কাব্যগ্রন্থ---হারাবার সময় পরনে ছিল/ ইন্দ্রনীল ঘোষ

এই ডিসেম্বরেই প্রকাশ পেতে চলেছে ইন্দ্রনীল ঘোষের নতুন কবিতার বই "হারাবার সময় পরনে ছিল"। প্রকাশক নিবিড় প্রকাশনী।
বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন।

মুলুক মানুষের : রাহেবুল

“মানুষ বড়ো কাঁদছে, তুমি মানুষ হয়ে পাশে দাঁড়াও
মানুষই ফাঁদ পাতছে, তুমি পাখির মতো পাশে দাঁড়াও
মানুষ বড়ো একলা, তুমি তাহার পাশে এসে দাঁড়াও।”

                                                                        — শক্তি চট্টোপাধ্যায়

 

 

কবিরা এমন বলেন, কত কথাই বলেন। কাজ হয়না বোধয় সবটা। শেষমেশ ক্ষমতা, ক্ষমতার লীলাখেলাই চলে এখানে। বারেবারে জাতির নামে, জাতের নামে, বর্ণের নামে, গোত্রের নামে, ধর্মের নামে, পেশার নামে, ভাষার নামে, লিঙ্গের নামে চলছেই এইসব। সংখ্যাগুরুর আস্ফালনে আর দয়াদাক্ষিণ্যে সংখ্যালঘুরা ‘জিয়ন্তে মরা’— স্বদেশ-বিদেশ সবখানে। আমেরিকা টু ইন্ডিয়া কোথাও এর ব্যতিক্রম হয় না।

একসময় হিটলারের ভূত চাপলো মাথায় খাঁটি আর্য রক্তের। ১৯৩৩ সালে সরকারে বসলো সে। তৈরি হলো প্রথম নাৎসি ক্যাম্প। ১৯৩৩ থেকে ১৯৩৯ সালের মধ্যে এই ক্যাম্পে পোড়া হয় হাজার হাজার মানুষকে। এদের অপরাধ কী ছিল? না কেউ ছিলেন কমিউনিস্ট, কেউ ছিলেন সোশ্যালিস্ট। এমনকি যৌনতার দিক দিয়ে সংখ্যালঘু হোমোসেক্সুয়াল মানুষরাও রেহাই পেলেন না। ১৯৪৫ সাল নাগাদ এই ক্যাম্পগুলিতে রাখা বন্দি মানুষের সংখ্যা লাফাতে লাফাতে কয়েক লক্ষে পৌঁছে যায়। বেছে বেছে হত্যা করা হয় কয়েক লক্ষ ইহুদিকে। কারণ কী? কেননা তারা ইহুদি, এটাই তার কারণ। ইহুদি শুনলে হিটলারের গায়ে জ্বলন হত যেমন আমাদের হয় কারোর হিন্দু শুনলে, কারোর মুসলমান শুনলে, কারোর দলিত শুনলে কী সমকামী শুনলে। লক্ষ লক্ষ না-ইহুদি মানুষকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয় হিটলারের উর্বর মস্তিস্কপ্রসূত ভাবনা থেকে। তাকে তাত্ত্বিক ও বাস্তবিক উভয়ভাবে সঙ্গ দেয়ার জন্যে থাকে গোয়েবেলস, গোয়েরিং এর মতোন অমানুষ।

যাইহোক সেই হিটলার মনে পড়লে কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প মনে পড়বে। মনে পড়বে গ্যাস চেম্বারের কথা। এসব শিল্প-সাহিত্য-সিনেমায় কম আসেনি, আমরা সবাই কম বেশি অবগত। আমরা এটাই ভাবি ভুল থেকে মানুষ শিক্ষা নেয়। কিন্তু নেয় কী? ইতিহাস ফিরে ফিরে আসে। নোংরামো, হিংসা, স্বৈরাচার, কূটনীতি, রাজার তন্ত্র, সামন্তের সন্ত্রাস, জোতদার-জমিদারের জন্ম হয় প্রতিনিয়ত নতুন করে, হয়তো তাদের নাম বদলে যায়, রূপ পালটে যায় কিন্তু ভেতরের কর্মশৈলী-অভিসন্ধি একই থাকে। আজকের আপাত নিরীহ কিন্তু বিষধর কর্পোরেট দৈত্যরা সেদিন কীরূপে ইতিহাসে ছিল কেউ কী তা জানে!

সেদিনকার হিটলারের পেছনে জনসমর্থন ছিল এমনকি সে রাজতান্ত্রিক প্রতিনিধিও ছিল না, রীতিমতো ভোট-রঙ্গে জিতে সে নির্বাচিত হয়েছিল। সংখ্যাগরিষ্ঠের আশীর্বাদ-সমর্থনে সে যেনো একজন গণতান্ত্রিক শাসক ছিল সেদিন।

আজকের ভারত সেই হিটলারের জার্মানির পদাঙ্ক অনুসরণ করে। এখানেও আছে শক্তপোক্ত তাত্ত্বিক দর্শন, আর জনসমর্থন। আছে হেডগোয়ার, সাভারকারেরা। খাঁটি হিন্দু হওয়ার ফুসমন্তর নাগারে দিয়ে চলেছেন তারা আর তার সাঙ্গপাঙ্গরা। কিছু উপরানি কিন্তু উত্তেজক দিক তারা ধরেছেন সফলভাবে এই যেমন হিন্দুত্ব, এই যেমন হিন্দি, এই যেমন হিন্দুস্তান, এই যেমন পাকিস্তান জুজু—মানুষ সম্মোহিত হচ্ছে, হয়েছে। তার ফল ফলেছিল গুজরাট দাঙ্গায়, ১৯৯২ এ বাবরি মসজিদ ভাঙ্গায়, উত্তরপ্রদেশে ঘটা বহু বহু দাঙ্গায়, মালেগাঁও বিস্ফোরণে। হিন্দি চাপানো নিয়ে সময়ে সময়ে নানা প্ররোচনা এবং সেই নিয়ে বিভিন্ন প্রদেশে উত্তেজনা তো ইংরেজোত্তর ভারতে হয়েই চলেছে। অথচ এ দেশে কৃষক মৃত্যুর হার চূড়ান্ত লজ্জার। মহারাষ্ট্র যেনো কৃষকদের জন্য বধ্যভূমি। ঝাড়খণ্ড যেনো গণপিটুনির পীঠস্থান। দিল্লি যেনো দেশের রাজধানী নয় দূষণের রাজধানী। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির হার চরমে। বেকারত্বের হার লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, বাড়ছে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থায় কর্মীছাঁটাই। প্লেন থেকে ট্রেন সর্বত্র বেসরকারিকরণের প্রতিযোগিতা চলছে। একদিকে ধনিক শ্রেণি ব্যাঙ্কলুট করছে অপরদিকে তার দায় চাপছে সাধারণ মানুষের সঞ্চিত টাকার ওপর। এ দেশের স্বাস্থের কী হাল? শিক্ষার কী হাল? এ জরুরি প্রশ্নগুলি চাপা পড়ে গেছে।

সাম্প্রতিক অতীতে ভারত সরকার কয়েকটি বড়োসড়ো পদক্ষেপ নিয়েছিল নানা ছুতোয়। যেমন কালো টাকা উদ্ধারের নামে, জাল নোট বন্ধের নামে, সন্ত্রাস আটকানোর নামে হলো নোটবাতিল। আদতে যদিও শেষে ব্যাংকই বলছে কালো টাকা উদ্ধার হয়নি কিন্তু এই সুযোগে অনেকের কালো টাকা সাদা হয়ে গেল। সবচেয়ে বড়ো কথা প্রচুর মানুষকে দিনের পর দিন লাইনে দাঁড়িয়ে হেনস্থা সইতে হলো, কারোর প্রাণ গেলো। এইভাবেই এলো দেশে এনআরসি(NRC) বা ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনস। এনআরসি হলো নাগরিকত্বের প্রমাণ, যে প্রমাণের ভিত্তিতে তৈরি হবে দেশের নাগরিকদের তালিকা। চিহ্নিত হবে কে স্বদেশি আর কে বিদেশি। সরকার ও শাসকদলের বক্তব্য দেশ ভরে গিয়েছে বিদেশি নাগরিক দিয়ে, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ দিয়ে। শাসক দলের নেতারা আড়েঠারে বুঝিয়ে দিচ্ছেন বা বেফাঁস বলে ফেলছেন কখনো যে মুসলমানদের হবে তাড়ানো। সমীকরণটি দাঁড়াচ্ছে এরকম: বিদেশি নাগরিক> বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী>মুসলমান। যদিও ব্যাপারটি এতখানি সরল নয়, এটাই এর একমাত্র উদ্দেশ্যও নয় তা আমরা পরে উল্লেখ করছি। এনআরসি ছাড়াও আসছে ক্যাব (CAB) বা সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল। এটি আসলে ওরই সঙ্গে সম্পর্কিত আরেকটি পদক্ষেপ যার উদ্দেশ্য হলো ভারতীয় উপমহাদেশের দেশগুলি থেকে আসা মুসলিম ব্যতীত হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ প্রভৃতি ধর্মের মানুষকে এ দেশের নাগরিকত্ব দেওয়া। এখানে দু-ক্ষেত্রেই একটা জিনিস কমন(সামান্য) সেটা হলো মুসলমান নিয়ে বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি।

এনআরসি প্রথম জারি হলো অসমে। এতে প্রত্যেক অসমবাসীকে নতুন করে প্রমাণ করতে হলো যে তারা এ দেশে ১৯৭১ সালের পূর্ব থেকে আছেন কিনা। বলাবাহুল্য প্রচুর প্রচুর মানুষ এদেশে বহু আগে থেকে বসবাস করলেও নিয়মমাফিক তারা সমস্ত তথ্যপ্রমাণ দাখিল করতে ব্যর্থ হন, কারোর বা নামের ভুল থাকে, কেউ বা বিদ্বেষবশতই অতি অল্প সময়ে বারবার হেয়ারিংয়ের কবলে পড়েন—সব মিলিয়ে প্রায় ১৯ লক্ষ মানুষের নাম লিস্ট থেকে বাদ পড়ে যায়। এই বাদ পড়া মানুষের মধ্যে আবার প্রায় ১১ লক্ষ ধর্মে হিন্দু, লাখ দুয়েক ধর্মে মুসলমান বাকি উপজাতি, রাজবংশী, গোর্খা সহ নানা গোষ্ঠী-সম্প্রদায়ের মানুষ। হেনস্থা, নির্যাতন, প্রচুর কর্মী নিয়োগ, ছ’বছর ব্যাপী চলা প্রক্রিয়া, ১৬০০ কোটি টাকা খরচ— এ এক বৃহৎ যজ্ঞ কী যুদ্ধ। যাদের নাম বাদ পড়লো তাদের কী হবে? তারা থাকবেন ডিটেনশন ক্যাম্পে। ডিটেনশন আর হিটলারের কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প—শুনতেও যেমন মিল তেমনি বাকি সবেতেও এর মিল আছে।

প্রশ্ন হলো কীসের জন্য এই পরিকল্পনাগুলি নেয় স্বৈরাচারী একটি সরকার? স্বৈরাচারী এক রাষ্ট্র? প্রথম ও শেষকথা জনসমাজকে বিব্রত করা, ব্যস্ত রাখা কোনো না কোনো দৌড়ছুটে। তাদের সমস্ত ক্রাইসিস থেকে, সরকারের বা রাষ্ট্রের সমস্ত ব্যর্থতা থেকে নজর ফেরাতেই এই কৌশলগুলি নেওয়া হয়। একইসঙ্গে থাকে গরিষ্ঠভাগ মানুষকে সম্মোহিত করা কিছু টোপ যা পূর্বে উল্লেখিত হয়েছে। এই এনআরসিরও একটা সম্মোহনী দিক আছে, সমর্থন আছে সাধারণের— “মুসলমান, বাংলাদেশী প্রভৃতি বর্গের মানুষ আমাদের লুটে নিচ্ছে’’ এই অতিকথন মানুষের দুঃসময়ে যেনো ক্ষণিক মিথ্যে সান্ত্বনা বয়ে আনে। সে বিভ্রান্ত হয়।

যাইহোক এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে ভারত সরকার ইঙ্গিত করেছে কেবল অসম নয় সারা দেশে হবে এনআরসি। আবার অসমে হওয়া পূর্বোক্ত এনআরসি বাতিল হতে পারে এ কথা জানিয়েছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেহেতু একটা বিরাট সংখ্যক হিন্দুর নাম বাদ পড়ায় সেখানকার স্বগোত্রীয় শাসকদল চাপে পড়ে গেছে। ফলে নানা জায়গাতেই এ নিয়ে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়েছে। কেন্দ্রের শাসক দলের সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলিও এ নিয়ে নানা কর্মসূচি নিয়েছে। নানা জনগোষ্ঠীর মানুষও পক্ষে-বিপক্ষে রাস্তায় নেমেছে। সরকারি অফিসে ভিড় জমছে। পশ্চিমবঙ্গে মুসলমান, নমঃশূদ্র, নেপালি, গোর্খা, শেরপা, রাজবংশী মুসলমান প্রমুখ বর্গের মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যেমন তৃণমূল কংগ্রেস, জাতীয় কংগ্রেস, বামপন্থী দলগুলি এ নিয়ে প্রচার করছে, পথসভা করছে। যদিও রাজ্যের শাসক দলের সুপ্রিমো নিজে একসময় এনআরসি চেয়েছিলেন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে। বাম দলগুলির মধ্যে সিপিএমের অবস্থান অসমে যা ছিল আর এ রাজ্যে যা তা এক নয়। অপরদিকে বিজেপি এনআরসির পক্ষে হম্বিতম্বি করে চলে। এই ডামাডোলেই অসমে এনআরসি প্রক্রিয়া চলবার সময় প্রচুর মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। ডিটেনশন ক্যাম্পেও নির্যাতনের শিকার হন অনেকেই। এমনকি ডিটেনশন ক্যাম্পে প্রয়াত মানুষের মরদেহ নিয়েও বাধে বিতণ্ডা।

পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি চালু নাহলেও এই আতঙ্কে, দুশ্চিন্তায় একের পর এক মৃত্যু ঘটে বা ঘটে চলেছে যাদের বেশিরভাগই নিম্নস্তরের মানুষ। অসমে এনআরসির সর্বশেষ বা চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয় ২০১৯ এর ৩১ অক্টোবর। তার কয়েক দিনের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে মৃত্যুর ঢল নামে। ২০১৯ এর ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এই ১০ দিনেই এনআরসি বা নথি আতঙ্কে ১৭ জনের মৃত্যু হয়। এঁদের মধ্যে আত্মঘাতী হয়েছেন আট জন। বাকিরা উদ্বেগে, দুশ্চিন্তায় অসুস্থ হয়ে কিংবা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়েও মারা গিয়েছেন কেউ কেউ। মৃতদের মধ্যে ১৩ জন মুসলিম সম্প্রদায়ের। হিন্দুদের মধ্যে তিনজন উত্তরবঙ্গের রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষ। এঁদের মধ্যে মহিলার সংখ্যা পাঁচ। উত্তরবঙ্গে মৃতের সংখ্যা আট, দক্ষিণবঙ্গে ন’জন। মৃতেরা প্রায় সকলেই দরিদ্র শ্রমজীবী বা কৃষিজীবী। সংবাদপত্রের বিবরণ অনুযায়ী প্রথম মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে ১৭ সেপ্টেম্বর মুর্শিদাবাদ জেলায়। নীচে মৃত্যুর দিন, মৃত্যুর কারণ সহ মৃতদের পরিচয়—

(১) মিলন মণ্ডল (২৭) ।

স্ত্রীর শাড়ি দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী। ১৭.০৯.১৯।

জেলা – মুর্শিদাবাদ, ডোমকল, গ্রাম শিবনগর।

কারণ: ভোটার ও আধার কার্ডে নামের বানানে অসঙ্গতি। ১৭ দিন ধরে সংশোধনের চেষ্টা ব্যর্থ। বাবা দিস্তার মণ্ডলের দাবি, নথিতে ভুল থাকায় মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিল। বারবার অভিযোগ করছিল নাগরিক পঞ্জি হলে ভিটেমাটি হারাতে হবে। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য জুলেখা বিবি জানান, শুধু মিলন নয় গ্রামের অধিকাংশ মানুষ এনআরসি আতঙ্কে ভুগছেন।

পেশা – পরিযায়ী শ্রমিক।

(২) অন্নদা রায় (৩৯)

বাড়ির কাছেই রেলগেটে গামছা দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী। ২০.০৯.১৯।

জেলা – জলপাইগুড়ি, ময়নাগুড়ি ব্লকের মাধবডাঙা ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বড়কামাত এলাকায় বাড়ি।

কারণ: অসমে নাগরিক পঞ্জি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। ৩১ আগস্ট তালিকা প্রকাশের উদ্বেগ বাড়ে। নিজের চার বিঘা জমি রয়েছে। কিন্তু তা বন্ধক দেওয়ায় জমির দলিল তাঁর কাছে ছিল না। বাস্তুজমি নিয়েও সমস্যা ছিল বলে খবর। দলিলের অভাবে বিপদে পড়ার আশঙ্কায় আত্মঘাতী হন বলে পরিবারের দাবি।

পেশা – চাষি।

(৩) মন্টু সরকার (৫২)

নথি পরীক্ষা করতে বালুরঘাট বিডিও অফিসে হাজার খানেক মানুষের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। সেখানেই অসুস্থ হয়ে মারা যান। ২০.০৯.১৯।

জেলা – দক্ষিণ দিনাজপুর, বালুরঘাট।

কারণ: পরিবারের দাবি নাগরিক পঞ্জি নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিলেন। ৩১ অগস্টের পর থেকে তা আরও বাড়ে।

(৪) সোলেমান সরকার (৫৫)

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু। ২০.০৯.১৯।

জেলা- উত্তর দিনাজপুর। ইটাহার।

১৯৬৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছিলেন। পঞ্জি আতঙ্ক তাঁকে গ্রাস করেছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

(৫) আমেনা বেওয়া (৫৫)

অতিরিক্ত দৌড়ঝাঁপ ও উদ্বেগে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু। ২০.০৯.১৯।

জেলা- উত্তর ২৪ পরগনা, হিঙ্গলগঞ্জ, কাটাখালি গ্রাম।

কারণ: জমি-বাড়ির নথি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। এর জন্য বাঁকুড়ায় বাপের বাড়ি অবধি দৌড়াতে হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় নথি উদ্ধার করতে না পেরে বাড়িতে এসে অসুস্থ হয়ে মারা যান।

পেশা- বাড়িতে বিড়ি বেঁধে সংসার চালাতেন।

(৬) মন্টু মণ্ডল (৪০)

বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু।

জেলা-উত্তর ২৪ পরগনা, বসিরহাট, মাটিয়া, দক্ষিণ কৃপালপুর। ২১.০৯.১৯।

কারণ: আধার, ভোটার পরিচয় পত্রে নামের বানানে অসঙ্গতি ছিল। বিডিও অফিসে ডিজিটাল রেশন কার্ডের জন্য ছোটাছুটি করছিলেন। নাগরিক পঞ্জি নিয়ে আতঙ্কও ছিল।

(৭) আলিয়া বেওয়া (৫৫)

নথির জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে মৃত্যু। ২১.০৯.১৯।

জেলা- উত্তর ২৪ পরগনা, বসিরহাট, বাঁকড়া।

কারণ: প্রবীণ আলিয়া বেওয়াকে ডিজিটাল রেশন কার্ডের জন্য দীর্ঘক্ষণ হিঙ্গলগঞ্জের বিডিও অফিসে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। সেখানেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে তাঁর মৃত্যু হয়।

(৮) আয়ুপ আলি (৫৫)

নথি-আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু। ২১.০৯.১৯।

জেলা- উত্তর ২৪ পরগনা, বারাসত, শাসন, চক আমিনপুর।

ভোটার পরিচয়পত্র এবং ডিজিটাল রেশন কার্ডের জন্য দিন দশেক ধরে ছোটাছুটি করছিলেন। আবার লোকের কথায় কারণ: ‘৭১ সালের আগের দলিলেরও খোঁজ চালাচ্ছিলেন। তাঁর এপিকে বাংলায় আয়ুপ আলি লেখা থাকলেও ইংরেজিতে আয়েপ আলি রয়েছে। নথির চিন্তায় খাওয়াদাওয়া প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলেন বলে পরিবারের অভিযোগ। এর পর হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন। ২১ সেপ্টেম্বর বারাসত জেলা হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

(৯) কামাল হোসেন মণ্ডল (৩৫)

আত্মঘাতী। আমবাগানে ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার। ২২.০৯.১৯।

জেলা- উত্তর ২৪ পরগনা, বসিরহাট, সোলাদানা বাজার।

কারণ: ভোটার কার্ড, আধার কার্ডে নামের বানানে অসঙ্গতি ছিল। ডিজিটাল রেশন কার্ডের পিছনেও দৌড়াদৌড়ি করছিলেন। জমির দলিলের জন্যও মাথাব্যথা ছিল। পরিবারের দাবি পঞ্জি-আতঙ্কের জন্য দিশেহারা হয়ে আত্মহত্যা করেন।

পেশা– ইটভাটার শ্রমিক।

(১০) কালাচাঁদ মিদ্যা (৪২)

জেলা- দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ফলতা, মামুদপুর। ২২.০৯.১৯।

ডিজিটাল রেশন কার্ড তৈরি এবং নতুন নিয়মে ভোটার তালিকায় নাম তোলা নিয়ে সমস্যায় পড়েছিলেন। পরিবারের দাবি পঞ্জি-আতঙ্ক আর নথি সংগ্রহে ব্যতিবস্ত হয়েই আত্মঘাতী হন। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। ২২ সেপ্টেম্বর বাড়ির কাছে বাঁশবাগানে তাঁর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

পেশা – জরি কারখানার শ্রমিক।

(১১) শ্যামল রায় (৩২)

আত্মঘাতী। বাড়িতে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার। ২৪.০৯.১৯।

জেলা- জলপাইগুড়ি, ধূপগুড়ি, বর্মণপাড়া।

কারণ: ভোটার কার্ড হারিয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। আধার ও রেশন কার্ড নিয়েও সমস্যা ছিল। ভবিষ্যতে নাগরিক পঞ্জিতে নাম বাদ পড়ার ভয়ে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন।

পেশা – ভ্যানচালক।

(১২) আর্জিনা খাতুন (২৭)

আত্মঘাতী। বাড়িতে গলায় দড়ি দেন। ২৪.০৯.১৯।

জেলা- কোচবিহার, ঘুঘুমারি, হাউয়ারগাড়ি গ্রাম।

কারণ: এপিকে তিনি ছিলেন আর্জিনা খাতুন। আধারে হয়ে গিয়েছিলেন আর্জিনা খাতুন বিবি। আবার স্বামীর আধারের নাম আনোয়ার হোসেন অন্যদিকে এপিকে নাম আনোয়ার মিয়া। অসম লাগোয়া কোচবিহারের বাসিন্দারা জানেন নামের এই অসঙ্গতির কারণে সে রাজ্যের মানুষকে কী মূল্য দিতে হয়েছে। নাম সংশোধনের জন্য চেষ্টাও চালাচ্ছিলেন। এক সময় হতাশ হয়ে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন বলে তাঁর স্বামীর অভিযোগ।

পেশা – গৃহবধূ।

(১৩) সাবের আলি (৩২)

কুয়োয় ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী। ২৪.০৯.১৯।

জেলা- জলপাইগুড়ি, কোতোয়ালি থানার বাহাদুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সরদার পাড়া।

কারণ: পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই মেয়ের জন্মের শংসাপত্র এবং আধার কার্ডে নামে হেরফের ধরা পড়ে। এছাড়াও বাড়িতে পুরনো নথিও খুঁজে পাচ্ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত প্রচণ্ড উদ্বেগ সামলাতে না-পেরে আত্মহত্যা করেন।

পেশা – চাষি।

(১৪) সামসুল হক (৪৪)

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু। ২৪.০৯.১৯।

জেলা- কোচবিহার, দিনহাটা।

কারণ: নথি জোগাড়ের জন্য কিছুদিন ধরেই পরিশ্রম করছিলেন। সম্ভাব্য সমস্ত নথি না-থাকলে নাগরিক পঞ্জি হলে বিপদে পড়তে পারেন বলে মানসিক অবসাদেও ভুগছিলেন।

(১৫) তসলিমা বিবি (৪৮)

নথি নিয়ে উদ্বেগে স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে মৃত্যু। ২৫.০৯.১৯।

জেলা- উত্তর ২৪ পরগনা, হিঙ্গলগঞ্জ, কাটাখালি গ্রাম।

কারণ: তসলিমা বিবি ও তাঁর স্বামী আকবর আলি রুজিরোজগারের জন্য তামিলনাড়ুতে থাকেন। প্রবাসে থাকার জন্য আধার কার্ড করাতে পারেননি। সম্প্রতি বাড়ি ফিরে শোনেন আধার কার্ডের সঙ্গে ভোটার কার্ড নাকি লিংক করতে হবে। এছাড়াও সামান্য বাস্তুজমিরও নথি সমস্যা রয়েছে। কী থেকে কী করবেন এই নিয়ে স্বামীর সঙ্গে উত্তেজিত কথাবার্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। বসিরহাট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি মারা যান।

পেশা – পরিযায়ী শ্রমিক।

(১৬) মায়া বর্মন (৮০)

আত্মঘাতী। বাড়িতে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার। ২৫.০৯.১৯।

জেলা- কোচবিহার, দিনহাটা ২ ব্লক, বড়শাকদল পঞ্চায়েত, ঘাটপাড় এলাকা।

কারণ: ছেলে মনোরঞ্জন বর্মন সাংবাদিকদের জানান, এনআরসি আতঙ্কে নানা জায়গায় ঘুরে বেড়াতেন। কাগজপত্র নিয়েও সমস্যা ছিল। সমাধান করতে না-পারার ফলেই আত্মহত্যা করে বসেন।

(১৭) গিয়াসুদ্দিন শেখ (৬০)

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু। ২৬.০৯.১৯।

জেলা- মুর্শিদাবাদ, হরিহরপাড়ার রাইপুর অঞ্চলের সলুয়া গ্রাম।

এনআরসি আতঙ্কই তাঁর মৃত্যুর কারণ বলে পরিবারের দাবি। তাঁর এক আত্মীয় জানান, রাজ্যে নাগরিক পঞ্জি হবে জেনে তিনি কিছু নথি জোগাড়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কোনো কোনো নথি না-মেলায় চিন্তায় চিন্তায় দু’দিন ধরে বাড়ির কারও সঙ্গে কথা বলছিলেন না। হঠাৎই বুকে প্রচণ্ড ব্যথা হচ্ছে বলে তিনি জানান। মুর্শিদাবাদ জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তিনি মারা যান।

…এই মৃত্যুর ঢল এখনও থামেনি। এই মৃত্যুর দায় কার?

এই হেনো এনআরসি চালু করার প্রকৃত কারণ কী?

১. সংখ্যালঘু মুসলমানদের ঘাবড়িয়ে দেওয়া, চাপে রাখা NRC এর প্রকাশ্য এজেন্ডা। [কিন্তু ফাঁপড়ে পড়বেন বিপুলসংখ্যক মতুয়া, ভাটিয়া, বাঙ্গাল মানুষজন। দেশছাড়া হবার স্বাদ এনারা পুনর্বার পাবেন, দ্বিতীয় দফায়।]

২. ইতিমধ্যে সম্মোহিত একটি বিরাট অংশের মানুষ যারা ‘অপরের সর্বনাশে নিজেদের পৌষমাসের স্বপ্ন’ দেখতে ব্যস্ত। এই অংশের মানুষের প্রকাশ্য ও প্রচ্ছন্ন সমর্থন ও আস্কারা এনআরসির আরেকটি কারণ।

৩. অর্থনীতির দুরবস্থা, কর্মসংস্থানের অভাব, দ্রব্যমূলের ব্যাপক বৃদ্ধির মতোন স্পর্শকাতর ইস্যুগুলিকে চাপা দিতে এই এনআরসি।

৪. অমানবিক একদল মানুষ যাদের নিজেদের পূর্বপুরুষের নথিপত্র পোক্ত রয়েছে বা নেতানেত্রী-সমাজপতিদের সঙ্গে যাদের দহরম-মহরম চলে তারা স্বাভাবিকভাবেই নিম্নশ্রেণির মানুষের কষ্টে আহ্লাদিত হবেন।

৫. অসমে বাঙালিদের কুপোকাত করা এনআরসির একটি অন্যতম কারণ। পশ্চিমবঙ্গেও ফাঁপা জাতীয়তাবাদী চিন্তায় চলা বিজেপির মতোন রাজনৈতিক দলও তাই এই বাঙালিকে বিদ্ধ করতে ব্যস্ত।

৬. মুসলমানের সঙ্গে অন্য ধর্মের মানুষের বিদ্বেষ বাড়ানো।

৭. বাঙালিদের মধ্যে ঘটি-বাঙাল, হিন্দু বাঙালি-মুসলমান বাঙালি ইত্যাদি ফাটলকে আরও প্রশস্ত করা।

৮. সংখ্যালঘুদের জমি-বাড়ি/বসতবাটির প্রকারন্তরে দখল নেওয়া।

৯. এনআরসির চূড়ান্ত ডামাডোলে বা নাম বাদ পড়া মানুষের অসহায়তাকে কাজে লাগিয়ে নারীর শরীর দখল করা।

১০. ঠিক-ঠিকানাহীন একদল শ্রমিকের জন্ম দেওয়া।

১১. ধর্মান্তরকরণ।

১২. সর্বক্ষণ চাপ বজায় রেখে ন্যূনতম চাহিদাগুলি থেকে মানুষকে বঞ্চিত করা।

এবারে আরেকটি প্রসঙ্গ উল্লেখ করে লেখাটির ইতি টানব। এনআরসির পক্ষে যারা তাদের মূল ইস্যু বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ। আরও স্পষ্টভাবে বললে বাংলাদেশের মুসলিম অনুপ্রবেশকারী। মজার বিষয় হলো ক্যাব বিলটিতে নাগরিকত্ব দেবার কথা বলা হচ্ছে মুসলিম ছাড়া অন্য ধর্মের মানুষকে (সংবিধান সম্মত না হলেও) যেহেতু পার্শ্ববর্তী দেশগুলিতে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর নানা নির্যাতন হয় (অসত্যও নয়) ফলে তারা এদেশে শরনার্থী হিসাবে প্রবেশ করেন। প্রশ্ন হলো পার্শ্ববর্তী দেশগুলিতে মুসলমানদের ওপর তো নির্যাতন হয়নি তাহলে তারা ভারতে আসবেনই কেনো? তাহলে এখানে মুসলিম অনুপ্রবেশকারী আসবে কোথা থেকে? আদতে বিষয়টি তা নয় দেশভাগের সময় এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে এ দেশে মুসলমান এসেছেন যতখানি তার চেয়েও বেশি এসেছেন হিন্দু। আবার একাংশ মুসলিম মানুষও এসেছেন যথারীতি। ভোট রাজনীতির সুযোগে তারা পরবর্তীতে অনেকেই স্থানীয়দের ধরে ভোটাধিকার পেয়েছেন। সেইসব মানুষের বেশিরভাগই বহু কষ্টে আজও দিনগুজরান করেন যেহেতু তারা সর্বস্ব খুইয়ে এসেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের বিভিন্ন জায়গায় এ কারণে জনবিন্যাসেও বিশেষ তফাত ঘটে। সে নিয়ে চাপা টেনশন থাকা স্বাভাবিক যেমনটা বাঙালি-মাড়োয়ারি-গুজরাটি প্রভৃতি জাতির মানুষে বিভিন্ন প্রদেশে বসবাস করার ফলেও হয়। কিন্তু এতে আহামরি এমন কিছু তারা লুটেপুটে নেননি যে তাদের সঙ্গে ভ্রাতৃঘাতী দাঙ্গা-গৃহযুদ্ধে জড়াতে হবে। তাহলে সরকারই বা কে এইসব ব্যাপারকে উস্কানোর? তাছাড়া আরও জরুরি প্রশ্ন আসে অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে সেটি হলো এই যে অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকছেন, তো সীমান্ত পাহারায় থাকা আধিকারিকরা কী করছেন এতদিন ধরে? সবশেষ কথা: যাদের তুমি চিহ্নিত করছো বিদেশি বলে, রাখছো ডিটেনশন ক্যাম্পে তার কী হবে? মানবিকতার প্রশ্ন ছেড়েই দেওয়া গেলো নাহয় স্বৈরতন্ত্রে কিন্তু তাদের ভরণ-পোষণ? তাদের সন্তান-সন্ততি? তাদেরকে পার্শ্ববর্তী দেশে পাঠানো হবে? সে দেশ নেবে কেনো? কীসের ভিত্তিতে? আবার এনআরসিতে বাদ পড়া ১১ লক্ষ হিন্দুরই আপাতত কোনো সংস্থান হয়নি এমনকি ক্যাব চালু হলেও তাদের পক্ষে নাগরিকত্ব পাওয়া অসম্ভব কেনো না তারা ট্রাইবুনালে-কোর্টে লড়ছেন এই দাবীতে যে তারা এ দেশের বৈধ নাগরিক (হতে পারে কাগজপত্র ঠিকঠাক দেখাতে পারেননি) তারা কিন্তু বলতে পারবেন না যে তারা শরনার্থী। টালবাহানার ট্রাইবুনাল-আইন-আদালত মানেই সাধারণ মানুষের কাছে কাছে তা এক দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা। আবার নিজেকে শরনার্থী প্রমাণ করাও এতখানি সহজ কাজ নয়। ধরেই নেওয়া গেলো অন্য দেশের মুসলিম ব্যতীত অন্য সব ধর্মের নাগরিক (মুসলিমদের অপরাধ?) এনে এদেশে ঢোকানোর ব্যবস্থা হলো, কিন্তু এ দেশের মানুষ মানবেন কি? জনসংখ্যার চাপে প্রতিটি প্রদেশ, প্রতিটি দেশের হিমশিম অবস্থা। উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলি এ নিয়ে চূড়ান্ত আন্দোলন কিন্তু শুরু করেই দিয়েছে।

হিটলারেরও অবশ্য একদা পরাজয় হয়েছিল কেননা তা অবশ্যম্ভাবি।

[তথ্যঋণ: বিভিন্ন সংবাদপত্র, ব্লগ, উইকিপিডিয়া এবং দেবাশিস আইচ]

[লেখক – কবি। সম্পাদিত পত্রিকা – ‘ইবলিশ’। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ – ‘মদীয় ফ্যান্টাসি’।মেল- rahebulrahe@gmail.com]

Facebook Comments
Advertisements

Leave a Reply