কাব্যগ্রন্থ---হারাবার সময় পরনে ছিল/ ইন্দ্রনীল ঘোষ

ইন্দ্রনীল ঘোষের নতুন কবিতার বই "হারাবার সময় পরনে ছিল"। প্রকাশক নিবিড় প্রকাশনী। পাওয়া যাচ্ছে কলকাতা বইমেলার লিটল ম্যাগাজিন প্যাভেলিয়ানে, ১৫৭ নম্বর টেবিলে। 
বিস্তারিত জানতে +919163449625

ধন্ধে আছি ভাই, আশঙ্কায় আছি : পার্থসারথী লাহিড়ী

যে সময়ে ভারতবর্ষের স্বাধীনতার জন্যে দেশপ্রেমিকরা গলায় ফাঁসির দড়িকে বরণ করে নিচ্ছেন ঠিক সেই সময়েই একদল তৈরি হয়ে গিয়েছিলেন ব্রিটিশ শাসকের কাছে নিজেকে “অবুঝ”, “নাদান” বলে অবিহিত করে মুচলেকা দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্যে। তাতে তাঁদের দেশপ্রেমিক হতে বাধা হয় নি।

২০.০২.১৯৪৭, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন ১৯৪৮ এর জুন মাসে তারা পাততাড়ি গুটিয়ে চলে যাবেন। শোনা যায় সে সময় মাউন্টব্যাটেন ভারতের স্বাধীনতা বিষয়ক দুখানা বক্তৃতা রেকর্ডিং করেছিলেন। একটা, যদি ভারত ভাগ না করা যায় আর দ্বিতীয়টা হল যদি ভারত ভাগ (পাঞ্জাব আর বাংলা)সম্ভব হয়। এই প্রসঙ্গে ১৯৪৭-এর এপ্রিলের গোড়ায় তারকেশ্বরে তিনদিন ব্যাপী হিন্দু মহাসভার অধিবেশন। ৪০০জন ডেলিগেট ও ওপেন সেশনে উপস্থিত জনতার সংখ্যা ছিল কম করেও ৫০ হাজার। সেই সভাতে দাঁড়িয়ে দ্ব্যর্থহীন ভাবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ঘোষণা করেন বঙ্গবিভাগই সাম্প্রদায়িক সমস্যার একমাত্র সমাধান। “বেঙ্গলি হিন্দু হোমল্যান্ড” আন্দোলনের পথিকৃৎ তারাই। অর্থাৎ ব্রিটিশের যে ভারত ভাগের চক্রান্ত তাকে মদত যুগিয়েছিলেন যারা তারাই সার্জিক্যাল স্ট্রাইক বা পুলওয়ামা ঘটনা সাজিয়ে অথবা মানচিত্র থেকে পাকিস্তান নামক ভূগোলটাকে ভ্যানিস করে দেওয়ার সাধ জাগিয়ে তুলে দেশবাসীকে শেখান কি ভাবে বড় দেশপ্রেমিক হতে হয়। তারাই আজকের ভারতের রূপায়ক হিসেবে হাজির। উগ্র জাতীয়তাবাদ হল ফ্যাসিজমের আতুর ঘর। আর ফ্যাসিজম হল “বিশুদ্ধ গণতন্ত্র থেকে বিশুদ্ধ বদমাইশি পর্যন্ত বিস্তৃত”।(এরিক আর্থার ব্লেয়ার)। আর গণতন্ত্রের মধ্যে দিয়েই ফ্যাসিজমের অলিগলির বিস্তার। দেশপ্রেম বড় বিষম বস্তু।

সমস্যাটা এখানেই। সুখে দুঃখে আমরা যখন প্রায় ৭৩ বছর ধরে হিন্দুস্থান আর ৭০ বছর ধরে হিন্দু লালন ও উপভোগ করছি তখন ভেতরে ভেতরে ওই মুচলেকাওয়ালারা দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনায় তৈরি হয়েছেন হিন্দুস্থান আর হিন্দুকে হিন্দুত্বে রূপান্তরিত করতে। ভারতবর্ষে বা হিন্দুস্থানের অধিবাসী সবাই হিন্দু আর হিন্দুয়ানাই তাঁদের শতাব্দী প্রাচীন বৈশিষ্ট্য, পরম্পরা বা ঐতিহ্য, সে তিনি যে কোন নামের অথবা ধর্মে অবিহিত হয়ে থাকুন না কেন। মুসলিম, খৃস্টান, পার্শি, ইহুদি, জৈন, বুদ্ধ … “শক হুন-দল পাঠান মোঘল এক দেহে হল লীন”

মুচলেকা দেওয়ার দল বা আর.এস.এস, এদের মূলত কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের প্রথম হল মানব মানসে ঘৃণার আবাদ। ভারতবর্ষে ঘৃণা চাষের জন্যে বিস্তর জমি আছে এবং তা যথেষ্ট উর্বর। ফলে ফসল হিসেবে এসেছে ধর্মান্ধতা। আর এই ধর্মান্ধতাকে উত্তাপ দিলে এদের সন্ধিবিচ্ছেদ হয়ে যায় আর বিক্রিয়া শুরু করে। ফলে, ধর্ম উৎপন্ন করে ঘৃণা আর অন্ধত্ব ছড়ায় হিংসা। এটাও একটা রাজনৈতিক জ্যামিতি। এই রাজনীতির সবচেয়ে বড় বলি হয়েছে গরীবেরা আর নারী সমাজ। আর সবচেয়ে লাভবান হয়েছে বিত্তশালীরা এবং সংগঠিত ধর্মের ধ্বজাধারীরা। এই ঘৃণা আর একটা ঘৃণাকে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে। এরাই, এই যে পরম্পরা বা ঐতিহ্যবাহী হিন্দুয়ানা তার চরম বিরোধী। চায় বিভাজন। এখানে লক্ষণীয় যে, ভারতবর্ষের অর্থনীতির ইতিহাস মূলত ক্যাপিটালিজম আর সোশ্যালিজমের দ্বন্দ্বের ইতিহাস। হিন্দুত্ব বা ইসলামীয় সুড়সুড়ি থাকলেও অনেকদিনের অর্থনৈতিক দ্বন্দ্বে ছিল তর্ক-বিতর্ক থেকে উত্তরণ কিন্তু সেই রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক বিতর্কে এরকম নির্লজ্জ ব্যাপক সাম্প্রদায়িক বিভাজনের ও অবৈজ্ঞানিক রাজনীতিতে এসে পৌঁছয় নি। কিন্তু খুব কাছাকাছি দিনের মধ্যে দেখা গেল একটা আমূল বিবর্তন। শেষ ২০-২৫ বছরের মধ্যে দেখা গেল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে ক্রমশ ঢুকে পড়ছে ধর্মীয় মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িকতা। ভোট বিভাজনের রাজনীতিতে ঢুকে পড়ছে হিন্দুত্ব, ঢুকে পড়ছে ইসলাম। বিজ্ঞানের উন্নতি কর্ষণ না হলে দেশের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রের উত্তরণ স্থবির হয়ে যাবে শুধু নয় পিছিয়ে যেতে হবে মধ্যযুগীয় প্রথা ও পন্থায়। বামপন্থী দক্ষিণপন্থী বিদ্বজ্জনেরা অনেক সময়েই সেই বিপদজনক আশঙ্কাকে উল্লেখ করে সাবধান করেছেন কিন্তু হিন্দু মৌলবাদীদের উল্লেখযোগ্য উত্থানে আজকে ভারতের রাজনীতিতে পাকাপাকি ভাবে চেপে বসেছে ঘৃণা। এই হিন্দুত্ববাদী ঘৃণাকে আজকে আপাতত দুই ধর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে আছে বলে মনে হচ্ছে কিন্তু সুদূর প্রসারী এই ঘৃণা কিন্তু আসলে এমন নিরীহ নয়, অদূর ভবিষ্যতে এই ঘৃণা ভারতবর্ষের অন্যান্য জাতিগত, সম্প্রদায়গত, ধর্মগত ঘৃণাগুলোকে উস্কে দেবে এবং উল্লেখযোগ্য ভাবে আজকের নারী সমাজের মননকে মধ্যযুগীয় মননে রূপান্তরিত ও প্রবল পুরুষ নিয়ন্ত্রণাধীন করে ফেলার দিকেই এগোচ্ছে।

সবচেয়ে আশ্চর্যের, এবং মজার লাগছে বিশ্বপরিব্রাজক স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে। তিনিও গেরুয়া আবার আদিত্য যোগী মহারাজও গেরুয়া। আমার ছোটবেলার একটা কথা মনে পড়ছে। ছাগলেরও দাড়ি আছে রবীন্দ্রনাথের দাড়ি আছে …। রাজনীতি তো করতেন না কিন্তু ইঙ্গিতে বলতেও ভোলেন নি “কলিযুগ হবে শূদ্রের দ্বারা (সর্বহারার) পরিচালিত”। তাঁকে চিনতে হলে ভুপেন্দ্র নাথ দত্তকেও জানতে হবে। না হলে ভুল হবে। “বেদ পাঠের চেয়ে ফুটবল খেলা ভাল”। “গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল”। “চামার চণ্ডাল আমার রক্ত, আমার ভাই”। সুতরাং … এই কমন গেরুয়া রঙের দৌলতে বিবেকানন্দ হয়ে গেলেন দিলীপ বাবুদের স্বামীজি আর স্বামীজিরা সাধারণত থাকেন আর.এস.এস-এর ঝুলিতে। যেমন সাক্ষী মহারাজ, নিত্যানন্দ মহারাজ ইত্যাদি ইত্যাদি … তা না হলে সমাজ সংস্কারক তথা ভারতীয় ও ভারতীয় নারী সমাজের চিরপ্রণম্য ভগ্নি নিবেদিতা বহিষ্কৃত হন কেন? যুক্তি হচ্ছে, নারী সাধনায় বিঘ্ন সৃষ্টি করে। সুতরাং নারী বর্জনীয়। এ তুমি কেমন সাধু? প্রকৃতি তোমার ঈশ্বর সাধনায় বিঘ্ন ঘটায়? আসলে আর.এস.এসের কাছে হিন্দু মানে বেদ, মনু (তাদের মতো করে) বোঝায়। আসলে ওরা হিন্দু বলতে হিন্দু শব্দের পেছনে একটা ত-এ বফলা বসিয়ে দিয়ে চান ব্রাহ্মন্যবাদ। বেদ মনু (ভুল/মিথ্যা ব্যাখ্যা। অমিত শাহ্‌ এর ইতিহাস লেখার মতো) ছাড়াও যে হিন্দু আছে সেটা তাদের বোঝাবে কে? আগম নিগম তত্ব। দ্রাবিড়াদি বা অনার্য সংস্কৃতি তথা তন্ত্র সাধনা। শিব পার্বতীর অন্তরঙ্গ কথোপকথন। শিব পার্বতীকে যখন বলেন তখন তা হল আগম আর পার্বতী যখন বলেন তা হল নিগম –

“ইয়ন্তু শাম্ভাবী বিদ্যা গুপ্তা কূলবধূরিব”। অর্থাৎ শিবশক্তির কথোপকথন থেকে অবতারিত এই
বিদ্যা কূলবধূর ন্যায় গোপনে রক্ষিত।

নির্দেশ আছে অনধিকারীর কাছে এই বিদ্যা দেওয়া যাবে না।

‘যোষা বা অগ্নিগৌতম। তস্যা উপস্থ এব সমিৎ’। গৌতম, স্ত্রী যজ্ঞের অগ্নি, তার উপস্থদেশ
হল অগ্নির সমিধ বা ইন্ধন’। …… ইত্যাদি ইত্যাদি…

এইরকম রহস্য রহস্যাবৃত বা রহস্য সম্বলিত তত্ব অনুযায়ী একদল মানুষ যুগযুগ ধরে তাঁদের যাপন উপলব্ধ করে আসছেন। আবার আরও একদল তাত্বিক বলছেন, প্রকৃতি জন্ম থেকেই সাধনায় উত্তীর্ণ, সে শক্তি, সে পরুষকে তার ঈশ্বর সাধনার একটা স্তরে পৌঁছে দেন। সেই শক্তি ছাড়া সাধনা অসম্ভব। তাই পুরুষ থাকেন প্রকৃতির পায়ের নিচে। তাঁরা বেদ বা মনু মানেন না। বেদে তাঁদের উত্তর নেই। তাঁরা হিন্দু নয়? বাউল, সূফী কি হিন্দু না কি মুসলিম না কি খৃষ্টান? এই হিন্দুরা নারীকে অচ্ছুৎ মনে করেন না। আর.এস.এস মনে করে নারী শুধু ভোগের, লালসার। তাঁরা ঘর সংসার করবেন, পুরুষের জৈবিক চাহিদায় দেবেন সন্তুষ্টি আর থাকবেন উৎপাদনের মেশিন হয়ে। তার ভাগ্যে জুটবে পুরুষের মর্জি আর একটা “না”।

অথবা ওনারা যেভাবে বোঝান-“রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের নিয়মানুসারে ধর্ম ও রাজনীতির সংস্রব ঠেকাতে সংঘের কেউ রাজনীতিতে জড়াতে পারত না। তাই মিশনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হয় নিবেদিতাকে”। আমার যেটুকু জানা তা থেকে বলা যায় যে স্বামী বিবেকানন্দের জীবদ্দশাতেই নিবেদিতা সমাজ সংস্কারকের ভূমিকায় নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। রবিঠাকুর তথা ঠাকুরবাড়ি, জগদীশ বোস মহাশয় প্রমুখেরা সে সময় তাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতাও করেছিলেন। জানা যায় ঠাকুরবাড়ির সাথে মেশামেশিটা নিয়ে বিবেকানন্দের একটা ক্ষীণ আপত্তি ছিল কিন্তু সেই কারণে তখন তাঁকে বহিষ্কৃত হতে হয় নি। অথচ দেখুন তাঁর মৃত্যুর পরে পরেই নিবেদিতাকে বহিষ্কৃত হতে হয়। হ্যাঁ, কারণ একটাই আর সে কারণেই বহিষ্কৃত ও পরবর্তীকালে অসুস্থ অসহায় অবস্থায় মরে যেতে হয় ভগ্নী নিবেদিতাকে।

দেখুন, ভারতবর্ষ ধার্মিকতার দেশ। এখানে ধর্ম মানুষের মজ্জায় মজ্জায়। সুতরাং ধর্মকে অচ্ছুৎ করে বেশিদূর এগোনো যাবে না। ধর্ম নিয়ে অনেক তত্ব কথা বলা যেতে পারে কিন্তু বাস্তবটা কিন্তু আলাদা। যেটা বুঝেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ আর মহত্মা গান্ধী। “স্পিরিচুয়াল সোশ্যালিজম” শব্দটা, কেমন সোনার পাথর বাটি মতন শোনাচ্ছে না? অনেকে বলবেন সোশ্যাল ডেমোক্রেটদের মতো বোকা বোকা কথা হয়ে যাচ্ছে। ইদানীং আমার কেন যেন মনে হয়, সবরকমের আঁতলামি ছেড়ে দিয়ে গান্ধী আর বিবেকানন্দকে আর একবার পড়ে নেওয়া প্রয়োজন। যাক গে, কথায় কথায় প্রসঙ্গের বাইরে চলে যাচ্ছি। প্রসঙ্গে ফিরি, তাহলে, দুটো গেরুয়া যে এক নয় সেটা বোঝাবে কে? আমাদের রাজনীতি, কমিউনিস্টরাই বলুন আবার দক্ষিণপন্থীরাই বলুন, আন্তর্জাতিক নিয়ে প্রচুর বক্তৃতা করেন তাঁরা কিন্তু প্রগতিবাদী বিবেকাননন্দকে চেনাতে পারেননি। তাই মানুষও দুই আলাদা চরিত্রের গেরুয়াকে এক করে নিয়েছেন। আগেই বলেছি ভারতে ভুল ফোটানোর চাষের জমি তৈরি রয়েছে। আর এই জমি যার মুল্লুক তার।

আর এস এস, শিক্ষা, বিজ্ঞান, আর যুক্তির চরম শত্রু। তাই তাদের আক্রমণের প্রধান লক্ষ্য হয়ে ওঠে দেশের প্রথম শ্রেণীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। আজকে ভারতের সবকটি প্রথমশ্রেণীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ও তার ছাত্র-শিক্ষকেরা সঙ্ঘের বর্বরদের দ্বারা আক্রান্ত। শাহেন শাহ্‌ সামনে বিক্ষোভ দেখালে মহিলা উকিল মহাশয়াকে বাড়ি ছাড়তে হয়, কোথায় আছেন সেটা বলতেও তার ভয়। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সাংসদকে ভয় পেতে হবে কেন? ‘ক্লাসিক্যাল ফ্যাসিজ়মের একটা চরিত্র হল, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিবান মহলের যাঁরা প্রতিবাদ করছেন তাঁদের উপরে হামলা করা। যেখানেই তার বিরুদ্ধ স্বর উঠছে, সেখানেই তাঁকে দমিয়ে দাও”। এটা ফ্যাসিজ়মের চরিত্র। তারই নতুন রূপ দেখা গেল JNU এর সেই রাতের ঘটনায়। না হলে মুখে কালো কাপড় বেঁধে ঢুকে পরপর হস্টেলে হামলা চলতে পারে না। এই রূপ কি কোন ছাত্র আন্দোলনের হতে পারে? এরকম বর্বর পৈশাচিক আচরণের ঘটনা ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস আছে কি না আমার জানা নেই।

সমসাময়িক বিষয়ের যে প্রতিবাদ, প্রথমদিকে মুসলিমদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেবার চক্রান্তে আর.এস.এস একশ শতাংশ সফল। ছলনা, মিথ্যা আর চক্রান্ত এদের মজ্জাগত। উত্তরবঙ্গের কথা বলি- এখানে যে সব এলাকায় বাসিন্দাদের অধিকাংশ রাজবংশী ও মুসলিম সেখানে CAA নিয়ে বক্তব্য হল পূর্ববঙ্গ থেকে আসা লোকজনদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এখানে মুসলিম আর রাজবংশীরা খুশি। আবার যেখানে ভাটিয়ারা (ভাটির দেশ, পূর্ববঙ্গ থেকে আশা মানুষ) সংখ্যায় বেশি সেখানে প্রচার হচ্ছে মুসলিমদের বাংলাদেশে অথবা ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হবে। তাহলে প্রশ্ন হল CAA হচ্ছে কিসের জন্যে? কিছু নয়, মোদ্দা কথা হল, সঙ্ঘবিরোধী মতামতকে কমিয়ে দেওয়া অর্থাৎ ভোট দেওয়ার অনধিকারী তৈরি করে নিজেদের কেন্দ্রীয় ক্ষমতার অবস্থানকে পাকাপোক্ত ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে পরিণত করে রাখার (দুর্বল) প্রচেষ্টা। ওনারা জানেন শেষ ভোটাভুটিতে কি কি করেছেন, সেটা বারবার করা সম্ভব নাও হতে পারে। তাছাড়া দেশের মানুষ জানেন ভোট গণনার ছবি। ধরা পড়েছে, কিছু কিছু মিডিয়া সেই অপকীর্তিগুলোকে প্রচারের মধ্যেও রেখেছে যে, তিনশ-র বেশি এলাকায় ভোটারের তুলনায় ভোট পড়েছে বেশি। কি ভাবে সম্ভব? আসলে, প্রধানমন্ত্রীজির পাঁচ লক্ষ কোটি ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন পূরণ তো দূর অস্ত এখন মানুষকে ব্যস্ত করে রাখা হয়েছে দেশহীন হয়ে যাওয়ার দিশাহীন ভীতির মধ্যে, অসাংবিধানিক আশঙ্কার আবর্তে ফেলে মানুষকে দেখতে দেওয়া হচ্ছে না তার ভোটের প্রতিশ্রুতি, অর্থনীতির অধোগতি, বেকারিত্ব, তার শিক্ষার অধিকার, কথা বলার অধিকার, চিকিৎসার বন্দোবস্ত …

সামনে কি তবে গৃহযুদ্ধের সম্ভাবনা? সবাই বুঝছেন বা বুঝতে হবে আক্রমণটা আসলে নির্দিষ্ট কোন ধর্ম, গোষ্ঠী, জনজাতির বিরুদ্ধে নয়, সমগ্র ভারতবাসীর বিরুদ্ধে, হিন্দু শব্দের যে ব্যপ্তি তার বিরুদ্ধে। হিন্দি, বিকৃত হিন্দু ও স্বনির্মিত হিন্দুত্বের বাইরে এরা কিছুতেই আসতে রাজি নয়। কিন্তু এর মধ্যেও যে একটা প্রশ্ন খেলা করছে। আমি না হয় আমার এই শত্রুকে চিনে নিয়েছি কিন্তু আমি যাকে NPR, CAA এর বিরুদ্ধ আন্দোলন নেতৃত্বের ব্যাটন তুলে দিয়েছি তাঁকে কি ঠিক ঠিক চিনতে পারছি? তাহলে রাজীব কুমার বহাল তবীয়তে পুনরায় বহাল হয়ে যান কি করে? NRP, CAA বিরোধী দলগুলোর সভায় যান না অথচ ফাঁকতালে মোদীজির সাথে একান্তে মিটিং সেরে নিতে ভুলছেন না। রাস্তায় লাঠিপেটা করছেন আন্দোলনকারী ছাত্রদের। ব্যাপারটা কি? ধন্ধে আছি ভাই, আশঙ্কায় আছি।

Facebook Comments
Advertisements

Leave a Reply