Black lives Matter…,ঘৃণার বিশ্বরূপ : দূর্বাদল মজুমদার

fail

“জাসু নাহি অপ্পা তাসু পরেলা কাহি ।” ভুসুকু পাদ।

যার আপন নেই, সে পর কোথায় পাবে? অহংকার, ইগো,নেই, আমিই করেছি, আমিই শ্রেষ্ঠ, আমারই সব,আমিই সব নেব ,এই বোধ যার নেই,স্বার্থরহিত, সে ‘অপর’ বা “ওরা”,কোথায় পাবে! তার সবই আপন,সবাই আপন।

মুঢ়া দিঠ নাঠ দেখি কাঅর ।
ভাঙ্গ তরঙ্গ কি সোষঈ সাঅর ॥
মুঢ়া অচ্ছন্তে লোঅ ন পেখই ।
দুধ মাঝেঁ লড় ণচ্ছংতেঁ দেখই ॥কাহ্ন পাদ।
বাস্তবের দেখা প্রমাণ নষ্ট হচ্ছে দেখে মূর্খেরা কাতর হয়; কিন্তু এতে কাতর হওয়ার কিছু নেই, কারণ সমুদ্রে তরঙ্গ উঠে সমুদ্রেই মিলিয়ে যায়, সমুদ্রকে তা গ্রাস করতে পারে না। তরঙ্গকে দেখে ভয় পাওয়া আসলে ভ্রমমাত্র। দুধের মধ্যে যেমন সর থাকে, তেমনি অভাবের মধ্যেই ভাব লুকিয়ে আছে।

আমাদের প্রায় সমস্ত পুরাণে ও মহাভারতের সৃষ্টিতত্বে বলা হয়েছে যে প্রকৃতি সংক্ষোভিত হওয়ার ফলে, প্রকৃতি থেকে মহত্তত্ত্ব, মহত্তত্ত্বের থেকে অহংকার, অহংকার থেকে পঞ্চতন্মাত্র ও ভুত… ইত্যাদি সৃষ্টি হয়েছিল। মানুষের মধ্যে থেকেই মহানতার বা আদিসাম্যের ধারণা গড়ে উঠেছিল। মানুষ “বিশেষ” ছিল না, সমান ছিল, মহান ছিল, যখন অহঙ্কারের উদ্ভব হয়নি।”ওরা” ছিলনা,আমরা ছিল না।যাসু নাহি আপ্পা,তাসু পরেলা কাহি!

সমানতা বা মহানতা আজও মানুষের একমাত্র ইউটোপিয়া। মানুষ সমান হলে, সাম্যের ভাবে থাকলে, ক্ষোভ-বিক্ষোভ থাকে না। সমানতা বা সাম্যের আকাঙ্খা মানুষের মধ্যে কবে থেকে উৎপন্ন হল, তার অনুসন্ধান করলে আজকের আধুনিক বৌদ্ধিক চর্চায় মার্ক্সের উল্লেখ আসবে স্বতঃ ও সাধারণভাবে। আমি আরো অনেকখানি পিছনে চলে যেতে চাই।

—- কর্ম এক হোক —
সংগচ্ছধবং সংবদদ্ধং সংবো মানাংসি জানতাম্।
দেবাভাগং যথাপূর্ব্বে সংজানানা উপাসতে।।
➢ ঋগ্বেদ. ১০/১৯১/২|
বঙ্গানুবাদঃ- হে মনুষ্য! তোমরা একসঙ্গে চল, একসঙ্গে মিলিয়া আলোচনা কর, তোমাদের মন উত্তম সংস্কার যুক্ত হউক। পূর্ব্বকালীন জ্ঞানী পুরুষেরা যেরূপ কর্ত্তব্য কর্ম্ম সম্পাদন করিয়াছেন তোমরাও সেইরূপ কর।।
—- চিত্ত এক হোক—
সমানো মন্ত্রঃ সমিতিঃ সমানী সমানসংখ্যক মন সহচিত্তমেষাম্।
সমানসংখ্যক মন্ত্রমভি মন্ত্রয়ে বঃ সমানেন বো হবিষা জুহোমি।।
➢ ঋগ্বেদ.১০/১৯১/৩|
বঙ্গানুবাদঃ- তোমাদের সকলের মত এক হউক, মিলন ভূমি এক হউক, মন এক হউক, সকলের চিত্ত সম্মিলিত হউক, তোমাদের সকলকে একই মন্ত্রে সংযুক্ত করিয়াছি, তোমাদের সকলের জন্য অন্ন ও উপভোগ একই প্রকারে দিয়াছি।।
—- লক্ষ্য এক হোক —
সমানী ব আকুতি সমানা হৃদয়ানি বঃ।
সমানমস্তুু বো মনো যথা বঃ সু সহাসতি।।
➢ ঋগ্বেদ. ১০/১৯১/৪|
বঙ্গানুবাদঃ- তোমাদের সকলের লক্ষ্য সমান হউক, তোমাদের হৃদয় সমান হউক, তোমাদের মন সমান হউক। এইভাবে তোমরা সকলের শক্তি বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হউক।
—- মিত্র দৃষ্টি —
দৃতে দৃংহ মা মিত্রস্য মা চক্ষুষা সর্ব্বাণি ভূতানি সমীক্ষন্তাম্।
মিত্রস্যাহং চক্ষুষা সর্ব্বাণি ভূতানি সমীক্ষে।
মিত্রস্য চক্ষুষা সমীক্ষামহে।।
➢ যজুর্বেদ. ৬৬/১৮ |
বঙ্গানুবাদঃ- হে দুঃখনাশক পরমেত্মন্ ! আমাকে সুখের সহিত বর্দ্ধন কর। সব প্রাণী আমাকে মিত্রের দৃষ্টিতে দেখুক। আমি সর্ব্ব প্রাণীকে মিত্রের দৃষ্টিতে দেখি। আমরা একে অন্যকে মিত্রের দৃষ্টিতে দেখি।
—- মিলন —
সংবঃ পৃচ্যন্তাং তম্বঃ সংমনাংসি সমুব্রতা।
সং বোহয়ং ব্রহ্মণস্পতির্ভগঃ সংবো অজিগমৎ।।
➢ অথর্ব্ববেদ. ৬/৭৪/১ |
বঙ্গানুবাদঃ- তোমাদের শরীর মন এবং কর্ম্ম একসঙ্গে মিলিয়া থাকুক। হে জ্ঞানের রক্ষক। ঐশ্বর্যময় প্রভো! সকলকে মিলাইয়া রাখ।
—- সকলে ভাই ভাই —
অজ্যেষ্ঠাসো অকনিষ্ঠাসঃ এতে সং ভ্রাতরো তাবৃধুঃ সৌভগায়।
যুব পিতা স্বপা রুদ্র এসাং সুদুঘা পুশ্নিঃ সুদিনা মরুদ্ভঃ।।
➢ ঋগ্বেদ. ৫/৬০/৫ |
বঙ্গানুবাদঃ- মনুষ্যের মধ্যে কেহ বড় নয় বা কেহ ছোট নয়। ইহারা ভাই ভাই। সৌভাগ্য লাভের জন্য ইহারা প্রযত্ন করে। ইহাদের পিতা তরুণ শুভকর্ম্ম ঈশ্বর এবং মাতা দুগ্ধবতী প্রকৃতি। প্রকৃতি মাতা ক্রন্দনহীন পুরুষার্থী সন্তানকেই সুদিন প্রদান করে।
—- জন্মভূমি —
তে অজ্যেষ্ঠা অকনিষ্ঠাস উদ্ভিদো হমধ্যমাসেঃ মহসা বি বাবৃধুঃ।
সুজাতাসো জনুষঃ পৃশ্নি মাতরা দিবো মর্যা আ নো অচ্ছা জিগতন।।
➢ ঋগ্বেদ. ৫/৫৯/৬|
বঙ্গানুবাদঃ- মনুষ্যের মধ্যে কেহ বড় নয় কেহ ছোট নয় এবং কেহ মধ্যম নয় তাঁহারা সকলেই উন্নতি লাভ করিতেছে। উৎসাহের সঙ্গে বিশেষ ভাবে ক্রমোন্নতির প্রযত্ন করিতেছে। জন্ম হইতেই তাঁহারা কুলীন। তাঁহারা জন্মভূমির সন্তান দিব্য মনুষ্য। তাঁহারা আমার নিকট সত্য পথে আগমন করুক।

এখানে একটা প্রশ্ন এসে দাঁড়াতে পারে, বৈদিক সাম্য আর কলোনিয়াল যুগের শুরু থেকে তৈরি হওয়া সাম্যের কনসেপ্টের মধ্যে ফারাক আছে। এই ফারাকের কথা যাঁরা উত্থাপন করেন তাঁদের যুক্তিগুলো বিশ্লেষণ করে দেখেছি, গন্তব্যটা তো একই, শুধু ঐ কলোনিয়াল হ্যাংওভারের প্ররোচনায় একটু জটিল করে ভাবনামাত্র। একজন বলল, “লোকটা ঠিকমতো হাল ধরতে(লাঙ্গল চালাতে) পারেনা”, আর একজন বলল, ” লোকটার ম্যানেজমেন্ট-ক্যাপাবিলিটি নেই”। এই হল ফারাক।
এসবই হল ইন্টেলেকচুয়ালিটির ফল। ইনটেলেক্ট এল কোথা হতে? মানুষ তো “বিশেষ” ছিলনা। মহান ছিল।এই সেদিনপর্যন্ত সাঁওতালি সমাজ ব্যবস্থায় এই ধারণাটাই ছিল–“আমরা এক, আমাদের লক্ষ্য এক, আমাদের গন্তব্য এক। আমরা কেউ ছোট নই, বড়ও নই।” যত বেশি সভ্যসমাজের সংস্পর্শে তারা আসতে লাগল ততই তাদের সে ধারণা ভেঙে যেতে লাগল আর তারাও গলে যেতে থাকল, ইন্টেলেকটের পাল্লায় পড়ে।

মানুষের ইতিহাসে প্রথমে এল ব্যক্তিগত সম্পত্তি। তারপর ধর্ম ও শিক্ষা,পিছনে পিছনে এসে মানুষের মধ্যে গড়ে তুলল শ্রেষ্ঠত্বের বোধ। প্রাচীন ভারত বলল, অহঙ্কার। “মহত্তত্ব হতেই অহঙ্কারের উদ্ভব”।গর্ব,গর বহন করে বা গরল ওগরায় যা। গর্ গর্ করে ক্রুদ্ধ পশুর মতো গর্জন করে যে,এই গর্জন যখন উচ্চকিত হয় তখন শোনা যায়, যখন বুকের ভেতর সংগুপ্ত হয় তখন আমরা তাকে “ইগো” নামে চিনতে পারি । আমিই শ্রেষ্ঠ, এই অহম্ থেকেই সমগ্র “হেজিমনিয়াল ডিসফাংশন” বা “আদারিং”এর শুরু।
“আমি, আমার ও আমাদের” এই স্বার্থপর ধারণাটি আসার সঙ্গেই বিপরীতে তুমি, তোমরা বা ওরা’র অপরপক্ষটি অবস্থান করে। যাবতীয় বিরোধের সুত্রপাত এখান থেকেই। মালিকের উল্টোদিকে দাস,শ্রমিক,ভূমিদাস, জমিদারের উল্টোদিকে প্রজা বা মজুর, রাজতন্ত্রের সঙ্গে গনতন্ত্র ইত্যাদি। এইসব সংঘাত পেরিয়ে এসে মানুষ ধর্ম নিয়ে আর এক সংঘাত গড়ে তোলে।বৈদিক বা ব্রাহ্মন্যবাদের বিপরীতে তন্ত্র, জৈন, চার্বাক, বৌদ্ধ, নৈয়ায়িক। ক্যাথলিকের সাথে প্রটেস্ট্যান্ট অথবা বহুবিশ্রুত ক্রুসেড।প্যাগান ও আব্রাহামিক। ইসলামের সঙ্গে খ্রীষ্টান।পারসিকের সঙ্গে ইসলাম।হিন্দু বনাম খ্রীষ্টান। ইসলাম বনাম হিন্দু ইত্যাদি।কোন্ ধর্ম শ্রেষ্ঠ তা প্রমাণ করার প্রতিযোগিতা। তারজন্য খুনোখুনি মারামারি ধর্ষণ সব চলে।
কলোনিয়ালযুগে দেখা দিল নিগার, নেটিভ ইত্যাদি শব্দমালা। রেস রেসিজম্ এইসব শব্দও কলোনিয়াল অবদান। ইতিহাসের মধ্যেও ঢুকে পড়ল, “আমার জাতিই শ্রেষ্ঠ” তা প্রমাণ করার দৌড়।
কলোনিয়াল যুগের অবসানের সঙ্গে সঙ্গেই জাতিসত্তার আন্দোলনগুলো আমাদেরকে আরো এক যুযুধান পক্ষের মুখে ফেলে দিল। ভারতবর্ষের মধ্যেই মারাঠি,তামিল,নাগা,কুকি,বোড়ো,ঝাড়খণ্ডী, মিজো, জুম্মা, অহমিয়া,গোর্খা ইত্যাদি। হয় তারা রাষ্ট্রের অবজ্ঞা, অত্যাচার, বঞ্চনা ইত্যাদির কথা তুলে স্বায়ত্তশাসন চাইল, নয়তো আলাদা হতে চাইল। এমনকি পরস্পর মারামারি কাটাকাটিও করতে লাগল। আর সারা পৃথিবীতে কতো যে জাতিসত্তার আন্দোলন তার পরিমান আপাতত আমার কাছে নেই।
আধুনিক যুগে কমিউনিস্ট বনাম বুর্জোয়া দুই পক্ষ। বহুকাল ধরে লড়ে আসছে।প্রত্যেকেরই নিজস্ব শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের যুক্তি আছে। সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো একটার পর একটা ইজ্ম ধেয়ে আসছে আর ভেঙে পড়ছে মানুষের তটরেখায়। “বল্ মা আমি দাঁড়াই কোথা! ”
এর মধ্যেই “শোষক ও শোষিত,অত্যাচারী ও অত্যাচারিত, উৎপাদনকারী ও উৎপাদনভোগী ” এই শ্রেণীবিন্যাসে এসে থমকে যেতে হয়। শোষণের চেহারাকে এককথায় তো চেনানো যায় না।মন থেকে শরীর সবই শোষিত হয়, অত্যাচারিত হয়। ঘরভিটার পগার(সীমানা), জমির পগার, থেকে দেশের পগার, চুরি হয়, জোর করে কেড়ে নেওয়াও হয়।সর্বক্ষণ ধর্ষিত হচ্ছে প্রকৃতি। সবক্ষেত্রেই অভিযুক্ত একটাই, ক্ষমতা। পুরুষের দৈহিক ক্ষমতা বেশি তাই সে নারীশরীরের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত। নিঝুম রাস্তায় হাঁটতে বা বাস অটোয় বাড়ী ফিরতে ভয় পায় নারী। অফিসে,পুরুষ কলিগদের কাছে ছোট হতে হয় তাকে।
ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত হয় ঘৃণা।সাদা ঘৃণা করে কালোকে। উচ্চ ঘৃণা করে নীচকে। বড় ঘৃণা করে ছোটকে। অক্সফোর্ডে পড়ে আসা ছাত্র ঘৃণা করে, ছোট করে দ্যাখে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকে। যাদবপুরের ছাত্র ঘৃণা করে বিদ্যাসাগরের ছাত্রকে। জেএনইউএর ছাত্র ঘৃণা করে হায়দ্রাবাদ ইউনিভার্সিটিকে। ভেমুলা ও চুনি কোটালকে আত্মহত্যা করতে হয় লোধা ও দলিত বলে। আর ধর্ম নিয়ে ঘৃণা তো রোজকার বিষয়।
কোচবিহার,মালদা, পুরুলিয়া বা মেদিনীপুরের কবিকে তুচ্ছ, ছোট, ভাবে কলকাতার কবি। মনিপুর নাগাল্যান্ডের নার্সদের পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিদায় নিতে হয় এই বলে যে, পশ্চিমবঙ্গের ডাক্তার-নার্সরা তাদের সস্তা ভাবে। আজও শহরের কাছে গ্রাম অপাঙ্তেয়। বাঁশবাগানের ভেতর বাড়িতে থাকা সত্যেন বোস সুইডেনের নোবেলকমিটির যোগ্য হয় না।চারজনের কাঁধে বাঁশের চৌদলে বান্ধবহীন চলে যাওয়া শম্ভু রক্ষিতেরা কোনদিন আকাদেমি পেতে পারেন না। চা-ওয়ালা প্রধানমন্ত্রী হলে একশ্রেণির মানুষের গা-জ্বালা করে।কেননা প্রধানমন্ত্রী হতে গেলে অক্সফোর্ডে পড়ে আসতে হয়, এতদিন তাই জানা ছিল। একই কারণে এদেশে কমিউনিস্ট পার্টিগুলোয়(যারা নিত্যদিন সাবঅলটার্ন, পিছিয়েপড়া মানুষের দুঃখ দুর্দশার কথা বলে,সাম্যের কথা বলে )উচ্চ নেতৃত্বের জায়গায় সাবঅলটার্ন মানুষের স্থান হয়না। কেন?
ম্যানহাটনে সাদাচামড়ার পুলিশের হাঁটুর নীচে পিষে যাওয়া কালো চামড়া অথবা হংকংএর রাস্তায় তরুনীর বুকের উপর বসে হাতকড়া লাগানো পুলিশকে আমার একই বার্তাপ্রদানকারী ঘটনা মনে হয়।

ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকেই প্রকৃতি ও মানুষে সংঘাত চলছে অবিরত। প্রকৃতির চেয়ে নিজেকে বেশি ক্ষমতাবান মনে করে, মানুষ আঘাত করছে প্রকৃতিকে,অথচ যার উপর নির্ভর করেই বেঁচে আছে সে। এ হল সবচেয়ে বড় রিগ্রেশন। সংগঠিত মানব অহং।
আসলে ভোগ ও পন্য “পনি”রা তৈরি করেছিল। এই “পনিনাশ্চ” পন্যবাদীদের ঋকবৈদিকেরা ভালো চোখে দেখেনি। আর আজ তো গোটা সমাজই পন্যের নির্দেশে চলে।আর যে পন্য বেশি বিক্রি হয় অথচ ম্যানুফ্যাকচারিং-কস্ট প্রায় নেই সে পন্যের দুনিয়া-জোড়া কদর। এই মহার্ঘ পন্যটির নাম “ঘৃণা”।নানারূপে নানা ভঙ্গিমায় তার বিশ্বরূপ-প্রকাশিত।
অ্যাগ্রেশন, রিগ্রেশন, রিপ্রেশন এর ঘটনা আজকের দিনের মিডিয়া খুললেই হাজারে হাজারে ভিড় করে আসে। আমাদের মনের আর ঘরের দুয়ার থেকে পৃথিবীর দুয়ার অব্দি একই চিত্র। সেইসব ঘটনার প্রতিবাদ লিখে মনটাকে হাল্কা করা যায়না। আমার বা কারো একার মতামতেই আর এ ব্যাক্তিক বা সমষ্টিগত আগ্রাসী-অহং কে থামানো যাবে না বোধহয়।দিনে দিনে মানুষ যত অন্যমতের প্রতি অসহিষ্ণু হবে, বৌদ্ধিকভাবে দেউলিয়া হবে, ততই বাড়বে তার আস্ফালন।

হেতা হোথা নানা কথা পড়তে পড়তে হঠাৎই চোখ আটকে যায় মহামতি ভলতেয়ারের একটা কথায়। আর ভাবি, এতদিন আগে বলা কথাটা আমরা বেমালুম হয়ে গেছি, সমস্তরকম শিক্ষা আমাদের জলাঞ্জলি হয়ে গেছে কবেই। এই পৃথিবীতে গুরুর অভাব হয়নি কখনো।তবু আমরা…।
কী পর্বতপ্রমাণ দূরদৃষ্টি আর এগিয়ে থাকা মানসিকতা ছিল তাঁর, তাই তিনি চিহ্নিত করতে পেরেছিলেন গনতন্ত্রের মূল বার্তাটি কে,কবি ভুসুকু পাদএর মতো…
“I do not agree with a word you say, but I will defend to death your right to say it.”
লেখাতো যায় অনেক কথাই, লিখতে ইচ্ছে হয় না। কেননা আজকের শিক্ষিত মানুষ এসব জানেনা শুনলে সভ্যতা তার ইঁট-কাঠ-রড-সিমেন্ট-অ্যাসফাল্ট সমেত হেসে উঠবে।
বাঙালি তার সবচেয়ে বড়ধন ও আপন রবীন্দ্রনাথকেও মানেনি, না হলে তাঁর কথাগুলো অন্তত আমরা মনে রাখতাম, ” ইতিহাসে যেখানে মানুষ একত্র হয়েছে অথচ মিলতে পারে নি, পরস্পরকে অবিশ্বাস করেছে, অবজ্ঞা করেছে, পরস্পরের স্বার্থকে মেলায় নি, সেখানে মানুষের সভ্যতা গড়ে উঠতে পারে নি।”

[লেখক – বিশিষ্ট কবি।]

Facebook Comments

Leave a Reply