সোহেল নওয়াজ-র কবিতা

পরিযায়ী জীবন

আকাশে শাদা মেঘে এক মানব মূর্তি
নাক উঁচু, মনে হলো চেয়ে আছে আকাশে
গভীরের গহীনের চোখ জুড়ে দৃশ্যকল্প
কিন্তু চোখ দৃশ্যমান নয়। কেমন জানি
মনে হলে! দেখলাম ইশ্বরের প্রতি আকর্ষিত
নয়নে কিছু চাইছে, হাত দুটো প্রসারিত করে।
তারপর পরিযায়ী পাখির মতো মেঘে মেঘে
মিলিয়ে গেলো।

অন্যসকল দিনের দাবার ঘোড়ার চালে
মনহুস দৃষ্টি দিকদর্শী দিকদিগন্তে হারালে
পৃথিবীর উর্বরতা আছে পরিযায়ী ঋতুতে
দুশো তিনশো বছরের শৃঙ্খলিত চলাচল
অনিবার্য কষ্টনীলে হেঁটে মরে চরাচর।
সমুখের পথে, বুকে, কাঁধে ওঠে জীবন
দুর্মর রাত্রি দিন জনশূন্য খালি পেট
রাক্ষস দিন, তবুও জীবন বৃষ্টি রোদে পুড়ে
খুঁজে নেয় জন্মজীবি মন।

মানুষের ধর্ম আজ পরিযায়ী
পাখিদের মনে, উড়াল পাখার সাধে
পাখিরা উড়ে ডানা মেলে। মানুষের মনিব
পাখাওয়ালা পরমার্থে পাওয়া ভৃত্যের কাজে।
তবু্ও ডানার অধিকার করে টাকা
ইচ্ছেমতো কেটে দেয় বাঁচার আকাশ।।
এভাবেই সমাজের মরার শরীরে
কীটেরা হয় সমাজপতি পড়ে থাকে
মরে পথে পরিযায়ী শ্রমিক।।

আমি হারিয়ে, বিবর্তনে মিলিয়ে যাচ্ছি

আমি হারিয়ে, বিবর্তনে মিলিয়ে যাচ্ছিঃ
ঘর থেকে বাহিরে কোথাও খুঁজে পাচ্ছিনা নিজেকে!
একদল মানুষ, একটি গর্ভবতী হাতীর সাথে
নির্মম হত্যার ছকে, আমাকে কি ভীষণ করে বেঁধেছিলো
পিছমোড়া করে, ভীষণ যন্ত্রনা হচ্ছে! মুখ গহ্বর পুঁড়ে
দগ্ধ গাঁয়ে, বিস্ফোরক বিস্তৃত হচ্ছে সকল ভূখণ্ডের
জলে মিটছেনা দাহো। আমি কি মরে যাচ্ছি! কি জানি?
আমার সভ্যতা সংস্কৃতি আদিম বর্বর জনপদে
জর্জ ফ্লয়েড কি জানতো, ট্রাম্প নামে পৃথিবীতে
একটি প্রাণী আছে! আমি আদি থেকে অন্ত, সুন্দর
অসুন্দর সাদা, কালোয় কোথাও কি খুঁজে পাচ্ছি
শান্তির গানঃ মানুষের মৃত্যু আসন্ন, নিজেদের ডাইনোসর
সাদৃশ্যের মাইনোসরে বিলুপ্ত করছে! আমি কি যুদ্ধ
যুক্ত সংঘর্ষ, একটা বায়োলজিকাল চাইল্ড।
আমার প্রকৃতি প্রকাশ কি নির্মম বিলুপ্তির পথে!?
বিবর্তন বিবর্জনে মুক্তি কোথাও কি আছে?
জানিনা নিরুদ্দেশে খুঁজছি।

Facebook Comments

Leave a Reply