নার্ভ-গ্লোবিউলিন স্যুপ : সৌমনা দাশগুপ্ত

fail

কুয়াশার আইসক্রিম বানাতে বানাতে ঘেমে উঠছে জানলা। সাধন করলে মিলবে কি মনের মতন পাকঘর! এই যে উদ্দাম আখা, আস্ত জিভ ঢুকিয়ে তুলে নিচ্ছ হলাহল, আর এই দেহ ক্রমে ক্রমে এক মডিউলার কিচেন, রং ঢালতে ঢালতে আর নদী টাঙাতে টাঙাতে এ ঘর একদিন ডুয়ার্স-জঙ্গল, শাল-সেগুনের ড্রামস্টিক দেখে লক্‌লক্‌ করে উঠছে রসনা… বানাই আমি বানাই… হাড়ের নিঃসঙ্গতার ভেতর ভরে দিই দগ্ধ উটের শিরদাঁড়া, আর দেখি ঝুলকালিমাখা ঘরখানি কেমন সিপিয়া টোনে ছুপিয়ে তুলছে পোস্টকার্ডের, ইনল্যান্ড-লেটারের দিনগুলিকে। খামের ভেতর রান্না হচ্ছে ঠোঁট-সমগ্র, খামের ভেতর রান্না হচ্ছে বোনলেস হাসির চিৎকার।
সিপিয়া টোনের ওপর ঢেলে দিন এক টেবল-স্পুন ডার্ক সয়াসস, গার্নিশিং-এ থাকুক কিছুটা পেরেককুচি, একটি মরুভূমির উদ্‌গারের গন্ধে ম্যারিনেটেড হতে থাকুক ততক্ষণে আমাদের সায়াটিক-নার্ভ, যখনই আপনি অনুভব করবেন এক গাঢ় ও গম্ভীর ব্যথায় আচ্ছন্ন হতে শুরু করেছে তন্তুগুলি, বুঝবেন টেন্ডার হয়ে উঠছে আপনার রন্ধনের উপকরণ। এই ফাঁকে একটি মেঘের সঙ্গে ঘষতে থাকুন আরেকটি মেঘ, এবং ঘষতেই থাকুন যতক্ষণ না অব্দি জ্বলে ওঠে আগুন। প্রসঙ্গত বলে রাখি, যদি শুধুমাত্র মেঘে কাজ না দেয়, আপনি ঢুকিয়ে দিতে পারেন আপনার হাত ও পায়ের পাতা, কিছু ঝুরোচুল এক্ষেত্রে আপনাকে দাহ্য হয়ে উঠতে আরও সাহায্য করতে পারে।
আগুনের রং নীল হয়ে উঠলে তার ওপর বসিয়ে দিন আপনার করোটি, এবারে দু-চামচ মরীচিকা স্প্রিংকল করে, করোটির মধ্যে ছিটিয়ে দিন নদীর বীজগুলি। এখানে বলে রাখা ভালো, বীজগুলি কিন্তু আগেরদিন থেকেই ভিজিয়ে রেখে অঙ্কুরিত করে নিতে হবে, এর মধ্যে দিয়ে দিন মিহি করে বেটে রাখা কার্তুজের গান ও একটি ড্রাগনের দাঁত। যখনই আকাশের গায়ে মরীচিকা ভেসে উঠছে দেখতে পাবেন, ঢেলে দিন দু-চামচ আগ্নেয়গিরির ছাই ও এক-হাতা ঝিরিঝিরি করে কেটে রাখা লোকগল্পের খোসা। এবং ভাজতে থাকুন, এবং ভাজতে থাকুন, তলে ধরে আসছে দেখলে মাঝেমাঝে দু-এক আঁজলা ঝিঁঝিঁর ডাক ছিটিয়ে দিতে ভুলবেন না। আপনি কি বারুদের গন্ধ পাচ্ছেন?
এবারে ম্যারিনেশনের দিকে নজর দিন, আপনি কি গিটারের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছেন, জল-সিম্ফনির সুরে আপনার রান্নাঘরটি কি ভিজে যাচ্ছে? তাহলে টেন্ডার হয়ে গ্যাছে আপনার সায়াটিক নার্ভ। হাত দিয়ে আরও একবার চটকে মাখিয়ে নিন, সাবধানে ছেড়ে দিন করোটিতে, কষানো মশলার ভেতরে। এবং কষাতে থাকুন… যখন গোটা ঘর ভরে উঠবে একটি ছুরির আত্মজিজ্ঞাসায়, ঢেলে দিন এক লিটার কোকিলের কান্না, এবং ফুটতে দিন। যখন টগবগ করে উঠবে হাওয়া, আর বয়ে যেতে থাকবে আপনার হাড়ের ভেতর দিয়ে, আপনা-আপনিই কমে আসবে আঁচ। আর এই স্যুপ ফুটতেই থাকবে, আর এই স্যুপ ফুটতেই থাকছে
পুনঃ সার্ভ করবার সময় সিপিয়া টোনের ওপর আপনার শ্বেতকণিকাগুলিকে সাজিয়ে দিতে ভুলে যাবেন না

Facebook Comments

Leave a Reply