“রাক্ষস কি সত্যিই দাঁত মাজে না?” : প্রত্যয় চৌধুরী

fail

নিদেন পক্ষে ৮ ঘণ্টার ঘুম না’হলে রাক্ষসের মাথা ঠিক থাকে না। কাঁচাঘুম ভেঙেই সকালে উঠে যদি দেখে হাতের কাছে চা নেই, তাহলে ক্লাবের ছেলেদের উপর চেঁচিয়ে পার্টি অফিস মাথায় করে। সকালে উঠেই রাক্ষসের বেড-টি মাস্ট। ব্রাশ করার আগেই। সত্যি কথা বলতে, রাক্ষসের প্রতিদিন নিয়ম করে ব্রাশ করতে ভাল লাগে না। ফালতু পরিশ্রম মনে হয়। ব্রাশ করাটা পুরোই ওর মুডের উপর। সেই জন্য নিজের কোনও ফিক্সড মাজন, টুথব্রাশও নেই। ক্লাবের ছেলেগুলোর দিয়েই চালিয়ে নেয়। আবার মাঝে মধ্যে যখন এপাড়া-বেপাড়া ভিজিটে বেরোয়, তখন মনে হলে এর-ওর বাড়ি গিয়ে সোজা বাথরুমে ঢুকে পড়ে। নিজের ক্ষমতায় ভাল-মন্দের ভাবনা এর-ওর উপর চাপায়। কিন্তু উদ্দেশ্য সেটা না। উদ্দেশ্য, অন্যের ব্রাশ ব্যবহার করে দেখা কার জিভের টেস্ট কেমন। এদিক দিয়ে ও হেব্বি সেনসিটিভ। একবার টেস্ট করে নিলেই বুঝে ফেলে এক একটা পাড়ার এক একটা বাড়ির ইস্যু, প্রয়োজনীয়তা, দুর্বলতা। এই করে অন্যদের ব্রাশ জিভে দিয়ে দেখা ওর নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথম প্রথম ভাল করে ব্রাশ করতে হতো, তখন রাক্ষসের দাঁতও ঝকঝক করত, মুখে ছিল নির্মল পেপসোডেন্ট স্মাইল। এখন দাঁত মাজার প্রয়োজন পড়ে না। ব্রাশের এক একটা নাইলন স্ট্রিং জিভে দিলেই পুরো ছকটা মাথার মধ্যে স্যাটাস্যাট চলে আসে। পুরো ক্লিয়ার। লোকসভার বাজেটের মতো।

কিছুদিন আগে একটা কেস হয়েছে। একটু দূরের একটা পাড়ায় ভিজিট ছিল। উঠতে দেরী হয়েছে। ক্লাবের ছেলেগুলোও ডেকে দেয়নি ঘুম থেকে। ধড়ফড় করে ঘুম থেকে উঠেছে। চা খাওয়ারও সময় পায়নি। মাথা গেছে হেব্বি গরম হয়ে। সে যাই হোক, ওভাবেই বেরিয়েছে। দূরের পাড়ার কুণ্ডু বাড়িতে গিয়ে দলবল নিয়ে হাজির। সটান বাথরুমে। মজার বিষয় হল কাকতালীয় ভাবে কুণ্ডু দা আগের দিনই নিজের জন্য নতুন ব্রাশ কিনে এনেছিলেন যেহেতু আগেরটায় মাড়ি, জিভ ছড়ে যাচ্ছিল। রাক্ষস তো সে কথা জানে না। আরে রাক্ষসই তো! চিত্রগুপ্ত তো নয় যে সবটা সব সময় জানবে। রাক্ষস যতই জিভে ব্রাশ ঠেকায়, কিচ্ছুটি টের পায় না। একবার ঠেকায়, দু’বার ঠেকায়, তিনবার ঠেকায় কোনও স্বাদ পায় না। ব্যাস। ফট করে মাথা আগুন। সোজা ইগোতে ধাক্কা। খেলার মাঠে জিরো রানে আউট হয়ে ফিরে এলে যেমন নিজের উপরই ভীষণ রাগ হয়, হেরে গেছি বলে মনে হয়, রাক্ষসেরও নিজেকে সেরকম অপ্রস্তুত ও অপদস্থ মনে হচ্ছিল। বাবার কথা মনে পড়ছিল। ওর বাবাও একবার এরকম একটা ভিজিটে গিয়ে হেরে গিয়ে বিচ্ছিরি কাণ্ডকারখানা ঘটিয়েছিল। স্ট্রোক করে একটা দিক প্যারালাইজড হয়ে গিয়েছিল। হসপিটালাইজড করতে হয়েছিল তারপর। এই আশঙ্কাগুলোই বারবার মাথায় ঘুরে ফিরে আসছিল রাক্ষসের। নিজের সাথেও এমন…… কুণ্ডুবাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে ক্লাবের ছেলেপিলেকে বলল– বাড়ির নম্বরটা লিখে রাখ কেস দিতে হবে। ছেলেপিলেরা বাইরেই ছিল, অপেক্ষা করছিল দাদার বেরিয়ে আসার। হাতে থাকা রেজিস্টার খাতায় কি একটা যেন নোট করল। নেক্সট মিশন পাশের পাড়া।

সত্যি কথা বলতে রাক্ষস মোটেই আর্লি রাইজার নয়। ওর রাত জাগতে অসুবিধা হয় না। রাতেই বেশি কমফর্টেবল আর যাবতীয় কাজ সেরে রাখে। ভোর ৩ টে থেকে ৫ টার মধ্যে যে সময়টা বেশিরভাগের স্লিপ প্যারালাইসিস হয়, ওই সময়ে ও লোকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে জানলা দিয়ে উঁকি মারে। তাই ওর সকাল বাকিদের থেকে দেরীতেই শুরু হয়। ক্লাবের ছেলেরা অবশ্য একথা জানে না। সব জানার কি প্রয়োজন আছে? সবারই একটা পার্সোনাল লাইফ আছে। তবে নিজের কাজ নিয়ে রাক্ষস যতই আশাবাদী হোক, ওর কনফিডেন্সও মাঝে মাঝে ল্যাক করে। কেউ তো আর ভবিষ্যত দেখতে পায় না, তাই একটা আশঙ্কা ওরও আছে। মাঝে মাঝেই ওর মনে হয় এই যে পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে সার্ভে করার নামে লোকজনের ব্রাশ চেখে তাদের পথ দেখানো/সুবিধা করে দেওয়ার নামে যে কাজগুলো করছে সেটা একটা জাজমেন্টাল থট নয় তো? মানে ব্রাশ চেখে কি কোনও লোকের/সেই বাড়ির গতি প্রকৃতি আন্দাজ করা যায়? হ্যাঁ, একটা কথা সত্যি যে কার মনে কী চলছে, সেটা তার স্যালাইভার ঘনত্বের উপর নির্ভর করে বলা যায়। কিন্তু এখানে আরও কিছু বিষয় কাজ করে। রাক্ষস যখন কোনও বাড়িতে ঢুকে ব্রাশ চেখে কিছু পরীক্ষা করার চেষ্টা করে, তার অনেক আগেই বাড়ির লোকজনের দাঁত মাজা পর্ব শেষ হয়ে যায়। ততক্ষণে ব্রাশের নাইলন স্ট্রিং-এ স্যালাইভার কণা, জলের বিন্দু, পেস্টের কণা সব শুকিয়ে শূণ্য হয়ে যায়। সুতরাং, যে ক্ষমতার বলে ও এত ঝটপট কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছায় সেটা ওর ইনটিউশন—আর কিচ্ছু নয়। কাজেই নিজেকে জাজমেন্টাল ভাবার টেন্ডেন্সি থেকেই যায়। আর একুশ শতকে রাক্ষস হওয়ার থেকেও জাজমেন্টাল হওয়ার শাস্তি অনেক কঠিন। কাউকে জাজ করা, ক্যাটাগোরাইজ না করা, জেনারালাইজড না করা— ইত্যাদি নিয়ে যে যাবতীয় হাঙ্গামা ভার্চুয়াল দুনিয়ায় চলছে সেটা ওকেও পীড়া দেয়, দ্বন্দ্বে ফেলে। তাই নিজের কৃতকর্ম এবং এজেন্ডা নিয়ে মাঝে মাঝে ডিলেমার মধ্যে থাকতে হয় ওকে। মনে পড়ে যায়, কয়েক বছর আগে সুবিধা করার নামে একটা ফ্যামিলির জমি দখল করে সেখানে ফ্ল্যাট উঠিয়েছিল। পাশে ছিল মাথামোটা ক্লাবের ছেলেরা। ভিটেমাটি ভেঙে, নিস্পাপ তুলসী মঞ্চ ভেঙে যখন একের পর এক সিমেন্টের গাথনি উঠছিল, তখন একবার হলেও রাক্ষসের মনে হয়েছিল থামিয়ে দিই সব, নেশাখেলার এই দক্ষযজ্ঞ থেকে নিজেকে সরিয়ে শুরু করি এক নতুন জীবন। কিন্তু পারেনি। কারণ জাত কথা বলে। জাত রগে রগে নদীর মতো বয়ে চলে। রক্তের মধ্য দিয়ে কানের কাছে উঠে এসে ঘাড়ের কাছে ফিসফিসায়। জাত মানুষকে ডিলুউশানে ফেলে দেয়। সেখানে রাক্ষস তো রাক্ষসই। ক্লাবের ছেলেগুলো হয়তো মাথামোটা জন্যই প্রতিবার রাক্ষসের পাশে আনকন্ডিশনালি থাকে। ওদের বিশ্বাস ‘দাদা আছে। সামলে নেবে সবটা।’ এই অন্ধবিশ্বাসটাও আবার সব সময় রাক্ষস নিতে পারে না। কারণ ওর ডিলেমা চলে, ডিলেমা চলে ছোটবেলা আর বেড়ে ওঠার জার্নি নিয়ে। কীভাবে ওদের পরিবারের একে একে সবাই মানুষের সুবিধা করার নামে ভিটের পর ভিটে জমি সাবাড় করেছে; কোটি কোটি টাকার লেনদেনে জড়িয়ে প্রাণ, মান, সম্মান হারিয়েছে; ধর্মের নামে কুৎসা রটিয়েছে, বাধ্য হয়েছে রটাতে। এসব কিছুই ও ছোটবেলা থেকে করতে চাইতো না, কিন্তু একটু বড় হয়ে বুঝল ফ্যামিলি বিজনেস জন্য এই একটা কাজই ও হয়ত ভাল পারে। আর যে যেটা ভাল পারে, সেটা সে না চাইতেও করে ফেলে; কারণ কিছু না করলে তো কিছুই করা হয় না।

সেদিন তুলসীমঞ্চটা জেসিবি দিয়ে গুঁড়িয়ে ফেলার সময় জগদীশচন্দ্র বোসের কথা মনে পড়ছিল ওর। ছোটবেলায় ও বিজ্ঞান বইতে পড়েছিল, গাছের প্রাণ আছে; একটি গাছ, একটি প্রাণ। অদ্ভুত মায়া কাজ করছিল নিজের মধ্যে। মনে হচ্ছিল, গাছটাকে তুলে অন্য কোথাও নিয়ে গিয়ে পরিচর্যা করবে; রাস্তাঘাটে কোনও ভিখিরি বাচ্চা এসে পা জড়িয়ে মায়াভরা চোখে এক-দু টাকা চাইলে অথবা কোনও দেশি কুকুর ছানা পায়ের কাছে এসে কাঁদার সুরে বিস্কুট চাইলে দেবো কি দেবো না’র মাঝে যে পাহাড় প্রমাণ যুদ্ধ করতে হয় ঠিক ওরকম উথাল-পাথাল চলছিল রাক্ষসের হৃদয়ে। কিন্তু যেই ইমোশনাল হওয়া, অমনি মনের আরেকটা অংশ ওকে শক্ত হতে বলল, চিনিয়ে দিল ওর আসলে আমিকে। সেই জাত আবার কথা বলে উঠল।

রাক্ষসের প্রপিতামহের প্রপিতামহ—ভীষণ পণ্ডিত লোক ছিলেন। বেদ, উপনিষদ, কোরান, বাইবেল—সব ছিল নখদর্পণে । পাড়ার লোকেরা তাঁকে সম্মান করত খুব, আর এদিক ওদিকেও খ্যাতি ছিল। কিন্তু কলিযুগ আসতে আসতেই তিনি বুঝেছিলেন এই জড়া বিশ্বে এত জ্ঞান, এত পান্ডিত্য, এত তত্ত্বকথা পরে জেনে আদতে লাভ নেই কোনও। সোজা পথে মানুষের কল্যাণে চালিত করে নিজের কোনও আখের নেই। জ্ঞান, তত্ত্ব, তথ্য একমুখী হলে বিফলেই যায়। তাই শুরু করলেন ব্যবসা। মানুষকে বোকা বানানোর ব্যবসা; অবিশ্বাস, বিশ্বাসঘাতকতা, শঠতার ব্যবসা; কূটনীতির অপপ্রয়োগ। বেশ নেশা চেপে গেল। তারপর থেকে ওই বংশে যারা যারা জন্মেছে একটা বয়সের পর থেকে তারা নিজেদের এই পারদর্শীতা না দেখিয়ে পারে না। এই সব কথাই রাক্ষসের জানা। খেতে, বসতে, উঠতে মাথায় ঘোরা ফেরা করে। কানের কাছে ফিসফিসায়। তাই খুব একটা শান্তিতে ও কোনদিনই থাকতে পারেনি। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ডিস্টার্বেন্স, ডিলুউশন, কনফিউশন যত বেড়েছে, বেড়েছে বিরক্তি, অস্থিরতা, মাথা গরম করা। এর পর থেকে যাবতীয় অবিশ্বাসেই ওর দৃঢ় বিশ্বাস। পরিচ্ছন্নতা মাথায় উঠে বেড়েছে নোংরা থাকার অভ্যেস। নোংরা থাকার মধ্যে অদ্ভুত মাদকতা খুঁজে পেয়েছে ও। বেশিরভাগ দিনই স্নান বাদ দিয়ে দেয় অনায়াসে, দাঁত মাজে না, ফেস ওয়াশ ইউজ করে না। দাঁত না মাজতে মাজতে মুখের ভিতর চড়া পড়ে গেছে। দাঁত হয়েছে হলদে। দুধ চায়ের সাথে সিগারেট খেলে মুখ থেকে যেমন একটা টক বাসি গন্ধ বেরোয় সেটাই ওর মুখের নরমাল গন্ধ। এটাই ওর স্বাভাবিক যাপন। কিন্তু ওই যে কনফিউশন, ডিলুউশন, ট্রাস্ট ইস্যুস—ওগুলো মাথাচাড়া দিলে মাঝে মধ্যে এর বাড়ি ওর বাড়ি যায় ব্রাশের স্বাদ নিতে। মানুষের জিভের লালা কেমন হয়, পেস্টের ঝাঁঝালো গন্ধটা ঠিক কিরকম—এসব ওর কাছে একটা ভ্যাকেশনের মতো, ওয়ার্ক লাইফ থেকে সাময়িক ছুটি। তাই হঠাৎ হঠাৎ রাত্রিবেলা লোকের জানলায় উঁকি, দুপুরে ইন্সপেকশন। এদিকে এপাড়া ও ওপাড়ার সবাই জানে রাক্ষস আর ক্লাবের ছেলেরা মানুষের পাশে দিনরাত আছে, ‘হেল্প’ করার জন্য।

তবে রাক্ষস একা নয়, ওর পক্ষে বিপক্ষে ওর জাতেরই অন্যান্য রাক্ষস আছে। সাব-ক্যাটাগরি করলে খোক্কশ, ভোক্কশ—আরও অনেক কিছু দাঁড়ায়। ওদের নিজেদের মধ্যে আবার কম্পিটিশন রয়েছে। রাক্ষস যদি ভাল কাজ করার নামে নিজের আখের বেশি গুছিয়ে ফেলে তখন আবার খোক্কশের প্রেস্টিজ ইস্যু। এরা কেউ কাউকে সহ্য করতে পারে না, সবার মধ্যে অনেক অমিলও রয়েছে একটা ছাড়া। এরা কেউ দাঁত মাজে না। ভোটের আগ দিয়ে এদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। তখন পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে ভালোমানুষির বাণী প্রচারে নামে। হিন্দু-মুসলিম এক খাটালে নেমে জল খায় সেই কদিন। সবটাই একটা সেট-আপ। রেকর্ড করে রাখার জন্য। এই রেকর্ড বেচে রাক্ষসরা দেবত্বের অ্যাওয়ার্ড কেনে। ভোট পেরিয়ে গেলে আবার যেই-কার সেই।

খুব ছোটবেলা রাক্ষস একবার খবরের কাগজে একটা লেখা পড়েছিল। একটা শিশুর ছবি দিয়ে পাশে হেডলাইনে লেখা ছিল—‘বলতে পারেন এই শিশুটি ছেলে না মেয়ে, হিন্দু না মুসলিম, জৈন না বৌদ্ধ, পারসি না ইহুদী?…… মনুষ্যত্বই মানুষের একমাত্র ধর্ম।’ সত্যিই তো হাত কাটলে প্রত্যেকেরই লাল রক্ত ঝড়ে। ক্ষুধা, তৃষ্ণা, দুঃখ, রাগ, জেদ, অনুশোচনা—এসবের প্রতিফলন প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই সমান। তাহলে ধর্মের নামে, জাতের নামে, বর্ণের নামে যে এত ফারাক, এত হানাহানি, এত পৃথকীকরণ এসবের তাৎপর্য কোথায়। ভাবতে থাকে রাক্ষস, মাথা ছিঁড়ে যায় চিন্তায়। খিচিমিচি লেগে যায়। ঠিক করে ব্যবসা ছেড়ে দেবে। লোকের বাড়িতে ইন্সপেকশন করতে যাওয়া, ব্রাশ চেখে দেখা, সন্দেহভাজনদের বাড়ির নম্বর টুকে রাখা—সব ছেড়ে দেবে। রাতবিরেতে লোকের বাড়ির জানলায় গিয়ে উঁকি মারা আর পোষাচ্ছে না। চলে যাবে দূরে কোথাও। একাই কাটাবে বাকি জীবনটা। ক্লাবের ছেলে, পার্টি অফিস, লোকজনের ভিটে মাটি কেড়ে ফ্ল্যাট ওঠানো, পুকুর বুজিয়ে শপিং মল তোলা, ভক্তদের দূর্নীতির দায় নিজের কাঁধে নেওয়া, থানায় মাসে মাসে হাজিরা দেওয়া, প্রকাশ্যে থেকে নেপথ্যে নানা কাণ্ড ঘটিয়ে যাওয়া– ওর দ্বারা এসব আর কিছুই হচ্ছে না। মাথা দপদপ করতে থাকে, বমি পায়। ভাবে ঘণ্টা খানেকের একটা স্নান প্রয়োজন, নাহলে অস্বস্তি দূর হবে না। ঠিক তখনই হঠাৎ একটা আওয়াজে ধড়ফড় করে উঠে বসে। দেখে নিজের বিছানার উপরই বসে। কুলকুল করে ঘামছে। জানলা দিয়ে আসা রোদের আলোয় ঘর ভেসে যাচ্ছে। কিছু বুঝতে পারছে না। দৃষ্টি আবছা। দেওয়ালে দেখে ঘড়িতে দুপুর ১ টা বাজে। বাইরে থেকে ভেসে আসে ক্লাবের ছেলেদের আড্ডার অস্পষ্ট কোলাহল। মাথার উপর ফ্যান ঘুরছে অলস ভাবে। সেটার বিরক্তিকর শব্দে কান থেকে রক্ত বের হওয়ার উপক্রম। মনে হচ্ছে পৃথিবীর সব কিছু থেমে আছে এই মূহুর্তে। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে ঘরে যে টেবিল, তাতে একটা ডেলিভারি পার্সেল রাখা। একটু অবাক হয়। কোনও পার্সেল আসার কথা তো ছিল না। থাকলেও ক্লাবের ছেলেগুলো আগে থেকে জানাত। বিছানা থেকে উঠে আধঘুম চোখেই প্যাকেটটা খোলে। দেখে ভিতরে সাতটা সাত রঙের আলাদা আলাদা নতুন ব্রাশ আর একটা টুথপেস্টের প্যাকেট। পার্সেল উল্টে দেখে প্রেরকের নাম, ঠিকানা কোথাও কিছু নেই।

Facebook Comments

Leave a Reply