শতানীক রায়-এর কবিতা

পাখিভাবের কথা 

সাদা পাতা পাখি হচ্ছে। বন মাঠ ধূ ধূ জমি সব গাছের আশেপাশে গিয়ে পাখি হয়ে বসবে। মাকে কখনও সেলাই করতে দেখিনি। ঠাকুমার মৃত্যুর পর লোহার তোরঙ্গ খুলে রাশি রাশি ময়ূর কদম ফুলে ভরা কত যে পাখির শালবন বেরোলো! তারপর সেগুলোও চাপা পড়ে গেল হাড়ের চাপে। চালান হয়ে গেল সব। সেই ঘরটা, ঠাকুমার ঘর থাকল না অন্ধকার বনে পালটে গেল। ভূগোলটা ভুলে যেতে থাকলাম। কত টুকরো বেরোলো কাচের ভাঙা আয়না থেকে। ছবিও নিয়ে গেল কেউ কেউ শ্রাদ্ধ সেরে ফেরার সময়। শূন্য এক দানব পৃথিবীর দিকে তখন অনেক ছোটো হয়ে গেছে। ঘরটায় একটা সময় ধূপ জ্বলল না। পায়েসও জুটল না ঠাকুমার ছবিটার দিকে এগিয়ে রাখার জন্য। জানি, একটা সময় মানুষেরও প্রবল গঙ্গার প্রয়োজন হয় তবে যে সেটা ঘর, ঘোর কেটে গেলে ঝুল কালি স্তূপ জিনিস। এমন এক অন্ধকার যা আমি কখনও দেখিনি…

আসলে একজন মানুষের পাখি তৈরির বিপুল কথা থাকে। আলপথ দিয়ে ধানসিড়ি। কিংবা ওই যে বলে বিরল কোনো মুহূর্তের কাছে ঋণী হওয়া। ফুল ফল আর গাছের প্রজাপতি নিয়ে না হয় ওই মেঘের দিকে যাওয়া। বন তৈরি হবে সেখানেও। নিজেকে নৌকো ভাবার পর এতদিন পর তালপাখা ভাবতে ইচ্ছে হয়। দুলছি সে তো দুলছিই আর মানুষ এসে গাছ খুঁড়ে শেকড় নিয়ে যাচ্ছে। আলোক সরকারের  কবিতার বৃক্ষশূন্য ভাব অথবা এই কবিতার শুধু গাছটা যে ক্রমাগত শেকড় ছড়াতেই আছে ছড়াতেই আছে

খুলে দেখিনি তবে এই সবে দেখছি তোমাদের সবার ভাঁজ করা রুমাল থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে মহাকাশ। চাকা এগিয়ে আসছে। মানুষের সরু শরীর সাদা কাগজের ভেলা, উড়ছে কাগজ উড়ছে খাতাভরা কবিতা উড়ছে যে ভ্রূণ কখনও শরীর পায়নি উড়ছে। ডাস্টবিন উড়ছে। ভ্রমণের ভেতর আদৌ কি তুমি সেই সত্য খুঁজে পাবে যেখানে শরীরের কোনো সঙ্গমবোধ থাকবে না?

Facebook Comments

Leave a Reply