জ্যোতির্ময় শীল-এর কবিতা

fail

পরিযায়ী

আল জুড়ে কয়েকজন স্থির চোখে তাকিয়ে।
কয়েক আঁটি ধানের লোভ।
মাটির শরীর আলগা করে
কাটা দাগের উৎস কোথায় খুঁজতে গিয়ে
উল্টানো ধাঁধার মতো
অভ্যাস ভেবে
অনুভূতি থিতিয়ে পরে।
অষ্টপ্রহর জড়িয়ে যায় এক অদ্ভুত সীমারেখায়
সময় কাঁপে, ছড়িয়ে পড়ে
এত যত্ন করে মৃত্যু আঁকে রাষ্ট্র?
অনেকে বরাত জোরে ধান বুনে;
পরিযায়ী আটকে,
আবর্তে।
ভাষাহীনতায় ফাটা গোড়ালির চাপ চাপ রক্ত
দামামা বাজিয়ে শোনায়,
‘আর কতখানি হাঁটলে মানুষ ভাববে আমায়?’

মুখভিনয়

এবড়োখেবড়ো অনুভুতি জুড়ে
ভাঙাচোরা বিকৃতি হয়ে,
মুহূর্তগুলোকে সেলাই করা দিয়ে শুরু করল।
যেন বারে বারে ভেঙে পড়ে বালিতে নাকছাপি খুঁজতে থাকে।
হাসি মুখ নিয়ে
শব্দহীনতায়
শেষটায় নিজেকে হারিয়ে

আরো এক সাদামাটা গল্পের চরিত্র হয়ে বয়ে চলল স্রোতে।

রামরাজ্য

অসহ্য বিদ্রুপে ইতিহাস বয়ে আনল উৎকণ্ঠা আর দারিদ্রতা।
স্পর্ধার গলা টিপে উগ্রতা নিয়ে,
জাতীয়তাবাদ তার দাঁত দিয়ে স্বাধীনতার রক্ত চোষে।
আর্তনাত বাড়তে থাকে প্রচারের মাইকের সাথে তাল মিলিয়ে।
অ্যানড্রয়েডের জালে বিষের মত ছড়ান ফেসবুকি দেশপ্রেম ভুমিকম্পে মাটি ছিঁড়ে উঠে আসে,
আর কুয়াশার মতো তলিয়ে যায় অচকিতে,
এক ভয়ানক শূন্যতাকে ইঙ্গিত করে।
পৌরাণিকের সস্তার অনুকরণে
তারকাঁটায় কবর চাপা পরা মুখগুলো আবার ভেসে এল দুঃস্বপ্ন সেজে,
দিবালোকে পরাধীন সে এক পরিভাষাহীন অক্ষরবিন্যাসে।

ব্যালকনি

এই হেমন্তের দুপুরেও ওই তিনতলার ব্যালকনির দিকে তাকিয়ে
অপেক্ষাকে হৃদস্পন্দনের তন্তু দিয়ে আটকে রাখার সময়,
তার মুখের আদ্রতা ঘেঁষে একটুকরো বসন্তের অনুভূতি বয়ে যায়।
ছাপোষা চাষা বাড়ির দুমুঠো চালচুলোকে অবহেলা করে
সাইকেলের কলিং বেলে সম্মোহনকে লীনতাপের মতো আগলে,
স্রোতে বয়ে চলে।

প্রলাপ

ল্যাম্পপোস্টের নীচে এক পাগলকে
হরিশচন্দ্র সেজে একটা পাউরুটি দিতে সে বিড়বিড় করে উঠল।

‘একটা দাঁড়কাকের সামনে নদী এসে পড়ল।
পেরুলুম নি।
তেষ্টায় মরছি রোজ।’
‘কি যাতা।’
‘একসময় পাতে নুন পড়ত।
হেরিকেনের আলোয় হিসেব কোষতুম।
বেনো জলে ধুয়ে গেলো।
আর শালা তুই
শ্যাওলার মতো আমাগো উপড়ে ফেললি।’

তারপর পাশ কাটিয়ে
একরাশ অস্বস্তি নিয়ে আস্তিন দিয়ে নিজেকে ঢাকি,
তবু সে আমার গায়ে ঝাপটা হয়ে লাগে।

Facebook Comments

Leave a Reply