আহমেদ মুগ্ধ-র কবিতা

fail

রাষ্ট্রের জরায়ুর ভেতর ধূমপান উপভোগ্য

ইতিহাস কেন কাককে পেখম পরায়;
কেন কবুতরের কস্টিউম পরিয়ে
শকুনকে এক অসামঞ্জস্য সাজ দেয়—
এসব নিয়ে ভাবতে ভাবতে আমার
অনেক দিন কেটে গেছে মাইক্রোওভেনের ভেতর।
অতঃপর আমি দেখেছি এমন অনেক পেখম খসিয়ে দিলেও প্রাজ্ঞ লোকেরা কাককে
ময়ূরই বলে,কাক তো বলে না!
এমন অনেক কস্টিউম সরিয়ে নিলেও
তারা শকুনকে পায়রাই বলে,
শকুন তো কখনো বলে না।
অতএব আমি বুঝে গেছি অবশেষে
ইতিহাসের বিশুদ্ধতার পরিমাণ অন্ধত্বের
নিক্তিতে নির্ণীত হয়—
ইতিহাসের সার্থকতা মানুষকে স্রেফ অন্ধ করতে পারায়।

হুয়াংহো নদীর তীরে আছে
যেসব খর্বাকৃতি শাসকেরা
ওরা কি মুখ উঁচু করে
দেখতে পারে সে-তুঙের মুখে
চীনের লাল জমিন কিংবা
পরিযায়ী মানুষদের মানচিত্রখানা?
কেন স্বাধীন হয় এমন লাল জমিন—
শোষকের সংখ্যা বৃদ্ধিতে এবং
জুয়া খেলায় শোষিতের হৃৎপিণ্ড
বাজি রেখে কয়েক জীবন উতরে যেতে?
রাষ্ট্রের সীমানাকে দীক্ষা দিতে—গ্যালাক্সি,
হননের;অন্যকে পরাধীন করতে?
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করেই
রাষ্ট্রপুঞ্জ কার্ল মার্কসকে—
দেবতার মত ধারণ করে আছে!
অতএব আমি ভুলে গেছি
সোভিয়েত ইউনিয়ন কিংবা লেনিন
এবং আমি ভুলে গেছি
বিপ্লব কিংবা বিপ্লব জাগানিয়া
কবিতা কতটা প্রয়োজনীয়
আমি ভুলে গেছি,ভুলে যেতে চাই
কতটা প্রয়োজন সত্যাসত্যের যাচাই।

আমি আমার ঘরের দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছি
যাতে ওরা আমার ঘর শূন্য করে দিলে—
অন্তত চোখ যেন পূর্ণ করে দেয় ঘুমে
আমি ঘুমের কাছে নিজের দেহ তুলে দেব
তবু কোনো রাষ্ট্রের কাছে নয়।

দাবার ছকে পড়ে আছে যেসব সৈন্যরা
ওরা দেখে আকাশ মেঘলা করতেই
নিভৃত আশ্রয়ে চলে যায় রাজ-রাজড়া
তাদের শিশুদের পিতৃহীন করে এবং
নিজেদের শিশুদের ব্যাপ্টিজম করে
ধনকুবেরের পরম অভয়ারণ্যে।
ওরা বুঝে উঠতে পারে না—সেই ভ্রাতৃদ্বয়ের
হাতে,ওরা শুধু লোভনীয় খেলনা কিনা!
মৃত্যুর পরে ওরা আসে নিভৃতে,প্রার্থনা করে
যাতে ওদের কণ্ঠস্বর যেন দৃশ্য হতে পারে—
ছেলেমেয়েদের বোনাপার্তের প্যাট্রিটিজমের শিক্ষায় তখন ইস্তফা দিতে চায়।
কিন্তু মানুষ একবার ভুল ইতিহাস লিখে ফেললে
আর কখনো পারে না পৌঁছাতে জীবন্ত
পাথরদের কাছে।

রাষ্ট্রের ক্ষমতায় বসে আছে যারা
ওদের মনে হয় না মানুষের মত
মনে হয় হাইড্রার সন্তান কিংবা হাইড্রার
অনিঃশেষ-এর ফলিত বিদ্যা শেখা মাথা বিশেষ–
ওদের একটি মস্তক তাই পায়ের কাছে
পড়ে থাকলেও আমি শিরচ্ছেদ করি না। মেঘলা আকাশ দেখতে দেখতে
রাষ্ট্রের জরায়ুর ভেতরে বসে বসে
ধূমপান করাই বরং উপভোগ করি—
যেমন মিশাইল দিয়ে দেশের স্বাস্থ্যখাতকে
পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে ভূমির কয়েকশো আকাশ নিচে!
এবং দেখি পৃথিবীর অন্ধকার রাত্রে
জলরঙে আঁকা মানুষ নদী হয়ে নামে
তারা তখন ঘুঙুর বাজায়—নিজের দুঃখকে
নান্দনিক করে ঘুম পাড়াতে চায় অন্যকে—
অথচ নির্ঘুম কেটে যায় সবার প্রহর;
ভাবে ঘুঙুরের শব্দ দুঃখ লুকোতে পারে!
পরিশেষে,মানুষ ভৌগোলিক রাষ্ট্রে
অতিথি পাখির উপাখ্যান মাত্র—

মানুষ বাদে মানুষের আর কোনো রাষ্ট্র ছিল না কখনো।

Facebook Comments

Leave a Reply