প্রশান্ত গুহমজুমদার-এর কবিতা

অপার

আমাদের কথা আজ হোক। আমাদের মত। অবাক ছায়াসব দুয়ারে থাকুক।
শুনুক আমাদের প্রণয়ের কথা। আমাদের অনিঃশেষ। কিঞ্চিৎ চোখদুটি তোলো।
হেমেন মজুমদার, সেই রেখাসমূহ, রঙ, ভাবো, তোমাকে এমনভাবে। চন্দনচর্চিত
তোমার ওই অশেষ বৃন্ত, সিক্ত। কেউ কি সেইখানে! আমিই তো প্রবৃত্ত ছিলাম
ওই দুটি করুণে। এই আলোছায়াসহ। অথবা নয়। খাঁজগুলি সন্ধানে শুধু। তোমার
অন্ধকার। ঈর্ষা কত প্রকারের হয় যেন! নীল, ঈষৎ কোমড়ে, জঙ্ঘায়, দ্বিধাহীন,
অকরুণ ইতিহাসে। সুত্রসব সে ভোরে বাহুল্য। কেবল একটা ছবি। বিবাদহীন,
কৈশোর যেমন তোমাকে বয়নে আগ্রহী ছিল, বহু খননের পর। ছিন্ন চুলে তো সে
প্রাকৃতই ছিল। গন্ধ।

রক্ত, শুকনো, দুই হাত জুড়ে মাখি

স্বপ্নের বিরতিসব মনে আছে? বস্তুত স্মরণের, সম্বরণের গল্প সে সব। ইহাতে
বর্ণ নাই। একখানি ব্যবহৃত ঘড়ি, অবিশেষ চপ্পল এবং কিছু মায়া। অন্ধকারপ্রতিম।
অথচ সুডোল ছিল, গৌরবর্ণের বিপরীতে সিক্ত চুলের শঙ্খ ছিল। অতীত ছিল না।
স্মরণ কর, অতীত ছিল না। একটি একটি জলপাইপাতা, একটা একটা চালতার
ফুল। সে-ও তো একা একা। অনতিনিকটে কলকলি এবং কেহ পারাপার করিবে না,
এইরূপ সন্দেশ ছিল প্রকাশ্যে। চিবুকেই ছিল সেই অপূর্ব লিখন। ছোট গল্পের গঠন
এবং সংযম। তাহাতে কিঞ্চিৎ লালিমা। স্পর্ধা এইসব প্রাচীন ভালোবাসিয়াছিল। সে
পারাপারে ইচ্ছুক ছিল।

রক্ত, শুকনো, দুই হাত জুড়ে মাখি

Facebook Comments

Leave a Reply