স্বাধীনতা : মৃত্যুর মুক্ত অধিকার – প্রণব চক্রবর্তী

fail

– কাকু, স্বাধীনতা শব্দের সাথে এত মৃত্যুগন্ধ লেগে থাকে কেন ?
– খুব পেকেছিস। হঠাৎ এমন রোদ ঝলমলে পতাকা ওড়ানোর দিনে, বাচ্চাগুলোর প্যারেড-ক্লান্ত হাতের তালুতে ধরা চকোলেটের রাঙতা, মাইকে এমন কান ফাটানো ড্রামের আওয়াজ ছেড়ে, এরকম বেয়াড়া প্রশ্ন কেউ করে? স্বাধীনতা মানে কত উৎসব দেখছিস না! পাঁচতারা হোটেলের বিশেষ ডিনার পার্টির টেবিলে টেবিলে জোড়া পতাকার ডেমো সাজিয়ে দামি মদের তুফান চলছে, চাড্ডিখানি ব্যাপার—এসবে মন নেই, উনি স্বাধীনতার গায়ে সেঁটে থাকা মৃত্যুগন্ধ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। যাঃ — মাঠে গিয়ে ক্রিকেট ম্যাচ খেলগে।
– তুমি তাহলে কিছুই জানোনা কাকু। তুমি বসে বসে গর্দানে তেল ঘষো। আমি জেঠুর কাছে যাই।
– হ্যাঁ, তাই যাও! যতসব বোগাস প্রজন্ম। আমাদের নাক খত্তা খাইয়ে ছাড়বে মনে হচ্ছে। কাজকম্ম করছি, দুয়েক পয়সা এক্সট্রা-ফেক্সট্রা চটকে মোটামুটি ফুর্তিফার্তা করে চেটে দিচ্ছি জীবন নামক বায়স্কোপের তলানি, সইছে না। আবার স্বাধীনতার মানে খুঁজতে চললো। একেতেই হাড়ে দুব্বো গজিয়ে গেলো সংসারের জোয়াল হিঁচড়া-হিঁচড়ি করে, তার উপর আবার পুঁচকে ছোকরার বড় বড় কথা। জেঠু বলবে! যাও না জেঠুর কাছে, সুদে টাকা খাটিয়ে লটকে বসে আছে, সুদখোর প্রোমোটর, পেঁদিয়ে ধাপার মাঠ ঘুরিয়ে আনবে বার পাঁচেক। চারপাশে সবসময় এমন গালকাটা, চোখ-ওল্টানো, থোবড়-বাঁকা মালগুলো ঘুরঘুর করে না, উরিঃ ব্বাস ! কি সব নাম—জংলা হুঁকো, ল্যাংড়া চটকা, বাইক খেচু, গুলিগাব্বু ! নাম শুনলেই বাথরুম হয়ে যায়। সেই জেঠু আবার স্বাধীনতা শেখাবে!—লজ্জায় হাগু পেয়ে যাচ্ছে। যাই, একটু ছোটোঘরে যাই।

তথাপি ভাইপোরা থামতে পারে না। পাড়ার দাদা থেকে প্রাইভেট টিউটর আঙ্কেল, বান্ধবীর ঠাকুদ্দা থেকে রোয়াবী নেতার এসি গাড়ির খোলে বসে কিছুক্ষণ ভাষণ মুখস্থ করা—সবেতেই অতৃপ্তি। আসল মালটাই নেই, কেবল গ্রাম্ভারি আদর্শের কোটেশন। কিন্তু থামলে হবে না। স্বাধীনতা এবং মৃত্যুর সম্পর্কের স্থূলত্ব ঝরিয়ে ফেলে একটা সর্বজনীন সংজ্ঞা নিরূপণের চেষ্টা করে যেতেই হবে। প্রয়োজনে জাতীয় গ্রন্থাগারও নিংড়ে ফেলতে রাজি। ভাইপোরা বোধহয় এমনই হয়ে ওঠে কখনও কখনও। যদি নাই হতো, ব্যবস্থার মধ্যে হঠাৎ এমন বিশৃঙ্খলা ঢুকে পড়ে কিভাবে! ছাত্র-আন্দোলনই তো প্রকৃত অর্থে ইতিহাস নির্মাণের উজ্জ্বল কারিগর। যে কোনো দেশের সাম্প্রতিক কালের ইতিহাস ঘাঁটলেই বেরিয়ে আসবে এমনই সব সোনার ময়ূর, যারা মানুষের দমবন্ধ, না-উচ্চারিত কথাগুলোকে বাঙ্ময় করে তোলে প্রাণের উদ্দাম তারুণ্যে। সাহসের উদ্ধত ঝুঁকি তাদের সম্মিলিত করে সহস্র জীবনে চেতনার আগুন জ্বালিয়ে দিতে। সুতরাং তাকে জানতেই হবে স্বাধীনতা এবং মৃত্যুর পরিপূরকতার ইতিবৃত্ত।

ভাইপো এরপর ইঁদুর মুঠোয় চেপে ধরে পৃথিবী-গ্রামের (Global village) সঞ্চিত জ্ঞানভাণ্ডারের স্মরণ নিলো। ঝকাম করে ঝুলে পড়লো আর্ন্তজালের চৌকো পৃথিবীতে। মোটামুটি তিনরকম ব্যাখ্যাকেই প্রাধান্য দিয়েছে দেখা গেল এই স্বাধীনতা বা Freedom শব্দটির চরিত্র বিশ্লেষণে। স্পষ্ট ভাষায় লেখা হয়েছে : “…the fundamental philosophical work of the philosopher and esotericist Rudolf Steiner, focuses on the concept of free-will. Originally published in 1984 in German as Die Philosophie der Freiheit, the work has appeared under a number of English titles, including the Philosophy of Spiritual Activity and Intuitive Thinking as a Spiritual Path. Part one of the Philosophy of Freedom examines the conditions for freedom of thought; the second part examines the conditions for freedom of action. Steiner seeks to demonstrate that inner freedom is achieved when we bridge the gap between our perception, which reflect the outer appearance of the world, and our cognition which give us access to the inner structure of the world. He suggests that our freedom arises when we bridge the gap between our ideals and the constraints of external reality, letting our deeds be inspired by what we terms moral imagination.

আহা! কি ভালো ভালো কথা! শুনলেও মন ভালো হয়ে যায়। free-will, the conditions for freedom of thought, freedom of action. পরের কথাগুলো রবীন্দ্রনাথ কত মিষ্টি করে বলেছিলেন না… ‘আপন হতে বাহির হয়ে বাইরে দাঁড়া / বুকের মধ্যে বিশ্বলোকের পাবি সাড়া’… মনে পড়ছে পাঠক! কত সহজ অথচ কত কঠিন অন্তত আজকের এই ২০২০ সালের ভারতবর্ষের মাটিতে দাঁড়িয়ে। যাই হোক, মোটামুটি প্রাথমিক ব্যাখ্যা ঘাঁটতে গিয়ে দেখতে পাচ্ছি নায়ক সেজে বসে আছে মুক্ত ইচ্ছা, মুক্ত চিন্তা, মুক্ত কর্ম। আছে নাকি সেসব স্বাধীন ভারতবর্ষে! একটু ইচ্ছেমতো মাংস খাবার ইচ্ছার অপরাধে বাড়ির ফ্রিজ খুলে মাংস পরীক্ষা করে দেখাতো হলই, তার সাথে পিটিয়ে মেরে ফেলে দেয়া হলো আখলাককে, তার বৃদ্ধ বাবাকে, বোনেদেরও ছাড়া হলো না। অথচ সে বাড়িরই বড় ছেলে সীমান্তে দাঁড়িয়ে প্রতি মুহূর্তে সজাগ পাহারা দিচ্ছে ভারতবর্ষের স্বাধীনতা, যেন বিদেশী শত্রুর হাতে বিপন্ন না হয়, গর্বিত এক ভারতবর্ষেরই সেনা জওয়ান। হায় ভারতমাতা কাকে দিয়েছো রাজার খেতাব! এরপর মুক্তচিন্তা, মুক্তকর্ম যে আজকের স্বাধীন ভারতবর্ষে কতবড় অপরাধ তার শাস্তির তালিকাটা বেশ লম্বা। আমি বরং স্মরণযোগ্য দু-একটি নাম গেঁথে দিলাম যেমন কালবুর্গি, গৌরী লঙ্কেশ প্রমুখ যাদের মাথা খুলে দেয়া হলো এক লহমায়। সম্প্রতি সত্য কথা বলবার অপরাধে স্বদেশের জেলখানায় বন্দী কবি, ঐতিহাসিক, বিজ্ঞানী প্রমুখ। এ এক দানবীয় ব্যবস্থাপনায় স্বদেশ বিক্রি করে লালকেল্লায় ভাষণের স্বাধীনতা।

বরং আসুন, আমরা ফ্রিডম শব্দটাকেই ভালো করে বুঝে নেবার চেষ্টা করি। উপরোক্ত ইংরিজী বিশ্লেষণ থেকে দেখা যাচ্ছে যে, ফ্রিডম শব্দের যে ক্রাইটেরিয়াগুলি আধুনিক সময়েও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ : Political Freedom এবং Economic Freedom-এর ধারণা। এক্ষেত্রে ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা’ বিষয়টির ব্যাপকতা এত দীর্ঘ এবং গম্ভীর যে, বিষয়টি নিজেই এক স্বতন্ত্র্য লেখার দাবি রাখে। আপাতত এই লেখার পরিসর থেকে তাকে সযত্নে সরিয়ে রাখছি। কিন্তু রাজনৈতিক স্বাধীনতার ঐতিহাসিক উৎস বিষয়ে প্রাপ্ত নথির নখাগ্র অংশ এই লেখায় সংযোজিত করে রাখা হচ্ছে পাঠককে মানুষের সভ্যতার হারানো দিনগুলোর সংগে কিছুটা ওয়াকিবহাল করে রাখবার তাগিদে। রাজনৈতিক স্বাধীনতার ইতিহাস উল্লেখে প্রথমেই স্মরণ করা দরকার জ্ঞানভাণ্ডারের নিম্নোক্ত অংশটি : Hannah Arendt traces the origins of the concept of freedom to the practice of politics in ancient Greece. According to her study, the concept of freedom was historically inseperable from political action. Politics could only be practiced by those who had freed themselves from the necessities of life, so that they could attend the realm of political affairs. According to Arendt, the concept of freedom became associated with the Christian notion of the freedom of the will, or inner freedom, around the 5th century C.E…। আরও স্পষ্ট করে Hannah Arendt বললেন, “… that political freedom is historically opposed to sovereignty or will-power, since in ancient Greece and Rome, the concept of freedom was inseperable from performance, and did not arise as a conflict between the ‘will’ and the ‘self’. Similiarly, the idea of freedom as freedom from politics is a notion that developed in modern times. This is opposed to the idea of freedom as the capacity to ‘begin anew’, which Arendt sees as a corollary to the innate human condition of natality, or our nature as ‘new beginnings and hence new beginners’.

এইখানে এসেই লেখাটি মোচড় নিতে পারে অন্য এক অত্যন্ত গূঢ় ও জটিল দার্শনিক বিষয়ে। শুধু সে পথে দৌড়োবার আগে ভাইপোর হাত থেকে মাউস কেড়ে নিয়ে সরাসরি আমরা ঢুকে পড়তে পারি ইতিহাসের গভীর তাৎপর্যময় এক ইঙ্গিতের দিকে। যে পথটা আবার Schiller-কে অনুসরণ করে Steiner নিজের দৃষ্টিভঙ্গিকে বর্ণনায়িত করেছেন এই ‘স্বাধীনতা’ শব্দটির আধুনিক ধারণাকে সম্যক বুঝে নিতে : Steiner describes how from two sides of our existence, our experience works to make us unfree. We can easily recognise that our natural being, the part of us we share with the animal world — our physical body, drives and desires, prejudice and habits — tends to determine our deeds and soul life. Just as constraining, however, are the dictates of conscience and abstract ethical or moral principles. Freedom, he says, is only possible because these various constraining factors work in contradictory directions. Between the impulses of our two natures, neither of which is individualized, we find the freedom to choose how to think and act. By overcoming the dictates of both our ‘lower’and ‘higher’ sources of experience, by orchestrating a meeting place of objective and subjective elements of experience, we become true and free individuals. Freedom for Steiner thus does not lie in inhibited expression of our subjective nature, but in the conscious unification of this with the constraints of the world.

স্টেইনারের দেখানো পথরেখার আরও একটি ছোট অংশ এক্ষেত্রে সংযোজিত করে আপাতত ইংরিজি কোটেশনের হাত থেকে নিষ্কৃতি পাবার উপায়কে ত্বরান্বিত করা যাক। নীচে উদ্ধৃত অংশটি থেকে ফ্রিডম বা স্বাধীনতা শব্দের প্রায়োগিক তাৎপর্য, আধুনিক মননের নিরিখে সাম্প্রতিক সময়ের মর্মমূলে এসে সপাটে প্রবেশ করবে, সে ব্যাপারে একশো শতাংশ নিশ্চিত : Steiner proposes that once we have brought the two sides of our experience into harmony, we need to forge a new synthesis of these at every moment in a situationally — appropriate, free deed. Steiner coined the term moral imagination for this act of creative synthesis. He suggests that we only achieve free deeds when we find a moral imagination, an ethically impelled but particularized response to the immediacy of a given situation. This response will always be individual, it cannot be predicted or prescribed. This radical ethical individualism is, for Steiner, characteristic of freedom.

মোটামুটি শক্ত সমর্থ লজিকের উপর স্বাধীনতার মর্মবাণীকে দাঁড় করাবার প্রয়াস থেকেই এত প্রাচীন সব অভিজ্ঞান ঘাঁটাঘাঁটি। বস্তুত, মানুষ যে পরাধীন, সেই বোধটুকু অর্জনের জন্য কখনও কখনও দু-এক পুরুষ লেগে যায়। যেমন, ভারতবর্ষের মাটিতে ২০০ বছর ইংরেজ শাসন চালিয়ে যাওয়ার স্পর্ধা কোথায় পেত যদি আপামর সাধারণ, সরল ও অজ্ঞ মানুষেরা পরাধীনতার বোধ ও স্বাধীনতা শব্দের অর্থ সম্পর্কে সচেতন থাকতো। এখনও কি আমরা স্পষ্টত বুঝি স্বাধীনতা কাকে বলে! কেবল সামাজিক-রাজনৈতিক বিষয় সম্পর্কে মাঝেমাঝে জেহাদ দেখা যায় কোনো কোনো সমাজ ও দেশে। বেধে যায় শাসক ও শাসিতের সংঘাত—মৃত্যু হয়ে ওঠে এক অনিবার্য প্রাপ্তি। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ভাইপোর প্রশ্নের অধিকার এবং তাৎপর্য যথাযথ। যেখানেই সামাজিক পরাধীনতা ও শাসক শ্রেণীর অপশাসনের বিরুদ্ধে মানুষের সম্মিলিত মুক্ত অর্থাৎ স্বাধীন কণ্ঠ, সেখানেই নেমে আসে বর্বর অত্যাচার, বিনাবিচারে বা বিচার নামক প্রহসনের সহায়তায় কঠোর মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আড়ালে স্বাধীন কণ্ঠকে গলা টিপে শেষ করে দেওয়া।

আজ এই ২০২০-তেও পৃথিবীর মানচিত্রে রাজনৈতিক প্রেক্ষিতের দিকে নজর ফেললেই স্পষ্ট হয়ে উঠবে এই উচ্চারণের সত্যতা। উপমা সাজিয়ে দীর্ঘ করবার ইচ্ছে নেই এই লেখাটির। বরং ফ্রিডম শব্দের সংগে ওতপ্রোত ফরাসী বিপ্লবের প্রেক্ষিত থেকে আহৃত ধারণাটি যে এখনও আমাদের উজ্জীবিত রাখে, Free to Dom (Death)-বিষয়ক ধারণায়, তাকেই বরং কিছুটা হলেও বোঝবার চেষ্টার মধ্যে মানব সভ্যতার এক অহংকারই ঘোষিত হয় আরও একবার। Freedom শব্দের দার্শনিক ব্যাখ্যার সংগে অঙ্গাঙ্গী সম্পর্কিত Free-will বা মুক্ত ইচ্ছার ধারণা। আর মুক্তইচ্ছার পথ বেয়েই সামনে এসে দাঁড়িয়ে পড়ে মৃত্যু নামক এক অবশ্যম্ভাবী পরিণতির চেতনা। মৃত্যুভয়ই আমাদের প্রথম পরাধীন অস্তিত্বের দ্যোতক। অর্থাৎ যে মুহূর্ত থেকে আমাদের চেতনা অতিক্রম করতে পারবে মৃত্যু নামক এক চরম পরিণতিবোধের অবচেতনীয় দাসত্ব, সেই মুহূর্ত থেকেই শুরু হতে পারে প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতার অর্থ ও তাৎপর্য সম্পর্কে আমাদের অভিযাত্রা। এবং এই প্রয়াস কঠোর ভাবে ব্যক্তির স্বতন্ত্র প্রয়াস। মরবার অধিকার যদি আমাদের অর্জিত প্রাথমিক অধিকারের মধ্যে না থাকে, তবে সামাজিক স্বাধীনতার হাজার লড়াই কোনোভাবেই মানবতার পূর্ণবিকাশকে পৃথিবীর মাটিতে মানুষের বোধের কাছে পরিপূর্ণ প্রকাশ করতে পারবে বলে মনে হয় না। পৃথিবীজুড়েই মানুষের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতিতে তাই বিভিন্ন ভাষায় বারেবারেই প্রতিফলিত হতে দেখি “মৃত্যুঞ্জয়” হয়ে ওঠবার আহবান। পাঠক একবার খেয়াল করুন এই লেখাটির পূর্ব উল্লেখিত ইংরিজি উদ্ধৃতিটির মধ্যে “পলিটিক্যাল ফ্রিডম”-এর এক জায়গায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, “Politics could only be practiced by those who had freed themselves from the necessities of life, so that they could attend the realm of political affairs.” এখানে কি আমরা পুনর্বার ফিরে পাচ্ছি না সেই অভিজ্ঞান—জীবনের যাবতীয় প্রয়োজনের থেকে নিষ্কৃতি অর্জন করতে পারলে তবেই রাজনীতির মুক্ত উদ্যানে প্রবেশাধিকার অর্জিত হয়। অর্থাৎ, এও কি সেই মৃত্যুঞ্জয়ী ব্যক্তিগত অস্তিত্বের চূড়ান্ত ঘোষণা নয়! ব্যক্তিজীবনের যাবতীয় প্রয়োজনকে যে উপেক্ষা করতে পারে, মৃত্যু তার পায়ের কাছে লুটিয়ে থাকে আনুগত্যে। কারণ, জীবনের যে ব্যাপৃত উদার আকাশ সতত উন্মীলিত তার চেতনায়, সেখানে সমস্ত ক্ষুদ্রত্বগুলোই বিলুপ্ত হয়ে যায় প্রাত্যহিক সীমাবদ্ধতার গণ্ডীতে। মৃত্যু তাই প্রকৃত অর্থেই স্বাধীনতা শব্দের সংগে ওতপ্রোত এক দাম্ভিক অস্তিত্ব যাকে পরাস্ত করেই আমাদের অর্জন করতে হয় প্রকৃত স্বাধীনতা। এই বোধেরই ছন্দবদ্ধ উচ্চারণ পাই রবীন্দ্রনাথে। বরং এই প্রতিবেদনটিও ইতি টানি সেই রবীন্দ্র পংক্তিরই পুনর্বার উল্লেখে… “মৃত্যু করে লুকোচুরি / সমস্ত পৃথিবী জুড়ি / ভেসে যায় তারা সরে যায়, / জীবনেরে করে যায় / ক্ষণিক বিদ্রূপ। / আজ দেখো তাহাদের অভ্রভেদী বিরাট স্বরূপ। / তারপরে দাঁড়াও সম্মুখে, / বলো অকম্পিত বুকে– / ‘তোরে নাহি করি ভয়, / এ সংসারে প্রতিদিন তোরে করিয়াছি জয়। / তোর চেয়ে আমি সত্য, এ বিশ্বাসে প্রাণ দিব দেখ । …”

[লেখক – কবি, গদ্যকার, সম্পাদক।]

Facebook Comments

Leave a Reply