আপনি কি জানেন, অপরজন এখন প্রকাশনার পথে? অপরজন প্রকাশনীর ছয়টি বই এখন প্রকাশের অপেক্ষায়। বইগুলির নাম খুব শিগ্রীই জানানো হবে।

সৌমনা দাশগুপ্ত-এর কবিতা

কাগজের পতঙ্গ


চোখ বন্ধ রাখো

ভয় আসছে

সিঁদুরে মেঘের কিস্যা

একটি ফতুর রশি দিয়ে

কতবার আষ্টেপৃষ্টে

জড়াবে এ বাস্তুভ্রুণ

দুলদুলের ঘোড়া লাট খায়

হীরকচূর্ণ থেকে ছুটে আসে

ধ্বংসদূতঃ বেহস্ত-এর ভেতর

তৈরি হচ্ছে তোমার কফিন

ভরকেন্দ্র থেকে পিছলে আসতে আসতে বাস্তুর চিৎকারটুকু শোনা গেল। আদতে এ তো এক পান্থনিবাস। লোক আসে লোক যায়। ঘর আছে, ঘর ছিল। আদৌ কী ঘর আছে, আদৌ কী ঘর ছিল! অযথা বিভ্রমে যাকে ঘর ভাবো, ভিটে ভাবো, তোমার রক্ত ও নুনের প্রপাতের নীচে চাপা পড়ে। রাগী ও দুর্ভেদ্য এই মাটি। তার কোনও কথা নেই। শুধুমুধুই বন্ধ দেরাজের পাল্লার ভাঁজে পড়ে থাকে মৃত টিকটিকি। কে যেন বারবার এসে বিশুদ্ধ কীটনাশক ছিটিয়ে দিচ্ছে তোমার একান্ত ভিতে। আর আগুনের ওপর দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে তোমার পায়ের পাতায় শুধু আঙরার দাগ, পারঅক্সাইডের ক্ষত। এ আয়নায় কার প্রতিচ্ছবি, সে কী তুমি, নাকি মানুষের মতো কিছু ছায়া, তাদের পায়ের তলে হাওয়াজমি, অথই হাওয়ার পিঠে সওয়ার হয়েছ ভেবে তুমিও ঘরের পর ঘর খুঁজে যাও স্বপ্নপ্রমাদে। সময় হেঁটেছে সময়ের মতো, একদিন দরজা খুলতে গিয়ে টের পেলে, এই দরজার কোনও চাবি নেই, শুধু কালোতালা, আর তোমারই পিঠে হেলান দিয়ে বসে ছুরি শানাচ্ছে তোমার আত্মপরিচয়


সেদিন গ্রাম ও শহর জুড়ে

হত্যাপ্রবণ সেই এক খঞ্জর

তোমার বসতির ওপর বসে

ছড় টানে সূর্যাস্তরাগিনীতে

লেখা হবে রোদন-পরব

কে যেন বারবার ঝুলঝাড়ু

দিয়ে ভেঙেই চলেছে বাসা

পাখি অস্তগামী পাখি দিশাহারা

তোমার বাগানজোড়া গাছ

গাছ নয় ওরা সব তোমার কঙ্কাল

তারপর পঞ্চভূতে লীন হয়ে গেল তোমার পরিচয়। আজ থেকে তুমিও সংখ্যা মাত্র, কিলবিলে মানুষের ভিড়ে।  কেউ যেন কালো ডাস্টার দিয়ে মোছে বাড়ি ও বাগান। প্রেতের চোখের থেকে অতিবেগুনি এক রশ্মি ছুটে আসে। যাকে তুমি বসতি ভেবেছ, ভেবেছ নিজস্ব ধান্য-শস্য-ভূমি, সেও একদিন খ্যাখ্যা শব্দে হাসতে হাসতে তোমার দিকে তাক করেছে সাকারমেশিন, রৌদ্রকামান। এই বৃশ্চিকচিহ্নের ভেতর গরিষ্ঠভাবে ফুটে উঠছে একটা নখ। এরপর বরফ জমতে শুরু করবে আর তোমার দিকে তর্জনী উঁচিয়ে চিৎকার করে উঠবে দলা দলা আগুন। তুমি টেরই পেলে না কখন একদল কুয়াশা এসে লুকিয়ে বসে পড়েছে তোমার মশারির ভেতর। আর তুমি হারিয়ে ফেলছ পারাপার সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র। উত্তাপ এবং ওমের তফাৎ ভুলে তুমিও তো বারবার বাসা বোনো, ইচ্ছেপিঁড়ির ওপর কত না তৈজস সাজাও, ফুলদানিতে ময়ূরপালক। আর হায়নার দল এসে গিলে খায় তোমার পারাবতের ডানা, স্বপ্নক্যানভাসের ছবি। বেজে ওঠে আপতকালীন সাইরেন আর কালো এবং ওপেক একটা রং এখন থেকে তোমার ভরকেন্দ্র হয়ে উঠছে

Facebook Comments
Advertisements

Leave a Reply