স্বরূপ সুপান্থ-এর কবিতা

রাজা অশোক ভেবেছিলেন

অন্তর্ঘাম যেভাবে ঝরে, ওহ সময়
দেখাও সুনিশ্চিত কলরোলের ভেতর
জীবনের ঘ্রাণ পটিয়েপাটিয়ে কিভাবে মজদুর করে রাখে
সীমানা নিয়ে দু’পাশের দুইপাখি কি কখনও ঝগড়া করে
আমাদের শিক্ষা তবে আবলুস কাঠের নন্দন!
ঘেরাও গ্রাম-প্রস্তুতি চালান ভুষিমাল
মগধের সীমানায় বসে রাজা অশোকও কি ভেবেছিলেন—
জীবনের অর্থ বড় সংক্রামক, ভেতর-বাহিরে ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই রব
রগের সীমানা—তার ভেতরে রক্তগুদাম, তার পথ ধরে হেঁটে
মননের পলিভূমে বুদ্ধ কি তবে শান্তি দিয়েছিল তাঁকে দু’দন্ড…
আমাদের বিশ্বাসের অববাহিকায় কতো কিছুই চিরস্থায়ী নয়
কপিল, মার্কস, যীশু, মুহম্মদ—আত্মার ভেতরে এ কী অন্তরাত্মা
অন্তর্ঘাম কিভাবে উদয় হয়… বয়েসী বটের ঝুরি
তোমার সসীম আয়ু আমার থেকেও বেশি

শব্দজ্ঞান

আমি কবিতা লিখিনা
শব্দের সম্ভাব্য গতিপথ নির্ধারণ করি মাত্র
পরিপূর্ণ আস্থার সংকটে শব্দজ্ঞান
ব্রহ্মজ্ঞান মনে করে স্বস্তির সন্ধান করি
এমন অনেক পথে
ব্যবহারিক অনেক শব্দ
আমার ভাষা-জ্ঞানের পরীক্ষা না নিয়ে
আমাকে মুখর করে
এতে এমন প্রতীতি জন্মে—
মানুষ শব্দের আগে আগে চলে

আমার জন্মের কালে
আমার কান্নার শব্দ সটীক নিশানা যদি খুঁজে পেয়ে থাকে
অক্ষরহীন সে কান্না, শব্দের জগতে লেখা প্রথম কবিতা
পৃথিবীর অহোরাত্র বিষাদের বিরুদ্ধে শুরুর প্রতিবাদ!

কোথায় পাব তারে

সমুদ্রেই সম্ভবত। জলের ভেতর? সবুজ বর্শাফলক গেঁথে দাঁড়িয়েছে যে গাছটি,
তার আয়ু? নিবিড় সান্নিধ্য। আমাদের পরস্পর। খোলা খাতা। আঁকা স্কেচে
ভরে যাচ্ছে দিনলিপি। কমে যাচ্ছে কথা। মৌন মৌন লাগে। খুঁজি, খুঁজি তারে।
সে কোথায়?
হাতে বল্লম খুঁজি শিকার। মানুষের মত। কোথায় পাব তারে? না চাইতে চাইতে
তোমার কাছে এসেছি, না পাইতে পাইতে তোমারে পাব বলে। তোমারে পাব বলে
স্মৃতির দক্ষিণ জানালায় হু হু বাতাস নিয়ে বসে থাকি। আমার দীর্ঘশ্রম ঘাম।
আরক্ত দরোজায় ভেজানো আমন্ত্রণ
খোলো… ঢুকো… এবং নেমে পড়ো

নিকানোর পাররা

শাদা তুমি সর্বদা শাদাই থাকো
অক্ষরের কালো কালিতে ডুবো না
বনান্তে যে পাখির বাসা শেষ হয়
তার শিস টুকে নিতে ভুলো না

পাখির স্বদেশ বলে তো কিছু থাকে না
করিৎকর্মা ডানার ভার বইতে পারে ক’জনা
শাদা তুমি বারংবার শাদাই থাকো
তারচে’ উৎকৃষ্ঠ লেখা লিখিত হয় ক’খানা

Facebook Comments

Leave a Reply