মহামারি ও চোখ : শানু চৌধুরী

fail

“দোতলা বাড়ি। শহরের যে অঞ্চল বেজায় শহুরে বলে খ্যাত সেইখানে। তিন দিকে গাদা করা বাড়ির চাপ, একদিকে রাজপথের চটুল ফাজলামি। আবেষ্টনীকে লক্ষ্য করলে সন্দেহ হয়। সমস্তটাই বুঝি মায়োপিয়ার লীলা।” – মানিক বন্দোপাধ্যায়, টিকটিকি

এই গল্পটির প্রেক্ষাপট আলাদা হলেও এই অনুচ্ছেদটিকে এইসময়ে দাঁড়িয়ে প্রাসঙ্গিক মনে হল আমার। এখন যেখানে বসে লিখছি সেই বাড়িটা দোতলা আর এখানে বসে কিছু কথা বলতে চাইছি। ওপরে কোট করা প্যারাগ্রাফ থেকে তুলে নিলাম “মায়োপিয়ার লীলা” কথাটা, অর্থাৎ ক্ষীণদৃষ্টির লীলা। যেখানে মানুষের চোখের চামড়া আজ ভারী সেখানেই জন্ম নেয় ক্ষীণদৃষ্টি। আমরা দেখতে চাই না বা বুঝি না। এতে পাপ নেই, শুধু এক চাটুকারিতার অধিকারবোধে আমরা হাততালি বাজাতে পারি আর সেটা এতটাই উঁচু থেকে যার নীচে তাকালে দেখা যায় একঝাঁক মানুষ যাঁদের কড়রেখা বলে দেবে কোদাল, বাটালি বা কারখানার ভাগ্যচিত্র। অথচ তাঁদের ভাগ্যচিত্র টিকে থাকবে কতটা এইসময়ে যথেষ্ট সন্দেহ হয়। এঁদের নির্ধারক বা নিয়ন্তা কে? কোন কোম্পানি? এখানে বলে রাখা ভাল কোম্পানি কথাটির উৎপত্তির কথা। cum এবং pains থেকে এসেছে কথাটি। cum অর্থাৎ সঙ্গে আর pains-এর অর্থ হল রুটি। এবার এই রুটির সাথে যে রুজি কথাটা জড়িয়ে আছে আর এই সংকটে তার সাথে সংযোগ কার আশা করি ব্যাখা করতে হবে না বা বীজঘ্ন পদার্থ ছড়িয়ে দিয়ে পরিশুদ্ধ করে দিতে হবে না, কথাটির গুরুত্ব। কারণ আমরা বহু আগেই রপ্ত করে ফেলেছি অন্ধত্ব আর মুনাফা যেখানে উদারনৈতিক গণতন্ত্র পেটে বালিশ চাপা দিয়ে ঘুমিয়ে রয়েছে আজও। আমিও সেই মানুষ যে ওই বালিশটা চাপা দিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেছি বহু আগে থেকেই। সামাজিক দূরত্ব অবশ্যই মানা উচিত। নাগরিক কর্তব্য! কিন্তু আজ উপলব্ধি করতে পারছি আমাদের কর্তব্যের ক্রিয়াকলাপ, অথচ এই সংকটকালের বহু আগে থেকেই তো দূরত্ব তৈরি করেছি আমরা। আবার ঠিক এর উল্টোদিকেই চেতনার লেশ উড়িয়ে দিয়ে মোমবাতির খেলায় মশাল জ্বালিয়ে সংঘবদ্ধ সমাবেশ করেছি জাতির ঐক্যবদ্ধতাকে চিহ্নিত করতে। আমাদের মানসিক ফসল কোথায় গিয়ে ঠেকেছে?

“ভিক্ষায়াং নৈব নৈব চ” এই শ্লোকটি আজ কতটা মিথ্যে লাগছে তাই না? যখন আমরা চোখের সামনে জ্বলজ্বল করতে দেখছি তথাকথিত ছেলিব্রিটিদের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা স্বাস্থ্যসচেতনতার বার্তা। উল্টোদিকে তাকালেই দেখছি সেই সব মানুষদের যাঁরা মূল চালিকাশক্তি তাঁরা আজ মিশে গ্যাছে! আর কোনো ভেদাভেদ নেই যেন! নেই শহুরে বনাম গ্রাম্য জনতা, নেই অধিকারহীন বনাম অধিকারভোগী শ্রেণির তকমাগত ঠাটবাট। একটা ভাইরাস আমূল পরিবর্তন করে দিতে পারে আবার মিলিয়ে দিতে পারে আমাদের একই দশায় ফেলে দিয়ে। এটাকে বলতে পারি জণগণের ত্রাস, ত্রাসের ভিতর জণগণের অবস্থা। শ্লেষার্থে আরেকবার হয়ত আমরা চোখ বুলিয়ে নিতে পারি এই অনুচ্ছেদ দুটোর দিকে। Equality before law(Article 14), Prohibition of discrimination on grounds religion, race, caste,sex, place of birth or any of them. (Article 15) কারণ এই ভাইরাস এমন এক দোরগোড়ায় এনে দিয়েছে আমাদের, যেখানে বুঝে নিতে হচ্ছে অনুচ্ছেদ দুটো কতটা অর্থবহ।

আমরা সবাই হয়ত এই অস্থির সময়টার জাল কেটে বেরোতে পারব আশা রাখি। কিন্তু এর পরবর্তী সময়? আমরা চমকে উঠব না তো? দেখতে পাব না তো যে এক বিশাল খাদ্য মিছিল এগিয়ে আসছে রাজপ্রাসাদগুলোর দিকে? জানি না এই ভাবনা জনচেতনায় গুজবের প্রভাব নাকি মহাআতঙ্কের রূপ? সত্যিই জানি না। যদি এর কোনোটাই না হয় তবে হয়তো পৃথিবী শান্ত হবে কিছুই হল না ভেবে।আদপেই কি কিছু হবে না? সম্প্রতি CMIE -র একটা স্ট্যাটিসটিক্স বলছে বেকারত্বের হার ৮% থেকে ২৩%-এর দিকে যেতে পারে। যেই গ্রাফ তাঁরা দেখাচ্ছেন সেটি যথেষ্ট ব্যাখ্যামূলক। আর খাদ্যমিছিলের আশঙ্কা ঠিক এখানেই। আর যদি বলতেই হয় গত তেতাল্লিশ মাসে বেকারত্বের সংখ্যা বেড়েছে আর এই ২১ দিনের পরিস্থিতিতে সংখ্যাটা ২৩ শতাংশে ঠেকলে তা যে এক বিভীষিকার পর্যায়ে যাবে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। তবে সন্দেহই তো আত্মজিজ্ঞাসার কাঠগড়ায় আমাদের এনে দেয়, যেখানে আমরা অনেক সংবিধান ভুলেও নিজস্ব সংবিধানের দিকে তাকিয়ে লজ্জিত হই কোনো এক সময়। তবু আশা করি প্রেম-প্রীতি দিয়ে নাহলেও করুণা দিয়ে হয়ত প্রদীপ জ্বালাতে পারবেন এইসব মানুষদের ভার যাঁদের হাতে।

রুশোর সেই বিখ্যাত গ্রন্থ “ডিসকোর্সেস অন ইনইক্যুয়ালিটি”-র একটি লাইন মনে পড়ছে “Man is born free, but everywhere he is in chains” সত্যিই আমরা মুক্ত হয়েও কোথাও আবদ্ধ যেন। এই শৃঙ্খল আমাদের আজ দূরে সরিয়ে রেখেও জুড়ে দিয়েছে সময়ের দিকে চোখ তুলে তাকাবার জন্য কিন্তু যদি একটু গভীরে ভাবি সামাজিক বৈষম্যের ইঙ্গিত কি নেই এই লাইনটিতে? আজও আমরা দেখতে পাচ্ছি কোনো রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে এক দম্পতি কাঁধে দুটো শিশু আর তল্পিতল্পা দু’ জনের দুই শক্ত ও বলিষ্ঠ হাতে।এঁরা শ্রীহীন মানুষ! এক পবিত্র নদীর পাশে তাঁরা জমাট বাঁধলে কী হয়? সবকিছু যেন ধ্বসে পড়ে। হারিয়ে যায় মানুষের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তের ডাক। এসব সত্য হয়তো ঢেকে যাবে এক গভীর অন্ধকারে কারণ আমরা মেনে নিতে শিখেছি এই ঘটনা ! যদি পেরে থাকি তবে নিস্ক্রিয় নাগরিক তকমা আমরা পেয়ে গেছি, এটা মাথায় রাখতে হবে।যেখানে এসবের বিরুদ্ধে কলম তুলেও চুপ করে থাকতে হয়।

সম্প্রতি আমি বাড়ির ব্যালকনি থেকে দেখেছি একটি রাজনৈতিক দল খাদ্যসামগ্রী বিলি করছে আর সেটা নিজের ভোটকে সুরক্ষিত করতে। হয়তো তাঁদের ঘরগুলো মার্ক করা আছে। এই কি তবে সাম্যের নীতি? যদি তাই হয় তবে একে আমি বলব মৃত্যুর দলিল। এই দলিলে স্বাক্ষর থাকবে আমাদেরও আর তাতে পরিচয় হবে সুবিধাভোগী মানুষ হিসেবে। এই হল রাজপথের চটুল ফাজলামি! আর আমি দেখছি সেই ফাজলামি, সময়ের নীরব ভাগীদার হয়ে।যদি আমরা আজ স্তম্ভের মতোই দূরে দাঁড়িয়ে আছি তবু তো মাঝের দেওয়াল সম্পর্ক রেখেছে আমাদের সাথে। এভাবেই তো হাত ধরে আছি সবাই। এ বুঝবো কবে আর! যদি বুঝতে পারতাম হয়তো আমাদের মনের এলাকার ধূসরতা কেটে যেতে পারত। আঁধার করা দিক থেকে হয়তো হাঁটতে পারতাম স্পষ্টতরভাবে। যেখানে রয়েছে বিশ্বাস,রাষ্ট্র, মাটি আর অনমনীয় পথ। যাতে সবাই বসে আছে নিজেদের থালা পেতে। আমাদের আরও আরও কত কী হতে হবে! কত গুটিয়ে নিতে নিতে চলে যাবো কুঠুরির অন্তিম কোঠরে! জানি না। জাতীয় চরিত্রের সাথে যে যোগ তাকে আমরা অবহেলা করছি হয়তো। আমরা এর আগে দেখেছি নিজেদের দলের পাবলিক ইন্টারেস্টকে চাঙ্গা করে তোলার জন্য খই-এর মতো অর্থ বিলোতে! আমরা এখনও হাসছি হাসবো। সেই পিচুটি লেপ্টে থাকা চোখ আর নেটফ্লিক্সে চাঁদের হাট দেখে ঘুমিয়ে পড়বো।এসব ছাড়িয়েও অনেক সুশীল শিক্ষিত লোকেদের বলতে শুনছি করোনার বাজার। করোনার বাজার কী? এটি কি কোনও খেলনা না কোনো প্রোডাক্ট যে সেটার বাজার হবে। দয়া করে এসব ভণ্ডামি করবেন না। যেখানে একটা মহামারি পূর্ণচ্ছেদের বালাই না করে থাবা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে যেখানে, সেখানে পাশ্চাত্যের দেশের সাথে তুলনা টানা বন্ধ করুন। মনে রাখবেন ইতিহাসের সাক্ষ্য রাষ্ট্রধারা ছাড়াও আরেকটি বিষয় দিয়েও অনুভব করা যায় সেটি হল আমাদের একে অপরের জন্য উদ্বিগ্ন বা ব্যথিত হওয়ার প্রাণস্পন্দন। আর এই প্রাণস্পন্দনকে আমরা নিজেদের হাতে তিলে তিলে মেরেছি এবং প্রকৃতিকে এক বিনষ্টের লীলার দিকে নিয়ে গেছি আমরা। এক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের একটি প্রবন্ধের অংশ উল্লেখ করা যেতে পারে, তা হল- ” প্রকৃতির দান ও মানুষের জ্ঞান এই দুইয়ে মিলেই মানুষের সভ্যতা নানা মহলে বড়ো হয়েছে – আজও এই দুটোকেই সহযোগীরূপে চাই।” এইতো সমাধান! কিন্তু আমাদের ভোগলিপ্সা যেভাবে বাড়তে শুরু করেছে আর তাতেই হয়তো প্রকৃতিতে যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করেছি আমরা মানুষের জ্ঞানে আর ভুলে গেছি প্রকৃতির দান।যার ফল আমরা এখন ভোগ করছি না তো? হয়তো আজ আবার সেই সময় এসেছে যেখানে আমরা বলতে পারি- ” দাও ফিরে সে অরণ্য লহ নগর” , হয়তো এখানে আমাদের হাসি-কান্না ও প্রতিবাদ বাঁধা পড়ে যাচ্ছে আর এটি চালু রাখছে একদল গোলাম।

অনেকের লেখাই এই মহামারিকে চূড়ান্ত ফ্যান্টাসির পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছেন আবার এই সময়ে অনেকেই ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার পার্থক্য বিশ্লেষণে বসেছেন দেখতে পাচ্ছি।কিন্তু এটাকে ফ্যান্টাসি ছাড়া এই মূহুর্তে কিছু বলা যাবে না। আমাদের মনে রাখতে হবে, মানুষের জন্য ধর্ম হতে পারে কিন্তু ধর্মের জন্য মানুষ নয়।আমার পাড়ার মোড়ে যে মুচিটা বসে যাঁর ছোট্ট বাড়িটি তাঁর মেয়ে লিখিয়ে নিয়েছে তাঁর সুরক্ষা কোথায়! সে ফ্লাটের নীচতলায় দোকানগুলোর সামনে রাতে শোয়। তার খিদে কতটা? এই ক্ষণে দাঁড়িয়ে বুঝতে পারব কি আমরা? হয়তো আমাদের সব সামাজিক দূরত্ব মেনেও মনে রাখতে পারিনি আমরা একটা রুটি স্রেফ ভুলিয়ে দিতে পারে ভাতের শোক। তার কাছে ধর্মের সিম্বল রুটিটাই হতে পারে।আর কিছু নয়। এই মানুষদের কথা কি বলবে, সেসব মনস্তত্ত্ববিদ যাঁরা এলিট বা কর্পোরেট মানুষদের দীর্ঘদিন লকডাউন থাকার ফলে কী কী অবসাদ আসতে পারে তা নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত। নাকি খিদের সাথে মনস্তত্ত্বের যোগসাজশ হারিয়ে গ্যাছে? যা দেখতে পাই তাই মনকে নাড়া দেয় একথা সর্বৈব সত্য কি না আজ সন্দেহ জাগে,এই সময়ে মানুষ যত বিপন্ন হন, কীটপতঙ্গ যতটা তৃষ্ণার্ত হন, রাজা হয় কি? রাজা সর্বশক্তিমান আর সেই মহা উদ্যোগে আমরা হয়তো হাততালি দেওয়ার সামর্থ্য পেয়েছি কিন্তু হাত নাড়াবার নয়।

এরপরের পরিস্থিতি কী? আমরা জানি না। তবে জীবন ও জীবিকায় সংঘাত তৈরি হওয়া মানুষগুলো কাজে ফিরতে পারবে কি? ধুঁকতে থাকা শিল্প বা দিনমজুরেরা ফিরতে পারবে কাজে? শিল্প, বাণিজ্যকে সটান দাঁড় করানোর জন্য অর্থ জোগাড় হবে কি? ভারতে অসংগঠিত ক্ষেত্রে প্রায় ৩০ কোটি মানুষ কাজ করে থাকেন, যাঁরা পরবর্তী সময়ে সমস্যায় পড়তে পারেন।আবার এই সময় সরকার ১.৭ লক্ষ টাকার আর্থিক প্রকল্প ঘোষণা করেন যেটা জোগাড় করবার পথ হল এফআরবিএম ( Fiscal responsibility & budget management) অ্যাক্ট। যার মাধ্যমে আর্থিক সুরাহা ও ফিসক্যাল ডেফিসিট আর ফিসক্যাল প্রুডেন্স ও পাবলিক ফান্ডকে চাঙ্গা করা যায় সরকারি বন্ড ক্রয় করে যা একমাত্র আরবিআই করতে পারে। এসব তথ্য কথার মাঝেও একটা তথ্য এসে হানা দিল সেটা হল যাঁরা পরিযায়ী শ্রমিক, যাঁরা কনস্ট্রাকশনের কাজের সাথে যুক্ত তাঁদের চলে যাওয়া বা চালিয়ে দেওয়া জীবনের মাঝে ছেদ পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যাঁরা মরশুমি শ্রমিক তাঁদের কাজের মাত্রা ৯২.৫ শতাংশ কমে আসছে এঁদের মধ্যে ৪২%-এর একদিনের ঘর চালাতে হিমশিম খেতে হবে। কেউ কেউ আবার মহাজনদের থেকে চড়া সুদে টাকা নিয়েছেন যা তাঁরা শোধ করতে পারবেন না এই পরিস্থিতির কারণে আর এর ফলে এক ভয়ংকর উৎপীড়ন সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। অনেক শ্রমিকের আবার যে কাজ করেন তাঁদের কর্ম পরিচয়পত্রই নেই।তাঁদের হাতে অর্থ পৌঁছবার উপায় কি? তাঁরা শ্রমিক হিসেবে চিহ্নিত কি না? সেই প্রশ্নটিও থেকে যাচ্ছে। কিছু এমন শ্রমিক রয়েছেন যাঁদের দৈনিক আয় ২০০-৪০০ টাকা আবার কিছু এমন শ্রমিক আছেন যাঁদের আয় ৪০০-৬০০ টাকা। এবার মজার বিষয় হচ্ছে Delhi wages act যদি দেখি এঁরা কোন আওতায় পড়েন বলতে পারবেন? দক্ষ, আধা-দক্ষ না অদক্ষ শ্রমিক? কনস্ট্রাকশন সেক্টরে যুক্ত শ্রমিকের সংখ্যা কিন্তু ভারতে কয়েক কোটি আর GDP-র ৯% এঁদেরই হাতে সেটা ভুলে না যাই আমরা। CRR এবং RRP বা বন্ড কেনার কথা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা ভাববেন নিশ্চই। তবে এসব নির্ভর করছে এই ত্রাস সরে যাওয়ার অপেক্ষায়। আমি এটুকুই আশা করতে পারি ১.৭ লক্ষ কোটি টাকায় যেন গঙ্গা জলে গঙ্গা পুজোর মতো বয়ে না যায়।যে দেশে গোমূত্র তিনশো টাকা প্রতি লিটার আর দুধ পঞ্চাশ টাকা প্রতি লিটার সেখানে আমি আশাবাদী এখনও। আমি চাই আলো জ্বলুক তবে সেটা বুদ্ধি, বিজ্ঞান,সচেতনা আর মানবিকতার।এই আলো জ্বলুক ঐক্যের নামে। আর শেষে একটা কথাই বলব আমরা যদি তাঁকে আমাদের প্রতিনিধি ভাবি তবে তাঁকে ম্যাসকট অফ গড ভাববার অধিকার নেই আমাদের এটা যেন মনে রাখতে পারি।

……………………………………………………………………………………………………………………………….
একটা ছ’ফুটের দোকান যাঁর ডানদিকের দেওয়ালে ঘড়ির কাটাগুলো খুশখুশে কাশির শব্দ নিয়ে ঘুরছে। বা দিকে এক বিরাট আয়না আর তার নীচে ছড়িয়ে আছে হাজার লোকের মাথার ময়লা এঁটে যাওয়া চিরুনি, যেটার দুটো দাঁত ভাঙা। কমদামি সেভিং ক্রীম, এক পাহাড় সমান ফিটকিরি আরও নানান সরঞ্জাম। এমদাদ ভুলে যাচ্ছে ওর সেই নিপুণ হাতের কাজ। সে তাঁর দোকানে গেঞ্জির ছাঁট কাপড় দিয়ে তৈরি করা মাস্ক বিক্রি করছে…দিনরাত ওই ছাঁট কাপড় সেলাই করে যাচ্ছে…
মানুষ কিনছে তাঁর হাতের তৈরি মুখোশ। সে ভুলে যাচ্ছে গুণাগুণ। একটা মুখোশ থেকে ভেঙে যাচ্ছে আরেকটা মুখোশ! ইতিহাস বলে আকালের দিনে মানুষ এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় চলে আসে অন্নের খোঁজে… আর এমদাদ’এর মতো মানুষ তাঁদের জীবিকা বদলে নেয়! আর আমাদের ক্ষীণ দৃষ্টির চোখ মেনে নেয়…বদলের ভাষা…

[ এই লেখায় যাঁদের উদ্ধৃতি আঁজলা ভরে নিয়েছি, সবার কাছে ঋণী ]

[লেখক – প্রথম দশকের কবি, গদ্যকার ও প্রাবন্ধিক।]

Facebook Comments

Leave a Reply