স্বাধীনতা আর পরাধীনতায় আজ আর তফাৎ দেখি নে… : দেবাশিস দত্ত

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স অ্যাক্ট অনুমোদন, ১৫ আগস্ট ‘ক্ষমতা হস্তান্তর’— দ্বিখণ্ডিত  ভারত ও পাকিস্তান বুঝে নিলো আপন আপন ‘ক্ষমতা’। সেই ক্ষমতাই হল ‘স্বাধীনতা’ যা আমরা সকলে জানি বুঝি এবং চিনি। অবশ্য অনেক এলাকা সেদিনে ক্ষমতা বুঝে নিতে পারেনি—তারা তখনও ছিল কারও না কারও ‘অধীন’।

১৯৪৭ আগস্ট ১৫

মধ্য রাতে ‘অভিসার’ … প্রথম স্বর …

“লং ইয়ার্স এগো উই মেড অ্যা ট্রিস্ট উইথ ডেস্টিনি অ্যান্ড নাউ দ্য টাইম কামস হোয়েন উই শ্যাল রিডিম আওয়ার প্লেজ, নট হোলি অর ইন ফুল মেজার, বাট ভেরি সাবস্ট্যানশিয়ালি …

পুনরায় …

“অ্যাট দ্যা স্ট্রোক অব দ্যা মিডনাইট আওয়ার, হোয়েন দ্যা ওয়ার্ল্ড স্লিপস, ইন্ডিয়া উইল অ্যাওয়েক টু লাইফ অ্যান্ড ফ্রিডম। অ্যা মোমেন্ট কামস, হুইচ কামস বাট রেয়ারলি ইন হিস্টরি, হোয়েন উই স্টেপ আউট ফ্রম দ্যা ওল্ড টু দ্যা নিউ, হোয়েন অ্যান এজ এন্ডস, অ্যান্ড হোয়েন দ্যা সোল অব অ্যা নেশন, লং সাপ্রেসড, ফাইন্ডস আটারেন্স …

বিফোর দ্যা বার্থ অব ফ্রিডম উই হ্যাভ এন্ডিওরড অল দ্যা পেইনস অব লেবার অ্যান্ড আওয়ার হার্টস আর হেভি উইথ দ্যা মেমরি অব দিস সরো। সাম অব দোজ পেইনস কন্টিনিউ ইভন নাউ …

তারপর …

৩০ জানুয়ারি, ১৯৪৮ প্রার্থনা সভায় যাবার সময় বিড়লা হাউসের সামনেই হিন্দু ফান্ডামেন্টালিস্ট (হিন্দু মহাসভার সদস্য) নাথুরাম বিনায়ক গডসের আগ্নেয়াস্ত্রের কয়েকটা দানা পুরে দিল মহাত্মা গান্ধীর শরীরে …

সহজ উচ্চারণ …

মহাত্মার মৃত্যুর পর জাতির উদ্দেশ্যে আবার প্রধানমন্ত্রীর স্বর … তিনি বললেন: “দ্যা লাইট হ্যাজ গান আউট অব আওয়ার লাইভস অ্যান্ড দেয়ার ইজ ডার্কনেস এভরিহঅ্যার … অ্যা ম্যাড ম্যান হ্যাজ পুট অ্যান এন্ড টু হিজ লাইফ, ফর আই ক্যান অনলি কল হিম ম্যাড হু ডিড ইট …

এবার কঠিন …

অ্যান্ড ইয়েট দেয়ার হ্যাজ বিন এনাফ অব পয়জন স্প্রেড ইন দিস কান্ট্রি ডিউরিং দ্যা পাস্ট ইয়ার্স অ্যান্ড মান্থস, অ্যান্ড দিস পয়জন হ্যাজ হ্যাড অ্যান এফেক্ট অন পিপলস মাইন্ডস। উই মাস্ট ফেস থিস পয়জন, উই মাস্ট রুট আউট দিস পয়জন, অ্যান্ড উই মাস্ট ফেস অল দ্যা পেরিলস দ্যাট এনকম্পাস আস্‌ অ্যান্ড …

এই প্রশ্নে অনন্ত জিজ্ঞাসা তর্ক বিতর্ক …  ‘লজ্জা’ কোথায়। লজ্জাবস্ত্র উধাও … কিন্তু উত্তরাধিকার …

গণপরিষদে নেহেরুজীর উচ্চারণ: “ইট ইজ শেম টু মি অ্যাজ এন ইন্ডিয়ান দ্যাট অ্যান ইন্ডিয়ান শুড হ্যাভ রেজড হিজ হ্যান্ড এগেনস্ট হিম, ইট ইজ শেম টু মি অ্যাজ অ্যা হিন্দু দ্যাট শুড হ্যাভ ডান দিস ডিড অ্যান্ড ডান টু দ্যা গ্রেটেস্ট ইন্ডিয়ান অব দ্যা ডে অ্যান্ড দ্যা গ্রেটেস্ট হিন্দু অব দ্যা অ্যাজ … তালা পড়ে গেলেও গোপনে চলল আরাধনা …

ক্ষমতার ব্যাটন ‘আত্মজ’ এবং অনেক হাত ঘুরে  …

বিশাল এই দেশের ৩৯৫ আর্টিকল ১২ টি শিডিউল এবং ১১৭,৩৬৯ শব্দবিশিস্ট সংবিধানের প্রিএম্বলের শপথে বলা হল: “উই দ্যা পিপল অব ইন্ডিয়া হ্যাভিং সলেমনলি রিজল্ভড টু কনস্টিটিউট ইন্ডিয়া ইনটু অ্যা সভারেন সোশ্যালিস্ট সেকুলার ডেমোক্রাটিক রিপাবলিক অ্যান্ড টু সিকিওর টু অল ইটস সিটিজেনস: জাস্টিস … লিবার্টি … ইকুয়ালিটি … অ্যান্ড টু প্রমোট অ্যামাং দেম অল ফ্রাটারনিটি অ্যাশিওরিং দ্যা ডিগনিটি অব দ্যা ইন্ডিভিজুয়াল অ্যান্ড দ্যা ইউনিটি অ্যান্ড ইন্টেগ্রিটি অফ দ্যা নেশন …

সেদিনে গণপরিষদের ভাষ্য ১২ শতাংশ সাক্ষর মানুষের ‘অনুমোদন’ নিয়ে পাড়ি জমাল এক অজানার দিকে …

ক্ষমতার ব্যাটন ‘আত্মজ’ এবং অনেক হাত ঘুরে … নাথুরাম এর উত্তরাধিকার মিলে মিশে একাকার … এখন সব লজ্জা অস্তমিত।

উঠে এসেছিল আর এক রাজনৈতিক ভাষ্য: ‘ইয়ে আজাদি ঝুটা হ্যায়’ … বকওয়াস … যথাসম্ভব নিন্দিত শব্দ-বন্ধ …

যেখানে যতটুকু দ্রোহ তখনও ছিল অবশিস্ট ‘টুল ডাউন’ করল … চলল পানসি ‘অর্থনৈতিক’ স্বাধীনতার দিকে ‘আজাদী’ ছিল না নিশ্চিত। নাথুরাম এর উত্তরাধিকার মিলে মিশে এখন একাকার … সব লজ্জা অস্তমিত সমর্পিত … বৃহত্তম এবং বিশুদ্ধতম গণতন্ত্রের পথে উজান বাইছে ‘হিন্দুরাষ্ট্র ’র স্লোগান … এটা দ্রোহ নয়, সন্ত্রাস নয় … ‘মুক্তি’র পথ … হায় রে!

‘আজাদি’ শব্দটা হিন্দি নয়  কেমন যেন টক্সিক গন্ধ সন্ত্রাস সন্ত্রাস গন্ধ … সহজপাচ্য নয় অবশ্যই

বর্ডার বর্ডার গন্ধ ক্রশ বর্ডারে টেররিজম ডানা মেলেছে অনেক গল্প ইত্যাদি প্রভৃতি

অবশেষে ম’লো কিষাণের ব্যাটা – ‘শহীদ’ উচ্চারণে ‘খই’ ছড়ানোতে সবাই আপ্লুত … কফিনে উড়ে আসা … গান স্যালুট … বাপের জম্মে কেউ পেয়েছে?  কাঁচা পাকা মাথা নড়ে … ঠিকই তো! এমন মৃত্যুতে সকলে তৃপ্ত অভিভূত এবং কিঞ্চিৎ হলেও গর্বিত … জীবনে ওদের বরাবর নুন আনতে পান্তা ফুরিয়েছে … অল্পস্বল্প ঋণের দায়ে হাল গেছে বলদ গেছে। হাতের কাছে ফলিডলের শিশি স্বাধীনতার খিড়কি বরাবরের জন্য তুলে দিয়েছে … বাপ জন্মেছে ঋণে, ঋণেই বেড়েছে, ঋণেই মরেছে …  রেখে গেছে ঋণের উত্তরাধিকার … ঋণে বাঁচা … স্বাধীনতায় সংযোজিত এডিশন …

এরই মধ্যে ‘উৎকট উদ্ভট বিকট’ এক জাতীয়তাবাদ আর ‘দেশভক্তি’র বন্যায় জুটল ৩১৩ … ‘নাম্বার ম্যাটারস’ …

৭০/৭২ বছর বাদে মেলে আজাদির মধ্যেই আছে গুলামির এলিমেন্ট … ইট ইজ ইনবিল্ট … সংবিধানেই আছে গুলামি থেকে আজাদি চাই — তাই? যাও শালা ঘানি টেনে প্রমাণ কর … জানিস না ‘গোরু’ এখন রাজনীতির কেন্দ্রে! আমরা ‘গরু’কে রাজনীতিতে আনি নি। তোরাই এনেছিস ‘গাই বাছুর’ ‘বলদ’ ভুলে গেছিস? আমরা তোদের পথেই …

প্রশ্নটা আগেই উঠেছে

আজাদি চাই মনুবাদ সে আজাদি চাই সামন্তবাদ সে আজাদি চাই পুঁজিবাদ সে

‘স্বাধীনতা’ এবং ‘আজাদি’ কি এক না আলাদা! স্বাধীনতা তো  ছিল। ফি বছর পনেরই আগস্ট লাল কেল্লা থেকে রেড রোড এমনকি শহরের শেষতম ঘিঞ্জি বস্তিতেও বাচ্চা কাচ্চার দল সার্বজনীন করে দিয়েছে – স্বাধীনতা দিবস পালন করেছে। কিন্তু আজাদি ? আজাদির গপ্পোটা কোথাও শোনা যেত না। ১৯৯১ সালে কোলকাতায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে ‘উওম্যান স্টাডি কনফারেন্সে’র উদ্যোগে মেয়েরা এক সভায় সামিল হয়েছিলেন। সেখানে নারী আন্দোলনের নেত্রী কমলা ভাসিন হাজির ছিলেন। কমলা সেদিন স্লোগান তুললেন ‘মেরি বহনে মাঙ্গে আজাদি, মেরি বাচ্চি মাঙ্গে আজাদি, নারী কে নারা আজাদি’। স্লোগানটার উৎস হিসেবে কমলা পাকিস্তানের নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে উচ্চারিত স্লোগানকে উদ্ধৃত করেন। ‘আজাদি’ যদি থাকবেই, স্বাধীনতাই যদি আজাদি হবে – তবে আলাদা করে ‘আজাদি’ দাবি কেন? মেয়েরা ক্ষুব্ধ। তাঁরা মনে করছেন তাঁদের আজাদি নেই। নির্দিষ্ট ভূখণ্ড আছে, ভোটের খাতায় নাম আছে, ভোট আছে, সরকার আছে, সংবিধান আছে, প্রতিশ্রুতি আছে, আইন আছে, প্রশাসন আছে, আর্থিক ব্যবস্থা আছে – এতো আছে’র দুনিয়ায় মেয়েরা বলছেন আজাদি নেই। যাদের নিবাস অন্তঃপুর। পেশা একদিকে বিয়োন অন্যদিকে সেবা … স্বাধীনতা নয়? বটে …

ওপরে স্বাধীনতা … ভেতরে পরাধীনতা … দুটো কখনও এক নয়

কারণ রাষ্ট্রিক আজাদি মিলি হ্যায়, আর্থিক আজাদি বাকি হ্যায়। কারও কাছে ইহকালের প্রশ্ন। সমকালের প্রশ্ন। কারও কাছে পরকালের প্রশ্ন। পরাধীনতার বৃত্ত আজাদি’র বৃত্ত অসম্পূর্ণ। উভয়ে মিলে একটা বৃত্ত রচনা করে। সম্পূর্ণ করে। কেউ জীবনভর দেয় কেউ নেয় … দেয়ার স্বাধীনতা, নেয়ার স্বাধীনতা … নেভার মিটস … সমান্তরাল রেখা যেমন স্বর্গের সিঁড়ি পর্যন্ত কখনও মিট করে না। এক হাতে দেয়, অন্য হাতে কেড়ে নেয় …

নীরব মোদী পলায়নে ‘স্বাধীনতা’ পায়। প্রণয় রায়ের জোটে ‘লুক আউট’ নোটিশ। তাই তো বলছি স্বাধীনতা সবার নয়। পরাধীনতা সেও সবার নয়। ভগ্নীপতি ব্যাঙ্কের টাকা ফাঁক করে আর শালারা ভাগ নেয় … লুঠের মাল …

৪০ লক্ষ এখন স্টেটলেস। এই ‘উপত্যকা আমার নয়’ আরও কত হবে কেউ জানে না … অন্য কথায় কেবল অপরাধী জানিল অথবা জানিল না কিবা অপরাধ তার বিচার হইয়া গেল। এমনটা হয় হোক। আয়ুধ গড়ার জন্য নিখরচায় গড়ে উঠবে স্টেনলেস স্টিল কারখানা … মানবেতিহাস দ্বন্দ্ব দ্রোহ সংঘাত এবং সমন্বয়ের ইতিহাস। দখল বেদখল—ওলট পালট করার ইতিহাস। তৈরি হচ্ছে নতুন প্রেক্ষিত …

১৫১৭‘য় লোদী থেকে ২০১৯’র মোদী—বিদেশি দখল, শাসন ও লুণ্ঠনের ইতিহাস দীর্ঘ। ঔপনিবেশিক লুণ্ঠন-শাসন কালপর্ব: ১৫০৫ থেকে ১৯৬১ পর্তুগীজ, ১৬০৫ থেকে ১৮২৫ ডাচ, ১৬২০ থেকে ১৮৬৯ ডেনিশ, ১৭৬৯ থেকে ১৯৫৪ ফরাসী, ব্রিটিশ ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৬১২ থেকে ১৭৫৭, এবং প্রত্যক্ষ ব্রিটিশ শাসন ১৮৫৮ থেকে ১৯৪৭ – দুয়ে মিলে শাসন ও লুণ্ঠন চলেছে প্রায় ৩৩৫ বছর। যেন এক বৃন্তে দুটো ফুল … আর ১৯৪৭ থেকে ২০১৯ নেহেরুজী থেকে মোদী ঘাড়ের ওপর গরম নিঃশ্বাস ফেলে চলেছে। বিদেশি ক্ষমতার দাপটে পরবাসী … লুণ্ঠনের স্বাধীনতায় সাম্রাজ্যের বিস্তার … পুঁজির পাহাড় … মুনাফাকে তেজি করছে লগ্নি পুঁজি লুটেরা পুঁজি … বিভিন্ন শিল্প কল কারখানার পত্তন … যোগাযোগ ব্যবস্থা – জল সড়ক রেল টেলিফোন ব্যবস্থা চালু হয়েছে, শিক্ষার প্রসার ঘটেছে – কত কিছু হয়েছে …  দেশীয় শাসন শোষণ পুঁজিপাটা সবটাই খেয়ে ফেলছে। পেটে এদের এতো খিদে …

একটা ময়াল গিলে খেল ‘কাশ্মীর’, কেউ রাজ্য হারা কেউবা রাজপাট … চারপাশে বুটের আওয়াজ, গৃহবন্দী,  অন্যত্র বন্দী পাচার, মাঝে মাঝেই গুলির আওয়াজ, দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন … সেনা পাহারায় অরণ্য নিধন … সব কিছু মিলিয়ে প্রশ্ন ওঠে স্বাধীনতা এলো না গেল … কার এলো … কারই বা গেল ! … নতুন অর্থনৈতিক ছবি আঁকতে, সম্পদ লুঠতে, মানচিত্র, রাজনৈতিক চরিত্র সব বদলে দিতে বাতিল সংবিধানের ৩৭০ ধারা ও ৩৫এ আবার ১.২৫ কোটি মানুষ আজ স্টেটলেস … হায়নার স্বাধীনতা যত পোক্ত হচ্ছে লাশের সংখ্যা ততো বাড়ছে … এ স্বাধীনতা না পরাধীনতা … জানিনে তা … নতুন এক প্রেক্ষিতে … এক কালে বিদেশির স্বাধীনতা দেখা দিল স্বদেশীর স্বাধীনতায় পোহালে শর্বরী … আগেও জ্বলেছে পুড়েছে … দাঁড়িয়ে … হাতে চাই গ্রিনল্যান্ড, চাই কাশ্মীর … একই পাঠ ভাষ্য ভিন্ন এই যা … এই মৃত্যু উপত্যকা আমার নয় … তা তো নয় ! এই উপত্যকাই জন্ম দেবে তাদের যারা জন্মায় নি এখনও … তেমন প্রসব বেদনা ওঠেনি এখনও …

“নতুন সমুদ্রতীরে তরী নিয়ে দিতে হবে পাড়ি

বাহিরিয়া এল কারা। মা কাঁদিছে পিছে,

প্রেয়সী দাঁড়ায়ে নয়ন মুদিছে।

ঝড়ের গর্জন মাঝে

বিচ্ছেদের হাহাকার বাজে

ঘরে ঘরে শূন্য হল আরামের শয্যাতল;

”যাত্রা করো, যাত্রা করো যাত্রীদল।”

উঠেছে আদেশ,

“বন্দরের কাল হল শেষ।”

…  …   …   …   …

আঁকড়ি ধরিতে হবে হাল;

বাঁচি আর মরি

বাহিয়া চলিতে হবে তরী।”

আসেনি আদেশ –

বন্দরের কাল হয়নি শেষ।

[লেখক – ট্রেড ইউনিয়ন কর্মী]

Facebook Comments
Advertisements

Leave a Reply