কেমন আছ : প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়

fail

ওইতো যেমন থাকে কলকাতার নাগরিক ব্যাং-মানুষ,ভাস্করের কবিতায়: তেলের মধ্যে জল হয়ে, মধ্যপন্থী সেজে, কাগের পিছনে দৌড়ে?—‘কে যেন ইয়ার্কি করে ব্যাঙের রক্ত ঢুকিয়ে দ্যায় আমার শরীরে—আমি চুপ করে বসে থাকি—অন্ধকারে … তখন জল দেখলেই লাফ দিতে ইচ্ছে করে আমার…মুখ উঁচিয়ে নিশ্বাস নিই সারাক্ষণ—ভালো লাগে না সুপর্ণা, আমি মানুষের মতো না,আলো না,স্বপ্ন না …পায়ের পাতা আমার চওড়া হয়ে আসছে ক্রমশ…যেদিক দিয়ে আসি, সেদিকেই দৌড় দিই।’ অর্থাৎ–সরীসৃপ প্রবৃত্তি। ব্যাং উভচর, সে জলেও থাকতে পারে, ডাঙ্গাতেও। এ এমন এক সময় যখন মুখর প্রতিবাদের শহর কলকাতার মনন-চিন্তন কেমন যেন নীরব-নিঃস্পৃহ-নিরাসক্ত-বিচ্ছিন্ন আর উদাসীন । কোনও ওষুধেই কাজ হচ্ছে না। বিড়বিড়াচ্ছে নো ভোট টু…নো ভোট্টু…। স্বর্গে, অর্থাৎ আম বাঙ্গালির শহর কলকাতায় এখন সর্বার্থেই ‘নরক-গুলজার’’। হে ইলেকশন কমিশন, পরের বার যেন শীতকালে ভোট হয় পশ্চিম বাংলায়—ব্যাংগুলো অন্তত ঘুমাইত নিঃসাড়ে!!!

‘Dafur sind unsere Martyrer von 1989 nicht gestorben’, অর্থাৎ, (এমন হাল-হালতের জন্য ‘আমাদের শহীদেরা প্রাণ দেননি)—মধ্য জানুয়ারি, ২০১২—বুখারেস্টের রাস্তায় কেউ একজন এই শ্লোগান দিচ্ছিল ।’হে পাঠক, এরই পাশে রাখি সম্পাদকের সাহসী প্রশ্ন। সাহসী, কেননা—এসময়ের ভারতভূমিতে সচরাচর কেউ আর আগন্তুককে এসব প্রশ্ন করেন না! কোনও এক কালে আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে জিজ্ঞাসা করা হত, সম্পাদক যেভাবে শুধাইলেন –‘কেমন আছ?’। ‘আছ’–অর্থাৎ,ক্রিয়ার বর্তমানতা। অতএব, প্রশ্নের মধ্যেই যা ইমপ্লায়েড, থুড়ি, পাতালনিহিত রয়ে গেছে তা হল পরিচিত অতীত আর আমাদেরই অনাগত ভবিষ্যৎ। রুমানিয়ার এসময়ের মানুষটি খুল্লমখুল্লা জানিয়ে দিচ্ছেন যে ১৯৮৯ পরবর্তী ‘পোস্ট-কম্যুনিজম’ সমাজের যাথার্থ্য নিয়ে তিনি স-বিশেষ সন্দিহান। তাই মিছিলে এসেছেন, তাই তার শ্লোগান-হুঙ্কার।

বুখারেস্ট থেকে সিধে ২০২০-র দিল্লির রাজপথে চলে আসি বরং। সেখানেও কি গত একশো সা্ত-দশদিন ধরে ‘গুঞ্জ উঠা ইনসান’-এর হল্লাবোল নেই? হে আমার বর্তমানতা, হে আমার উদাসীন উদ্বিগ্নতা—তোমাকেই ফিরে প্রশ্ন করতে চাই—অর্থনীতির ওপর রাজনৈতিকতার গাদাগুচ্ছের ‘করাপ্ট’ প্রভাবগুলো কি অনুবীক্ষনহীন খোলা চোখেই নজরে পড়ে না? মা লক্ষ্মী নিজেই বেচেবুচে দিচ্ছেন এতদিনের সংরক্ষিত গহনাগাঁটি, নবরত্নটত্ন! আর জনতা চীনা-পাকিস্তান আফিমে বুঁদ! কি বিস্ময় কী বিস্ময়। আঠারোশ’ চল্লিশের গুয়ানঝু-হুন্নানবাসী নাকি আমরা? ২০২১-এর বঙ্গীয় কলকাতার নয়? আমরা কি একটি সহজ প্রশ্নের সোজাসাপ্টা উত্তর পেতে পারি না: নেহেরুর উত্তর ঔপনিবেশিক ভারত কি মিশ্র-অর্থনীতির পথে হেঁটে ভুল করেছিল? ’অস্তিত্বিক’ অর্থনীতির এই সরল প্রশ্নটির সাদামাঠা রাজনৈতিক উত্তর কি খুঁজে পাওয়া সম্ভব? ব্যাঙ্কগুলোকে বেচার আগে কেন আমরা নীরব-মেহুল-ললিত-মাল্লার এক্সট্রাডিশনের অর্ডার পাবো না? উপরিল্লিখিত শ্লোগানটি তুলে ধরে অগাস্টিন স্তোইকা পলিটিক্যাল ক্যাপিটালিজম বা রাজনৈতিক ধনবাদ-এর কথা পেড়েছেন। কিন্তু, রাজনৈতিক ধনবাদ বস্তুটি কি? স্তোইকা লিখেছেন (সন্দর্ভ পোস্ট–কম্যুনিস্ট রুমানিয়া) ‘an economic order which implies making significant profits under the protection of and / or thru unusual deals with political authorities.’=এমন এক অর্থব্যবস্থা যেখানে রাজনৈতিক কর্তৃত্বের নজরদারিতে এবং / কিংবা অস্বাভাবিক লেনদেনের মাধ্যমে তাৎপর্যপূর্ণ মুনাফা ‘আয়” করা সম্ভব। অর্থাৎ, এমন এক মনিটারি সিস্টেম যা রাজনৈতিক ‘করাপ্ট’ কাজকারবারের দ্বারা প্রভাবিত। কুড়ি-একুশের ভারতে কি ‘পলিটিক্যাল ধনবাদ’-এর বিষাক্ত উত্থান দেখতে পাচ্ছেন?
১৯৮৯: ধ্বসে পড়ল বার্লিন দেওয়াল।
১৯৮৯: ক্যমুনিজমের উৎখাত।
১৯৮৯: বাজার অর্থনীতির ব্যাণ্ডবাজা: তিয়ানানমেন স্কোয়ার।

অতঃপর, ফুড ফর ওয়ার্ক প্রকল্পে শিকড় খুঁড়ে চলেছে গভীরতার জট,তদবধি, কর্মক্ষম করে তোলার লক্ষ্যে কেঁচোকে দেওয়া হল—গ্রানিট মৃত্তিকা আর হিমাঙ্কের নীচে জলের ওই তূষ্ণীব্রতে (গণ্ডময়) সচল হয়ে উঠল গোছাগোছা নির্ঝরিণী; শিশিরের সঙ্গে তুলনীয় হল কান্না—দৈনন্দিন অশ্রুনিপাতে যদিও, মুখেচোখে, সাঁটানো থাকল কিছু অর্বাচীন ক্যালিগ্রাফি— প্রবাদ-প্রাচীর ভেঙে দিয়েও গ্রাম–বিশ্বে কেন ঘোচে না ফারাক,অনর্থ—অর্থের? পশ্চিমি প্রচারপত্রে ফুকিয়ামা লিখলেন ‘এন্ড অব হিস্ট্রি’ আর শ্রীশ্রী হান্টিংটনের জুবানিতে রুজিরুটির প্রশ্ন পেয়ে গেল কড়কড়ে নতুন তক্মা– ‘ক্ল্যাশ অব সিভিলাইজেশনস’।

প্রতিনিধি স্থানীয় অধিকাংশ সমাজবিজ্ঞানী মনে করেন: অর্থনৈতিকতার সূত্রেই রাজনৈতিক / সামাজিক / অস্তিত্বিক ভালো থাকা সম্ভব। যুদ্ধ বাগীশ ইউরোপই চেয়ে বসল—মানুষের ভালো হোক। আগ্রাসী সামরিকতা, ফ্যাসিবাদ, জাতিবাদ রুখে দেওয়ার জন্য জন্ম নিলো ই-উ (ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন)। বিশ্বায়নের জোয়ারে—শুধু য়ুরোপ নয়, দুনিয়াজুড়েই সেই চিন্তা-চেতনা আরও দৃঢ়তর হয়ে উঠল। বিশ্বায়নী পণ্যপুরাণে আ-বিশ্ব কর্মোদ্যোগের অংশীদার হলেন সারা পৃথিবীর উদ্যোগী মানুষ। ভারত-ও এক বড়োসড়ো শরিক। সুতরাং’কেমন আছি-র’ আধুনিকতাকে ছোঁয়ার জন্য (সংক্ষেপে) সেই ইতিহাসের পর্যালোচনা প্রয়োজন।

২০২০। বার্লিন-প্রাচীর পতনের তিন দশক পার। ২০২০-র পৃথিবী,বস্তুত, এক আন্তর্জালিক বড়োসড়ো গ্রাম। ২০২০-রই শেষলগ্নে লেখা একটি প্রবন্ধ পড়লাম। লেখক জন শ্যাটুক, বুদাপেস্টের মধ্য ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন সভাপতি, জন এফ কেনেডি লাইব্রেরির সিইও, চেক প্রজাতন্ত্রের মার্কিনী রাষ্ট্রদূত। ২০২০-২১: বিশ্বের চোখে ভারতীয় গণতন্ত্রের অবনয়ন ঘটেছে বলে নিউজ আইটেম নজরে পড়ছে। শ্যাটুক লিখছেন–‘১৯৯২-য়ে গণতন্ত্রই একমাত্র খেলা ছিল বিশ্বে। (অর্থ হয়: কম্যুনিজমের উচ্ছেদ = গণতন্ত্র,বাই এক্সটেনশন বাজার অর্থনীতির প্রবসন)। ইউ এস ডিফেন্স সেক্রেটারি লয়েড জ অস্টিন-কে ভারতীয় গণতন্ত্রের হাল-হালত নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করার জন্য অনুরোধ করেছেন সেনেটর রবার্ট মেন্ডেন্দেজ। একটা চিঠিতে তিনি অস্টিনকে জানিয়েছেন যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপরই ভারত–মার্কিন সম্পর্কের অংশীদারীত্ব বাঞ্ছনীয়। শ্যাটুক মনে করেন যেনতেনপ্রকা্রেণ দায়িত্বভার কাঁধে তুলে নেওয়াই গণতান্ত্রিকতা নয়।‘It’s about building institutions, and particularly institutions that channel the representative qualities of democracy, whether it be independent courts, or uncensored media that provide information for an informed citizenry, or strong and independent civil society organizations. শ্যাটুকের কথাগুলো- ‘স্বাধীন আদালত, তথ্যাভিজ্ঞ নাগরিক, শক্তিশালী ও উচ্চশির সুশীল সমাজ এবং অনিয়ন্ত্রিত মিডিয়া—গোছের শব্দাবলী কানে বাজে কি? না বাজিলে, ’কেমন আছ’-র উত্তর অবশ্যই সদর্থক।

শ্যাটুক লিখেছেন—সীমান্ত বিলোপই হল একীভবনের সবচেয়ে বড়ো ক্যারিশ্মা: দেশগুলো আর দেশবাসীদের মধ্যে মুছে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় সীমান্ত, অর্থনৈতিক ঘেরাটোপ। আর্থিক লেনদেন ভিত্তিক ‘বর্ডারলেস’ বিশ্ব,পুব আর পশ্চিমের মধ্যে আদান-প্রদান, মুক্তবাজার ব্যবস্থা, মূলধনের ‘এফ-ডি-আই বিনিয়োগ, বিশ্বব্যাপী শ্রমের বাজার…আর রাষ্ট্রভিত্তিক উন্নয়নের জায়গা নেবে এখন গ্লোবাল উন্নয়ন। রাষ্ট্রিক গণ্ডি বহির্ভূত অনেক আর্থিক সংগঠন গড়ে উঠেছে—বিশ্বব্যাঙ্ক, আইএম এফ, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার…যোগাযোগের কল্যাণে আমরা পরস্পরের আরও কাছে পৌঁছে যাচ্ছি, যাবোও। আমাদের অর্থব্যবস্থাগুলো পরস্পরের আরও কাছে আসবে। শাটুক নিশ্চিতই ঠিক। কিন্তু চাঁদের উল্টোপিঠেও কি ধামা ভর্তি জোছনা দেখা যায়? চীনা মানুষটি বললেন আমেরিকা ট্যারিফ লাগিয়েছে, ব্যবসা গোটাতে হুকুম দিয়েছে ট্রাম্প। ভারত নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে। ব্রেক্সিট করছে ব্রিটেন। জাতিবাদ ফের মাথা তুলছে ইওরোপে । কিন্তু ভয় কীসের বললেন বরিস জনসন। ধরিত্রী তো এখন ইউনিপোলার। মানুষ কি নিজের ঘাড়েই নিজে বোমা ফেলবে? কেমন আছ জুলিয়ানা গিস্পি? ইল্লামা ঘুটেয় উনুনে সাজিয়ে রান্না চাপিয়েছ কি দখিন পেরুতে?

চাঁদে কলঙ্ক লাগার মতো রুজিরুটির চিন্তাভাবনা যেন প্রকৃত গোরস্থান খুঁজে পেয়েছে পরিশীলিত বোধবুদ্ধিতে । চারদিকে ধর্মীয় লড়াই। মুচকি হেসে কবরে চাদর মুড়ি দিলেন জেমস মিল। উদারনৈতিকতার ইত্তা বোলবালা ।কম্যুনিজম @ গায়েব! লিবারাল ডেমোক্র্যাসি এভ্রিহোয়্যার। ফিরভী—বসনিয়া-হারজেগোভিনা। ফিরভী—য়ুগোশ্লাভিয়া খানখান। হ্যাঁ, এটাই এ সময়ের বাস্তবতা। ছিঃ! পুটিন, ছিঃ কোলিন্দা গ্রেবার—কেন এতো জাতিবাদের উত্থান, কেন ব্রেক্সিট, কেন শাহিনবাগ-কেন কৃষক রমণীর মুষ্টিবদ্ধ সংগ্রাম,‘সত্যবদ্ধ অভিমান’? পূর্ব-মধ্য ইউরোপেও শুনেছি দানা বাঁধছে বিক্ষোভ!তবে কি পাশ ফিরছে ইতিহাস? এ কথা কি সত্য নয় যে বাইরে থেকে একই রঙের মনে হলেও চেক-পোলিশ-পূর্ব জার্মানির কম্যুনিজমের সঙ্গে রুমানিয়া-হাঙ্গেরি-বুলগেরিয়ার মতাদর্শিক ভিন্নতা ছিল।ট্র্যাডিশনকে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। আর ১৯৮৯-এর পরেও তা সমান ভাবেই প্রভাবী রয়ে গ্যাছে। সিভিল সোসাইটি নয়, স্বয়ং সরকারই স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে বাজার অর্থনীতিকে বরণ করে নিলো মহা চীনে। গর্বাচভ আনলেন পেরেস্ত্রৈকা। মহা চীনে কালচারাল রেভ্যুলুশনের ব্যানারে জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ল। ভালো নেই নাকি সেদিনের যন্ত্রদানবেরা, ধনবাদী বৃহৎ শক্তির আ-বিশ্ব মিল-মেশিন-যন্ত্র সভ্যতা। তৈরি হও, হে এশিয়ান। গড়ে তোলো ফের ঢের ঢের শেড্-লেড-বল্টু-প্রেস–টাকু-তক্লি-মিল-ড্রিল, হাতুড়ি-হাপর-মাকু-কর্ণিক: শ্রমদৃপ্ত জনপদে—ঘন অরণ্যের মতো সুনিবিড় হাতের বৃত্ত।খবরে প্রকাশ,ওহিও থেকে কারখানার নতুন ঠিকানা হয়ে উঠছে ফের চীন-মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ। NDTV জানাচ্ছে যে করোনাকালে ৩২ মিলিয়ন মধ্যবিত্তের অবনমন ঘটেছে, ‘undoing years of economic gains’, দারিদ্র্যদশাভুক্ত হয়েছেন তাঁরা। কেমন আছ কলকাতা? ১৪-ই মার্চ, চার নম্বর পাতায় টেলিগ্রাফ কাগজ লিখল ‘’জবলেস ইন লকডাউন, দিল্লি থেকে গত অগাস্ট থেকে যাত্রা শুরু করে ৫৪ বছর বয়সী সাঁওতালি বেরজম বামদা পাহাড়িয়া ১৩ই মার্চ তাঁর গ্রামে এসে পৌঁছলেন।’ আমরা, কলকাতার সুশিক্ষিত হাইকলার বুদ্ধিমান বাঙালি এই সেদিনও তো হাপুস কেঁদেছি; প্রশ্ন করতেই পারিনি– কেমন আছ বেরজম?

অতএব প্রশ্ন জাগে— ২০২০-র আমরা কতটুক আধুনিক? অত্যাধুনিক বিশ্ব বলতে কি আমরা এখন ২৩২ বছর পুরনো ফরাসি বিপ্লবের সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, মৈত্রী-র আদর্শকে আত্মস্থ করে উঠতে পেরেছি? আজকের বিশ্বের প্রধান পরিচয় হয়ে উঠতে পেরেছে কি rationality, secularization, democracy ? শব্দগুলো কি আমাদের দৈনন্দিনতার অঙ্গ, ভালো থাকার পথ্য? তা যদি না হয়ে থাকে তবে কিসের এই বাগাড়ম্বর, ঘনঘোর ইলেকশনারিং? ‘সোনার’ মাতৃভূমি কি এমনি এমনি গজিয়ে উঠবে? ১৭৫০ নাগাদ বিশ্বের ২৫% উৎপাদন ছিল ভারতের। চীনের ৩০% । দুয়ে মিলে বিশ্ব উৎপাদনের ৫৫%। আর তার মধ্যে বাংলারই অংশ ছিল ১২%!! ক্যান ইউ কল ইট সাবসিস্টেন্স ইকনমি / মার্জিনাল? উত্তর হবে –এ বিগ নো। ভারতকে অবশিল্পায়ন দেওয়া হল। চীনকে আফিম। পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই কি চীন সোনার কাঠি ছোঁয়ালো আর রাতারাতি সুপারপাওয়ার (এক নম্বর?) হয়ে গেলো? যুক্তিবাদিতা, ধর্মনিরপেক্ষ-বিষয়ী, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে বা হার্দ্য কর্মোদ্যোগের সুস্থিতি না থাকলে কি সমস্ত উন্নত বিশ্বকে পনেরোশোয় উপমহাদেশে টেনে আনা যেত? মুঘল ভারতে তা ছিল, ব্রিটিশ অপপ্রচারে তা ধুয়ে মুছে সাফ। সুতরাং,কেমন আছ ওহে শ্রীপতি? চাঁদো, তুমিই বা কেমন? অট্ট হাসিল। বলিল (সার্বিক) ‘দিশাহীন। দ্বিধাগ্রস্ত উন্নাসিক। উদাসীন। ‘oxymodern.’ । চারিদিকে ট্যারিফ কন্ট্রোল! কমলেকামিনীরা সর্বত্র বর্তমান।
ফরাসি বিপ্লবোত্তর ইয়োরোপে বহু জাতিরাষ্ট্রের উত্থান হলে জাতীয়তাবাদের প্রকোপ বাড়ে। শেষমেশ এই উত্তাল জাতীয়তাবাদের প্রকোপে দু-দুটো বিশ্বযুদ্ধ প্রসব করেছিল ইয়োরোপ। ফলম—আ-পৃথিবী মড়কম্। যুদ্ধপ্রহর। ফ্র্যাঙ্কেস্টিনিয়ান জাতীয়তাবাদের বেয়াড়াপনার সৌজন্যে জাতি দর্প এমনই বিধ্বংসী আকার ধারণ করে যে পুরো সভ্যতাকেই যেন গ্রাস করে ফেলবে। জাতিবাদের সংকীর্ণতা যাতে বিশ্বজীবনকে আর প্রভাবিত করতে না পারে, যুদ্ধক্লান্ত ইয়োরোপীয়দের অবাধ চলাফেরা, অর্থোপার্জন ও জীবনচর্যার শুভবোধকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা থেকে, ১৯৪৫-এর পরে, ই-উ বা ইওরোপীয় ইউনিয়নের জন্ম হয়। প্রখ্যাত তাত্ত্বিক রবার্ট ব্রুবেকার লিখেছেন (বঙ্গানুবাদ আমার)— “’১৯৯২’-এ মানুষ ,পণ্য ও মূলধনের অবাধ চলাচলের জন্য—য়ুরোপীয় এলাকার মধ্যে জাতীয় সীমানার বিলোপ, ইয়োরোপীয় নাগরিকত্বের উদ্ভব আর ম্যাস্ট্রিচের সন্ধিচুক্তি স্বাক্ষরিত হবার পরে প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্রনীতি ও ইউরো মুদ্রার প্রচলন হয়। দেশ ভাবনা আর জাতীয়তাবাদের উন্মেষ (এবং প্রচারের) ক্ষেত্রে যেভাবে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিল, ঠিক সেভাবেই এই বিশ্বাসকে অতিক্রম করে যাওয়ার ক্ষেত্রেও নেতৃত্ব দেবে ইয়োরোপ। “ম্যাস্ট্রিচের সন্ধিচুক্তি-র মাধ্যমেই বিশ্বায়ন,মার্কেট ইকনমির বোলবালা,তীব্রতা লক্ষণীয় মাত্রা পেতে শুরু করে। কানাঘুষো শুনলাম,ইয়োরোপে নাকি এখন ফিরে আসছে মেশিনের বদলে শ্রমিকের সুদিন—দি ওয়ার্কিং ক্লাস বুম।

পণ্ডিতগণ একবাক্যে একমত যে পূর্ব-মধ্য ইউরোপীয় দেশগুলো যেমন চেকোস্লোভাকিয়া, পোল্যান্ড বা হাঙ্গেরিতে আয়ের বৈষম্য বরং সোশ্যালিস্ট শাসনকালে অনেক কম ছিল; তেমন দৈন্যীয় স্থিতি ছিল না।। (সূত্র—ম্যাক ক্র্যামার, টেরি কক্স, নীনা ব্যাধেঁজ প্রভৃতি।) ১৯৮৯-এর পরে বাজার অর্থনীতির প্রসারের পর রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব-নিয়ন্ত্রণের অবসানের সূত্রে , জনসাধারণের তীব্র আগ্রহে, ধনবাদের বিকাশ ঘটে। তারা বিশ্বায়নের বাজারেও ঢুকে পড়ে। সীমান্ত খুলে দ্যায়। বাজারময় এফ-ডি-আই; ভরপুর। সামাজিক ব্যবস্থাপনায় তা নিষিদ্ধ ছিল। তা কেমন আছে কুড়ি-কুড়িরমধ্য-পূর্ব ইয়োরোপ? নীনা লিখেছেন— ‘Low levels of inequality during socialism were largely due to the communist ideology that supported a socialist redistributive command economy….social inequalities in CEE have, without exception, increased throughout the region (for review a dozen years into the transition,)…Romania, Estonia and Lithuania in 2001are close to the high levels we find in Anglo-Saxon countries. political choices about privatization at the onset of market reform in post-socialist Europe, and societal changes that weakened the redistributive role of the state and legitimated the exercise of self interest in the market, influenced income inequalities।’(সূত্র: নীনা বাঁধেজ ও ম্যাথু মাহুতগা, সোশ্যাল ফোর্সেস, জুলাই ২০১০,ভল্যুম ৮৮)। এরই পাশে টাঙ্গাই এসময়ের ভারতীয় অসাম্য, আর্থিক অনটনের ছবি। দিকভ্রষ্ট মনীষা বলছে দলিতের দুর্দশা, ব্রাহ্মণ্যবাদের কথা। চিল্লিয়ে বলতে ইচ্ছে হয় যে ওসব চার সহস্র বছর পুরোনো দুনিয়ার কলঙ্ক। কোথাও কাস্ট সিস্টেম নেই। ইয়োরোপে তো বটেই: শেষ বিচারে ইট ইজ ক্লাস, ডেফিনিটলি নট কাস্ট।

এককথায়, সেই লেখাটিতে ইম্যানুয়েল ওয়ালারস্টাইনের বক্তব্য ছিল যে ১৭৫০ সালের আগে ভারতীয় উপমহাদেশ অঞ্চলটি, বস্তুত, ইয়োরোপ কেন্দ্রিক ধনবাদী অর্থ-ব্যবস্থার ‘অন্তর্ভুক্ত’ ছিল না। ১৭৫০-এর পরেই বরঞ্চ, ওয়ালারস্টাইন মনে করেন, বিশ্বের অন্য আরও এলাকার সাথে ভারত-ও—বিশ্ব অর্থ-ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত হয়। এবং ধনবাদী অর্থ-ব্যবস্থায় ভারতীয় অর্থনীতির এজাতীয় ‘অন্তর্ভুক্তি’/ পুনর্গঠনের জন্য (ভারতীয়) উৎপাদন প্রক্রিয়ার ব্যাপক রদবদল ঘটেছিল।।‘ওয়ার্ল্ড সিস্টেম’ তত্ত্বের প্রবক্তা এবং সুবিখ্যাত মার্কিনী সমাজতাত্ত্বিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাস বিশেষজ্ঞ ইম্যানুয়েল মরিস ওয়ালারস্টাইনের ‘ইনকরপোরেশন অফ ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট ইনটু ক্যাপিটালিস্ট ওয়ার্ল্ড ইকনমি’শীর্ষক প্রবন্ধটি ইকনমিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল উইকলি পত্রিকার ভল্যুম ২১ ,১৯৮৬ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল ‘ইন্ডিয়া ইন দি ওয়ার্ল্ড ইকনমি’প্রবন্ধে (সূত্র-ইকনমিক এন্ড পলিটিক্যাল উয়িকলি,ভল্যুম-৩১,সংখ্যা৩০-জুলাই ১৯৯৬) Anne Gunder Frank মন্তব্য করেছেন যে ১৬৭০ নাগাদ ভারতবর্ষীয় আমদানির শতকরা ২০ ভাগ আর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মোট আমদানির ১৫ শতাংশের যোগান দিত বাংলা, ১৭০০ নাগাদ যা (ভারত ও কোম্পানি—উভয়ক্ষেত্রেই) বেড়ে দাঁড়ায় শতকরা ৩৫ ভাগ। আর ১৭৩৮/৪০ নাগাদ ৮০ শতাংশ ভারতীয় এবং কোম্পানির মোট আমদানির ৬৬%-এর যোগান দিত বাংলা। গুন্দের ফ্রাঙ্ক আরও বলছেন—‘টাকাকড়ির অন্তর্মুখী স্রোতের কারণে যোগান ও চাহিদা—দুয়েরই বিস্তার ঘটেছিল। এবং ভারতে এই বিস্তার বাংলা ও বিহার অঞ্চলে আকর্ষণীয়ভাবে (strikingly evident ) সুস্পষ্ট হয়ে ওঠার জন্য ১৬৫৭-১৭১৪ পর্যায়ের বাংলায় জিনিসপত্রের দাম তুলনামূলক ভাবে কম থাকার পাশাপাশি মোটামুটি স্থির ছিল। কোম্পানি বলছে জুয়েল ইন দি ক্রাউন।অর্থ হয়,বঙ্গ প্রদেশের কর্মোদ্যোগী বং-রা তখন সম্পূর্ণতই “আত্মনেপদী’ ছিল। এবং ওয়ালারস্টাইন কথিত ‘ইনকরপোরেশন’ বা বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থার অন্তর্ভূক্ত হবার পরই আমরা ‘পরস্মৈপদী’ হয়ে পড়ি। অবশিল্পায়নের সৃষ্টি হয়। ভূমিষ্ঠ হয় কেরানি সমাজ। পাশাপাশি গড়ে ওঠে বিশাল বড়ো এক পরজীবী ‘নফর সমাজ’। ১৭৫০-এর পরে গ্লোবালাইজড ‘কলকাত্তিয়া’ বং আমি-রা দুমুঠোর জন্য পশ্চিম আকাশে সিঁদুরে মেঘের আসর বসল কিনা—হরওয়ক্ত, খেয়াল রাখত, যে প্রবণতা এই বিষ-একুশে আরও প্রবল হয়েছে ভৌগোলিক প্রাচুর্য সত্ত্বেও অর্থনৈতিক উদাসীনতার এমন অদ্ভুতুড়ে-অপার্থিব-অমনোযোগী-সৃষ্টিছাড়া গরমিল যে ভীষণই অভাবনীয়,অভূতপূর্ব।

ইতিহাস সূত্রে আমরা জানি যে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলার কাপড় ও কৃষিপণ্যের ব্যাপক চাহিদা ছিল। পনেরো শতক নাগাদ বাংলার বহির্বাণিজ্য এশীয় গণ্ডি অতিক্রম করে ইয়োরোপের বাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব সৃষ্টি করে। এরই ফলস্বরূপ, পর্তুগিজরা সপ্তগ্রামে এসে ঘাঁটি গাড়ে। পণ্যদ্রব্যের বাড়তি চাহিদা সামাল দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত শ্রম ও প্রাথমিক পুঁজির যোগান কৃষিজীবী সম্প্রদায়ের মানুষই সরবরাহ করেছিল। উপযুক্ত শিল্পায়নের অভাবে শ্রমিকদের মধ্যে উৎপাদন কেন্দ্রিক তীব্রতার বদলে ব্যাপক বিনিয়োগহীন যোগদান শুধুমাত্র লক্ষ্যহীন-লগ্নিহীন দিন আনা দিন খাওয়ায় পর্যবসিত হয়ে ব্রিটিশ শিল্প বিপ্লবের মূলধন যুগিয়েছিল। যদিও, এই ধরণের ‘প্রিমিটিভ’ (ইরফান হাবিব) বা আদিম উৎপাদন-ব্যবস্থার কারণে মুঘল-ভারতে ৩২০০-টি নগরজীবনের উৎপত্তি ঘটেছিল। আর এমন ব্যাপক অর্থনৈতিক প্রসারের জন্য উৎপাদিত পণ্যের অভূতপূর্ব চাহিদা, সমুদ্রবাণিজ্যের প্রসার, গ্রামীণ পুঁজির নিঃশঙ্ক যোগদান এবং অগণিত মানুষের শ্রমদানের প্রশ্ন জড়িত ছিল। ভাগীরথীতীরে অবস্থিত কলকাতা কীভাবে, তিন ফসলি জমি সত্ত্বেও, অমন কর্মযোগের প্রতি উদাসীন থাকতে পারে? না গো, আমরা ভালো নেই!!! সেকথাটাই বলেছি ২০১৪-র কবিতায়:-
‘অরণ্যের বদল হয়েছে কেবল জনারণ্যে,হাঃ,তন্ত্র ও তান্ত্রিকের আহ্নিক ঋতুচক্রে
চক্রবৎ ফেরা দ্যায় সামন্ত-রাজ-গণ-পুঁজি–সাম্য ও একনায়ক
অপরিবর্তিত থাকে তিনভাগের সামান্য বেশি (মতান্তরে ৭৭ ভাগ) লোনা-জল।
অদ্যাপি কোনও বদল ঘটেনি স্থলভাগের মোট আয়তনে— ঘটে না যদিও
ধাপেধাপে নভোচারী হয়ে উঠেছে একভাগ ভুঁই, শ্যেন-দৃষ্টি এখন অসীম শূন্যে ।‘
(কবিতাংশ: ‘রূপান্তরের রূপ, অন্তর’; তিন মাত্রার সংকেত-২০১৪)

আমাদের যাপনচিত্র নিশ্চিতই কতকগুলো ‘অস্তিত্বগত’ উপাদানের ওপর নির্ভরশীল: অর্থনৈতিকতা, সামাজিক সুরক্ষা, অস্তিত্বিক (existential) বিপন্নতা (NRC etc), সাংস্কৃতিক স্বচ্ছতা আর ধর্মময়তার অপরিচ্ছন্নতা’। ধর্ম সবশেষে কেননা এমনতর অনাকাঙ্ক্ষিত আধ্যাত্মিকতা বা উদ্ভট সাংস্কৃতিকতার জন্যই আমরা, অর্থাৎ উপমহাদেশীয়রা, সারা বিশ্বের থেকে পৃথক-ভিন্ন-আলাদা। ধর্মযুক্ত রাজনীতি/অর্থনীতি আমাদের সমাজের এক ‘ঘৃণ্য’ বাস্তবতা, যা ভালো থাকতে দেয় না। বস্তুত, আমার থাকাথাকি, আমার বর্তমানতা কি মুহুর্মুহু ‘অতীতচারী’ নয়? ১৬৮০-তে নাহয় ‘জিজিয়া’ ছিল। কিন্তু, ২০২১-এ ‘NRC ’ কেন? চরৈবেতির অর্থ কি পশ্চাদপসরণ? দেশভাগের মধ্য দিয়েই কি ধম্মোনৈতিকতার অবসান হওয়া উচিত ছিল না? যদি না হয়ে থাকে, তবে কীসের জন্য আমাদের ওই ‘অত্যাধুনিকতা’-র বাহ্বাস্ফোট?কেন এমন নির্লজ্জ মধ্যযুগীয়তা? আমাদের এই থাকাথাকির, অস্তিত্বিক ভালোমন্দের ব্যাপারটি আদতে এক বিশাল ও বহুমুখী বিষয়। ২৫০০ শব্দ সত্যিই নস্যি। তাই তীরলগ্ন থেকেছি মাত্র; ছুঁয়ে ছুঁয়ে থেকেছি । ১৯৮৯ = যখন আধুনিক বিশ্ব আর্থ-রাজনীতির অত্যাধুনিক মানচিত্রে সবচেয়ে বড়ো সুনামিটি ঘটেছিল কম্যুনিস্ট মধ্য ও পূর্ব ইয়োরোপে, রাশিয়া-মহা চীনে; সেই সন্দর্ভকে স্বাগত জানিয়ে প্রশ্ন তুলব গোটাকয়েক, যেমন:—দু-তিন জন তুমি কি সমাজের ৯০ শতাংশের ওপর কব্জা জমাতে পারো ? সাম্য কি একটা তন্ত্র নাকি এক জীবনচর্যা? আন্তরিক অভ্যাস? সাম্য কি ইচ আকর্ডিং টু হিজ নিড? কম্যুনিজম কি এক থিয়োরিটিক্যাল পসিবিলিটি এখন?
‘Do not be afraid, join us, come back! You’ve had your anti-communist fun,
and you are pardoned for it—time to get serious once again!—Slavoj Žižek

বিশ্বব্যাপী পোস্ট–পোস্টমর্ডাণ মানুষ মনে করেন যে অর্থনৈতিকতার সূত্রেই রাজনৈতিক / সামাজিক / অস্তিত্বিক ভালো থাকা সম্ভব। কলকাতাবাসীও কি ভিন্নপন্থী হতে পারে? ভাত-থালা-হাতের তে-প্রান্তরে চতুর্থ দিশাটি, তার কাছে কি—ক্ষুধামান্দ্য-বুভুক্ষা নয়? সীমান্তহীন বিশ্বের এমন অত্যাধুনিক প্রহরে বিশ্বায়নের মাল্টিপল মর্ডানিটিজ বা বহুকেন্দ্রিক (কিংবা বহুত্ববাদী) আধুনিকতার কথা পেড়েছেন বিশ্বখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী এস এন এইসেনস্টাড। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পরেই যুদ্ধবাগীশ ইউরোপের আদর্শ হয়ে ওঠে ‘বহুত্ববাদ-সৌভ্রাতৃত্ব ও সাম্য’। আর সেই আদর্শই, আজো, ইউরোপীয় ইউনিয়নের লক্ষ্যমাত্রা, মূলমন্ত্র । এই উপমহাদেশেরও লক্ষ্যমাত্রা হয়ে উঠতে পারে না কি তেমনতর নীতি- নৈয়াকিকতা? মর্ডানিটি সম্বন্ধে লুইস গ্লাক মন্তব্য করেছেন যে আধুনিকতা বরং ‘a condition, historically produced over three centuries around the globe in processes of change that have not ended yet’। সন্ত্রস্ত এক দেশবাসী বলেছিল ‘নোটিশ পেয়েছি। দেখাতে হবে-প্রমাণ। সিঁটিয়ে আছি।’ তাকে বোঝাতে চেয়েছিলাম যে যৌথতা, সম্পৃক্ততাই হল আসল মূলমন্ত্র। অস্তিত্বের সেই আই-কার্ড, সেই প্রমাণ্টাই তো গরহাজির একুশের অত্যাধুনিকতায়। সিঙ্ঘু-র কৃষক অতোশত’ বোঝেনি। সোজাসাপ্টা কিছু না বলেই গেয়ে উঠল,‘পথেই হবে এ পথ চেনা। ‘অ-ভিন্ন থাকি আমিও কীভাবে? কেন জানি না আমারও মনে হল এ লেখা তাঁরই মনোরথের সন্ধান। অধরা স্বপ্নেরা কি চিরকালই থেকে যাবে মায়াবী-নির্জীব? থাক বাস্তবধর্মী বরং,ভুরুদুটির মাঝখানে ছোট্ট টিপটি: একধামা রঙিন চন্দ্রমা। বহুধর্মী বিতর্কের ফাঁকে আঁকি —
পৃথিবী একটি গাছ,যেখানে অযুত অ-রব পাখি,ভোরের অপেক্ষায়…

Facebook Comments

Leave a Reply