কাব্যগ্রন্থ---হারাবার সময় পরনে ছিল/ ইন্দ্রনীল ঘোষ

এই ডিসেম্বরেই প্রকাশ পেতে চলেছে ইন্দ্রনীল ঘোষের নতুন কবিতার বই "হারাবার সময় পরনে ছিল"। প্রকাশক নিবিড় প্রকাশনী।
বিস্তারিত জানতে +919163449625

বুদ্ধদেব হালদার-এর কবিতা

এরকমই মেঘলা এক দিনে

এরকমই মেঘলা এক দিনে মৃত্যু হবে আমার। সারাদিন ধরে তুমুল
বৃষ্টি হবে সেদিন। তোমার ডানচোখটা সকাল থেকেই কাঁপতে থাকবে
ভীষণ। আর সারাক্ষণ অমনোযোগী হয়ে জানলার কাছে বসে থাকবে
তুমি। কোনো কাজেই মন বসবে না তোমার, আকাশ এতটাই মেঘলা
থাকবে যে ..। তোমার স্বামী হয়তো LIC প্রিমিয়ামের সমস্ত হিসেব
গুলিয়ে ফেলবেন সেদিন। আর তোমার শান্ত ছেলেটি হঠাৎ করেই
হারিয়ে ফেলবে তার প্রিয় রিষ্ট ওয়াচ। আমি খুব কমদামী একজন
মানুষ। কাজেই আমার মৃত্যুর খবর তুমি পর্যন্ত পৌঁছবে না কখনও,
যদিও আমাদের এই কোন্নগর থেকে রিষড়ার দূরত্ব সামান্যই। এবং
যেহেতু খুব প্রচারিত কোনো কবি নই আমি, কিংবা বলা ভালো
সরকারি পুরস্কারপ্রাপ্ত বুদ্ধিজীবী নই, তাই আমার মৃত্যুসংবাদ লেখা
হবে না পশ্চিমবাংলার কোনো খবরের কাগজেই। আমার মৃত্যুতে বন্ধুরা
কেউ কেউ বিষণ্ণ হয়ে উঠবে। কেউ কেউ হয়তো স্বস্তিও পেতে পারে।
তরুণ কবিরা মুখে সিগারেট নিয়ে বলবে, ‘কতোটুকু অবদান রেখেছেন
তিনি অপার এই বাংলা কবিতায়?’ এমনকী আমাকে কবি হিসেবে
নাও মেনে নিতে পারেন অপর কিছু বাঙালি কবি। এসব কিছুই জানবে
না তুমি। ভিতর ভিতর বড়ো ব্যাকুল ও অসহায় হয়ে উঠবে, ফোনটা
হাতে নিয়ে আমার পালটে যাওয়া নাম্বারের দিকে বারবার তাকাবে
নিমেষহীন। এরকমই মেঘলা এক দিনে, জেনো, তোমাকেও খুব
মিস করবো আমি ..

 

প্রথম প্রেমিকাকে

আমার মাথা গলে যাচ্ছে এই রাতের বেলায়, বিছানা বালিশ
ভিজে গিয়ে চ্যাটচ্যাট করছে অন্ধকার। ভাবছি, শরীরটা কি
স্যুইসাইড করবে এবার ? নাকি চাকরিহীন হয়ে লিখে ফেলবে
দুএকটা সনেট ? বরং নিভাকে ডাকো। ওর সাথে কথা হয়নি
বহুকাল। আমার জীবন থেকে এভাবে ওর চলে যাওয়াকে
কিছুতেই সমর্থন করি না আমি, এমনকী আমাকে আজকাল
পছন্দ করছে পাতিপুকুরের যে মেয়েটা, তাকেও বলতে চাইছি
নিবিড়ভাবে ভুলে যেও এইসব। আমার আঙুল ছেড়ে জাপটে ধরো
অন্য কারো হৃদয়। তাকে বলো, প্রেমশিল্পে মেয়েরাই পৃথিবীতে
সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়িয়াছে যুগের পর যুগ। আর মিশ্রকলাবৃত্তে লটকে
দিয়েছে অবিভাজ্য শোক। এভাবেই বয়েস বাড়ে শব্দের, প্রতিটা
যোনিতে আরশোলা শুয়ে থাকে সারারাত। তীব্র ঘূর্ণিতে ডুবে যায়
আস্ত জীবন। আরও কিছুটা কুঁকড়ে আমি বিছানায় ঋত হই, আর
প্রেমিকার নামে খিস্তি করতে গিয়ে দেখি অন্ধকারে জ্বলে উঠেছে
মায়ের মুখ


Profile_Pic_Buddhadev_Halder

পরিচিতি : বসবাস কলকাতায়। মূলত কবিতা লিখতে ভালোবাসেন। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় কবিতা প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ তিনটি – “গাছেদের biodata”, “ইওহিপ্পাস ও একটি ক্ষেত্রফল”, “পর্নোগ্রাফি”।



Facebook Comments
Advertisements

Leave a Reply