সকলেই হেঁ-হেঁ, সকলেই হ্যাঁ হ্যাঁ : ড. সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়

fail

‘কেমন আছো হে?’ এই প্রশ্ন নিশ্চয়ই কখনও না কখনও কাউকে না কাউকে করেছেন। আর যত এই প্রশ্ন করেছেন ততই এই প্রশ্ন পেয়েছেনও নিশ্চয়ই। কার সঙ্গে কার কথা হচ্ছে তার প্রেক্ষিতে অনেক সময় প্রশ্নের ভাষা যায় পাল্টে। ‘কেমন আছো?’ হয়ে যায় ‘কেমন আছিস?’ বা ‘কেমন আছেন?’ প্রশ্ন করি বটে কিন্তু সত্যিই কি আমরা যাকে প্রশ্ন করছি তার কাছে জানতে চাই যে তিনি কেমন আছেন? বা যারা আমাদের জিজ্ঞেস করেন, ‘কেমন আছেন?’ তারাও কি সত্যিই আমাদের কেমন থাকা নিয়ে আদৌ উদ্বিগ্ন থাকেন? নাকি বলতে হয়, তাই বলা?
মনে পড়ে যায় পরশুরামের ‘বিরিঞ্চিবাবা’ গল্পের কথা। গুরুপদবাবুর বাড়িতে ঘাঁটি গেড়েছেন বিরিঞ্চিবাবা। তাঁর তদারকিতে ব্যস্ত গুরুপদবাবুর শ্যালক বুঁচকির গণেশ মামা। বিরিঞ্চিবাবাকে দেখতে, বা বলা ভাল তাঁর জালিয়াতি ফাঁস করার জন্য সত্য আর নিবারণ হাজির হয়েছেন গুরুপদবাবুর বাড়ি। তাঁদের দেখে গণেশ মামা বললেন –“ ‘এই যে তোমরাও এসেছ দেখছি, বেশ বেশ। হেঁ-হেঁ, তারপর বাড়ির সব হেঁ-হেঁ ? নিবারণ, তোমার বাবা বেশ হেঁ-হেঁ? তোমার মা এখন একটু হেঁ-হেঁ? তোমার ছোট বোনটি হেঁ-হেঁ? সত্য তোমার পিসেমশায় পিসিমা সক্কলে-’
নিবারণের স্বজনবর্গ সকলেই হেঁ-হেঁ, সত্যব্রতেরও তদ্রূপ।”
‘সকলেই হেঁ হেঁ’ না হোক্ তুলনায় নিরীহ কিন্তু যেটা চিন্তার তা হ’ল ‘সকলেই হ্যাঁ হ্যাঁ’। হ্যাঁ, এটাই সবচেয়ে ভয়ের। আর এই ভয়টা ইদানীং আরও বেড়েই চলেছে ক্ষমতার লোকদের প্রশ্নহীন আনুগত্য চাওয়ার প্রবণতা দেখে। নিশ্চিতভাবেই এই প্রবণতা নতুন নয়। পৃথিবীর সব দেশেই শাসক চায় শাসিতের প্রশ্নহীন আনুগত্য পেতে। আর গণতন্ত্র ঠিক উল্টো কথাটাই বলে। গণতন্ত্র শাসককে প্রশ্ন করতে শেখায়। গণতান্ত্রিক পরিসর সেটাই যেখানে শাসককে প্রশ্ন করার পরিসর থাকে। কিন্তু এখন কেই-ই বা বলবে যে, ‘রাজা তোর কাপড় কোথায়?’
স্বাধীনতার পঁচাত্তর বছর পূর্তি উদযাপন উৎসব সমাগত। সমাগত সাধারণতন্ত্রের বাহাত্তর বছর পূর্তিও। কাজেই এখনই বোধহয় প্রশ্ন করার উপযুক্ত সময়। কেমন আছো হে স্বাধীনতা? কেমন আছো সংবিধান? কেমন আছো দেশের মানুষ?

কেমন আছো হে স্বাধীনতা?

স্বাধীনতা দেশের। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বইতে লেখা দেশের স্বাধীনতার মানে সার্বভৌমিকতা অর্থাৎ দেশের যেকোনো ব্যাপারে শেষ কথা বলার অধিকার আর বাইরের কোনও দেশের নিয়ন্ত্রণবিহীনতা। নিঃসন্দেহে আধুনিক সব রাষ্ট্রেরই এই বৈশিষ্ট্য থাকে। কিন্তু প্রশ্ন অন্যত্র। সত্যিই কি তা থাকে? আজকের ভুবনায়নের যুগে কোনও রাষ্ট্রই কি বিচ্ছিন্নভাবে থাকতে পারে? তাকে বাণিজ্য করতে গেলে অনেক সময়ই এমন সব শর্ত মেনে তা করতে হয় যে তা হয়ে যায় স্বাধীনতার পরিপন্থী। এক্ষেত্রে শর্ত নির্ধারণ করে আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার, বিশ্বব্যাংক। আজকাল যেকোনো বড় প্রকল্পতেই গ্লোবাল টেন্ডার হয়। আমার দেশের বড় সেতু বা সড়ক – যে নির্মাণ প্রকল্পই হোক না কেন তা নির্মাণের দায়িত্ব পায় ভিনদেশি কোম্পানি। আবার একথাও কেউ বলতে পারেন যে এই নির্মাণও অনেক ক্ষেত্রেই হয় বিশ্বায়িত অটোমোবাইল লবির চাপে। আর এই নির্মাণের জন্য যদি অর্থ লাগে তবে তা দেওয়ার জন্য হাজির হয়ে যায় অর্থপ্রদানকারী সংস্থা। না, ‘লাগে টাকা গৌরী সেন’-এর মত নয়। তারা হাজির হয় ঋণের ঝাঁপি নিয়ে। নানান শর্তে ধার মেলে। অর্থনীতিবিদরা প্রশ্ন তোলেন, শর্তগুলো নানাভাবেই দেশের স্বাধীনতাকে বিপন্ন করে না কি?
আর যাঁরা বলেছেন, বলেন এবং বলে চলেন স্বনির্ভরতার কথা তাঁদের দাগিয়ে দেওয়া হয় উন্নয়ন বিরোধী বলে। কে বোঝাবে যে এই সব প্রকল্পে প্রশ্ন তোলা মানে বিজ্ঞান-প্রযুক্তির বিরোধিতা করা নয় বরং একথা বলা যে সব জায়গার এমন সুষম বিকাশ ঘটবে যে কোনও জায়গা থেকে আর এক জায়গায় দ্রুত যাওয়ার প্রয়োজন বড় একটা ঘটবে না। সেই কবে একজন এ-কথা বলেছিলেন না, যাঁর দেড়শো বছর পূর্তি আমরা মহা সমারোহে উদযাপন করছি, যে স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ স্বনির্ভরতা, স্বশাসন এবং সুশাসন। তিনি আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, ব্রিটিশ শাসন বিতাড়নেই স্বাধীনতা আসবে না। তা পরিণত হবে ব্রিটিশ শাসক বিহীন ব্রিটিশ শাসনে। ফলে প্রয়োজন আক্ষরিক অর্থে স্ব-রাজ। এই সময়ে তাই সত্যিই জানতে ইচ্ছে করে, কেমন আছো হে তুমি স্বাধীনতা?

কেমন আছো হে সংবিধান?

সাতচল্লিশে স্বাধীনতা আর পঞ্চাশে সংবিধান। তা সংবিধান কেমন আছে? অনেক সংশোধনী এসেছে ঠিকই তবে সংবিধানের মূল সুর, যা ব্যাখ্যা করা আছে সংবিধানের প্রস্তাবনায় তা অক্ষুণ্ণ আছে। তবে সম্প্রতি এমন কথাও শোনা যাচ্ছে যে ১৯৭৬এ সংযোজিত শব্দ যুগ্ম ভারত একটি ‘সমাজতান্ত্রিক’ ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ দেশ তা নাকি সংবিধানের মূল সুর নয়। একথা মেনে নিলে সত্যিই চিন্তার কারণ রয়েছে। এটা ঠিক যে ১৯৭৬ সালে ৪২ নম্বর সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের প্রস্তাবনায় এই দুটি শব্দ যুক্ত হয় কিন্তু তার মানে এই নয় যে সংবিধানে এই ভাবনার সুর আগে ছিল না। ভারতের সংবিধানের নির্দেশমূলক নীতিতে এমন কথা রয়েছে যা এই সমাজতান্ত্রিক ভাবনার পরিচায়ক। আর মনে রাখতে হবে এই সমাজতন্ত্র মার্ক্সীয় তত্ত্বের সাম্যবাদ নয় বরং রাষ্ট্রীয় সমাজতন্ত্র। এখন নানান ক্ষেত্রে বেসরকারিকরণ আর বেচে দেওয়ার বাড়বাড়ন্ত দেখে কেউ যদি প্রশ্ন করেন, কেমন আছে সংবিধানের সমাজতন্ত্র তবে সত্যিই সে-প্রশ্নের সদুত্তর দেওয়া কঠিন হবে। বস্তুত এই প্রক্রিয়াটা এখনই প্রথম শুরু হল তা বলা যাবে না, শুরু ১৯৯১তে উদারীকরণ-বেসরকারিকরণ-বিশ্বায়নের হাত ধরে। বলা চলে, এখন সে-প্রক্রিয়া এক চরম বিন্দু ছুঁয়েছে। বেসরকারি হয়ে চলেছে জাতীয় ব্যাঙ্ক, বিমা, রেল, ফোন সংস্থা, সব কিছু। কাজেই প্রশ্ন হল, সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে সমাজতান্ত্রিক শব্দটা বিযুক্ত করার বিরুদ্ধেই কি শুধু প্রতিবাদী হব নাকি প্রতিবাদ করব এই বেসরকারিকরণ-বিরাষ্ট্রীয়করণ-বিলগ্নীকরণের পুরো প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধেই?
আর ধর্মনিরপেক্ষতা? কেমন আছে সে? যদি কেউ প্রশ্ন তোলে, ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ আমরা কতদূর প্রয়োগ করেছিলাম? ধর্মনিরপেক্ষতা মানে কি সর্বধর্ম সমভাব নাকি রাষ্ট্রের ধর্মবিহীনতা? রাষ্ট্র ধর্মীয় ব্যাপারে সম্পূর্ণ উদাসীন, নির্লিপ্ত থাকবে, এমন অর্থে যদি ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটি প্রযুক্ত হয়ে থাকে তবে এ-কথা বলতেই হবে যে সে বিশেষ ভাল নেই। রাষ্ট্রের সরকারে যারা বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতায় আসীন হয়েছে এবং হচ্ছে, তা সে কেন্দ্রেই হোক কি রাজ্যেই হোক, তারা নিজেদের বিভিন্ন ধর্মের কাছের লোক হিসেবে প্রতিপন্ন করতে চেয়েছে, তাতে রাষ্ট্রের ধর্মের ব্যাপারে নির্লিপ্তি আদৌ প্রকাশিত হয়নি। তবে শাসকের ধর্ম-সংযুক্তির সেই ছবি সামনে রেখে কেউ যদি বলে ১৯৭৬এ সংবিধানের প্রস্তাবনায় ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটি বিক্ষিপ্তভাবে যোগ করা হয়েছিল তবে তাতে ঘোরতর আপত্তির সঙ্গত কারণ রয়েছে। কারণ আমাদের সংবিধানের মৌলিক অধিকারে স্পষ্ট বলা আছে নাগরিকের ধর্মীয় ব্যাপারে স্বাধীনতার কথা। সংবিধানের ২৫ থেকে ২৮ নম্বর ধারায় নির্দিষ্ট করে বলা আছে ধর্মীয় ব্যাপারে রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি। ২৫ নম্বর ধারায় বলা আছে, রাষ্ট্রের নাগরিক তার বিবেকবোধ অনুসারে ধর্ম গ্রহণ, পালন বা প্রচার করতে পারে। তবে তা অবাধ নয়। জন শৃঙ্খলা রক্ষা, জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে রাষ্ট্র বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে। বিবেকের স্বাধীনতা বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ; সেই অনুযায়ী ধর্ম না মানার, ধর্মীয় ব্যাপারে নির্লিপ্ত থাকার বা ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলার সুযোগ রয়েছে এদেশের নাগরিকদের। কিন্তু সেই অধিকার রক্ষার সুযোগ দেশে কতটা রয়েছে? যদি থাকে তবে কেন যুক্তির কথা বলে আততায়ীর হাতে প্রাণ দিতে হয় দাভোলকর, পানসারে, কালবুরগি, গৌরী লঙ্কেশদের?
আমাদের সংবিধানের প্রস্তাবনায় ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটি যুক্ত হওয়ার বহু আগে, সংবিধান কার্যকর হওয়ার গোড়া থেকেই মৌলিক অধিকারের ধারায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে কোনও ব্যক্তিকে কোনও বিশেষ ধর্মর প্রসার বা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোনও রকম কর দিতে বাধ্য করা যাবে না। স্পষ্টই বলা আছে, সরকার পোষিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মশিক্ষা প্রদান করা যাবে না। সংবিধানের ধারা-উপধারার খুঁটিনাটিতে প্রবেশ না করেও একথা বলা যায় আমাদের সংবিধানে রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ সুপ্রতিষ্ঠিত। আমরা যদি মনে করি সেই আদর্শ আজ বিপন্ন তবে তার সমাধান ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটিকে সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে বাদ দেওয়া নয় বরং এই আদর্শ অনুসারে শাসকদের চলতে বাধ্য করা। এই বাধ্য করার দায়িত্ব দেশের মানুষের। কিন্তু কেমন আছেন দেশের মানুষ?

কেমন আছো হে দেশবাসী?

যাদের দেশের শাসকদের ‘সবক’ শেখানোর দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলছি তারা কেমন আছেন? সংবিধানে মৌলিক অধিকার হিসেবে সাম্যের অধিকারের কথা সুস্পষ্টভাবে লিখিত। স্পষ্ট বলা আছে, আইনের চোখে সবাই সমান। জাতি ধর্ম বর্ণ শ্রেণি লিঙ্গ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিক রাষ্ট্রের কাছ থেকে সমান অধিকার পাওয়ার অধিকারী। রাষ্ট্র জাতি ধর্ম বর্ণ শ্রেণি লিঙ্গর কারণে কাউকে যেমন কোনও বিশেষ সুবিধা দেবে না তেমনই কোনও সাধারণ অধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিতও করতে পারবে না। সংবিধানে প্রশ্নাতীতভাবে সাম্যের অধিকারের কথা বলা হলেও জাতপাতের ভিত্তিতে বৈষম্যের কথা আমরা হামেশাই খবরের কাগজে পড়ি। স্বাধীনতার এত বছর পরেও কোনভাবেই কমল না ধর্মান্ধতা আর জাতপাত। বরং বাড়ল, বেড়েই চলল নানান ধরনের ধর্মব্যবসা। কেউ যদি বামপন্থী বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পরলোকে বিশ্বাস না রেখে বাবা-মা মারা যাওয়ার পর শ্রাদ্ধ না করেন তবে তার জন্য বরাদ্দ হওয়া নির্যাতনের খবর খবরের কাগজে মেলে, একই ভাবে মেলে ডাইনী সন্দেহে হত্যা বা ভিন্ন ধর্মে ও জাতে বিয়ে করার অপরাধে শাস্তি দেওয়ার খবর। খবর মেলে নিম্নবর্ণের মানুষ মিড ডে মিলের খাবার রান্না করেছেন বলে উচ্চবর্ণের সেই খাবার বয়কটের। কাজেই জাতপাত আর অস্পৃশ্যতা মুক্ত দেশ গঠনের স্বপ্ন সাকার হওয়া বোধ হয় সত্যিই দূর অস্ত।
মৌলিক অধিকারে রয়েছে স্বাধীনতার অধিকার, শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার, সাংবিধানিক প্রতিবিধানের অধিকার। কিন্তু সর্বশক্তিমান রাষ্ট্র বিভিন্ন সময়ে নানান রকমের ভারত রক্ষা বিধান জারি করে সেই অধিকার খর্ব করেছে। দেশের স্বার্থের পক্ষে বিপজ্জনক ব্যক্তিকে আটক করে রাখার অধিকার রয়েছে সার্বভৌম রাষ্ট্রের। শ্রমিকের অধিকারও নানানভাবে আক্রান্ত। অসংগঠিত ক্ষেত্রে অধিকার অর্জন করা একরকম অসম্ভব। সেখানে নিয়োগকর্তার বিষয়টিই অস্পষ্ট। আজকের এজেন্সি নির্ভর চুক্তিভিত্তিক কাজেও একইরকম অস্পষ্ট নিয়োগকর্তার বিষয়টি। আর রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রে, সরকারি এবং সংগঠিত ক্ষেত্রেও শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার ক্রমহ্রাসমান। শ্রম আইন বদলাচ্ছে। আর বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বা সেজ (এস ই জেড, স্পেশাল ইকোনমিক জোন)-এ তো শ্রমিকের মূল অধিকারগুলোই
স্বীকৃত নয়। তথ্য হিসেবে জানানো যাক যে কেন্দ্রীয় স্তরে ২০০৫ সালে স্পেশাল ইকোনমিক জোন জারি হওয়ার ঢের আগে ২০০৩ সালে এ-রাজ্যে সেজ আইন জারি হয়েছিল। সেই মর্মে রাজ্যের শিল্প সচিব নির্দেশনামা জারি করেন (মেমো নম্বর ১৮২৫/জে এস/ ডি সি/ ২০০৩)। কাজেই জীবন জীবিকা স্বাধীনতার বহু অধিকার অর্জন করার ক্ষেত্রেই দেশবাসী বঞ্চিত। প্রশ্ন হল, এই ধরনের অপ্রাপ্তিতে কি প্রতিক্রিয়া হবে দেশবাসীর? শাসকের তালে তাল দিয়ে ‘হ্যাঁ হ্যাঁ বলা সঙ’ হওয়ার প্রবণতাও আমরা যেমন দেখছি তেমনই এটাও তো দেখছি ‘মানিয়েরা মেনে নেয় একধার থেকে, কেউ কেউ যায় তবু প্রতিবাদ রেখে’। এই প্রতিবাদী চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিসর দিয়েছে আমাদের সংবিধান। এদেশ সকলের, এই ভাবনাই একে অন্যের দিকে বাড়িয়ে দিতে পারে সাহায্যের হাত। তখন আর দায়সারা ‘সকলেই হেঁ-হেঁ’ শুনব না, ‘হ্যাঁ হ্যাঁ বলা সঙের’ মত তালে তাল দেব না; শুধু ‘কেমন আছেন’ প্রশ্ন না করে, থাকাটা যাতে সত্যিই ভাল
থাকা হয়ে উঠতে পারে সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কাজ করতে সামিল হব আমরা।

[লেখক – এ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, ইতিহাস বিভাগ, কল্যানী বিশ্ববিদ্যালয়।]

Facebook Comments

Leave a Reply