কাব্যগ্রন্থ---হারাবার সময় পরনে ছিল/ ইন্দ্রনীল ঘোষ

ইন্দ্রনীল ঘোষের নতুন কবিতার বই "হারাবার সময় পরনে ছিল"। প্রকাশক নিবিড় প্রকাশনী। পাওয়া যাচ্ছে কলকাতা বইমেলার লিটল ম্যাগাজিন প্যাভেলিয়ানে, ১৫৭ নম্বর টেবিলে। 
বিস্তারিত জানতে +919163449625

La/ মা-র্জার দ্যান লাইফ? : তমাল রায়

দৃশ্য এক:

হলুদ আলোর এ এক অদ্ভুত সংস্কৃতি, সে সব কিছুকেই উৎসব বলে প্রস্তাবিত করে! আপাতত চোখের সামনে পড়ে রয়েছে একটা বংশ টুকরো। ফাটা, কিছু জায়গা কালো, হয়ত পচন ধরেছে। এখানে ওখানে ব্যাঙের ছাতা ফুটে রয়েছে। একটা পতঙ্গ, সেও হলুদ! হয়ত ক্যামোফ্লাজের জন্যই। সে বংশ দণ্ডের ওপরে পায়চারিরত। একাই! এটা বংশ দণ্ডের বহিরঙ্গ। অন্তরে আরও অনেক। বাসা তো আফটার অল! ছোটো ছোটো জটলা! সংসার যেমন হয়! সে বংশ দণ্ডের এপাশ থেকে ওপাশ পায়চারী করছে, আর তাকাচ্ছে সামনের দিকে। মুখে কিছুটা বিরক্তি চিহ্ন আঁকা। যদিও তা বুঝবার তেমন উপায় নেই। বিরক্তি, না অস্বস্তি? তার বিরক্তির কারণ অবশ্য আর কিছুই না, এক মার্জার সন্তান! সে ব্যাটা ঘাপটি মেরে বসে রয়েছে, বংশ দণ্ডের ঠিক সামনের মাথায়। এমনিতে সে ভাজা মাছটি উল্টে খেতেও জানেনা! কিন্তু মাছের প্রতি তার যে দুর্বলতা, সে খবর পতঙ্গটি জানে! আপাতত আদ্যন্ত এ আসলে কিছুই না। লং শটে একটা বংশ দণ্ড, একটা বিন্দুর মত কি একটা দণ্ড বেয়ে এপাশ ওপাশ সরে যাচ্ছে। আর একটা মার্জার, বংশের দিকে পেছন ফিরে, উদাসীন মুখে বসে! এ দৃশ্যের নাম হতেই পারে ‘উদাসী দুপুর’! পতঙ্গ খানিক পর, বংশের ভেতর সিঁধোলো। আসলে সিঁধোয়নি, সে নজর রাখছে ভেতর থেকে…মার্জার এবার সোজা তাকিয়ে, বংশ দণ্ডের দিকে।লক্ষ্য রাখছে?

দৃশ্য দুই:

একটা নয়ন মনোহর আলোয় আশপাশ ভরে যাচ্ছে! এ সময়েই পার্কগুলো ভরে যায় শিশু পুত্র-কন্যায়, সাথে থাকেন মা’রা। বেঞ্চিগুলোর কোণা খামচি ভরে থাকে প্রেমিক প্রেমিকায়। লাল, নীল, হলুদ, সবুজ কত রকমের বেলুন উড়ছে, ফুচকা, আইসক্রিম, চিৎকার চেঁচামেচি, গান…বংশ দণ্ডের ভেতরেও এমন সব পার্ক থাকে, আছে রাস্তাও। হাসপাতাল, স্কুল, কবরস্থান! নৌ বিহার করার লেক। ওই যেখানে গত পরশু বৃষ্টি হওয়ায় সামান্য জল। কেউ জলে নামছে, কেউ জল ছুঁড়ে দিচ্ছে! ধর বসন্ত!  এরপর তো বরফ পড়ার দিন শুরু হবে, আর সকলকেই ফিরে যেতে হবে যার যার ঘরে। সেই পতঙ্গটি এখন আর একা নয়, ওরা বেশ কিছু দল বেঁধে পাহারায়! মার্জারটি অবশ্য ভ্রুক্ষেপহীন! আকারে আয়তনে সে বৃহৎ! তার কি’ই বা এসে যায়! তার বংশ দণ্ড মেপে নেবার সময় শেষ হয়েছে। মাপা মানে জরিপ। জরিপ মানে দীর্ঘ সতর্কতামূলক নিরীক্ষণ। এখন সে এক পা তুলে নেড়ে চেড়ে দেখছে, বংশদণ্ডটিকে। হয়ত খেলার সামগ্রী!  খেলনা! খেলনা? তার এই সামান্য নাড়া চাড়াতেই ভেতরে গেল গেল রব উঠেছে!  স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হল। বাজার ফাঁকা। পথে ঘাটে লোকজন নেই, জনা কয়েক সাহসী ছাড়া। সামান্য চোট পেয়েছে যারা, তারা হাসপাতাল দৌড়েছেও সতর্কতায়! আপাতত বেশ কিছু একসাথে দল বেঁধে পাহারায়! মার্জার এবার দু’পায়ের মাঝে বংশটিকে রেখে, মুখ কাছে এনে শুঁকছে, এজ ইফ প্রেয়িং(Preying)। এসব সময়ে যা হয়ে থাকে, বংশ দণ্ডের ভেতর তাই ঘটছে…ছোট ছোট জটলাগুলোয় চোয়াল শক্ত সবার। কেউ বক্তব্য রাখছে, বাকিরা শুনছে। হাত থেকে  হাতে উঠছে লক্ষণের শক্তিশেল!

লং শটে অবশ্য দেখা যাচ্ছে, নয়ন মনোহর আলোয় একটা বংশ দণ্ড আর সেটিকে দু’পা দিয়ে ধরে মার্জার, আর তার মুখ বংশ দণ্ডের মুখের সন্নিকটে। কতগুলো বিন্দু একসাথে মার্জারের মাথার কাছে ঘুরছে! কিছু সাহসী ইতিমধ্যেই আক্রমণ হেনেছে পেছন দিক থেকে  মার্জারের ওপর। সে অবশ্য ভ্রুক্ষেপহীন! তার চোখ বন বন করে ঘুরছে! বয়ে গেল তার এসবে! আকারে প্রকৃতিতে সে এতটাই বৃহৎ, তার কিছুই যায় আসে না! সে কেবল বুঝে নিচ্ছে ভেতরের পরিবেশ, তার অস্পষ্ট গোঁফরেখা কেবল ভেতর থেকেও দৃশ্যমান। তাই, অঘোষিত কার্ফু! একটু আগেও যেখানে ছিলো আনন্দ, হাসি, হাসিরা, তারা এখন ধ্যানী বুদ্ধের মত! উপাসনায়।উপাসনাও কী আত্মরক্ষা নয়?

দৃশ্য তিন:

যে কোনো মনোহরই শেষতক কৃষ্ণে মিলায়। হরে কৃষ্ণ!  এখন আঁধার! কালো নিকষ আঁধার! সদগুরু জোসেফ  গোয়েবলসের আদর্শ ও অনুপ্রেরণায় আজ এতদ অঞ্চলে মঙ্গল দিবস! যেমন হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। তেমনটাই হচ্ছে। কেবল যে দৃশ্যের বর্ণ হওয়া উচিৎ ছিলো উজ্জ্বল, বর্ণময়, তা ঘটছে এক ধূসর প্রেক্ষাপটে। ক্যামেরা আপাতত অনুসরণ করছেন নামাবলী গায়ে হেঁটে চলা শ্রীমান মার্জারকে। এমন সৎ, সাহসী, আধ্যাত্মিক মহামার্জারকেই এ দৃশ্যে মানায়! কেবল এ দৃশ্যকে প্রত্যক্ষ করার জন্য কোনো বেসরকারি সংবাদপত্র, বৈদ্যুতিন মাধ্যমকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি! কিছুপর জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন মাননীয় মার্জার কুলতিলক। এবং বুঝিয়ে বলবেন কি ভাবে একটি পচনশীল কীটদষ্ট বংশ দণ্ডকে তিনি জাতির

কল্যাণার্থে শোধন করেছিলেন! এই খুশির পরব উপলক্ষে আপাতত বন্ধ স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, পেক্ষাগৃহ, সংবাদপত্র, আন্তরজাল। তা হোক, তবু তো এ মহতী কাজে প্রান্তিক অঞ্চলবাসী তো উৎফুল্ল হবেন! কিন্তু তা কই?

লংশটে যতদূর দেখা যায় চাপ চাপ অন্ধকার। আর মার্জার সন্ন্যাসীর মুখে বংশদণ্ড। তিনি হাস্যরত! আর সেই বংশদণ্ডের ভেতর থেকে ফাঁক গলে বেরিয়ে আসা দুটি শিশু পতঙ্গ, যারা আপাতত লেন্সবন্দী নয়, তারা কামড়ে ধরেছে মার্জার কুলতিলকের কান! জ্বলনে মার্জারের হাসি বদলে যাচ্ছে কুৎসিত কানাইন টিথ সর্বস্বতায়…হা ঈশ্বর! এমনও হয়?

বংশদণ্ডের ভেতরের ছোট ছোট জটলা, যা না’কি সংসারই, তারা কেবল মেটামরফোসিসে অস্ত্রাগার, বিস্ফোরণের অপেক্ষায়…

প্রিয় পাঠক অনুগ্রহপূর্বক এই গল্পের সাথে রাজনীতি মেলাবেন না! এটি একটি সোপ অপেরার ট্রেলর মাত্র।পিকচার আভি বাকি হায়!

Facebook Comments
Advertisements

1 thought on “La/ মা-র্জার দ্যান লাইফ? : তমাল রায় Leave a comment

Leave a Reply