অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়-র কবিতা

fail

যদিও সুস্থ আছি

খুব আপন বলতে আমার আর কিছুই নেই
কাটা নাসপাতির খোসা পাড়ার কুকুর মায়ের পেটের ভাই
শুধু তৌসিফ জামাল মাঝেমধ্যে নাড়িয়ে দিয়ে যান
রাতের আকাশ ঘননীল বিধবাবিবাহ
এইসব আর কি।।

চুপ করে বসে থাকলে এত মুখ মনে পড়ে কেন!
সেলুনে তো নাপিতের ঘামের গন্ধ ও
পাশের লোকটির পুরু দাড়িতে
ব্লেডের শব্দ ছাড়া কোন ভীড় নেই।
সত্যি বলতে টাকা আমাকে আনন্দলোকের মতো
খুশি রাখে একবেলা।।

উপলব্ধি বেশ সুখের
খড়খড়ে দেওয়ালে পিঠ ঘষার ন্যায় –
পিঁপড়ে হচ্ছে, খোসাগুলো ফেলে দিতে হবে
গাছে পুরুষ্ঠ নাসপাতি-পিছনে সামান্য পাহাড়া…

মাছের লেখা – ১

সরষের তেল গরম হলে, সামান্য একটু বাটা হলুদ
অতঃপর অন্যান্য আনাজপাতি
এই রন্ধনপ্রণালী ভগবতীদেবী হতে প্রাপ্ত
সমুদ্র থেকে দূরে বাটা হলুদ
এভাবেই স্বাদ এনে দিত।।

সিঁড়ির হাতলে হাত রেখে রেখে
শিশু ওঠানামা করতে শিখেছে।
মোড়া গড়ায় সে গাড়ি চালায়
একদিন মাইলফলকের গল্প শুনবে
সেই বিখ্যাত নদের তীরে যাবে
ব্রিজ থেকে নেমে একটূ পায়ে হেঁটে
এই বালির আমার নোনা আদার সহিত তুলনীয়।।

জন্মভিটা থেকে বহুদূর ছিল কলিকাতা
মাছের ঝোলে বাটা জিরে আদা কাঁচালঙ্কা
সেই স্বাদ ও দূরত্বটুকূ বজায় রেখেছে…

মাছের লেখা – ২

মানুষ মাছেদের কথা জানে
বিচরণক্ষেত্র জল সেকথাও; বিচরণভুমি
বলতে কিছু লতাগুল্ম ও
প্রাসঙ্গিকবোধের অভাবজনিত ভয়।
যেন জটাযুর ছায়া পড়েছে জলে।
ভয়, অতিরিক্ত ভয় মানুষ ও
মাছেদের বিকারগ্রস্ত করে তোলে।।

তাহলে তন্ময় পিচ্ছিল মাছেদের কথা কখন বলবো
যারা নিজেদের ভাষা ও সংকেত নিয়ে সংবেদনশীল;
উচ্ছিষ্ট খাদ্য ভক্ষণকে শ্রেণীবিন্যাসের সহিত তুলনা করে।।

কাতলা মাছের মুড়ো খেতে শিখি ক্লাস এইট নাগাদ
সরিষার ঝাঁঝ ছাপিয়ে ঘিলুটি ছিল বসে
স্থবিরতা একতাল ভেজা তুলা।
সুডৌল বলাই বাহুল্য
মাছের সহিত আমার সখ্যতা কিছুটা কাল্পনিক
কিছুটা সত্য। কল্পনা ও ভাব সহযোগে
মাছ, জিভের স্বাদ সেদ্ধ হচ্ছে কলাপাতার নরমে…

Facebook Comments

Leave a Reply