেপ্‌থ এসেছে। ডাইমেনশনটাও নতুন মনে হচ্ছে। তুমি এখন তোমার কবিতা লিখছ। লাইক তো কমবেই।”

লেখনকুমার প্রতিবাদ জানিয়ে বললেন, “আমার কিন্তু তা মনে হচ্ছে না। মাত্র এক বছর হল লিখছি। এত তাড়াতাড়ি ডেপ্‌থ কী ভাবে আসবে?”

“তোমার কবিতায় ডেপ্‌থ আছে কি না তা তুমি বোঝার কে হে?” ব্যানার্জি অসন্তুষ্ট হন। “সে তো বুঝবে পাঠক। তুমি আগে কবিতার মধ্যে কিছু বলার চেষ্টা করতে। কী বলতে সেটা বড় কথা নয়—কিন্তু চেষ্টা ছিল বলার। ইদানিং তুমি কিছুই বলার চেষ্টা করছ না, কিন্তু না বলার মধ্য থেকে একটা বলা-বলা ইমেজ জেনারেটেড হচ্ছে—যেটাকে বলা যায় নন স্পিকিং সাবস্টেন্স। মানে বলার যত গুণ বা কোয়ালিটি, তুমি সেগুলো তুলে দিচ্ছ এক এক করে।”

“কিন্তু মাত্র এক বছরে এটা আমি পারলাম কী ভাবে? না না! এটা একটা মিস্টিরিয়াস ঘটনা। কার কাছে অ্যাডভাইস নিই বলুন তো?”

“অ্যাডভাইস? কোন দরকার নেই! যা আসছে তাকে আসতে দাও! দেখবে ডেপ্‌থ ব্যাপারটা তোমার কবিতার সাবজেক্ট হয়ে গেছে!”

“এসব ক্লিশে থিওরি এখন অচল হয়ে গেছে। আমি বিষয়হীন লিখি। কখনোই আমার কবিতায় ডেপ্‌থ আসবে না। কারণ ডেপ্‌থ হল একটা সাবজেক্ট।”

গদাই ব্যানার্জি মুখ ঘুরিয়ে বললেন, “থিওরি কখনো ভুল হয় না। তুমি এখন এসো। আমার অনেকগুলো পাঠপ্রতিক্রিয়া লিখতে হবে।”

এরপর কেউ একজন লেখনকুমারকে দিয়েছিল রহস্যভেদী স্বপনকুমারের ফোন নম্বর। শহরেরই মানুষ তিনি।

স্বপনকুমারকে ফোন করতে তিনি বললেন, “এখন আমি দুটো কেস নিয়ে ব্যস্ত। আপনি ঠিক একমাস চারদিন পর ফোন করে দেখা করুন।”

অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। লেখনকুমার দাঁতে দাঁত চেপে তাই করলেন। অপেক্ষা করার সেই দিনগুলিতে একের পর এক কবিতা পোস্ট করে তিনি আশা করতেন এই বুঝি সেই সব লাইকের দিন ফিরে এল। কিন্তু ফিরল না। তবে একটি কবিতায় লাইক পড়ল আটষট্টিটা। তারপর একদিন অপেক্ষা ফুরোল। শ্রাবণের বর্ষণমুখরিত এক সন্ধায় শহরের আরেক প্রান্তে স্বপনকুমারের চেম্বারে হাজির হলেন লেখনকুমার। প্রাথমিক আলাপের পর স্বপনকুমার বললেন, “এবার বলুন আপনার সমস্যা কী?”

লেখনকুমার খুলে বললেন। স্বপনকুমার সব শুনে একটা বিড়ি ধরিয়ে বললেন, “এমনটা কি সম্ভব যে আপনার কবিতার মান হঠাৎ কমে গেছে। তাই লাইক কম।”

“একদিনে কোয়ালিটি এত পড়ে যাবে?” লেখনকুমার স্বীকার করতে চাইলেন না।

“তাহলে হয় তো গদাইবাবুই ঠিক। আপনার ডেপ্‌থ বাড়ছে।”

“আমার মনে হয় কবিতার মান কমেও নি, ডেপ্‌থও বাড়ে নি। মাত্র এক বছর লিখছি। কমা-বাড়া যাই হোক না কেন, চট করে হবে না। মান কি লিঙ্গ যে এই উঠবে এই নামবে?”

স্বপনকুমার ল্যাপটপ চালু করে লেখনকুমারের দিকে ঘুরিয়ে দিয়ে বলল, “আপনার ফেসবুক একাউন্টটা খুলুন তো।”

লেখনকুমার তাই করলেন।

“এবার আমার প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন। শেষবার চারশো লাইক কবে পেয়েছিলেন?”

“সাতাশে এপ্রিল।”

“তারপর কী পোস্ট করেছিলেন?”

“আটাশে একটা ফোটো। গরমে ডাব খাচ্ছি। উনত্রিশে দুটো ফোটো। ফুলের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে তোলা সেলফি। তিরিশে টাউনে ঝড় বৃষ্টি হয়েছিল—তার ফটো। তারপর কবিতা। পয়লা মে। সেদিন থেকেই লাইক কমে গেল।”

“ফোটোগুলো কি ক্যাপশন ছাড়া?”

“না না। ডাব খাওয়ার ক্যাপশন ছিল “আই এম ডাবিং”। তারপর লিখেছি, “ফুলের কোন অভাব নেই লাগবে কেবল পয়সা”। আরেকটায় লিখেছিলাম, “মেঘে মেঘে অন্ধ আকাশ।”

“এইসব পোস্টে কেমন লাইক পড়ে?”

“এভারেজ একশ-সোয়াশ। সে সব কিন্তু ঠিকই আছে। কালকেই ইলিশ কেনার ফোটো পোস্ট করেছি উইদ ক্যাপশন—“কোথায় ছিলিস ইলিশ?”  দেড়শ লাইক।”

“এমন কি হতে পারে যে আপনাকে বন্ধুরা ফোটোগ্রাফার হিসেবে দেখতে চান, কবি হিসেবে নয়।”

“ইমপসিবল!”

“ঠিক আছে। আমি কেসটা নিলাম। পাঁচ হাজার আগাম। কলকাতায় যেতে হবে থাকতে হবে। সে বাবদ আরো পাঁচ। পনের দিন পর ফোন করে আসবেন। রিপোর্ট দেব। তখন আরো তিন দেবেন। সব মিলিয়ে তের হাজার।”

“লাইক কমার কারণ সত্যিই জানা যাবে?”

“কার্য থাকলে কারণও থাকে। যদি না জানা যায় তবে আপনার কী রকম ক্ষতি হবে?”

“ঘনরামদা চুপচাপ। এটাই মূল টেনশন। এমনিতে আমার প্রথম বই-এর পাব্লিশার্স-এর অভাব নেই। ‘মাকড়সা’ তো বলেই রেখেছিল ছাপবে। তারপর ‘লিপিলিখা প্রকাশন’—কিন্তু ঘনরামদা-র হাত ধরে প্রথম বই বাজারে এলে ইফেক্টটা অনেক ভাল হবে বুঝলেন? বাংলাদেশেও যাবে—একুশের মেলায়।”

“ওকে! মনে হয় কারণ জানতে পারবেন। কিন্তু, এখন আমি বের হব। একটা তদন্ত আছে। আর হ্যাঁ, আমি না বললে এরমধ্যে কবিতা পোস্ট করবেন না। লিখতে পারেন, কিন্তু নো পোস্ট।”

এর পরের দিনগুলি অসীম ছটফট করল লেখনকুমার। ঘনরামদা যথারীতি ফোন করলে ধরছেন না। এসেমেস দিলে জবাব নেই। হোয়াটস অ্যাপ কি মেসেঞ্জারে ‘সিন’ দেখালেও একটা ইমোজিও পাঠান নি। এরমধ্যে গদাই ব্যানার্জি একদিন লেখনকুমারের কবিতা ব্যাখ্যা করে দেখিয়েছেন ডেপ্‌থ কোথায় কী ভাবে বাড়ছে। কিন্তু লেখনকুমার তা উড়িয়ে দিয়েছেন। অনলাইন ‘কবিতা প্রোটজোয়া’-র সম্পাদক ভুলু রায়কে এ নিয়ে লেখনকুমার আভাস দিয়েছিলেন। তিনি ব্যাপারটাকে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, “কী ঘনরামদাকে নিয়ে পড়ে আছিস মাইরি! আজকাল ওর কাছে ইয়ং জেনারেশনের কেউ যায় না। আর লাইক দিচ্ছে না মানে যে পড়ছে না, তা তো নয়। তা ছাড়া, কী ভাবে টেক্সটকে ডিকন্সট্রাক্ট করতে হয় তা গদাই ব্যানার্জি বাল বোঝেন! তুই আমাকে একটা সিরিজ কবিতা দিস তো!”

চোদ্দ দিন কবিতা না পোস্ট করে কোনমতে কাটিয়ে দিলেন লেখনকুমার। সেদিন রাতেই স্বপনকুমারের ফোন এল। তিনি বললেন, “আজ গভীর রাতে আর কাল দুপুরে একটা করে কবিতা পোস্ট করবেন। আমার সঙ্গে দেখা করবেন কাল সন্ধেবেলায়।”

“কারণ জানা গেছে?” আকুল হয়ে জানতে চায় লেখনকুমার।

“অবশ্যই।”

স্বপনকুমার ফোন রেখে দিলেন। রাত পৌনে তিনটের সময় কবিতা পোস্ট করে বিছানায় গেলেন লেখনকুমার। বাকি রাত ঘুম এল না।  ভোরের দিকে ঘুমিয়ে উঠলেন পৌনে দশটায়। চোখমুখ না ধুয়ে মোবাইল খুলে ফেসবুক বের করে যা দেখলেন তা তুমুল চমকযোগ্য। গতরাতে পোস্ট করা কবিতায় লাইক পড়েছে সাতশ উনিশটা।

সন্ধে নাগাদ লেখনকুমার যখন টোটোয় উঠছেন তখনো পর্যন্ত দুপুরের পোস্টে লাইক সাড়ে ছশ প্লাস। স্বপনকুমারের চেম্বারে ঢুকেই তিনি উচ্চ্বসিত স্বরে বললেন, “লাইক ফিরে এসেছে। কিন্তু ঘনরামদা কিছু জানায় নি।”

“গাঁদাফুল সরকার?”

“নেই।”

“আসবে না।” ছোট্ট নিঃশ্বাস ফেলে বললেন স্বপনকুমার।  “ব্যাকগ্রাউন্ডে ফুল রেখে আপনি যে সেলফি দুটো পোস্ট করেছিলেন সেটাই হল প্রত্যক্ষ কারণ।”

“মানে?”

“ফুলগুলো ছিল গাঁদাফুল।” একটা বিড়ি ধরালেন স্বপনকুমার। “বসুন। আপনাকে এক আশ্চর্য কাহিনী শোনাই।”

“ঘনরাম বসু যখন তরুণ কবি, তখন তাঁর সঙ্গে প্রেম হয়েছিল তরুণী প্রাবন্ধিক এলোকেশি সান্যালের সঙ্গে। বিয়েও হয়। কিন্তু দু-বছর যেতে না যেতেই এলোকেশি ফোর নাইটি এইটে অভিযোগ করেন। ঘনরাম গ্রেপ্তার হন। জামিন পেতে তিনমাস লেগেছিল। পরে অবশ্য মিউচুয়াল ডিভোর্স হয়ে যায়। কিন্তু ঘনরাম বুঝতে পারেন যে এলোকেশি মেয়ে খারাপ নয়, আসলে তাঁদের বিয়ে করাটাই ভুল হয়েছিল। কবি কখনো বৃশ্চিক রাশির প্রাবন্ধিককে বিয়ে করতে পারে না।

“ঘনরাম এরপর সিদ্ধান্তে আসেন যে কবি-লেখকদের বিয়ে করার একটা প্রাকৃতিক নীতি আছে। সে সব নিয়ে দশ বছর গবেষণার পর তিনি বুঝতে পারেন নীতিটা ঠিক কী! তিনি সেই তত্ত্বের নাম দেন ঘনবিবাহ।”

“এ তো ঘনরামদার প্রথম বই-এর নাম!” লেখনকুমার লাফিয়ে ওঠেন।

“আসলে সে বই-এর কবিতাগুলি ছিল ঘনবিবাহ নীতির এক একটা সূত্র। সে বই-এর কোনো কবিতা মনে আছে আপনার?”

“হ্যাঁ হ্যাঁ! ‘লাজাঞ্জলী’ কবিতাটা তো অনেকেরই মুখস্থ—বিমুর্ত রাখতে হয় কন্যায়, কেন রেখেছ অতীতে? — দারুন লাইন!”

“এর মানে, যে অ্যাবস্ট্রাক্ট লেখে, তাঁর সঙ্গে কন্যারাশির জাতকের বিয়ে দিতে হবে, কিন্তু অতীতে, মানে, ইতিহাসের টিচার বা প্রাবন্ধিকের সঙ্গে বিয়ে হলে অনর্থ ঘটবে।”

“কী বলছেন এসব?”

“বিশ্বাস করতে চেষ্টা করুন। ঘনরামবাবুর আদর্শ হল দুই বাংলার হাজার হাজার কবি-লেখক-প্রাবন্ধিক-নাট্যকর্মী-সংগীত শিল্পীদের ঠিকঠাক বিয়ে দেওয়া। এক অর্থে তিনি ঘটক। কবিতা তাঁর কাছে ঘটকালীর মাধ্যম। ডিভোর্স হলেও এলোকেশী কিন্তু এ ব্যাপারে ঘনরামবাবুর সঙ্গেই আছেন।”

“আপনি পাগল হয়ে গেছেন!”

“উনি ঠিক করেছিলেন আপনার সঙ্গে গাঁদাফুলের বিয়ে দেবেন।”

“হিক্‌ক!”

“জল খান। শান্ত হন। ঘনবিবাহের সতের সংখ্যক কবিতা ‘পাললিক ত্রিভূজ’-এ স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘বিষয়ের হীনতা মহৎ হয় পাললিক শিলা ছুঁয়ে দিলে—।”

“উঃ! কী লাইন!”

“এর অর্থ হল, বিষয়হীন কবিতা লিখলে বিয়ে করা উচিত ভূগোলের টিচারকে। গাঁদাফুল ‘সারদা প্রসন্ন বিদ্যালয়ে’ ভূগোল পড়ায়। ঘনরাম তাঁকে আপনার পোস্টে প্রেম নিবেদন করতে বলেছিলেন। তিনি কিছুদিনের মধ্যেই আপনার সঙ্গে দেখা করতেন। কিন্তু তখনই আপনি ব্যাকগ্রাউন্ড গাঁদা ফুল রেখে পোস্ট দিলেন। ক্যাপশানে লিখলেন, ফুলের কোন অভাব নেই লাগে কেবল পয়সা। গাঁদাফুলের মন ভেঙে গেল। ঘনরাম তাঁকে বোঝাতে ব্যর্থ হলেন। আপনি অজান্তে ঘনরামের মনও ভেঙে দিলেন। তিনি নিজেকে সরিয়ে নিলেন আপনার থেকে। কবি-লেখকরা একটু সেন্টিমেন্টাল হয়।”

“ওকে ওকে! মানছি যে আমি বিষয়হীন লিখি এবং গাঁদাফুল আমাকে প্রেম-প্রেম মন্তব্য জানাত। আমার একটু সন্দেহও হয়েছিল। কিন্তু লাইক কমে যাওয়ার ব্যাখ্যাটা কী? এক ধাক্কায় সাড়ে তিনশ-চারশ লাইক হাওয়া?”

“ওসব ঘনরামবাবুর লাইক।”

“মানে?”

“তাঁর একটা অর্গানাইজড লাইক বাহিনী আছে। সেই সব মানুষ, যাঁদের তিনি বিয়ে দিয়েছিলেন।”

“অসম্ভব। আপনি গল্প দিচ্ছেন! লাইক বাহিনী চালান অত সোজা?”

“খুবই সোজা। নইলে আপনার শেষ কবিতা দুটোয় এত লাইক এল কোত্থেকে? আমি ঘনরাম বসুর সঙ্গে দেখা করে সব ঠিকঠাক করে এসেছি। তিনি এর মধ্যে শালকুমারে আসছে। আপনার সঙ্গে দেখা করবেন।”

“শালকুমার? সে তো এখান থেকে মোটে আধঘন্টা!”

“হ্যাঁ। নৃত্য শিল্পী পুটিরানী মজুমদারের সঙ্গে লাতিন সাহিত্যের অনুবাদক হরিদাসের বিয়েতে তিনি বরযাত্রি আসবেন। আপনার জন্য তিনি আরো একজনকে ভেবেছেন। বাউল গবেষক ভানুমতী পাল। ঘনবিবাহে আছে, বাউলের কোন বিষয় নেই—।”

“দুর্বাল! আমার গার্লফ্রেন্ড আছে!”

“আমি কারণ জানালাম। কিন্তু জীবন আপনার, সিদ্ধান্তও আপনার। তবে আপনি ভানুমতীকে বিয়ে করলেন টানা দু-বছর প্রতি কবিতায় বারোশ লাইক পাবেন। গ্যারান্টি।”

“এটা কি বিয়ের পণ?”

“সে আমি কী জানি? যাক গে! বাকি টাকাটা এনেছেন?”

“হ্যাঁ। এই নিন। টাকা আমি মারি না।”

“আমার মতে এবার আপনাকে খুব ভেবে চিন্তে একটা ডিশিসান নিতে হবে।” টাকা গুণে বিড়ি ধরিয়ে বললেন স্বপনকুমার। “প্রেম এবং কবিতা থেকে যে কোন একটাকে বেছে নিতে হবে।”

তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে লেখনকুমার বলতে যাচ্ছিল “আমি দুটোই চাই।” কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে তাঁর মুখে বাক্য যোগাল না।

Facebook Comments
Advertisements

Leave a Reply