প্রদোষ পত্রী-এর কবিতা

করুণার শীতলতা 


আমরা জড় হই জড়বস্তুর মতো।
মাটির মাংসের মতো ঘুমিয়ে যায় আমাদের সজীব অনুভূতিমালা;
আমাদের অতৃপ্ত চোখ আরো ক্ষুধার্ত কিংবা আরো পাপিষ্ঠ
কিংবা আরো পবিত্র হয়ে ওঠে।
আমাদের চতুর্পাশ তখন মৃত;
অথবা আমরাই আমাদের ভূতপূর্ব নিবিড় এক মৃত্যুর সংখ্যাতীত সংখ্যা।
আমাদের রক্তের ভিতর বয়ে যায়
চিরজাগ্রত অগভীর নাতিশীতোষ্ণ নদী;
অথবা আমরাহীন শূন্যতায়
শাশ্বতরূপে বিরাজমান করুণার শীতলতা।
আমরা নেই; অথচ আমরা থেকে যাই তোমাদের ধুলোর বাসরঘেরা অন্তরে। 

জন্মান্ধ ছাতা

তীব্র রোদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গ্যাছে পৃথিবীর সমস্ত জন্মান্ধ ছাতা;
সূর্যের মুখে কুৎসিত কালো আবরণ,
তবু পুড়ে যাচ্ছে যুদ্ধে-ক্লান্ত সৈন্যদের শিরা-উপশিরা, শূন্য হৃদয়।
কিন্তু বৃক্ষ ডানার শীতল ছায়াময় নীরব ষড়যন্ত্রে
দক্ষ ছাতাগুলো অকেজো হতে হতে
একসময় মরে পড়ে থাকে
মানুষের দুর্গন্ধযুক্ত বগলে, চালের পাতায়
কিংবা তারকাঁটায় ফাঁস দিয়ে ঝুলন্ত লাশের মতো।
মরা রাস্তা বা মরা শুনশান উদ্যানে
নিরুপায় মানুষের হাতেই পুনশ্চ প্রাণ ফিরে পায় এই হতভাগারা।

মৃত্যুকুসুমের সৌরভে

আমাদের ঠোঁট আমাদের ভিতর থেকে
বের করে আনে এক জলজ্যান্ত মৃত্যু;
তৎক্ষণাৎ উদ্দাম এই পৃথিবী ভরে যায়
স্নিগ্ধ মৃত্যুর তীব্র গন্ধে।
আমরা ভাসতে থাকি সেই মৃত্যুকুসুমের সৌরভে।

Facebook Comments
Advertisements

Leave a Reply