স্বাধীনতার মুখোশে সাংস্কৃতিক পরাধীনতা : শুভদীপ মৈত্র

স্বাধীনতা ও পরাধীনতা এই দুয়ের পার্থক্য জটিল, সে আমাদের পাঠ্য বই যাই বলুক না কেন। আমরা রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে সংকীর্ণ অর্থে ধরে নিয়ে তাকে স্বাধীনতা মনে করি, যেমন ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু  ঠিক কি অর্থে স্বাধীনতা এবং সে স্বাধীনতা ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে কতটা এবং কীভাবে দরকারি তার হদিস আমরা আম জনতা রাখি না। রাখলে একটু অবাক হয়ে যেতে হত – আমাদের জীবনে আমাদের অজান্তে, অজ্ঞাতসারে কতরকমের পরাধীনতা ফাঁস এসে জড়াচ্ছে।

কী আশ্চর্য উলটোটাই তো হওয়ার ছিল। চিন্তায়, বিজ্ঞানে, সর্বত্র এত যখন প্রগতি তখন পরাধীনতা থাকবে এটা মনে হয় না চট করে – চাঁদে যখন স্পেস-শিপ যাচ্ছে আমাদের দেশ থেকে তখন আমরা কিসে পরাধীন? যাও বা মোটা দাগের পরাধীনতা যেমন রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বুঝতে পারি বটে – ধরুন যখন ভোট দিতে পারল না কেউ, বা আকাশ ছোঁয়া হল মূল্যবৃদ্ধি – তাও তা খানিক বোঝা যায় হয়তো। এগুলো মানুষ বোঝে চাপে পড়ে। কিন্তু ভিতর ভিতর যে বহু স্বাধীনতা আপনার-আমার চলে যাচ্ছে, এ চট করে ধরতে পারি না। স্বাধীনতার গুনগত প্যারামিটার বলতে যদি চয়েসকে বোঝাই বা পছন্দ করার অধিকার – সে অধিকার কেমন ভাবে তৈরি হচ্ছে, আদৌ আমরা কি বাছাই করছি নিজেদের মতো করে, নাকি বাছাইয়ে বাধ্য হচ্ছি – এগুলো ভাবতে না পারাটা আরো গভীর সমস্যা তৈরি করছে ।

এমনভাবে ভাবতে গিয়ে দেখলাম মোটের উপর পরাধীনতার পরিমাণ চেপেছে ঢের বেশি। গত তিরিশ বছরে নানা ক্ষেত্রে পরাধীনতা বেড়েছে বই কমেনি। এ এক অদ্ভুত সাংস্কৃতিক অবস্থা যেখানে নিরুপায় হয়েছি বেশি স্বাধীন হওয়ার থেকেও। এবং অদ্ভুত ভাবে এমন এমন জায়গায় যেখানে হওয়ার কথা ছিল না। যেমন ইনফরমেশন বা তথ্যই যদি ধরি। গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশক থেকে ইনফরমেশন বুম বা তথ্য-বিপ্লব ঘটে গেছে। কথাটা মিথ্যেও নয়। নিঃসন্দেহে ঘটেছে – প্রযুক্তিগত এই উন্নতি অস্বীকার করার জায়গা নেই – কিন্তু এ আমাদের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বা চয়েসের ক্ষেত্রে কী উপকার করেছে? ধরলাম আমি চাষবাস করি তা আমার জীবিকা, এই তথ্য প্রযুক্তির সূত্র ধরে আমি জানতে পারছি নানা রকমের নতুন উপায় যা বিজ্ঞান-ভিত্তিক, এছাড়াও পাচ্ছি আবহাওয়া, মাটির উর্বরতা সম্পর্কে তথ্য এবং সেই তথ্য অনুযায়ী চাষবাসের সুযোগ। মজার ব্যাপার হল, যে তথ্য আমার নাগালে এলো এ কি আমার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নতুনতর কিছু দিল? মোটেও না, কারণ আমার অভিজ্ঞতা-লব্ধ জ্ঞান চাষের তা আমি পেয়েছি বহু শতাব্দী ধরে – তার সঙ্গে এর কোনো আদান-প্রদান ঘটল না। ফলে কোনো সিনথেসিস হল না। আরো যদি দেখি এই তথ্য যদিও বৈজ্ঞানিক নৈর্বক্তিকতা দাবি করে, তা আসলে নৈর্বক্তিক নয় – এই তথ্য আসছে এমন একটা ব্যবস্থা থেকে যা একটা বিশেষ সিস্টেমের অংশ। এবার বৈজ্ঞানিক নৈর্বক্তিকতার মুখোশ ধরে সে আমাকে বোঝাল এটাই উচিত এবং আমি আমার ঐতিহ্যিক উপায়কে জলাঞ্জলি দিলাম। এতে নিজের ক্ষতি তো করলাম, তার থেকেও বেশি ক্ষতি করলাম পরবর্তী প্রজন্মের যে জানতেই পারল না যে ঐতিহ্যিক উপায় কী ছিল? তাহলে সত্যিই কী বলতে পারি যে আমাদের চয়েস বাড়ল – না আসলে একটা হোমোজেনাইজেশনের বা একমাত্রিকতার দিকে নিয়ে গেল? এ উন্নতির নামে পরাধীনতা যা আমাদের সর্বনাশ করে চলেছে। এবং এটাই এখন ঘটছে এ দেশে। একে আমি সাংস্কৃতিক পরাধীনতাই একে বলব, কারণ এই যে প্রত্যেক ঐতিহ্যিক উপায়গুলো রয়েছে তার সঙ্গে জুড়ে রয়েছে আমাদের বহুত্বের-সংস্কৃতি। তথ্য-বিস্ফোরণ সেই বহুত্বকে মেলাল তো নাই, বরং তাকে ধ্বংস করল।

তারপর যদি দেখি এই তথ্য বিস্ফোরণের কিছু কিছু সাংস্কৃতিক দিক, যেগুলো খুব অদ্ভুত এবং আশংকার। যেমন সংবাদ। গত তিরিশ বছরে সংবাদ-মাধ্যমের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। এখন এই মুহূর্তে তিন তিনটে মাধ্যম – ছাপা, ইলেক্ট্রনিক ও ডিজিটাল। এই তিন মিলিয়ে আমাদের কাছে অবিরাম পৌঁছে চলেছে খবর। কিন্তু আমাদের কাছে যা পৌঁছচ্ছে সেটা কী আদৌ খবর? যদি ইলেকট্রনিক মিডিয়াই ধরি, তারা অনেক ঘটনা লাইভ বা তাৎক্ষণিক সম্প্রচার করে – কোথাও আগুন লেগেছে বা কোনো রাজনীতিবিদ বক্তৃতা দিচ্ছেন – আমার সেই তথ্য দরকার থাকতে পারে, কিন্তু তা দেখার কী আদৌ আমার দরকার রয়েছে? ‌আর সেই মুহূর্তেই বা শুনতে হবে কেন, দেখতেই বা হবে কেন – এই কেনটার প্রশ্ন আর আমাদের হাতে নেই, এটা বোঝানো হয়েছে যে এটা জরুরি এবং আবশ্যক। যেভাবে বোঝানো হয়েছে সিনেমাহলে জাতীয় মন্তৌ চালিয়ে উঠে দাঁড়ানো জরুরি, ঠিক তেমনি। সেভাবেই এটা মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া  গেছে যে আমাদের কাছে সেটাই জরুরি যা এই মাধ্যমগুলোর সাহায্যে আমরা পাই। এবং তারাই ঠিক করে কোনটার গুরুত্ব কি। এই জায়গা থেকে আস্তে আস্তে আমাদের নিজস্ব বাছাই ক্ষমতা চলে যেতে থাকে। এবং তা চলে গেলে পর এই মাধ্যমগুলো আর খবর দিয়ে ক্ষান্ত হয় না – তা  একটা মতামতকে করে আমাদের মতামত বলে চাপিয়ে দেয়, এবং সংখ্যাগরিষ্ঠকে তা বুঝিয়ে দিতে পারলে তারাও তাকে ব্যক্তিগত মতামত ভাবতে শুরু করে।

মজার ব্যাপার আমরা ঠিক উলটো ভাবে দেখি যখন যে নতুন মাধ্যম আসে তাকে মনে করি আমাদের স্বাধীন মত-সৃষ্টির উপায়। সে বেশি গণতান্ত্রিক এবং বহুত্বের মত তুলে ধরতে সক্ষম। হয় উলটোটা, যেমন টেলিভিশন নিউজ আসায় আমরা ভেবেছিলাম যেহেতু দৃশ্য-শ্রাব্য মাধ্যম তাই বোধহয় এর অভিঘাতে আমাদের চয়েস বাড়বে এবং আমাদের অধিকারের কথাগুলো বলতে পারব। কিন্তু তা হয়নি। এই মুহূর্তে ভারতের যে টেলিভিশন মিডিয়া তার চেহারা দেখলে সে কথা আর বলে দিতে হয় না। কিন্তু উপায় কি, আমরা সংস্কৃতির ভিতর এর আগ্রাসনকে প্রগতি ভেবেছি, ফলে আমাদের তো পিছিয়ে যাওয়ার উপায় নেই, মানুষের যে খবরকে পড়ার মাধ্যমে জোগাড় করার অভ্যাস অনেকটা নষ্ট হয়ে গেছে – ঐতিহ্যিক-ভাবে লিফলেট, বুলেটিন, ছোট পত্রিকা থেকে তারা ভুলে গেছে কীভাবে খবর সংগ্রহ করতে হয়। অথচ এগুলো অনেক সস্তা এবং বড় পুঁজির মুখাপেক্ষী নয়। কিন্তু সাংস্কৃতিক-ভাবে এই ঐতিহ্যিক মাধ্যমগুলোয় মানুষকে অনভ্যস্ত করে দেওয়া হয়েছে।

একই ভাবে আমরা ডিজিটাল মিডিয়াকে এখন ভাবছি আমাদের অস্ত্র, কিন্তু এও উলটো ভাবনা। আসলে এই সমস্ত প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে পুঁজির বিনিয়োগের পরিমাণও বাড়ে। উন্নত প্রযুক্তি বড় পুঁজির উপর নির্ভর করে। আর সে পুঁজি গণতন্ত্র চায় না, সে চায় আধিপত্য। ফলে আমি-আপনি নাচার, এই সব প্রযুক্তিগত মিডিয়ার সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা আমাদের হবে না। এবং যত প্রযুক্তি হাই-টেক হচ্ছে এবং তার ভিতর আমরা থাকছি তত কমছে আমাদের স্বাধীনতা। রাষ্ট্রের নজরদারী সীমাহীন ক্ষমতা পাচ্ছে। তার আমার-আপনার স্বর চেপে করে দেওয়ার ক্ষমতা বেড়েই চলেছে।

এই যে ইন্টারনেট, এই সোশ্যাল মিডিয়া এগুলো একমুর্হূতে বন্ধ করে দেওয়া যায় – তখন উপায় থাকে না কিছুই। সোশ্যাল মিডিয়াকে যারা স্বাধীনতা ভেবে বসে আছি অথচ এ হল ওই গ্ল্যাডিয়েটরদের অ্যারেনার মতো। সেখানে যত বীরত্ব দেখাও, কসরত দেখাও কিন্তু ওই পর্যন্তই, তা বলে উপস্থিত রোমের সিজার বা সেনেটর বা দর্শকদের দিকে তেড়ে যাওয়ার জো নেই। এর মধ্যে নিজেকে স্বাধীন মনে করাটাও কী হাস্যকর। শুধু তাই নয় এই সমস্ত জায়গাগুলো ক্রমশ যেটা নষ্ট করে দিচ্ছে তা হল স্বাধীন চিন্তার ক্ষমতা। ক্রমশ এই টেকনোলজি আমাদের উপর চড়ে বসেছে। আমাদের সংস্কৃতিগতভাবে সে ডিক্টেট করছে আমাদের পছন্দ অপছন্দ। ভেবে দেখুন আপনি কি খাবেন এবং সেই খাবার কে ভাল বানায় এ আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ। এবং তা কখনোই সবার মেলার কথা নয়, অথচ দেখুন সে চয়েসও আপনাকে এখন দিচ্ছে কে না অ্যাপ কোনো। সেই অ্যাপে যে দোকানগুলোর নাম ভেসে আসছে তার মধ্যে থেকে আপনি বাছতে শুরু করছেন, রেটিং দেখছেন, অন্যদের মতামত দেখছেন – এবং আস্তে আস্তে এই পদ্ধতিতে আপনি খাপ খাইয়ে নিচ্ছেন। এই পদ্ধতি ক্রমশ আপনার অপশানগুলো নির্ধারণ করে চলেছে এবং এই নির্ধারণ পদ্ধতি প্রশ্ন করা, যাচাই করা বা ব্যক্তি পছন্দের পরিসর কমিয়ে দিচ্ছে।

প্রশ্ন হল এর জন্য টেকনোলজি দায়ী কি না? ছোটবেলায় একটা রচনা থাকত, বিজ্ঞান অভিশাপ না আশীর্বাদ, এই বোকা প্রশ্ন এবং ততোধিক বোকা উত্তর মাস্টাররা লেখাতেন কারণ তাঁরাও জানতেন না বিষয়টা, কিন্তু সোজা সাপটা বললে আজ পর্যন্ত টেকনোলজি বা জ্ঞান দুইই সব সময় হেলে ক্ষমতাবানের দিকে ফলে তা চিরদিনই অভিশাপ এবং তা চিরদিন মানুষের পরাধীনতার সাহায্যেই ব্যবহৃত হবে। এই যে আইটি সেক্টর ইত্যাদি ইত্যাদি – এতে চাকরি করা মানুষের স্বাধীনতা কী? এমনকি অফিসে কাজের সময় পর্যন্ত ক্রমশ বেড়েই চলেছে। এদের এই শ্রমিকদের কী আদৌ কোনো লাভ হয়েছে এই তথ্য-প্রযুক্তি বিপ্লবে? কাজ বেড়েছে কিন্তু জীবনের মান কমেছে। একে স্বাধীনতা বলতে আমি অন্তত নারাজ।

এই সমস্ত ক্রমশ নয়া দাস-ব্যবস্থা তৈরি করছে। ঠিক যেন সেই প্রাচীন রোম সাম্রাজ্য যেখানে বিত্তের অভাব নেই, শিল্পে-সাহিত্যে-দর্শনে এক চরম উৎকর্ষ – কিন্তু সবই শুধুমাত্র হাতে গোনা কয়েকটা মানুষের জন্য। বাকিরা অন্ধকারে, অবমানব যেন – অন্ধকারে খেটে যাওয়া, ছুঁড়ে দেওয়া কিছু নিয়ম আর খেলনা নিয়ে খুশি থেকে যাওয়া। মানসিকভাবে পরাধীনতা বাড়ছে আরো, এইগুলো মনস্তাত্বিকভাবে এতটাই আমাদের নিয়ন্ত্রণ করছে যে সহজেই এদের আঙুল-হেলানোয় খুন জখম থেকে জেনোসাইড, সব ঘটিয়ে ফেলছে মানুষ। নিজস্ব বোধ তার চলে যাচ্ছে। একে সাংস্কৃতিক পরাধীনতা ছাড়া আর কি বা বলা যায়? এর থেকে বাঁচার উপায় এই প্রযুক্তি-প্রগতির পিছনে অনাবশ্যক না ছুটে নিজেকে প্রশ্ন করা যে আমার আদৌ এগুলো দরকার কি না, এবং আমার এগুলো ব্যবহারের সঙ্গে যে অদৃশ্য শেকল যুক্ত তার পাশ কাটানোর উপায় জানা আছে কি না। নেই, কারণ এগুলো আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় নেই, আমাদের সামাজিক উচ্চাকাঙ্ক্ষায় নেই। ফলে ফেটিশ আর প্লেজারে আমরা পার্থক্য করি না।

এই আগ্রাসন নতুন নয়। এবং এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের উপায় হল আরো বেশি করে ঐতিহ্যিক উপায়গুলো খুঁজে বের করা। কম্যুনিকেশন যদি হাই-টেক হয় তার বিরুদ্ধে একেবারে লো-টেক হয়ে যাওয়া। ডিজিটালের বিরুদ্ধে লড়তে গেলে হয়তো দরকার হবে ওরাল ট্র্যাডিশনকে। উইকিপিডিয়া ইত্যাদি দিয়ে যখন আমাদের তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে তুলছে তখন আমাদের কাজে লাগতে পারে সত্যজিতের সিধু-জ্যাঠার মতো মানুষ যিনি তথ্য দেন না শুধু তার প্রয়োগ-কৌশল তার যে রিলেটেড তথ্য বিস্তার তা ওই ইন্টারনেটের সাইটগুলোর মতো বাণিজ্যিক স্বার্থে হবে না। এগুলো আমাদের ছোট ছোট স্বাধীনতা যা জরুরি। এই জায়গাগুলো আমাদের বড় একটা স্পেসে বহুত্বের সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে।

[লেখক – সাংবাদিক, কবি, গদ্যকার – এমন নানা পরিচয়ের মধ্যে ঘুরতে ফিরতে থাকা একজন। গত দশ বছরে পেশাদার সাংবাদিকতা ছেড়ে নানা কাজের ফন্দি ফিকিরে মধ্যেও লিখে যাচ্ছেন। প্রকাশিত হয়েছে দুটি কবিতার বই – ‘জাদুকরি বইঘর’ (২০১৪), ‘আদার ব্যাপারী যাবে আর্মেনী ঘাটে’ (২০১৬); ছোট গল্পের বই – ‘জেরি ইঁদুরের গর্ত থেকে’ (২০১৮)। অ্যান্থোলজিতে লেখা – ‘শূন্য দশকের গল্প সংগ্রহ’ (২০১৪), ‘কবিতা: পথ ও প্রান্তর’ (২০১৭)]

Facebook Comments
Advertisements

1 thought on “স্বাধীনতার মুখোশে সাংস্কৃতিক পরাধীনতা : শুভদীপ মৈত্র Leave a comment

Leave a Reply