জেরম রোদেনবার্গ, লোরকা ও নিউটন : বিজ্ঞানের আয়নায় বাস্তবের প্রতিফলন – রুণা বন্দ্যোপাধ্যায়

fail

ফেদেরিকো গারসিয়া লোরকা লিখেছিলেন, “The reflected is the real….The real is the reflected.” [১] সমস্ত বিশ্ব ও আমাদের মাঝখানে আছে সেই আয়না যেখানে বাস্তব প্রতিফলিত করে তার রূপ। প্রতিফলনের জন্য প্রয়োজনীয় আলো ফেলে বিজ্ঞান। আর সেই আলোয় তৈরি ইমেজ নিয়েই আমাদের শিল্প আর কবিতা। এই শিল্পজগতের দুই ঋত্বিক লোরকা ও জেরম রোদেনবার্গ, যাঁদের কাব্যভাবনায় আধুনিক বিজ্ঞানের প্রভাব। আর সেই বিজ্ঞানের সূত্রধর হলেন ক্লাসিক্যাল মেকানিক্সের জনক নিউটন। যদিও এখানে আলোচিত কবিতার প্রাণপুরুষ সপ্তদশ শতাব্দীর নিউটন, কিন্তু আলোচিত দুই কবিই তিনশো বছর পেরিয়ে এসেছেন; ক্লাসিক্যাল ধারণা পিছনে ফেলে এগিয়ে গেছে আধুনিক বিজ্ঞান; স্থান ও কাল একসূত্রে বাঁধা পড়েছে মহাকা্লের নতুন বিজ্ঞানে, যার সূত্রধর অ্যালবার্ট আইনস্টাইন। বিজ্ঞানের সঙ্গে শিল্পের মেলবন্ধন, সত্যের সঙ্গে ধর্মের সমন্বয় — এইসব ভাবনার দ্বন্দ্ব শুধু লোরকা বা রোদেনবার্গেরই নয়, আলোড়ন তুলেছিল প্রতিটি মনীষীর মনোজগতে। এমনই এক সংশ্লেষ ঘটেছিল ১৯৩০ সালে বিজ্ঞানের সেই প্রবাদপুরুষ আইনস্টাইনের সঙ্গে আমাদের কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাক্ষাৎকারে ─ যেখানে রবীন্দ্রনাথ আইনস্টাইনের প্রশ্নের উত্তরে বলছেন, “Science is concerned with that which is not confined to individuals; it is the impersonal human world of truths. Religion realizes these truths and links them up with our deeper needs; our individual consciousness of truth gains universal significance. Religion applies values to truth, and we know truth as good through our own harmony with it…. When our universe is in harmony with Man, the eternal, we know it as truth, we feel it as beauty” [২] প্রকৃতির এই অন্তর্নিহিত সমন্বয়ে দৃঢ় বিশ্বাস ছিল আইনস্টাইনের আর তাই তাঁর বৈজ্ঞানিক জীবন জুড়ে ছিল পদার্থবিদ্যার এক সমন্বয়ী ভিত্তির খোঁজ, যেখানে বিংশ শতাব্দীর দুই বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের মেলবন্ধন। একদিকে মাইক্রোজগতের কোয়ান্টাম মেকানিক্স আর অন্যদিকে ম্যাক্রোজগতের সাধারণ আপেক্ষিকতাবাদ — এই দুই তত্ত্বের সমন্বয়ে থিয়োরি অফ এভরিথিং (TOE) এর খোঁজ, যা এক একক তত্ত্ব, একদিকে যে উন্মোচন করবে গোটা ব্রহ্মাণ্ডের রহস্য আর অন্যদিকে উত্তর দেবে আমাদের প্রকৃত বাস্তব ও বাস্তবের প্রকাশ ও ধারণার মাঝে আমাদের মনোজগতে গড়ে ওঠা মায়ার খেলার। বাস্তবের নিরন্তর অনিশ্চয়তা ও বৈপরিত্যের মুখোমুখি লোরকা আবিষ্কার করেছিলেন বাস্তবের এই বিভ্রম। কঠিন বাস্তব পৃথিবীর আশা ও নিরাশা, আলো ও অন্ধকারের টানাপোড়েনে বিপন্ন কবি দুঃখিত হয়েছিলেন মানুষের দিকে নিজের দিকে চেয়ে; উত্তর খুঁজেছিলেন আপন কাব্যজগতের মনোভূমিতে। সেই খোঁজই তাঁকে আকৃষ্ট করে আইনস্টাইনের এই বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের দিকে, সন্ধান দেয় বাস্তবের সেই গীতলতার, যার প্রতিফলন বিজ্ঞানের আয়নায়। লোরকার এই বিশ্বাসের আভাস ১৯২৯ সালে দেওয়া তাঁর বক্তৃতায়, “the struggle between scientific reality and imaginative myth, in which – thank God – science wins. For science is a thousand times more lyrical than any theogony.” [৩]

লোরকা আইনস্টাইনের সংস্পর্শে এসেছিলেন মাদ্রিদে, Residencia de Estudiantes(Student Residence)-এ তাঁর অবস্থানকালে। স্পেনের এই সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বহু উজ্জ্বল তরুণ চিন্তাবিদ, লেখক ও শিল্পীদের মধ্যে বৌদ্ধিক সংযোগ তৈরি করেছিল বিংশ শতাব্দীর গোড়ায়। এই প্রতিষ্ঠানে প্রায়ই বিশিষ্ট অতিথি ও বক্তার ভূমিকায় হাজির হতেন আইনস্টাইন। লোরকা তাঁর বিশিষ্ট বন্ধু চিত্রশিল্পী সালভাদর দালি ও চলচিত্রশিল্পী লুই বনুয়েলের সঙ্গে এখানেই আইনস্টাইনের সংস্পর্শে আসেন ১৯১৬ সালে ও গভীরভাবে প্রভাবিত হন আইনস্টাইনের সদ্য আবিষ্কৃত সাধারণ আপেক্ষিকতাবাদে, যেখানে আমাদের সময় ও অবস্থান কোনো স্বতন্ত্র ভাবনা নয়, বরং সতত পরিবর্তনশীল স্পেস-টাইম একই সূ্ত্রে গেঁথে রাখে আমাদের অবস্থান ও সময়। নিউটনের মহাকর্ষীয় সূত্র ত্রিমাত্রিক অবস্থানে বাস্তবের ধারণা দিতে সক্ষম হলেও সময়ের ধারণাকে একীভূত করতে অপারগ।

আইনস্টাইনের সংস্পর্শে এসে লোরকা এই বৈজ্ঞানিক চেতনায় প্রভাবিত হন। আর এই বৈজ্ঞানিক চেতনার সঙ্গে সংশ্লেষ ঘটেছিল তাঁর সংবেদনশীল কল্পনার তত্ত্ব। লোরকার সেই কাব্যিক তত্ত্ব, যেখানে তাঁর কল্পজগত ও তার অনন্ত সম্ভাবনার বীজ নিহিত, যার আভাস দিয়েছিলেন তাঁর “Imagination, Inspiration, Evasion” নামের বক্তৃতায়, “For me, imagination is synonymous with discovery. To imagine, to discover, to carry our bit of light to the living penumbra where all the infinite possibilities, forms, and numbers exist…. when the limits of his imagination become unbearable and he wants to free himself from his enemy – the world – he passes from desire to love. He goes from imagination, which is a fact of the soul, to inspiration, which is a state of the soul. He goes from analysis to faith, and the poet, previously an explorer, is now a humble man who bears on his shoulders the irresistible beauty of all things..”

প্রকৃত বাস্তবের এই সত্য, তার দুর্নিবার সৌন্দর্যের এই চেতনাই আইনস্টাইন থেকে রবীন্দ্রনাথ, লোরকা থেকে রোদেনবার্গের মনোভূমিতে জারিত হয়েছিল। পার্থিব অভিজ্ঞতার বিমূর্ত রূপ কবির চেতনায় ক্রমাগত তৈরি করে চলে কাল্পনিক অভিজ্ঞতা। প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়ায় সেই চিত্র, ধ্বনি ও স্পন্দনের মিথস্ক্রিয়ায় প্রতিনিয়ত চলে এক অবিচ্ছিন্ন প্রতিফলন, যা ছিল লোরকার কাব্যিক আবিষ্কারের অসীম সম্ভাবনার মূলমন্ত্র।

এই লোরকাই ছিলেন জেরম রোদেনবার্গের প্রথম অনুবাদিত কবি। ১৯৪০ সালে লোরকার Romancero Gitano (Gypsy Ballads) থেকে “Preciosa y el Aire” (“Precious and the Air”) কবিতার অনুবাদ করেছিলেন, যা সেসময় প্রকাশিত হয়নি। প্রায় পঞ্চাশ বছর পর লোরকার অনুবাদের সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয় রোদেনবার্গের সেই অনুবাদ। ২০০০ সালে Green Integer প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয় লোরকার Suites থেকে রোদেনবার্গের অনুবাদ, যার একটি অংশ “A Newton Suite”, যেখানে মূলত কাজ করেছিল লোরকার প্রতি কবির শ্রদ্ধা নিবেদনের এক বিশেষ প্রকার।

আসুন পাঠক, প্রথমে লোরকার কবিতা পড়া যাক — রোদেনবার্গের ইংরিজি অনুবাদ করা লোরকার স্পেনীয় ভাষার গ্রন্থ Suites এর “A Newton Suite” থেকে ৬টি কবিতার বাংলা অনুবাদ :

১। নিউটনের নাক (Newton’s Nose)

নিউটনের নাকের ওপর
আপেল পড়ল।
সত্যের উল্কা।
বিজ্ঞানবৃক্ষে দোল দেওয়া
শেষ ফল।

স্যাক্সন নাক ঘষেন
মস্ত নিউটন।
বর্বর বীচের ঝুরির পরে
সাদা এক চাঁদ।

২। জঙ্গলে (In the Woods)

বামনভূত
গোপনীয়তায় চড়ে
দাড়ি ওপড়ায়।
মৃত্যুকে বেঁধে রেখে
প্রতিধ্বনিত করে,
আয়না দিয়ে বিভ্রান্ত করে
মানুষকে।
এক কোণে গোপন কথাটি:
প্রকাশ্যে,
মৃত।
সঙ্গীরা শোক করেন তাঁর জন্য।
নীলরঙা ছেলেটি
দৃঢ় পদক্ষেপে –
উজ্জ্বল এক নক্ষত্র
তাঁর ভ্রুমধ্যে।
সঙ্গীরা শোক করেন তাঁর জন্য।
আর বাতাসে কেঁপে ওঠে
সবুজ সরসী।

৩। সমন্বয় (Harmony)

তরঙ্গ
ছন্দ মেলায় দীর্ঘশ্বাসে
আর ঝিঁঝিঁর সঙ্গে তারাদের।
কর্নিয়ায় কম্পমান
শীতল পুরো আকাশ।
অনন্তের এক বিন্দু,
এক সংশ্লেষ।

কিন্তু তরঙ্গকে যুক্ত করে কে
দীর্ঘশ্বাসের সঙ্গে?
আর ঝিঁঝিঁর সঙ্গে তারাদের?
শুধু আশা করো
হারানো কিছু প্রতিভা।
প্রমাণেরা প্রবাহিত
আমাদের ঘিরে।

৪। দার্শনিকের শেষ পদক্ষেপ (The Philosopher’s Last Walk)

নিউটন
বেড়াচ্ছিলেন।
গিটারে ঝঙ্কার তুলে
মৃত্যু তাঁকে অনুসরণ করল।
নিউটন
বেড়াচ্ছিলেন।
পোকাদের দংশনে তাঁর আপেল।

বাতাসে ঝংকৃত গাছ,
শাখার নীচে নদী।
(ওয়ার্ডসওয়ার্থ হয়তো কাঁদতেন।)
কিন্তু দার্শনিকের কল্পনাহীন ভঙ্গি,
অপেক্ষা আরেকটি আপেলের।

তিনি দৌড়ে গেলেন রাস্তায়।
নিজেকে প্রসারিত করলেন জলে।
তিনি দেখেছিলেন কীভাবে মুখ ডুবতে পারে
চাঁদের প্রতিচ্ছবিতে।
অশ্রুমুখী নিউটন।

সিডার গাছের অনেক ওপরে
দু্টো পুরোনো পেঁচা
একটানা চিৎকার।
ধীরে ধীরে জ্ঞানী মানুষটি
বাড়ি ফিরলেন রাতের অন্ধকারে।
স্বপ্ন দেখলেন
আপেলের বিশাল পিরামিড।

৫। প্রতিলিপি (Replica)

ইভকুমারীর দেওয়া আপেলটা
আদম খেয়েছিল।
নিউটন ছিলেন দ্বিতীয় আদম—
সেটাই বিজ্ঞান।
প্রথমজন জানতো
সৌন্দর্য।
দ্বিতীয়জন শৃঙ্খলাবদ্ধ এক পক্ষীরাজ।
কিন্তু তারা কেউ দোষী ছিল না।
তাদের দুটো আপেল
গোলাপী ও সতেজ
কিন্তু তিক্ত ইতিহাস।
মথিত স্তনযুগল
সরলতার ও অসহায় শিশুর।

৬। প্রশ্ন (Question)

কেন তা আপেল ছিল
কেন নয় কমলা
বা বহুতলযুক্ত ডালিম?
কেন এই ভার্জিন ফল
তাদের সূত্রধর,
মসৃণ ও কোমল
আপেল?
কী সেই শ্রদ্ধেয় প্রতীক
আপেলে অন্তর্লীন?
আদম, পারিস ও নিউটন
তাকে বহন করেন আপন আত্মায়।
আদরে তুলে রাখেন
সূত্রহীন।

আপেল কেন? এটাই প্রশ্ন। কী এমন প্রতীক যা আদম থেকে নিউটনের স্যাক্সন নাক আর লোরকা থেকে রোদেনবার্গকে বিচলিত করেছিল? আপেল কিছু নয়, সামান্য এক প্রতীক মাত্র, কিন্তু এই একটি মাত্র শব্দ দিয়েই লোরকা এঁকেছেন নিউটন ও তাঁর নিজস্ব বৈজ্ঞানিক চেতনা ও ধর্মবিশ্বাসের সংঘর্ষ। অ্যাংলো-স্যাক্সন পরিবারে জন্মপগ্রহণ করলেও নিউটন ছিলেন তৎকালীন খ্রিষ্টধর্মে বিশ্বাসী। মন ও বস্তুর দেকার্তীয় দ্বৈতবাদে ছিল তাঁর অগাধ বিশ্বাস। নিউটনের ইউক্লিডিয়ান জ্যামিতির ত্রিমাত্রায় স্পেস হ’ল দর্শকনিরপেক্ষ এক অ্যাবস্‌লূট ধারণা, যা সতত স্থির ও অপরিবর্তনশীল, বাস্তব জগতের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। আর প্রাকৃতিক জগতের সমস্ত পরিবর্তনকে সময় নামে এক পৃথক মাত্রা হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন, যা আবারও অ্যাবস্‌লূট এবং বস্তুগত জগতের সঙ্গে কোনও সংযোগ না রেখেই অতীত থেকে বর্তমানে আর বর্তমান থেকে ভবিষ্যতের দিকে প্রবাহিত। এই মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণাকে নিস্ক্রিয় ও নিরপেক্ষ ভাবা হয়েছিল। দুটো বস্তুকণার মাঝে আকর্ষণ বলের মান তাদের ভর ও মধ্যবর্তী দূরত্বের ওপর নির্ভরশীল আর এই মহাকর্ষীয় বল ও জগতের সমস্ত বস্তুকণাই ঈশ্বরের সৃষ্টি, যা অপরিবর্তনীয়। প্রকৃতির এই অধিযন্ত্রবাদী দৃষ্টিভঙ্গি লুফে নিল ধর্মের ধ্বজাধারী প্রতিষ্ঠান। বৈজ্ঞানিক মতবাদ খ্রিষ্টধর্মের নিয়তিবাদী দর্শনের ভিত্তিকে আরো সুদৃঢ় করে তুলল, যেখানে মানুষের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তির কোনো মূল্য নেই, কারণ বিশ্বের সমস্ত ঘটনাই পূর্বনির্ধারিত (causal determinism)। নিউটনের তথা দেকার্তীয় দ্বৈতবাদের মন ও বস্তুর পৃথক অস্তিত্ব অবিনশ্বর আত্মা ও নশ্বর মানুষের মাঝে দেয়াল তুলে খ্রিষ্টধর্মকে গড়িয়ে দিল দুশো বছর। মানুষের পাপ-পুণ্য, স্বর্গ-নরক, আদম-ইভ ও আপেলের মিথজড়িত সেই বিশ্বাস, যেখানে মৃত্যু, যন্ত্রণা বা পাপ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে নয়, বরং দণ্ড হিসেবে দেখা হয়। বাইবেলে আপেল ভক্ষণ অনিচ্ছাকৃত প্রবৃত্তির রূপক, যা ছিল ঈশ্বরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ আর তাই সেই অবাধ্যতার দণ্ড হিসেবে আদম ও ইভের স্বর্গ থেকে পতনের ইতিহাস। জীবনযাপনের দিকনির্দেশ ও সমর্থনের আকাঙ্ক্ষাই একদিন মানুষের মনে ঈশ্বরের সামাজিক বা নৈতিক ধারণার জন্ম দিয়েছিল। কিন্তু ধর্ম প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষের ওপর আধিপত্য করার লোভে মানুষের আকাঙ্খার সঙ্গে জুড়ে দিল পাপ-পুণ্যের ভয়। তারপর বিংশ শতাব্দীর গোড়ায় এসে কোয়ান্টাম ফিজিক্সের ধাক্কা লাগল ভয়তাড়িত এই ধর্মবিশ্বাসের মূলে। আধুনিক বিজ্ঞান প্রমাণ করল মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণাই, যা আমাদেরও অস্তিত্বের একক, তা কেবল মুহূর্তের স্পন্দন মাত্র; অসীম স্পেস-টাইম জুড়ে পাতা সুপারস্ট্রিং-এর এক একটি স্পন্দনশীল মোড, যা সতত পরিবর্তনশীল। এ জগতে দর্শকনিরপেক্ষ বাস্তব বলে কিছু নেই। সমস্ত অভিজ্ঞতাই জগতের সঙ্গে আমাদের নিরন্তর মিথস্ক্রিয়ার উদ্ভাস। আমাদের চেতনায় ধরা পড়ে সেই মিথস্ক্রিয়ার স্পন্দন — সেই আমাদের বাস্তব, যা পরিবর্তনীয়। ফলত মন ও বস্তুর দ্বৈতসত্তার ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত টলমল করে উঠল। এই আধুনিক বৈজ্ঞানিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ লোরকার কাছে তাই এমন কোনো সামাজিক বা নৈতিক ধর্মের অস্তিত্ব নেই যেখানে বাস্তব ঘটনাপ্রবাহে একজন ঈশ্বরের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন, যিনি মানুষকে পুরষ্কার বা শাস্তি দেন মানুষের কর্মফলের ভিত্তিতে। একজন মানুষের নৈতিক আচরণ তাঁর শিক্ষা, সহানুভূতি, সামাজিক বন্ধন ও প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়, সেখানে কোনো ধর্মীয় ভিত্তির প্রয়োজন লোরকা অস্বীকার করতেন, তারই আভাস তাঁর ইয়ার্মা (Yerma) নাটকে, যেখানে ইয়ার্মা বলছেন, “Then, God help me” আর তার উত্তরে প্যাগান বৃদ্ধা বলছেন, “God, no. I have never liked God. When will you all realise that he doesn’t exist? Men are the ones who have to help you.” — ঈশ্বরে নয়, মানুষে বিশ্বাস করতেন লোরকা। প্রতীকী ধর্মে তিনি নাস্তিক কারণ কবির বিশ্বাস আপন ধর্মে, আপন অন্তরের গূঢ় অনুভূতিপ্রদেশে, কাব্যভাবনার সেই জগতে তিনি আস্তিক; যেখানে মধু ও বিষে ভরা এই জগৎ সংসারে ভ্রমপ্রবণ ঈশ্বরের রাজত্ব আর তার বিরুদ্ধে যুক্তি অতিক্রান্ত এক যুক্তি নিয়ে কবি যাত্রা করেন চেতনাকেন্দ্র থেকে এক কেন্দ্রাতিগ চলনে; আর অচেনা অজানা অবস্থানের ক্রমাগত পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে চেতনাকে সম্প্রসারিত করে বাস্তব পৃথিবীর অবাক স্টেশনে ভ্রমণচিহ্ন খোদাই করেন।

লোরকার ঠিক এই অবস্থান থেকেই রোদেনবার্গের যাত্রা ─ লোরকা পাঠান্তর [৪] (Lorca Variation)। বৈজ্ঞানিক চেতনা ও প্রথাবিরোধী অ্যাঁভাগার্দ কাব্যতত্ত্ব তাঁদের মধ্যের সেই সেতু। কবিতার সঙ্গে বিজ্ঞানের যে অ্যাসোসিয়েশন তার আভাস দেয় স্পেনীয় শিল্পী ফ্রানসিস্কো দ্য গয়ার তৈরি পাজি বামনভূতের (Duendecitos) পেইন্টিং নিয়ে রোদেনবার্গের বিপথগামী (Divagation) কবিতা, “The Lord of Duendecitos” ─ “In the days remaining, mindful that all art is science & all science art, we can enter freely* (*fiercely) in a struggle with ourselves.” [৫] বিজ্ঞানসিক্ত কবি রোদেনবার্গ একদিকে জেরাল্ড ম্যানলে হপকিন্সের কবিতা “The world is charg’d with the grandeur of God”-এর বিশ্বব্যাপী ঈশ্বরের অস্তিত্বে যেমন সাড়া দেন, তেমনি অন্যদিকে আউসউইচ ও হিরোশিমায় মানবসভ্যতার অভিশাপ নিদর্শনের পর ঈশ্বরের অস্তিত্বে অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যানের ইশারা দেন। আর তাই ইহুদি কাবালা ঐতিহ্যে ব্যবহৃত হারমেনিউটিক্স নিউমেরোলজি ব্যবহার করে আপন স্বজ্ঞালদ্ধ জ্ঞানে হপকিন্সের ওই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি রোদেনবার্গের পাঠান্তরে হয়ে ওঠে, “The world is charged with the terror of God” লোরকার সঙ্গে বিশ্বাসের মননের এই কোহেরেন্স জন্ম দিয়েছে রোদেনবার্গের “লোরকা পাঠান্তর”। অতীতের “পাঠ” (টেক্সট) বর্তমান সভ্যতা ও সংস্কৃতির চোরাবালিতে সংকীর্ণ হয়ে আসা যাপনের অন্তর্লীন বিষাদে হয়ে ওঠে “পাঠান্তর”। তাঁর বিশ্বাসে অনুরণিত হয় তৈত্তিরীয় উপনিষদের সেই ব্রহ্মস্বরূপ ─ “সত্যং জ্ঞানমনন্তং ব্রহ্ম, যো বেদ নিহিতং গুহায়াং পরমে ব্যোমন্‌ সোহশ্নুতে সর্বান্‌ কামান্‌ সহ”— সত্যস্বরূপ, জ্ঞানস্বরূপ, অনন্তস্বরূপ ব্রহ্মকে আমাদের হৃদয়াকাশের বুদ্ধিরূপ গুহার মধ্যে যিনি দর্শন করেন তিনিই তো উপলব্ধি করতে পারেন প্রকৃত বাস্তবের সৌন্দর্য, যেখানে অনন্ত প্রাণের প্রবাহ অসীম বৈচিত্র্যের মধ্যে দিয়ে নিজেকে প্রকাশ করে। সমস্ত সৃষ্টিই অপূর্ণ আর এই অপূর্ণতাই দুঃখ, যা আমাদের একমাত্র মূলধন। এই দুঃখ যেমন আনন্দের কোনো বিপরীত সত্তা নয়, বরং তারই এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, তেমনি অপূর্ণতাও পূর্ণতার বিরুদ্ধে নয়, বরং অপূর্ণতার মধ্যে দিয়েই পূর্ণের প্রকাশ। বাস্তবের নিরন্তর অনিশ্চয়তা ও বৈপরিত্যের দ্বন্দ্ব কবির জ্ঞানের আলোয় বৈজ্ঞানিক চেতনায় আবিষ্কার করে সেই শান্তম, শিবম, অদ্বৈতমকে, উপলব্ধি করেন সৃষ্টির বৈচিত্র্যের মধ্যে সত্য ও আনন্দের অনন্তরূপ। নিজের এই আপন ধর্মে বিশ্বাসী রোদেনবার্গ তাই প্রতীকী ধর্মের নৈতিক বন্ধন অস্বীকার করেন, “for those of us for whom poetry in some sense takes religion’s place (albeit a religion without assurances or comforts), they aren’t bound or fixed but open-ended, different (we would like to think) each time we go at them.” [৬]

লোরকার সঙ্গে যেমন তাঁর ধর্মবিশ্বাসের অন্ত্যমিল ছিল তেমনি ছিল কাব্যভাবনার সামঞ্জস্য। মানুষের নিজস্ব ভাবনায় তাঁর আপন স্বাতন্ত্র্যের প্রকাশ অথচ ভাবপ্রকাশের বাহক সেই ভাষাটি প্রচলিত ঐতিহ্যের স্বাতন্ত্র্যে প্রবহমান। কাব্যভাবনায় এই দুই স্বাতন্ত্র্যের অনিবার্য সংঘাতকে অতিক্রম করে রোদেনবার্গ সৃষ্টি করেন এক সর্বজনীন মানুষের কাব্যতত্ত্ব, যার নাম দিয়েছেন Ethnopoetics, রোদেনবার্গ যার ব্যাখ্যা দেন, “Ethnopoetics is people’s poetics, poetics of natural language…It’s an universal genre where all linguistic inventions begins”, যাকে বাংলায় হয়তো নৃকাব্যতত্ত্ব বলা যেতে পারে। কাব্যতত্ত্বের জগতে রোদেনবার্গ এক দুঃসাহসিক অভিযাত্রী। Ethnopoetics –এর পাশাপাশি নব্বুয়ের দশকে শুরু করেছিলেন কবিতা লেখার এক নিজস্ব প্রসেস, যার মূলে ছিল লোরকার স্পেনীয় ভাষার কবিতা থেকে তাঁর ইংরিজি অনুবাদ। সেই প্রসেসেরই ফলশ্রুতি “Lorca variations” যা ছিল এক অভিনব পন্থা। লোরকার Suites-এর অনুবাদে তাঁর নিজের ব্যবহৃত ইংরিজি শব্দের বিশেষ্য ও বিশেষণগুলোর বিভিন্ন ধরণের পুনর্সজ্জা, যেখানে কাজ করে এক ধরণের সাদৃশ্য সম্ভাবনা, তবে সেই প্রণালীতে থাকে পুনর্গঠনের নিজস্ব ভূমিকা। লোরকার মূল কবিতার অনুভবকে নিজের মনোভূমিতে জারিত করে গড়ে ওঠে কবিতার পুনর্নির্মাণ, যা হয়ে উঠেছে রোদেনবার্গের একান্ত নিজস্ব নির্মাণ। মন তাঁকে এই স্বাধীনতা দিয়েছে। মনের মধ্যেই আছে সেই ছাঁচ যা তাঁকে প্রতিক্রিয়ার অপর পিঠে অসীম বাক্য তৈরির স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে। এই প্রকাশভঙ্গিতে কাজ করে এক অভ্যন্তরীণ ভাষা বা Internalized Language. রোদেনবার্গের এই “Lorca variations” যাকে “লোরকা পাঠান্তর” বলা যায়, কোনো সংকীর্ণ অর্থে অনুবাদ বা অনুকরণ নয়, বরং কবিতা নির্মাণের এক নতুন পদ্ধতি, নতুন আবিষ্কার, যে জার্নিতে প্রশ্রয় পেয়েছে কবির মন ও অনুভব। যে আবিষ্কার একদিন শুরু হয়েছিল লোরকার কবিতা দিয়ে, সেটাই পরবর্তীতে রূপ পেল এক অভিনব নির্মাণ পদ্ধতিতে, যেখানে ক্রিয়াপদ ও ক্রিয়াবিশেষণগুলো তাদের পূর্ণ স্বাধীনতা নিয়ে উপস্থিত করে ধ্বনিতত্ত্ব, শব্দতত্ত্ব, যার পরতে পরতে থাকে এক স্বতঃস্ফূর্ত Counter discourse. চার্লস বার্ন্সটাইনের ভাষায় “A key to Rothenberg’s poetics of translation is his ethically charged imagination of collage as both a social and an aesthetic principle.” [৭] রোদেনবার্গের এই নৈতিক স্বাধীনতার আদর্শ প্রচলিত সামাজিক রীতিনীতির থেকে অনেক গভীরে নিহিত, যার সক্রিয় পরিসর বিশ্বব্যাপী। এভাবেই গড়ে উঠেছে তাঁর The Lorca Variations, যা প্রকাশিত হয় New Direction Paperbook প্রকাশনী থেকে ১৯৯৩ সালে। এই বইটি থেকে গদ্যভঙ্গিতে লেখা The Lorca Variations(XI) অংশের “A Newton Suite” এর ৩টি কবিতার অনুবাদ এখানে :

পাঠান্তর-১ : (“নিউটনের নাক” ও “জঙ্গলে”-এই দুটি অনুবাদ থেকে নির্মিত পাঠান্তর)

পুরুষের সবুজ পা উল্লম্ফনের, গোপনীয়তা জাহির করার জন্য। ঝুরির হালকা স্পর্শ ছিল তাদের নাসারন্ধ্রের বিরুদ্ধে, কারণ আপেল গাছটি তার ফল সমেত নিউটনের ওপরে ঝুঁকে পড়েছিল। এ এমনই স্যাক্সন যা বামনভূতকে বেঁধে রাখে; গোপনীয়তার ভেতর তোমার প্রতিধ্বনিকে ভেসে যেতে দেখে তোমার হারানো সঙ্গীরা ধাতব আওয়াজ তোলে বাতাসে। এমন নয় যে প্রতিটা ছেলেরই এমন দুঃখী ভ্রু থাকে অথবা প্রতিটা কোণেই মৃত্যু লুকিয়ে থাকে। নিউটনকে চাঁদ দেখিয়েছিল জঙ্গলে কোথায় সত্য থাকে। নাককে অনুসরণ করে তিনি নিউটন নামে এক উল্কাকে ধাক্কা দিয়েছিলেন। তিনি ভুল করে তাকে বিজ্ঞান ভাবলেন যা বীচবৃক্ষের মতো বা দাড়ির মতো সাদা ছিল – তবে একবার আয়নায় তাকে ধরেছিলেন আর নীল হয়ে যেতে দেখেছিলেন। দূর থেকে মনে হয় যেন কোনো হ্রদ বা অন্য কোনো নক্ষত্র।

পাঠান্তর-২ : (“সমন্বয়” ও “দার্শনিকের এর শেষ পদক্ষেপ”-এই দুটি অনুবাদ থেকে নির্মিত পাঠান্তর)

প্রতিটি জ্ঞানী মানুষ নিজেকে আর এক নিউটন বলে ভাবেন: গভীর অনুধ্যানে মগ্ন এক দার্শনিক গাছ ও জলের পাশে পাশে ঘুরে বেড়ান আর আকাশ ও তরঙ্গ থেকে বার করে আনেন জিনেদের (প্রকৃত ছন্দ যার দীর্ঘশ্বাসে)। তাঁদের কর্নিয়াগুলো অনন্তে ফোকাস করা আর বিনীত ঝিঁঝিঁতান উপেক্ষা করেন নিউটনের মতো। নিউটন যেমন বাতাসকে জানতেন বা ওয়ার্ডসওয়ার্থ যেমন নির্দিষ্ট শব্দকে রাতের প্রতিবিম্ব বলে জানতেন, তেমনি তারার চেয়েও শক্তিশালী সংশ্লেষ তৈরি করে ঝিঁঝিঁতানের তরঙ্গে ভাসমান আপেল। দার্শনিকদের গিটার বাজানো উচিত। তবেই তিনি সেই আপেল শাখায় পৌঁছোতে পারবেন যেখানে চাঁদ এক বিনীত আপেল। পেঁচাখচিত পিরামিডগুলো এক ধরণের সমন্বয়ের প্রকাশ আর তারাগুলো সব বিন্দু, এবং পোকার চেয়ে শক্তিশালী এক মৃত্যুর প্রমাণ। কী হয় যদি নদীটা কোনও ভঙ্গি করে? তখন সিডার এক বোধ্য মুখ দেখাবে।

পাঠান্তর-৩ : (“প্রতিলিপি” ও “প্রশ্ন”-এই দুটি অনুবাদ থেকে নির্মিত পাঠান্তর)

আদম যে ফল খেয়েছিল তা ইভের স্তন নয়, আপেলই ছিল, এ বিষয়ে কোনো সূত্র নেই। তার ওপর পক্ষীরাজ বিজ্ঞানের নামে অতীতমুখী। ভার্জিন তাকে যে দ্বিতীয় আপেল দিল, আদমের হাতে হয়ে উঠল ইতিহাসের প্রশ্ন। তার গভীরে আত্মার উত্থান ও পতন দেখেছিল ভার্জিন : এক প্রতীক যা নিউটন খুঁজে পেয়েছিলেন ডালিমের ভেতর। শুধু এক শিশুই আপেল নিয়ে খেলতে পারে আর স্পর্শ করতে পারে তার সৌন্দর্য। শৃঙ্খলিত সরলতার মাঝে জেগে ওঠা ইভ যে উত্তর দিয়েছিল তাতে আদম ও নিউটন দুজনেই তৃপ্ত ছিলেন। অন্য গল্পে পারিস কমলায় বাঁধা পড়েছিল।

কবি পরিচিতি :
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মার্কিন কবি জেরম রোদেনবার্গ পোল্যান্ডের ইহুদি পরিবারের সন্তান, জার্মানির কবি Meir of Rothenberg এর বংশধর, জন্মগ্রহণ করেন আমেরিকায় ১৯৩১ সালে। স্যান্ডিঅ্যাগোতে ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির সাহিত্য ও ভিস্যুয়াল আর্টের অধ্যাপক। নিউইয়র্কের স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পেয়েছেন ডক্টরেট উপাধি। প্রায় নব্বইটি কবিতার বই তাঁর (যেমন Poland/1931, That Dada Strain, The Lorca Variations, Khurbn ইত্যাদি) এবং নটি সাহিত্য অ্যাসেম্বেল্‌জ-Technicians of the Sacred, Shaking the Pumpkin, Revolution of the Word, আর Poems for the Millennium(খণ্ড-১ ও ২ পেরি জরিসের সঙ্গে, খণ্ড-৩ জেফরি রবিনস্‌নের সঙ্গে, খণ্ড-৪ পেরি জরিস ও হাবিব ত্যাঁগরের সঙ্গে, খণ্ড ৫ জন ব্লুমবার্গ রিসম্যানের সঙ্গে)। ১৯৫০ সাল থেকে তিনি বিভিন্ন ধরণের কবিতা পারফর্ম্যান্সের সঙ্গে জড়িত, যেমন হ্যানন রেজনিকভ তাঁর Poland/1931 বইটির লিভিং থিয়েটার ও নাট্য সংস্করণ করেছেন এবং তাঁর Khurbn বইটির একটি সংগীত সংস্করণ করেছেন সুরকার চার্লি মোরো ও জাপানী উপন্যাসিক মাকোতো ওডা, যা 1995 সালে ‘ব্রেড ও পাপেট’ থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়েছিল। নৃকাব্যতত্ত্বের প্রাণপুরুষ জেরম রোদেনবার্গের অ্যান্থোলজি ও জার্নাল যেমন Alcheringa ও New Wilderness Letter. তাছাড়া তিনি অনুবাদ ও পাঠান্তর করেছেন অজস্র জার্মান কবি ও শিল্পীর ─ যেমন লোরকা, গমরিঙ্গার, শুইচার্স, পিকাসো‌ ইত্যাদি। বহু বিস্তৃত কবির কাজের ক্ষেত্র, লাভ করেছেন অজস্র পুরস্কার ─ Guggenheim ফেলোশিপ, Wenner-Gren Foundation পুরস্কার নৃকাব্যতাত্ত্বিক অনুবাদের জন্য, শিল্পে তাঁর অবদানের জন্য National Endowment for the Arts থেকে পেয়েছেন বহু পুরস্কার, কবিতার ক্ষেত্রে PEN Oakland Josephine Miles Awards, PEN Center USA West Award, এবং অনুবাদের জন্য PEN American Center award, Alfonso el Sabio Translation Award; তাঁর কাব্যতত্ত্ব ও অ্যান্থোলজি Poems for the Millennium-3 পেয়েছে American Book Award; তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা ও অ্যান্থোলজি : A Book of Witness: Spells & Gris-Gris (2003), Triptych: Poland/1931, Khurbn, The Burning Babe (2007), Traditional Poetry of the Indian North Americans (1972), Barbaric Vast & Wild: Outside & Subterranean Poetry, Poetics & Polemics 1980-2005 (2015), Gematria Complete(2010), Concealments & Caprichos(2010), Retrievals: Uncollected & New Poems 1955-2010, A Poem of Miracles, A Field on Mars (English and French editions, 2015), The President of Desolation (2019), Eye of Witness: A Jerome Rothenberg Reader (2013) ইত্যাদি। বর্তমানে তিনি উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার কবিতার নৃকাব্যতত্ত্বের সঙ্কলনের কাজ করছেন।

__________________________________

তথ্যসূত্র:

[১] লোরকার কবিতা “Sesame” ─  Moments of Song থেকে। ২০০০ সালে Green Integer থেকে প্রকাশিত জেরম রোদেনবার্গের করা লোরকার অনুবাদ Suites –এর অন্তর্গত এই কবিতাটি।

[২] The Complete Works of Rabindranath Tagore. New Delhi, India: General Press, ২০১৭

[৩] “Imagination, Inspiration, Evasion” lecture by Lorca, translated by Christopher Maurer, Harper’s Magazine, Sept, 2004)

[৪] পাঠান্তর- Sanskrit origin – পাঠ+অন্তর – “other Reading” or “other interpretation”

[৫] A Field On Mars: Divagations & Autovariations by Jerome Rothenberg

[৬] “On God”: লন্ডনে কেমব্রিজ ও নতোরদাম ইউনিভার্সিটির আমন্ত্রণে “God and Grace”  নামের কনফারেন্সের জন্য তৈরি করা পাঠ, (https://jacket2.org/commentary/jerome-rothenberg-four-books-progress-book-gods

[৭] চার্লস বার্ন্সটাইন ভূমিকা লিখেছেন রোদেনবার্গের Writing Through: Translations and Variations বইটিতে।

Facebook Comments

Leave a Reply