ভ্যাকসিনেই কি মিলবে ‘স্বাধীনতা’? – সৌম্যদীপ চ্যাটার্জী

fail

সাল ১৯৪৭। দিন ১৫ই আগস্ট। হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু, রক্তপাত আর লড়াইয়ের ফল হিসাবে ভারতবর্ষ নামক একটি দেশ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল স্বাধীনতা। সারা দুনিয়া দেখেছিল সেই অক্লান্ত লড়াই। প্রায় ১০০ বছর ধরে অমানবিক অত্যাচার চালিয়ে গেয়েছিল ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির পিশাচ-সম দখলদারেরা। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস, মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, ক্ষুদিরাম বোস, বিনয়-বাদল-দীনেশ, বাল গঙ্গাধর তিলক, ভগত সিং- এর মতন লড়াকু নেতাদের নিঃস্বার্থ পরিশ্রমের ফলস্বরূপ দেশবাসী পেয়েছিল স্বাধীনতা। সাল ২০২০। দিন ১৫ই আগস্ট। ৭৩ বছর পার। আমরা কি সত্যিই স্বাধীন?

এই বছরের গোড়ার দিকে হবে, এই ধরুন জানুয়ারি কি ফেব্রুয়ারি মাস নাগাদ। তখনও করোনাভাইরাসের প্রকোপ এত ব্যাপকভাবে ছড়াইনি সারা বিশ্বে। সবে হু বা World Health Organisation খুঁজে বার করার প্রস্তুতিতে নেমেছে এই রোগের কারণ বা উৎসস্থল সম্পর্কে। ঠিক সেই সময়ে একটি ঘটনা ঘটে যায় নিজের চোখের সামনে। পাড়ার পরিতোষ দা। একটা ছোট্ট মুদির দোকান। দুই ছেলে ও এক মেয়ে। কোনো মতে চলে সংসার। সেই পরিতোষ দা-এর হঠাৎ করে জ্বর, আর সাথে কাঁপুনি। দিন তিনেক ধরে জ্বর না কমার পর, পাড়ার ডাক্তারের কথা মত রক্তপরীক্ষা করে ধরা পড়ল ম্যালিগন্যান্ট ম্যালেরিয়া। সরকারি হাসপাতালের উপর ভরসা ছিলনা একদমই পরিতোষ দা-এর। নিজের স্ত্রী-কে গলব্লাডার অপরেশনের জন্য নামী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। ভুল চিকিৎসার ফলে অল্প বয়সেই মারা গিয়েছিলেন পাপড়ি বৌদি, পরিতোষ দা-এর স্ত্রী। বেসরকারি হাসপাতালে যাওয়ার পয়সা ছিলনা। তাই বাড়িতেই চলছিল চিকিৎসা। পাড়ার সব পয়সাওয়ালা বাবুদের কাছে গিয়েও একপয়সা মেলেনি। এমনকি পাড়ার বেকার ছেলের দল নিজেদের বাড়ি থেকে হাতখরচ থেকে জমানো টাকা থেকে কুড়িয়ে-বাড়িয়ে সবাই মিলে কয়েক হাজার টাকা জোগাড়ও করেছিল শেষ অবধি। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। প্রায় বিনা চিকিৎসায় মারা গেলেন প্রাণচঞ্চল এক মানুষ । World Healh Organisation-এর তথ্য বলছে, পৃথিবীতে প্রায় ৭,০০,০০০ মানুষ মারা যান মশার কামড়ে, প্রতি বছরে । প্রায় ৩,৫০০ প্রজাতির মশা এই পৃথিবীতে বর্তমানে অবস্থিত, তার মধ্যে শুধু মাত্র ৪০০ প্রজাতির মশা ভারতবর্ষে আছে, যারা রোগবহনকারী। দুনিয়ার তাবড় বিজ্ঞানী, ডাক্তারদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেও আজ পর্যন্ত ম্যলেরিয়ার কোনোরকম ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি। তাহলে?
বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই শরীরটা খারাপ যাচ্ছিল প্রাক্তন এক অফিস কলিগের । খাওয়া-দাওয়ার ইচ্ছা আস্তে আস্তে প্রায় চলে যাচ্ছিল। চেহারা শুকিয়ে যাচ্ছিল । অফিস যাওয়াও প্রায় আস্তে আস্তে বন্ধ করে দিচ্ছিল। নিম্ন-মধ্যবিত্ত বাড়ির মেধাবী চনমনে ছেলেটি একদিন এক ডাক্তারের পরামর্শ মত কয়েকটি রক্তপরীক্ষা করিয়েছিল, তার মধ্যে রুটিন চেকআপের জন্য যেমন কিছু পরীক্ষা ছিল, তেমনিই ছিল, হেপাটাইটিস-বি ও হেপাটাইটিস-সি-এর পরীক্ষা। রিপোর্ট দেখে চমকে গিয়েছিল ছেলেটি, রক্তপরীক্ষার ফলে মিলেছিল রক্তে হেপাটাইটিস-বি-এর উপস্থিতি। অফিসের ঊর্ধ্বতন বিভাগকে জানিয়েছিল যে তার হেপাটাইটিস-বি পজিটিভ। আর কথা না বাড়িয়ে, ফোনের ওপারের মহিলাটি মুখের উপর ফোন কেটে দিয়েছিল পুরো কথা না ফুরতেই। ঠিক পাঁচ মিনিট পর একটি ইমেল আসে অফিসের থেকে, যেখানে পরিষ্কার লেখাছিল, কাল থেকে আর অফিসে আসার প্রয়োজন নেই। পরিভাষায় যাকে বলে, ‘স্যাক’। কারণ জানতে চাওয়ায় বলা হয়েছিল, হেপাটাইটিস-বি নাকি হাঁচিতে-কাশিতে দ্রুত বেগে ছড়ায়। এমনকি নাকি কারুর পাশে বসে কথা বললে, এক টেবিলে খেলে, এক অফিসে কাজ করলেও নাকি এই রোগ একজনের থেকে অন্যজনের দেহে ছড়িয়ে পড়ে। তাই এই সিদ্ধান্ত। দিনমজুর বাবা আর লোকের বাড়িতে কাজ করা মা, অনেক কষ্ট করে টাকাপয়সা জমিয়ে ছেলেকে পড়াশুনো করিয়েছিল। স্বপ্ন ছিল একটাই ছেলে অনেক বড় হবে, ইঞ্জিনিয়ার হয়ে নামী আইটি কোম্পানিতে ভালো কাজ করবে। যেদিন প্রথম মাইনের টাকা হাতে পেয়েছিল ছেলে, পাড়ার ক্লাবে নামী দোকানের মিষ্টি খাইয়েছিল ছেলের প্রথম রোজগারের টাকায়। ফুরফুরে মেজাজের ছেলেটি হেপাটাইটিস-বি-তে আক্রান্ত হওয়ার ‘শাস্তিস্বরূপ’ চাকরি হারানোর লজ্জায় বাড়িতে বলতে পারেনি, পাছে বয়স্ক মা-বাবার শরীরখারাপ হয়ে যায় ! ‘স্যাক’ হয়ে যাওয়ার ইমেল পাওয়ার পর রাতে না খেয়েই নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল। নিয়মিত সকালে উঠে মাঠে শরীরচর্চা করতে যাওয়া ছেলেটি সকাল ৯ টা বেজে যাওয়ার পরও দরজা খোলেনি। পাড়ার লোককে ডেকে দরজা ভেঙে মা-বাবা দেখেছিল, ফ্যান থেকে ঝুলছে তাদের আদরের ছেলের ঝুলন্ত লাশ। ভয়াবহ এই দৃশ্য মেনে নিতে পারেনি ছেলেটির মা। সাথে সাথেই কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট করে মারা যায় সে। বাবা এখন সুকিয়া স্ট্রীটের ফুটের উপর সবজি বেচে। দীর্ঘ গবেষণার পর ১৯৬৫ সালে ডাঃ বারুচ ব্লুমবারগ প্রথম আবিস্কার করেন হেপাটাইটিস-বি ভ্যাকসিন, যার জন্য তিনি নোবেল পুরস্কার পান। এই ভ্যাকসিনটি মার্কিন সংস্থা FDA ১৯৮১ সালে যা মানদেহে ব্যবহারের জন্য অনুমতি দেয়। হেপাটাইটিস-সি-এর ভ্যাকসিন এখনও অবধি না আবিষ্কৃত হলেও, এর থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। যার জন্য, উন্নতমানের ওষুধ এবং অত্যাধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা আছে। Center for Disease Control and Prevention (CDC) থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এক টেবিলে খেলে, পাশে বসে এক সাথে কাজ করলে, সন্তানকে মা বুকের দুধ পান করালে, কাঊকে জড়িয়ে ধরলে বা কাউকে চুম্বন করলে, হাঁচি-কাশি থেকে হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি ছড়ায় না। শুধুমাত্র সংক্রমিত ব্যাক্তির সাথে অসুরক্ষিত যৌন মিলন করলে, কারুর ব্যবহার করা ছুঁচ বা ব্লেড, বা একই রেজার দিয়ে একাধিক ব্যাক্তি দাড়ি কাটলে তবেই মাত্র হেপাটাইটিস-বি ও সি ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে। ভ্যাকসিন এবং ওষুধ থাকা সত্ত্বেও আমাদের সমাজ যেমন ভাবে হেপাটাইটিস-বি ও সি সংক্রমিত মানুষদের একঘরে করে রেখেছে বা রাখছে, তবে তো এত কিছুর আবিষ্কারের পরেও আমরা অনেক পিছিয়ে যাচ্ছি। তাহলে?

শ্যামবাজার মোড় থেকে পায়ে হেঁটে মিনিট তিনেক। ৬৫ বছরের বয়স্ক মানুষটি দুইদিন ধরে পড়ে কাতরাচ্ছিলেন রাস্তার ধারে জমে থাকা স্তূপের পাশে। গায়ে ধুম জ্বর। পারদে তাপমাত্রা ১০২ কি ১০৩ ডিগ্রি ছুঁই ছুঁই। কেউ হাত লাগানোর হিম্মত পায়নি অসুস্থ ব্যক্তিটির শরীরে। এলাকার এক অল্পবয়সী হকার সাহস নিয়ে শরীরের উষ্ণতার মাপ নিয়েছিল রাস্তায় পড়ে থাকা মানুষটির। এলাকার বাকি হকারেরা ঘিরে রেখেছিল দড়ি দিয়ে জায়গাটি, যাতে না কেউ কাছে ঘেঁষতে পারে মানুষটির কাছে। কয়েকশো বার ফোনে অনুরোধ করার পরেও পুলিশের দেখাও মেলেনি দুইদিন ধরে। শেষমেশ, ওই অল্পবয়সী ছেলেটির প্রচেষ্টায় একটি অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভারকে রাজি করানো গিয়েছিল, অসুস্থ মানুষটিকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য। খোঁজ-খবর করতে জানা গিয়েছিল, করোনা-আক্রান্ত সন্দেহে বৃদ্ধটির ছেলে, ছেলের বউ আর নিজের সহধর্মিণী বাড়ি থেকে বিতাড়িত করে দিয়েছিল। পাছে তারা সংক্রমিত হয়ে যান ! ঘটনাটি ভারতবর্ষের ৭8তম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্বালে। করোনাভাইরাস থেকে নিজেদেরকে সুরক্ষিত রাখার জন্য যেমন মাস্ক, স্যানিটাইজারের প্রয়োজন তেমনিই স্বাস্থ্যকর্মী বা যারা সামনের সারিতে থেকে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের সাহস জোগাচ্ছেন, তাদের জন্য আছে পিপিই কিট, যা পরলে একটি মানুষ অনেকটাই সুরক্ষিত। এরপরেও কেন সেই রাস্তায় শুয়ে কাতরান। মানুষটি কেন সঠিক সময়ে চিকিৎসা পেলেন না, তার সদুত্তর কারুর কাছেই হয়েতো নেই। একবিংশ শতকে দাঁড়িয়ে, যেখানে চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রভূত উন্নতি হয়েছে, অত্যাধুনিক হাসপাতাল আর নামী ডাক্তারদের ব্যাপকতা থাকা সত্ত্বেও মানুষের এই নির্মম পরিণতি আমাদের সকলের চোখের সামনে দিনের পর দিন ঘটে চলেছে। তাহলে?

বিগত মাসগুলি ধরে নিউজ চ্যানেলগুলি খুললেই করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নানা খবর। কোথাও হাসপাতালের নার্সকে তার বাড়িওয়ালা বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিচ্ছে, কেননা, নার্স নাকি ঘরে ঢুকলেই করোনাভাইরাস দ্রুতহারে ছড়িয়ে পড়বে তো কোথাও আবার করোনাভাইরাসকে হারিয়ে হাসপাতাল থেকে ফিরে আসার পরেও সেই মানুষটিকে একঘরে করে রেখে দিচ্ছে পাড়া-প্রতিবেশি। বেসরকারি হাসপাতালের লক্ষাধিক টাকার বিলের ভার বহন না করতে না পারা মানুষটি অ্যাম্বুলেন্সের ভিতরই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করছে কেন, তার উত্তর আছে কি আমাদের কাছে? আধুনিক মোবাইলে সারাক্ষণ চোখ রাখা, নেটফ্লিক্সে ওয়েব সিরিজ দেখা, ঝাঁ চক চকে শপিং মল থেকে বাজার করা আমাদের সমাজের মানুষজন ডিজিটাল দুনিয়াতে দাঁড়িয়েও কেন মন থেকে বের করতে পারছেনা পচা-গলা নিষ্ঠুর মানসিকতা? কেন হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের মধ্যে থাকা সহমর্মিতা ? টেলিভিশন চ্যানেলে বসে থাকা নামী ডাক্তারদের মানবিকতা কি লুকিয়ে থাকে সাজানো সারি সারি নোটের ভিতরে?

National Health Accounts থেকে তথ্য ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, জনস্বাস্থ্যে আমাদের দেশের সরকার জিডিপির এক শতাংশের কিছু বেশী (প্রায় ১.০৪ শতাংশ ) খরচ করে, পরিসংখ্যান অনুযায়ী যা এই বিশ্বের মধ্যে ভারতবর্ষকে নিচের সারিতে অবস্থান করতে বাধ্য করেছে। National Health Policy, যেখানে বলা আছে, ২০২৫ সালের মধ্যে ভারতবর্ষের জিডিপির ২.৫ শতাংশ ব্যয় করা হবে। কিন্তু ২০২০ সালের মধ্যগগনে দাঁড়িয়ে তার কোনরূপ উদ্যোগের নমুনা পাওয়া যায়নি সরকারের তরফ থেকে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর ভারতবর্ষে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ নিজেদের স্বাস্থ্যখাতে বিপুল খরচের দরুণ দারিদ্রসীমার নিচে চলে যান। কারণ নানা ঘটনাবলি এবং সংখ্যাতত্ত্ব থেকে এটাই বোঝা যাচ্ছে, আমাদের দেশের বেশীরভাগ মানুষেরই সরকারি পরিকাঠামোর উপর ভরসা নেই, তাই তারা নিজের জীবন বা তাদের পরিবারের কারুর চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল। আর বেসরকারি ক্ষেত্রের চড়া দামের পরিষেবার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ দিনের পর দিন, বছরের পর বছর। ভারতবর্ষের স্বাস্থ্যপরিকাঠামোর আর একটি বেহাল দশা উঠে এল World Bank থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী। যেখানে বলা হচ্ছে, প্রতি ১০০০ জন পিছু মাত্র ০.৭ টি হাসাপাতালের শয্যা আছে, যা আবার বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন রকম। যেমন, কেরালাতে ১.০৫ টি, তামিলনাড়ুতে ১.১ টি আবার দিল্লিতে ১.০৫ আর পশ্চিমবঙ্গে ২.২৫ টি শয্যা আছে প্রতি ১০০০ জন পিছু। অনুরূপভাবে পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতি ১০০০ জন পিছু আমাদের দেশে ০.৮৫৭ জন ডাক্তার আছেন।

তাহলে গলদটা ঠিক কোথায়? গলদটা কি সরকারের তরফ থেকেই নাকি গলদটা সমাজ নামক প্রতিষ্ঠানের মাথায় বসে থাকা মুনাফালোভী অতি শিক্ষিত কিছু মানুষজন নাকি আমার আপনার মধ্যে লুকিয়ে থাকা ভীরু, শুধু নিজেরটা বোঝা-এরকম কিছু চরিত্র? করোনাভাইরাস থেকে মুক্তির জন্য সারা বিশ্বের নামী চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা দিনরাত কঠিন পরিশ্রম করে চলেছেন। আমরা প্রত্যেকেই আশাবাদী যে খুব শীঘ্রই আমরা ভ্যাকসিন পেয়ে যাব কিন্তু তার পরও অবশ্যই প্রশ্ন থাকছে বেশ কিছু। আমদানি করা টিকার দাম কত টাকা করা হবে? রাজনৈতিক কোনো বাধা তৈরি হবে না তো সেই টিকা আমদানি করার পথে? ভারতের বাজারে সেই টিকা ঠিক ভাবে জোগান দেওয়া যাবে তো ? এবং সবচেয়ে যেটা বড় প্রশ্ন, দেশের বিপুল সংখ্যক গরিব মানুষ যাতে সেই টিকা পেতে পারে, সেই ব্যবস্থা কি করে হবে? না কি আর পাঁচটা সুবিধার মতো এই টিকাও বড়লোকদের কুক্ষিগত হয়েই থেকে যাবে?

করোনাভাইরাস অতিমারির প্রভাব থেকে আমাদের খুব শীঘ্রই মুক্তি মিলবে, কিন্তু সমাজের মধ্যে চেপে থাকা আমানবিকতা, অসহযোগিতা, অস্পৃশ্যতার অসুখ যেভাবে ক্যান্সারের আকার ধারণ করেছে এবং যা সমাজকে ধীরে ধীরে অন্তিমের পথে নিয়ে যাচ্ছে, তার থেকে মুক্তি কি মিলবে আমাদের? শুধু ভ্যাকসিন পাওয়া গেলেই কি মিলবে পরিপূর্ণ ‘স্বাধীনতা’?

Facebook Comments

Leave a Reply