জিয়া হক-র কবিতা

fail

তিনটি লেখা

প্রথমত

আমি, মনে হয়, গতিপ্রকৃতির নীচে নেমে গেছি
নীচে শুধু আমি ব’লে আমার মতন গতিপ্রকৃতির
কিছুজন থাকে।
যার যৌবন আসে, কাছে, দূরে, ছেড়ে চলে যায়
বালিশে মাথা দিয়ে না শুলে বালিশ ঠাণ্ডা হয়ে থাকে
পুকুর কাটার জন্যে পুকুরে নেমেছি। সেটা নীচে নামার
মতো ভীতি। আমি পেয়েছি। মানুষদের কাজে আসে ব’লে
মাছেদের, মাছিদের, কোনও কাজেই লাগে না এই জল। মাছেরা
অমূলক কথা কম বলে, ঘুমিয়ে ঘুমিয়েও তারা জেগে থাকে
মানুষের চেয়ে বেশিক্ষণ তাদের চোখ খোলা আছে। আমি বলি–
ওই ঘাটে বসা ঘষে রাখা রাত্রির ডিশখোলাদের
ব্যবহৃত হয় আর ব্যবহার করা মিলে সমাজের গতিপ্রকৃতির
নীচে নেমে বহু দেখি ওপর ব’লে কিছু নেই; সেখানে রাতের গায়ে
মানুষের কমদামী বাজার বসেছে;
জড়ুলের ঘষামাজা দেখে দেখে মাছের মতন চোখ
যাদের অসংখ্য খুলে গেছে,
আমি যাদবপুরে অনেককে দেখেছি, সার্কাসে কেউ কেউ ছিল
প্রতিভাপূর্ণ ব’লে পাশ কেটে সাধারণতের মধ্যে গেছি
সকলের কান আমি নীচ থেকে চিনতে পেরেছি
অ-নীচু, অ-উঁচুর তলা দিয়ে নিম্ন চলে যায়, চলাচল উচ্চ ক’রে থাকে
যাকে আমি মান্যতা দিয়েছি
হয় নম্রতাকে ভালোবাসে ব’লে কখনও সে নীচ হয়

দ্বিতীয়ত

আলো আসে বঙ্গবিদ্যা, অ-পূর্বের জাফরি পথ ধরে
আমার কল্যাণ হয় বন্ধুবৃত্তে, যদিও তা কাল্পনিক স্তরে
বিদ্যা প্রাঞ্জল তাই বিদ্যাধরী তীর
ভুল মন্ত্র, ভুল কন্যা করেছেন অস্থির—
নাটকীয় যত ফুল
তুলে তুলে দেখি, তুলে তুলে দেখি
                              কতদূর নির্ভুল
বিদ্যা অল্প ব’লে
প্রজাপতি শুধু ঘুরে যায় আর প্রস্তাব যায় চলে
কাদের প্রস্তাবনা?
চিঠিতে জানাব, দুধ ফুটে ওঠে, আপাতত ভাববো না
জানো কি পত্র-রীতি?
প্রিয় বন্ধুতে শুরু আর জেনো শেষে আমাদের প্রীতি
যায় না এভাবে সুর?
যন্ত্র, বাদ্য, ব্যাকরণ ছাড়া যাবে যে অন্তঃপুর—
জাল বিজ্ঞান মতে
ভালোবাসা এক অপরাধ যার সমাপ্তি নাক ক্ষতে

তৃতীয়ত

 

ভুলেই গিয়েছিলাম দিন আসছে ধীরে, রাত্রি দূরে নয়,
মাঠে মাঠে গাভীর পায়ের ছাপে জল ভরা আছে,
আত্মজীবনীর সটীক সংলাপ ওই রাত্রিচরাচর জুড়ে বেছানো রয়েছে,
বাগদী বুড়ির মতো তুলে আনতে হবে চুবড়ি ভর্তি করে,
পেহচান কৌন বলে চোখ চেপে ধরে আমার অতীত,
কে ওই অনুল্লেখ্য লোক, পাতা খোঁজে জঙ্গলে জঙ্গলে,
উলঙ্গ তাই পোশাক বানাবে,
সে একটা নদীর মালিক,
এইমাত্র খনিজের জন্ম দিয়ে এলো,
তার হাতে মহিলার খোঁপার উল্লাস অথচ চুম্বনরহিত,
প্রত্যাখ্যান পেয়ে পেয়ে সে আজ ব্রোঞ্জের ঝুরি হয়ে গেছে, শিশুর দোলনা হয়ে জীবন কাটায় এক প্রতিবেশী গ্রামে, পেহচান কৌন বলে কেউ তার পিছুও ডাকে না,
পেহচান কৌন বলে সে শুধু সময়ের চোখ চেপে ধরে।

Facebook Comments

Leave a Reply