জাকারিয়া প্রীণন-র কবিতা

fail

এপ্রিলে মধ্যাহ্ন

.
করিডোর থেকে অনবরত মানুষের ডাক শুনা যায়। বাহিরে
এপ্রিলের বিষধর রোদ— ফনা ধরে আছে মাইগ্রেনে; মানে
এখন বোশেখী হাওয়ায় গ্রীষ্ম নেমেছে। ব্রহ্মপুত্রে পাল ধরে
নাও ভাসিয়েছে এক রাখাল বালক। আজ বাহিরে—আম
কাঁঠালের মৌসুমী রোদ; তাপ বাড়ছে। গরম রুটির মতো
রোদ। সেকে গেছে; রাগী এক মহিষের মনে। তাই বুঝি—
মেয়েরা ডাকছে গোপন ইঙ্গিতে— কাঁঠালচাঁপার মতো—
খুলে দিয়ে দু’বাহু। এই এপ্রিলের মধ্যাহ্ন একপাশে রেখে—
হহেঁটে এলো মাহুতের বউ; গোপনে চোখমেরে— লুকিয়ে
গেল জলে। এখন শুধু একটি উগল মাছ তার খবর দিতে
পারে।

আব্বা

.
আব্বা— আপনার সমস্ত আলোর ভেতর একটি অন্ধশিশু
দু’চোখ ভরে ইশ্বরের স্বপ্নের কথা ভাবে। যেন তারা জমজ
ভাই। চোখের সামান্য ইঙ্গিতে নেতিয়ে দেয় মন। লোকেরা
চিৎ হয়ে আকাশ দেখছে; আমাদের চোখের ভেতর— এই
সব শরতের ছেঁড়া-খোঁড়া তীব্র বাতাসে। আহা পাথর। যেন
মনের ভেতর হঠাৎ লাফিয়ে উঠা ফড়িং; একলা একা—
আম্মার পাশে ভাতঘুমে গেল এই। আর সাদা সব কাগজের
পাতা আমাকে নিয়ে একা হচ্ছে ক্রমশ।
.
এখন দুপুর বেলার ফেরিওয়ালা দেখলে আপনাকে মনে
পড়ে খুব; আম্মাকে মনেপড়ে।

ছয়-মে

.
আমাকে মানুষ বলো। অথচ ভেতরে আমার হয়ে কথা বলে
একটি শুয়োর— দেখতে অনেকটা আমার মতো। ছোটদের
আমপারার মতো করে আমাকে ধর্ম শেখাও; নবীদের কথা
বলো। আল্লার হাতে— টেনিস বল দিয়ে; কী সুন্দর দাঁড়িয়ে
থাকে মানুষ। যেন চিয়ায়াখানার দার্শনিক আমি। অথবা ধর্মেরষাঁড়।
অথচ আমি এক জন্মান্ধ পাগল— শুধু নিজেকেই ভালোবেসে
যাই। ধার্মিক অথবা ইশ্বর দেখলে আমার এখন কষ্ট হয়।
ইচ্ছে করে ফুল হয়ে জন্মাই— জান্নাত অথবা জাহান্নাম
কোথাও যাব না আমি। শুধু তোমার মাঝে থেকে যেতে চাই।
আমি জানি— পৃথিবীতে ভালোবাসা ছাড়া কোনো বন্দিত্ব নেই;
পৃথিবীতে ভালোবাসা ছাড়া কোনো মুক্তি নেই।

Facebook Comments

Leave a Reply