শ্রেয়সী গঙ্গোপাধ্যায়-র কবিতা

খন্ডচিত্র

জলের গভীর হতে উঠে আসা ঝিনুক
শান্ত হাতের তালুতে রাখা পদ্ম
এপিক পর্যায়ে রেখে আসা প্রাইম টাইম
ঘিলু ভর্ত্তি প্যাঁচ পয়জার আর সুলেখা কালি
কালিমা লিপ্ত বেঁচে থাকার আলগা পুলক
সদ্য ঘুম ভাঙার পর আনমোনা দৃষ্টির স্রোত
গাজন ঠাকুর বাহির বাড়িতে, হইহুল্লোর
গাজন ঠাকুরের ভাগ্যে বাতাসা জোটেনি
কুহকের দিনগুলো উঠোনের সবজিতে
কুড়িয়ে রাখছে মুক্ত বাতাস
জ্যোৎস্না বিবি আঁজলা মাপা পাণিতে
ধুইয়ে দিচ্ছে বাহির বাটি
রোদের দানা কুহক চিবিয়ে খাচ্ছে
জ্যোৎস্না বিবির ঘোমটায় মরা রোদ
অনর্থক ডেকে আনছে পাড়া গাঁয়ে
নিরলস বস্তার পিঠে গিঁট খুলছে,
শিখে নিতে হচ্ছে সন্ধ্যা আরতি
ধূপের গন্ধে নাক আটকে আসে হাসিনার
মরা পেট নিয়ে উঠোনে দাঁড়ানো
জাবর কাটা চোয়ালে মা নিষাদ!
পাখির ডানায় লেগে থাকা আদর
অনেক উঁচু দিয়ে উড়ে যায় উঠোনের
বাবা মরে যাওয়ার পর ন্যাড়া হয়েছিলো
আব্দুল, মিঞাভাই বলে ডাকছে পোষা টিয়া
ছাই গাদার পাশে কুঁকড়ে আছে কুকুর
লাল পিঁপড়ে ছেঁকে ধরেছে ডান চোখ
পাক্ষিক গোচরে সনাতন দুপুর
গোসল করা পিঠে জলের বিন্দু
চাঁদের বেলা সংশয় পরোয়ানা
তীব্রতা ছুটছে যেন পয়গম্বর
জ্যোৎস্না বিবি কুঁকড়ে খাচ্ছে পায়েস ভাত
উঠোনে গোয়াল যেদিকে সেদিকেই আলেয়া
পুরানা কাপড় পুড়িয়ে মাদক গন্ধ
দেহতল! ওহে দেহতল জুড়ে ইবাদত
লগ্ন পোহাইলো বিবাহ বাসর, ওহে চাঁদ!
পিঠা পুলির দুপুরে চারণ কোথায়?
কোথায় বা থাকলো চুন্নির পরচূলা!
আগামী এসে ডেকে চলে যায়
বিরহমাস, পয়মন্ত বলে
ছাইয়ের গাদায় বেড়াল ছানা।
গভীর হতে উঠে আসা জল পরাণে
মধুমাস মধুমাস চিল্লিয়ে জ্যোৎস্না বিবি
প্রাইম টাইম কুড়িয়ে রোদ পোহাচ্ছে
বিষাক্ত নিবিড়তা এই চরাচরে…

সওগাদ

জলস্রোতের বিষণ্ণ ব্যালকনি
পলিমাটির ক্রিসক্রস নিংড়ে
আওয়ার রানওয়ে কাইট ও ভোকাট্টা
শৈশব জড়ানো মহালয়ার বারুদ
গন্ধের গভীরে উৎসব জড়ানো পঞ্চমীরাত
নিঝুম ঝুলছে কথিত ধাত্রী
সদ্য প্রেমে পড়া ধুনুচির গহনে দীপান্বীতা
মহালয়া আর পঞ্চমী, এই একমাসের দূরত্বে
প্রতিমা রাভা ‘বাখর’ বানিয়ে বস্তায় পুড়েছে অনেক
ছেলে শিঙি মাছের কাটা হাতে বিঁধে
বিছিয়েছে – সোহাগ;
প্রেমিকা তার, কোমরে খলুই নিয়ে
উদ্ভিন্নযৌবনা; যেমন মগ্ন কুয়াশায়
আঁকড়ে ধরছি ধানক্ষেত ও রঙিন পানাপুকুর।

রোশনাই উঠে আসে, রাতের মাঝ হতে
পিঠে মস্ত এক সূর্য বেঁধে ঘরোয়া শিবাঙ্গী
প্রতিমা রাভা চুল্লীর আগুনে যৌবন ফলায়
মেয়েটার প্রেমিক জোটে তো দরদিয়া পরাভব-
ওগো স্বপ্নের উপাধান
সিলেবাস শেষ করে প্ল্যাটফর্মে এসে দাঁড়াই
আমার ছাত্রীর বেশে সামনে
মালঞ্চ ও মণি কিসকু
আঙুলের তিল নিয়ে ক্ষমাপ্রার্থী হয় বৃক্ষরূপী ঈশপ
বিষাক্ত মধুমাস জাপটে সিদুঁর খেলা।

আওয়াজ এসে শরীরে চাদর বিছিয়ে যায়
মাঝরাতের আগমনী অপূর্ব দু’চোখে
প্রতিমা রাভার দাম্পত্য বিষণ্ণ ব্যালকনিতে সহজিয়া
অষ্টমীর স্পার, ঝকঝকে আগমনী বার্তা স্মৃতির নিখাদে
এক পদক্ষেপ লেখা হয়ে যায়
এক দেবীপক্ষ ভালোবাসার;
রূপকথারা মেঘলা হয়ে আসে গর্ভ নিনাদে
পাহাড়িয়া চোখ জলে ভাসে; প্রতিমার-

Facebook Comments

Leave a Reply