মগ-আকাশের পর্দা : সঞ্জীব নিয়োগী

fail

একদিন টিভিতে টাই-কোট পরা বাবুরা ফিসফিস করে আলোচনা করছিল, আকাশ ফুটো হয়ে গেছে। তাই আর ফ্রিজ, মাইক্রোওয়েভ উনুন, এসি ইত্যাদি চালানো যাবে না। জাপান, চীন, আমেরিকার মতো বড় বড় দেশ আগামি পাঁচ-দশ বছরে ওইসব জিনিস বানানোই বন্ধ করে দিবে। লেঃ মহাজন, খাবি কী বে!
এত বলে, গুরুপদ হালকা পা ফাঁক করে আলতো বিচি চুলকায়।
আর তারপর যথারীতি বলে, মানব সহ অন্যান্য জীব-শরীরে অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে ওইসব মেশিনের উলুঝুলু খাবারের নিষিক্ত পরিষেবা পেয়ে।
নিষিক্ত কথাটা ভেসে থাকে আকাশের বাতাসে।
মানে বুঝবার দায় নিয়ে শিক্ষিত সমাজ সেমিনার করে। বেশি একাডেমিক অ আ ক খ না শেখা গুরুপদ বা ওর চেয়েও মাটিমাখা অনেকে সেগুলো দেখে আর নিজেদের মধ্যে নিজেদের মতো আলোচনা করে অথবা করে না। ভাবে, অথবা ভাবে না।
জীবনও একটা মেশিনের মতো নিজের শক্তিতে চলতে থাকে। সেখানে মোদ্দা ব্যাপারগুলো থাকলেই চলে। গুরুতর সূক্ষ্ম বিষয় টিকে থাকে নিজের জায়গায়; সেসব গুরুপদদের জীবনে বড় হয়ে আসে না। আসে হয়ত, কিন্তু ওসবের সাথে ওদের কারবার হয় না।
মনসা রাজোয়ার ভেবে দ্যাখে, আকাশ থেকে যে রোদ তার গায়ে এসে পড়ে সকালে বা মাঝ-দুপুরে, সেই রোদে সে জন্ম থেকেই অভ্যস্ত। রোদে কালো হয় শরীর, চামড়া পুড়ে যায় কিন্তু ভয় পেতে হয় না। আকাশ ফুটো করে বাজে রোদ কীভাবে আসে তা টিভিতে বসা টাই প্যান্ট পরা লোকেরাই জানে।
গুরুপদ বলে, ব্যাটা! রেতের বেলাও রোদ লাগে বে, জানিস না?
ভ্যাট! কাকা তুমি কি গাঁজা খেয়ে এলা নাকি!
হ্যাঁ বে, শুন শুন, বোস এইখানে, বলি।
মনসা তবু বসে না। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হাত কচলায়।
গুরুপদ খেঁকিয়ে ওঠে, বোস না বে হারামির বেটা! বল দেখি, চাঁদ আলো কুণ্ঠে থেকে পায়? হ্যাঁ? জানিস? নাকি মুখেই খালি লবর চবর বে?
তোমার পাগলামারানি কথা শুনার সময় নাই কাকা এখন, মেম্বারের বাড়িতে এসি লাগবে, আমাকে ডেকেছে। দেওয়াল ভাঙাভাঙি করতে হবে…
আচ্ছা যা তবে। শুন, আসছে বিশ্যুৎবার পুন্নিমা, রেতের দিকে একবার দেখা করিস, সর্বদুঃখনাশী মন্তর বলে দিব…
হুঁ:! মন্তর না ঢেঁকি!
অবিশ্বাস করিস না মনসা, ওই মন্তর সিদ্ধি করতে পারলে গাঁয়ের বড় বড় ঢেমনি তোর পোঁদে পোঁদে ঘুরবে বে!
ঢেমনি? কোনও মাগির মুখই আর দেখতে চাই না কাকা…
বেশ। কী চাস তবে?
আকাশের বিষ, রোদের বিষ। মাগী-মরদের মনের বিষ। অমৃত আর চাই না গো কাকা।
কী করবি রে ওইসব মহামূল্যবান বিষ দিয়ে? ব্যাপার তো বেগতিক ঠেকছে বাছা!
মনসা রাজোয়ার ফিসফিসিয়ে বলে, দাওয়াই বানাবক গো কাকা… আকাশ আর ফুটা হবেক নাই…!

***********

বনবিভাগের বড় বাবু কালীচরণ মণ্ডল নতুন ডবল ডোর ফ্রিজ কিনে পুরোনো ফ্রিজ মাধাই রাজোয়ারকে দিয়ে দেয়। মাস্টার রোলের মাধাই কয়মাস আগে বিয়েও করে ফেলেছে। এখন, সে বিনামূল্যে ফ্রিজ পেয়ে আহ্লাদিত ও গর্বিত ঘুরে ঘুরে ফ্রিজ দেখে। কালীচরণ মণ্ডলের বউ টুম্পা মণ্ডল এখন মাধাইয়ের আহ্লাদ দেখে আর পুলকিত হয় এবং স্বামীর বদান্যতায় খুব খুশিভাব বোঝায় ভেতরে লোকটার আহাম্মকির মুখে ঝাঁটা মারে। সে নতুন ফ্রিজের গন্ধ পেয়েই ইব্রাহিম মিস্ত্রির সাথে তলে তলে কথা বলে রেখেছিল, পাঁচশো টাকা পাওয়া যেত।
কিন্তু মাধাই এর বউ সবে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়া উনিশ বছরের রোগা পাতলা ঢেঙা ফর্সা মেয়ে হলে কী হবে, অনেক বুদ্ধি আছে কেননা ওর বাবা তাদের গ্রামে থাকে না, উড়িষ্যার কটকে শাড়ির কারখানায় কাজ করে। তাই সে নানা খবর বাইরে থেকে আনে আর মাধাই-এর বউ পিউ নিজেও উচ্চমাধ্যমিক পড়েছে তাই সব মিলিয়ে বেশ অনেক ব্যাপার ও জানে। ফ্রিজ দেখে হাসতে হাসতে বলে ফেলল, ও মা, এই মাল তো হেব্বি ভোল্টেজ খাবে! ফ্রি তোমার পেছন দিয়ে বেরিয়ে যাবে, সাধে কি দিয়েছে!
মাধাই এত কথা শুনে ফ্রিজের সামনে মনমরা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
বড়বাবু তো খারাপ মানুষ নয়, যতটুকু বোঝে মাধাই তার ছোট্ট মনের খোপে। সে কেন দুষ্টুমি করে তাকে বাজে জিনিস দিবে। ভালোবেসেই দিয়েছে। আর এই কথাটা নিঃসন্দেহে বুঝতে পারার মতো বিবেচনা নিশ্চয়ই পিউ এর নেই। কারোর ভালোবাসা বুঝতে হলে হঠাৎ এলে হয়  না, যেমন পিউ এসেছে, তার আর বড় বাবুর সম্পর্কের মধ্যে। বড় বাবুর মন সে এই কয়মাসে জানবে কেন, তাও আবার মাধাই এর মুখে শুনে শুনে। পিউ নিজের মন নিয়ে থাকে ও সেই মন নিয়ে কথা বলে। যেমন মাধাই বলে, বড়বাবু ও অন্য মানুষের মন তাদের কথা নিয়ন্ত্রণ করে। কথা, যা বলে ফেলে মানুষ তার মনের হিসেবে, সেটা তার বাস্তব হয়ে থাকে আর বাস্তব নিজের মতো থাকে। দুটিতে কদাচিৎ দেখা হয়, মিলন হয়। তাকেই মহামিলন বলে।
বেড়ার গায়ে হেলান দিয়ে ভাঙা সাইকেল পড়ে থাকে। মাসের পর মাস। সেটাকে সরানোর কথা ভাবছে মনসা রাজোয়ার। মোটর সাইকেল চালিয়ে যারা রাস্তা ছোট করে, তাদের চেয়ে ঢের ভালো যারা সাইকেল চালায়। এমন ভাবনা তার মাথায় আপনা আপনিই মাথা চাড়া দেয়। না, আপনা আপনি মানে অবশ্য এটা নয় যে তার জীবনে এমন কোনও ভূমিকা ছিল না। ছিল, তাই তো ভাবনাটা বড় হলো।
বউ এর গালে কষে থাপ্পড় মারলে আকাশে ফুটো হয়। ভাতারকে ডালের বাটি এগিয়ে দেবার সময় যদি ঠক করে শব্দ হয় আর কিছুটা ডাল চলকে মেঝেয় পড়ে তবে জানবে মাগী মরদের মাঝখানে বিষ জমেছে ফলত নারী সম্ভবত অপরে মজেছে। আকাশে অবিশ্যি সেই কারণেও এক খান ফুটো হয়ে যেতে পারে। মেয়েদের লজ্জাস্থানের পর্দায় ফাটল হলে বিয়ের পরে ভাতার সন্দেহ করে আর আকাশে ফাটল হলে মানুষকেই মানুষে সন্দেহ করে।

***********

বারোভাতারির মাঠের নিঝুম বাঁশ বাগান আর শেওড়ার ঝোপ-জঙ্গলে বনবিভাগ থেকে আটটা
শিয়াল ছেড়ে গেছে আজ ভর-সন্ধ্যায়। সেই শিয়ালগুলো নাকি ছাড়া পেয়েই ছুটে ঝোপের আড়ালে চলে যায় আর সেটাও বড় কথা নয়, গোপাল আর ভীম রাজোয়ারের কাছে, বড় কথা হলো একটু পরেই শিয়ালগুলো এক সুরে হুক্কাহুয়া ডাক শুরু করে। গোপাল আর ভীম নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে, যে, অপরিচিত জাগায় এসে কেমন ভাবে আটটা শিয়াল জীবনের ছন্দ হারায় না। কেমন জাদুবলে তারা ঠিক সময়ে হুক্কাহুয়া ডাকে। একেবারে প্রথম দিনেই, মাত্র কয়েক মিনিট পরেই?
কাপড়ে ডেনড্রাইট এর টিউব চিপে আঠা বের করতে করতে ভীম বলে, আচ্ছা গোপাল, বল তো বে শালা, খাঁচা বালা গাড়ি থেকে কেনে শিয়াল ছেড়ে গেল এই বারোভাতারির মাঠে?
গোপাল তার তেরো বছরের শরীরে যত পারে গোমড়া ভাব নিয়ে এনে প্রথমে কাপড়ে ঢালা আঠা ইনহেল করে গভীরভাবে, তার পর তাচ্ছিল্যের ঢেকুর তুলে জবাব দেয়, আবে লাউড়া, আকাশে যে ফুটা হয়ে যেছে বে, সেই লেগে শিয়াল ছাড়ছে মাঠে আর বাগানে বে!
হাঁ? আশ্চর্য, অবাক ভীম তাকিয়ে থাকে গোপালের চোখে। শালা, আঠা শুঁকে পাগলা হয়ে গেছে। ভাগ বে! শিয়াল কি আকাশের ফুটা সিলাই করে ঠিক করবে, বোকামারানির দুম!
গোপাল আরও গম্ভীর হয়ে যায়। চোখ বুজে থুতনি দুলিয়ে দুলিয়ে বলে, টিভিতে বলে বে, বড় বড় ডাক্তার আর মন্ত্রী সবাই টিভিতে বলে এইগুলা কথা। শুনেছে হামার জ্যাঠা আর গুরুপদ দাদু। ওরা এসব কথা বুঝতে পারে।
ভীম রাজোয়ার অনেকক্ষণ হাঁ করে থাকলে মুখ থেকে লালা গড়ায়। এখন গড়াচ্ছে। সে আর প্রশ্ন করে না। ভাবে, গোপাল তবে অনেক কথা জানে। মানুষ কত কথা জানে, ভেবে অবাক হয় ভীম। কত ব্যাপার হয় এই দুনিয়ায়, অজানা অচেনা ঘোর রহস্যের ঘূর্ণিতে পাক খেতে খেতে তার মাথা আঠার নেশার চেয়ে বেশি কিছু পেয়ে যায়। …দ্যাখে, সাইফুদ্দিন রাজমিস্ত্রির চ্যালা মনসা রাজোয়ারের বালি চলার চালনের মতো ঝাঁজরা ফুটো বালের আকাশ খানা হাঁ করে নিচের দিকে তারই পানে চেয়ে আর সেই আকাশের গায়ে দশ বারো খানা ঘুড়ি আলাই বালাই দিমলি কালাই করে লাট খেয়ে খেয়ে উড়ছে। ঘুড়িদের এই লাট খাওয়া দেখে তার তেরো চোদ্দো বছরের মনে গ্রামের বিজন ডাক্তারের বত্রিশ বছর বয়সী তাঁত শাড়ি পরা গিন্নির কথা আর গায়ের সুবাস স্মরণ হয়। হাফ প্যান্ট থেকে যেটুকু অংশ বেরিয়ে, পায়ের, সেখানে হাত বুলোয় আর আকাশ পানে তাকিয়ে উদাস, অথচ হাঃ হাঃ হাঃ শব্দ করে হাসে।
রাস্তা দিয়ে ডিজেল পোড়া গন্ধ ছেড়ে একটা লরি চলে যায়। লরি যখন চলার কাজ করে তখন লরি ডিজেল খায়। ডিজেল খেয়ে মানুষের জন্য কাজ করে। মানুষ তাকে নিজের কাজের সুবিধার জন্য বুদ্ধি খাটিয়ে মানুষ করেছে। সে কাজ করে আর বাতাসে তেল পোড়া ধোঁয়া মিশিয়ে যায়। আবার শরীর দিয়ে নানা রকম কাজ করতে করতে মানুষের শরীর থেকেও ঘামের গন্ধ বের হয়। তাতে, তবে, বিষ থাকেনা। মানুষ হাগে, মোতে আর সেগুলো পৃথিবীর বুকে আবার ধীরে ধীরে মিশে যায়। গুরুপদ দাদু বলে, মেশিন থেকে বিষ জন্ম নেয়, জীব থেকে নয়। এই যে ছোঁড়া তুই সকাল সাঁঝে হাগছিস, সেই হাগা সব্জি চাষের বাগানে দিলে মাটির কত শক্তি হয়। বড় বড় ফুলকপি সিম লাউ আলু বেগুন লক লক করে বেড়ে উঠছে ওই সারের তাকতে! আর মিনিমুখো দেখতে সুন্দর কেমিক্যাল সারে গাছ তো বাড়বে হু হু করে কিন্তু ফসলে গুণ থাকে না। ওই খেয়ে ক্যানসার, জন্ডিস, প্রেসার, সুগার!

***********

শিয়ালে মুরগি নিয়ে গেছে। সকাল থেকেই চম্পা মণ্ডল কপাল চাপড়াচ্ছে আর বনবিভাগের বাবুদের সাতপুরুষের মুণ্ডুপাত করছে। হারামির ব্যাটারা গ্রাম লাগোয়া বারোভাতারির মাঠে আবার নতুন করে শিয়াল ছেড়ে গেছে; সবকয়টা শালা পরপুরুষের দ্বারা ‘পেট করা’ মায়ের সন্তান!
জঙ্গল সাফাই করে বসত বৃদ্ধির ফলে আশ্রয় আর খাবারের অভাবে শিয়ালেরা এই তল্লাট ছেড়ে চলে গিয়েছিল। যে দুচার খানা দেখা দিত শেষ দিকে তাদের মেরে ফেলা হয়েছিল খাবারে বিষ মিশিয়ে জঙ্গলে রেখে এসে। হারামিরা মুরগি ছাগল টেনে নিয়ে পালায় রাতবিরেতে। এমনকি দুধের শিশু কে একলা পেলে ঘাড় মটকে নিয়ে অন্ধকারে হারিয়ে যায়। গাঁয়ের মাথা মাথা লোকেরা শেষে বিধান দেয়, মুরগির চেয়ে শিয়াল কি বেশি বড় জিনিস? কী লাভ শিয়ালে? আকাম ছাড়া তো কোনও ভালো মন্দ ব্যাপারে শিয়াল নাই। তার উপর এবার মানুষের বাচ্চা নিয়েও টানাটানি লাগায়। তাই ঠিক হয়, এই গাঁয়ের মানুষ আর শিয়ালকে ভালোবাসবে না ; নাহ! মার শালা! বিষ দিয়ে মেরে ফেল! মানুষের থেকে বড় হলো, শিয়াল? পাগলা কাঁহা কা! আবার এই শিয়াল গুলোকে মেরে ফেলে শিয়াল শূন্য করবে তাদের গ্রাম।
চম্পা মণ্ডল মুরগির জন্য কাঁদে। তাই দেখে, সেই কান্না, গাঁয়ের কত মোড়ল লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদে। আহারে, বেচারির স্বামী নাই। কী খাবে মেয়েটা। দু চার খান মুরগি পালন করে দিন চালায়। আর পশু পালন দফতরের অফিসাররা তাকে নানান খাতে লোন দেয়। ব্লক থেকে অনুদানের ব্যবস্থা করে। শিয়াল ধীরে ধীরে উন্নয়নের শত্রু হয়ে যায়। মানুষের বন্ধু হতে পারে না।
তবে কেন বনবিভাগ আবার নতুন করে শিয়াল ছাড়ে! ফুটো আকাশ দিয়ে কি চম্পার ব্যাংক একাউন্টে কিছু গড়বড় হয়। এইরূপ দ্বন্দ্ব সারাটা বছর আর জীবন জুড়ে পাশাপাশি চলে। নারী-পুরুষের হারামি জীবনের মাঝে নানান অছিলা ঢুকে যায়, শিয়ালের রূপ ধরে।
ধূর্ত একটা সময় শিয়ালের মুখোশ পরে ঘোরাফেরা করে। গান গায়। কামরসে অধভেজা শরীর নিয়ে নারী আর পুরুষগণ নানান মিথ্যা রচনা লেখে আর পাসমার্ক পাবার আশায় ক্রমাগত নিজেদের মুখ লুকিয়ে অনেক রকম কাজের জীবন গেঁথে তোলে। প্ৰকৃত পাশবিক চাহিদার কাছে আমিষ খাদ্যসন্ধান আর বংশবিস্তার পর্দার আড়ালে মূল্য নিয়ে বাঁচে। মানব এইভাবে চিরকাল নিজেকে হাস্যকর আর হারামি হিসেবে গঠন করতে থাকে। আর ভাবে, খুব উঁচু কোনও স্থানে তার অবশিষ্ট সংরক্ষিত হবে। অনেক পর্যটক ও সাধারণ দর্শক ফুল মালা দেবে।

***********

বাবু হালদার বা ওই রকম নামের একটা কেউ, অথবা এক্কেবারে অন্যরকম নামের কেউ একজন। আবার উল্টিয়ে দেখলে বলা যায়, স্বস্তি বর্মন বা ওই রকম নামের একটা কেউ, অথবা এক্কেবারে অন্যরকম নামের কেউ একজন। পুং বা স্ত্রী। আজ গন্ধ মেখে আসিনি, বাজার থেকে কেনা কোনও গন্ধ। সে, মেখে, আসেনি। সে এসেছে, তবে কৃত্রিম গন্ধ মাখেনি আজ।

সেন্ট মাখলে আসল মানুষ লুকিয়ে যায়।
জানি তো, মাখিনি তো।
আচ্ছা তাতে না হয় আমরা দুজন নিজেদের গন্ধ টের পাব, কিন্তু আকাশ বাতাস সবই তো বদ গন্ধে ভরে আছে…
হুঁ। আছে তো।
নির্মম উৎখননে তুলে আনা সমস্ত খনিজ যদি আবার ফিরে যেতে পারত ভূগর্ভে, নিজেদের জায়গায়!
এই যে ধরো তোমার বাইসিকেল, কোদাল, কাস্তে, লাঙল, ট্র্যাক্টর, বন্দুক, থালাবাটি, যাকিছু দেখছ, ধাতু নির্মিত ও তার পরোক্ষ ফলাফল… এই ফাঁপানো জগৎ সংসার…
আর কলকারখানা, গতির-জীবন, গাড়ি, অট্টালিকা, অস্ত্রভান্ডার…
প্রয়োজনই হতো না এসবের। ছাপাখানা, রেডিও, টিভি, ফ্রিজ…
ভাবা যায় না জাস্ট ক্যান্ট ইমাজিন!
কীটের মতো জীবন হতো তবে!
আর, এখন?
না না, ভাবো একবার, এখনো, এমন কি একটা কোনও কৃষি উপকরণও বানাতে পারেনি মানুষ নামের জীবটি, ঠিক আছে? সে এখনও সেভাবে স্থায়ী হয়নি তাই, যাযাবর হয়ে আছে ফল মূল আর মাংসের সন্ধানে…
আর তার কোনও সম্পত্তি গড়ে ওঠেনি। ‘অধিকার’ নামক বিষ তখন আসেনি জীবনে। সঞ্চয় এখনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়, সমূহের। খাঁচা বানাতে শেখেনি।
সে কি আর সম্ভব?
না।
সেরকম কি আর সম্ভব?
হতে পারে। তারজন্য প্রায় সমস্তকিছুই ছেড়ে দিতে হবে তোমাকে, ওই হাজার টাকা দামের যে প্যান্টি পরে আছ সন্তুমন্তু কে ঢেকে রাখার জন্য, ওটাও।
যা! বাজে বকে!
না গো, খুকি মেয়ে, বিশ্বাস করো, বাজে বকছি না মোটেই…হাজার টাকার প্যান্টি লাগে? ওটা ঢাকতে?
টাকার সাথে আবার ইয়ে কিসের, তাতে কী হয়?
না, তা সেটা অবশ্য অত সহজ নয়। এমনি বলছিলাম। একটু হালকা হাসি ঠাট্টা করব না? শালা আলসার হয়ে মরব, নাকি!
তা নয়, কী থেকে কী বলছ নিজেও জানো না!
আচ্ছা বেশ। বলো তবে, হয় উন্নতি নয় প্রকৃতি
মাঝে পরিমিত কথাটা একটা ধোকা। কে পরিমিতি বেঁধে দেবে । রাষ্ট্রের ফাঁদে পড়ে পৃথিবী গদ্যময়। আর হাল ধরে রেখেছে পুঁজি। …বলো, ঠিক কী না?
মেয়েটি বলে, আমাকে কই শুঁকে দেখলে নাতো, তখন থেকে শুধু বকেই চলেছে রে বাবা! এদিকে বলেছিলে যেন আর্টিফিসিয়াল এসেন্স মেখে না আসি। অরিজিনাল শুঁকে শুঁকে দেখবে, আমাকে।
দেখো, একদম অরিজিনাল, আর কিচ্ছুটি নেই…
সে তো প্রথম থেকেই, সারাক্ষণ বিভিন্ন মিশ্রণ ও বিষ…
অত পেছনে যাও কেন। আজ সেন্ট মাখিনি। কাল মেখেছিলাম। আজ কেমন লাগছে বলো, শুঁকতে?

***********

জীবনও একটা মেশিনের মতো নিজের শক্তিতে চলতে থাকে। পুরোনো ফ্রিজ মাধাই রাজোয়ারের ঘরে নিঃশব্দে চলে না। মাঝে মধ্যে ঘরঘর করে। খুব ভোল্টেজ টানছে – পিউ বলে। তার মধ্যে কত রকম খাবার রাখে মাধাইয়ের বউ পিউ। আর সেই শব্দ বন্ধ হলে মাধাইকে বলে, আমার মেজো মামা বলেছে নাতি নাতনির মুখ দেখলে জামাইকে একটা বাইক কিনে দিব!
সাইকেলেই ভালো, মাধাই এমন ভাবে বলে, যেন উত্তর মুখস্থই ছিল, কমন এসে গেছে। বেশি তেল পুড়লে আকাশ ফুটো হয়।
আকাশ না ছাই, বলো যে তোমার ইগোতে লাগছে!
ধুর! ইগো না গো, পৃথিবী গরম হয়…
আমার বডিও তো গরম হয়, হিহি, আবার তোমার, হিহি, তেল-মবিল পুড়লে ঠান্ডা হয়, হিহিহি
খুব খচ্চর খচ্চর কথা কৈছিস যে, ভিজেছে, নাকি?
কী গো?
ন্যাকা! কী আবার, পথ-ঘাট!
হুঁ। তা ঠিক সময়ে মনসুন এলে, মেঘ গর্জালে, বায়ু বইলে, ভিজবে তো পথ-ঘাট। ভিজবে না?…আর শোনো, এসব সেকেন্ড হ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল জিনিস আর কিনবে না বলে দিলাম
আরে কিনেছি নাকি?
সে কোনো বা চুরি করো যা খুশি করো না কেন বাড়িতে আনবে না…
সে আবার কী কথা…
হ্যাঁ। বলছি তো। এর যা বিল উঠবে সেটা পেমেন্ট করার মুরোদ তোমার মাস্টার রোলের বেতনে হবে না, আমাকে ঘরে লোক তুলে শুতে হবে, তবে হবে!
এই হারামজাদি!
আবার গেল দিচ্ছে, ছোটলোক!
কী বললি বাঁড়া, বল? তুই কি ভালো কথা বললি? ইলেকট্রিক বিল দিতে বাঁড়া ঘরে লোক তুলতে হবে তোকে খানকির বিটি? কীসের এত জ্বলন রে তোর, যেদিন থেকে ঘরে ফ্রিজ ঢুকেছে? তোর বাপ কে কি আমি চাইতে গেছি?
বাপ মা তুলছ তুমি…
তুলছি তো রে শালি! সুখে থাকতে ভালো লাগে না, না?
এই কথা শুনে, তখন পিউ নামের তরুণীটি, যে মাধাই এর বউ, করল কি, তার বাপের বাড়ির গ্রামে যেমন ভাদুরী বেওয়াকে করতে দেখত, সেরকমই করল। পিউ শরীর ঝাঁকিয়ে একহাত লাফ মেরে আর একই সাথে নিজের যৌনাঙ্গের দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে গলার রগ ফুলিয়ে চিৎকার করে উঠল- “হায়রে আমার সুখ, ঝাঁটের সুখ আমার!”
মোটর সাইকেল তোর মামার পাছায় ভরে দিব রে, শালা, মাধাই কে দেখাচ্ছিস বুজরুকি!
কে তুমি? এত গুমোর? মাস্টার রোলের ঢপ!
বেড়ার সাথে সাইকেল দাঁড় করানো থাকে। সাইকেলে ধুলো হয়, লতাপাতা হয়। সাইকেলের যত্ন জানতে জানতে মাধাই সাইকেলের আত্মাকে ভালোবাসতে শেখে। সাইকেলের চাকায় চাকায় তার আদিগন্ত ভালোবাসা হবে আর উদাস এক হবে, এরকম একদিন ভেবেছিল।
স্নায়ুর প্রবল চাপে সে কথাহারা হয়ে যায়।

***********

তারপর কী হলো, অনেকদিন পরে না, “রাতের বেলার রোদ” দেখাবে বলে না, এক পূর্ণিমার সন্ধ্যায় গুরুপদ না, ডেকে আনে মনসা রাজোয়ারকে। বলে, শিয়ালরা মানুষের থেকে ভালো বে, সব কয়টা একসাথে ডাকে। মানুষগুলা যত হারামি। এ বলে এই, তো সে বলে সেই ! কথার শালা কোনও ছিরি নাই, মনে মনে মিল নাই। আর যেটুকু কথা কয় যেন দুর্গন্ধ ছাড়ে, কে জানে, মুখ না গাঁড়।
মনসা রাজোয়ার খড়িমাটি দিয়ে আলপনা আঁকা দেওয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে বসে ছিল। গুরুপদ বাঁশের খুঁটিতে, ওই। গুরু শিষ্য যেন। মনসার বউ দেবরের সাথে উল্লাসে মত্ত হয়ে ঘর ছেড়েছে। ঘর ছাড়তে হতো না, মনসা কতবার বলেছে গুরুপদ কে। সত্যি বলছি কাকা, ভাইকে মেনে নিতাম। আহা, যুয়ান ছেলে, মেয়েছেলে নাই, মজেছে মজুক। মা বাপ তো নাই কাকা আমাদের, আমিই ওর মা, আমিই ওর বাপ। কতবার হাতেনাতে ধরেছি। কষ্ট হতো কাকা, বুকে। কিন্তু ভাইটার মুখ দেখে মায়া হতো। মায়ের বুকের দুধটাও খেতে পায়নি ও ভালোমতো। দ্রৌপদীর পাঁচটা ছিল, আমার বউয়ের নয় দুটো। মায়ের পেটেরই তো ভাই গো। … কিন্তু আকাশে ফুটো হলে কি হয় হয় কাকা। ও মাগীর বেটাছেলের বাই ছিল। সহ্য কি হয় কাকা, বলো? কত কুকুর যে আমার ঘরের চারিদিকে মুতছিল আর ঘেউ ঘেউ করছিল কী বলি। কুকুরদের ডেকে এনে ঘরে তুলত আর ওদের কাছে জিনিস চাইত। ভাইটারও জিনিসের লোভ লকলকিয়ে উঠেছিল। জিনিসে জিনিসে ঘর যেন একখান গুদাম হয়ে যাচ্ছিল গো। দিলাম দুটোকে লাথি মেরে তাড়িয়ে।
দেখ মনসা, চাঁদ উঠেছে বে… ফুটফুটা আলোয় ভরে গেলছে আকাশ বাতাস।
দেখছি তো কাকা।
হাঁ বে মনসা, বল তো রে বেটা, জনম আর মরণের মাঝে এত বিষ কেনে?
টিভির বাবুরা এসব কথার জবাব জানে কাকা…
বাল জানে!
না গো, জানে। কত ভালো ভালো টাই কোট পরে টিভিতে বসে যে …
না রে ছোঁড়া, বিষের খবর জানে শুধু নেতারা। দেশ বিদেশে মিটিং করে। পাহাড়ের বরফ গলছে, পৃথিবীতে গরম বাড়ছে, সব ডুবে যাবে রে বাপ, কলকাতা মুম্বাই আর কী বলে, লন্ডন! আমি শুনেছি! নিজে শুনেছি!
বলছে নাকি, গাছ লাগা, গাছ..
ভাগ বে! সুদুমুদু গাছে কিছু হবে না। টিভি ফ্রিজ এসি মোটর কলকারখানা সব বন্ধ করতে হবে।
আরে রাম। সেই কি আর হয় গো কাকা? এত লোকে খাবে কী?
কারখানায় পুঁজি খাটছে সেই লেগে লোকে খেতে পেছে বে… মানুষ গতর খাটিয়ে জিনিস বানাচ্ছে সেই জিনিস কেনা বেচার ঘুরপাকে নানা লোকে নানা কাজে মেতে আছে, টাকা ফেঁপে ফুলে উঠছে বে দুনিয়া জুড়ে…
আচ্ছা বলো কাকা, এত জিনিস লোকে কিনছে কেন? বেশির ভাগই তো আলাই বালাই।
টিভিতে দেখছে যে বে! বুরমারানির ব্যাটা!
আচ্ছা রাগছ কেনে কাকা, বলো দেখি খুলে, রাতের বেলার রোদ কি তখন আর উঠবে, যখন মানুষ জিনিস কিনাকাটা বন্ধ করে দিবে?
গুরুপদ নেশা চোখে ঢুলুঢুলু, মৃদু হেসে বলে, আরও সাফ সাফ আলা হবে বে চাঁদের, ইনডাইরেক্ট লাইটে বেশি মজা রে বেটা, পরের বউ এর পরের ভাতার যেমন মিষ্টি মিষ্টি হয়…
হুঁ, বনবিভাগের বড় বাবুর বউ নিজের ভাতারের ঘরে খাল কেটে নাকি কুমির আনছে। ইব্রাহিম মিস্ত্রি শিয়ালের মতো ঘুরছে ওদের ঘরের চারিদিকে।
এ বে বোকা, না বে! ইব্রাহিম ওদের পুরানো ফ্রিজ জলের দামে কিনবে বলে এতদিন ঘুরছিল…। আর মনে হয় ওদের কাছে যায় না। বড় বাবু তো মাধাই গাধাটাকে ফ্রিজটা এমনিই দিয়ে দিয়েছিল।
আচ্ছা কাকা, মাধাই ছেলেটা মরল কেন বল দেখি?
কেন মরল জানি না রে মনসা। কে যে কেন মরে। কিন্তু কী ভাবে মরে পড়েছিল ছোঁড়াটা, সেটা আমাকেই প্রথমে দেখতে হলো।
বলো, শুনি।
খুব ভোরে-ভোর একটা তিতকুটে বিচ্ছিরি গন্ধে ঘুম ভেঙে যায়, বুঝলি। ফুসফুসে হালকা অস্বস্তি হয়। বিষের গন্ধ। ধানের বিষ, না আম গাছের বিষ ঠাহর হয় না। কোথা থেকে আসছে গন্ধটা তাও ঠিক বোঝা যায় না প্রথমে। তারপর উঠে ধানের খইলানের দিকে পেচ্ছাপ করতে গিয়ে , হায় রে, বুকে যেন বাজে পড়ল আমার। মাধাই ছোঁড়া ফেনা ওঠা মুখ থুবড়ে পড়ে আছে ঘরের পেছনের খড়ের গাদার পাশে। …কী বিষ কে জানে।বনবিভাগের অফিসে অনেক রকম বিষ থাকে, বুঝলি।

***********

নারী-পুরুষের বিষ, আকাশ-বাতাসের বিষ, এইসব বিষ জথাস্থান থেকে বের করে মনসা রাজোয়ার বিক্রি করে। একথা কেউ কেউ জানে। কেননা নেশা করার জন্য তার কাছে আজকাল চড়া দামে সেই বিষ কেনে অনেকেই। যেমন, গোপাল আর ভীম রাজোয়ার। তাদের কিশোরবেলা পেরোতে না পেরোতেই তারা আঠার মোহে জেরবার, ক্ষয়ে ক্ষয়ে যাওয়া বালক কাল, আকাশের দিকে আঙুল তুলে দেখায়। সেখান থেকে ফুটো বেয়ে জ্বালা আর অন্ধকার নেমে আসে। আগে ভাবতো ওদিকটায় ভগবান থাকে। তাই আঠা শুঁকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকতো। বুঝি রসগোল্লা ফেলবে মুখে, ভগবান!
রেপ করার ছক কষে দুই সাগরেদ। কাকে করবি বে?
গোবর তুলতে গোরুর পাছায় পাছায় ঘুরে যে মেয়েছেলেটা, লম্বা মতো, কালো চিকণ শরীর আর দুধ গুলো ধলক ধলক করে দুলে ওই মেয়েছেলেটাকে!
চোরকাঁটা বাঁচাতে শাড়ি তুলে ঘুরে বে মাঠে মাঠে, টাইট জাং দেখা যায়…
ওর একটা বাচ্চা আছে বে, ও অনেক বড় মাগি বে!
তাতে কী বে, ওকেই রেপ করব। আমি চাক্কু ঠেকিয়ে রাখব গলায় আর তুই শালা চুদবি। আর তুই যখন চুদবি তখন আমি চাক্কু ধরে থাকব।

গরু চরে, মাঠে। ঘাস খায়। শিয়ালে মুরগি ধরে নিয়ে যাবার পর থেকে চম্পা মণ্ডল মুরগির জন্য এখনও কাঁদে। আর চোরকাঁটা বাঁচিয়ে শাড়ি তুলে গোবর কুড়িয়ে বেড়ায়। সেই গোবর দিয়ে গ্রামের প্রাইমারি স্কুলের বাউন্ডারি ওয়ালে ঠুকে ঠুকে ঘুঁটে দেয়। আবার সেই ঘুঁটে পাড়া পড়শি কেনে, আসেপাশের গ্রাম থেকে কুমোররা কিনে নিয়ে যায়। এইভাবে গরীব দুখি স্বামীহারা চম্পার বাচ্চা কাচ্চা নিয়ে সংসার চলে। তিন বছর আগে শুক্রবারে টক খেয়ে ফেলায় তার এই হাল। সন্তোষী মায়ের অভিশাপে জীবনটা জ্বলে গেল। যুবতী বয়সে না থাকল ভাতার না আছে ভাত।
আহারে, মুরগিটা কতগুলো ডিম দিত। কয়টা টাকা হতো। টাকা ছাড়া কী হবে গো।
হতচ্ছাড়া মনসা রাজোয়ার বলে, দুনিয়ার সব টাকা ছিঁড়ে ফেলে আগুন লাগিয়ে দাও। টাকা মানে পুঁজি, পুঁজি মানে বিষ। সস্তায় লেবার লাগিয়ে অধিক মুনাফা, তাও আবার উবুর ঝুবুর বিষ আর অদরকারি জিনিষ বানিয়ে আর বেচে। গোরুর পোঁদে পোঁদে ঘুরে গোবর তুলে ঝুড়িতে আর নিজের মনে সারা দুনিয়াকে গালমন্দ দেয়। দেখে আঠা শুঁকে চিৎ হয়ে শুয়ে থাকা চ্যাংড়া দুটো আজ তার কাছে কাছে নানা অছিলায় ঘুরছে। মতলব বুঝতে পারে না। ওরা বারবার দেখছে। বাচ্চা ছেলে দুটো। কী জানি কী মতলব। …শেষে ওরা, গোপাল আর ভীম রাজোয়ার, চম্পার পায়ে পায়ে ঘুরঘুর করতে থাকলে চম্পা তখন বিষয় বুঝতে পারে। ডেকে বলে, হ্যাঁ রে সোনা, তোরা কাছে এসে বস তো বাবা। দুটো কথা কই। আর যা না, দুটো ভুট্টা কি একটা পাউরুটির কি চাট্টি চাল কোথাও থেকে চুরি করে নিয়ে আয় না। আর তাড়াতাড়ি আসিস, এসে আমার জাং এ কী একটা পোকায় কেটেছে একটু দেখে দিবি।
গোপাল আর ভীম রাজোয়ার বলে, পোকায় কেটেছে না বিষ লেগেছে সেটা মনসা রাজোয়ার জানে।
সে যাই লাগুক যাই কাটুক, দেখতে দিব ছুঁয়ে, আগে পাউরুটি চাল নিয়ে আয়।
আকাশের দিকে নুনু দেখিয়ে গোপাল আর ভীম বলে, শা আ আ আ লা!

Facebook Comments

Leave a Reply