ডাক : শান্তা মুখোপাধ্যায়

fail

ভোর ভোর ঘুম ভেঙে যায় অতসীর। এত সকাল সকাল উঠে কি হবে? তাই ঘুম ভাঙলেও শুয়েই থাকে অতসী। ছায়া ছায়া আলো ঢুকে আসে একতলার ঘরে। পাশের পেয়ারা গাছে বুলবুলির ইতিউতি আনাগোনা বুঝতে পারে অতসী। বুঝতে পারবে না! আজন্ম পরিচিত যে! ক্রমে ক্রমে আলোর উপস্থিতি উপেক্ষা না করা গেলে উঠে পড়ে অতসী। দাঁত টাত মেজে এসে গ্যাসে চা চাপায়। অনুময়দের একটা ঘর ভাড়া দেবার পর থেকে গ্যাস ট্যাস শোবার ঘরের একধারেই রাখতে হয়েছে। ঘরটা খুব ছোট না। একধারে রান্নার ব্যবস্থা করে নিতে হয়েছে। বাথরুমটাও ওদের ছেড়ে দিতে হয়েছে। এই শোবার ঘরের বাইরের দিকে একটা ইটের গাঁথনি, করোগেটের ছাদের ছোট্ট বাথরুম বানাতে হয়েছে। এই ঘর থেকে যাবার মত। ঘরের লেভেলেও বটে। কমোড বসাতে হয়েছে। নইলে মাকে নিয়ে পারা সম্ভব ছিল না। ভাড়ার অ্যাডভানসের টাকায় করতে হয়েছে সব। দু কামরার একতলা বাড়িটা বাবা করে রেখে গেছিল। সাদামাটা, একরকম। ভাবা তো হয়নি ভাড়া দিতে হবে কোনদিন! এখন না দিয়ে উপায় কি! মায়ের উইডো পেনসনে কি আর চলে! তাও তো এখন আদ্ধেক হয়ে গেছে। মায়ের ওষুধেই কত খরচ হয়ে যায়! অতসী টুকটাক সেলাই করে, কিন্তু সে আর কতটুকু!
চা করে মাকে তোলে অতসী। স্ট্রোকের পর থেকে বোধশক্তিটাই যেন চলে গেছে। ধরে ধরে চেয়ারে এনে বসায়। পুরনো হাতল দেওয়া কাঠের চেয়ারে দুপাশের হাতল বরাবর একটা কাঠের তক্তা লাগিয়ে নিয়েছে। এক সাইডে ফিক্স করা অন্য সাইডে ধরে তোলা যায়। কাঠের পাটাতন ধরে তুলে ফাঁক করে মাকে চেয়ারে বসায় অতসী। তারপর তক্তাটা অন্য হাতল বরাবর আটকে দেয়। যাতে মা পড়ে না যায়। মাকে মুখ ধোয়ায় চেয়ারে বসিয়ে সামনে গামলা ধরে। মুখ মুছিয়ে চা দেয়।
আস্তে আস্তে কাঁপা হাতে চা ধরে খান সুলতা। প্রতি মুহূর্তে মনে হয় এইবার কাপটা হাত থেকে পড়ে যাবে। তবু এটুকু করতে দেয় অতসী। নিজেও চা নিয়ে মার সামনে মেঝেতে বসে। বলে, “ভাবছি এবার পুজোয় তোমায় নিয়ে ঠাকুর দেখতে যাব।“ অতসী জানে সেটা সম্ভব নয় কোনদিন, তবু বলে। নিজেকেই বলে কি? সুলতার কোন ভাবান্তর দেখা যায় না। অতসী আবার বলে, “শাড়ি নেবে একটা? না ম্যাক্সি?” এবারও সুলতার ভাবান্তর দেখা যায় না। অতসী খাটের পাশের দড়িতে ঝোলানো চার পাঁচটা মলিন ম্যাক্সির দিকে তাকায়। তারপর ভাবে, “আছে তো বেশ কয়েকটা। এতেই চলে যাবে।“
অতসী এবার ওঠে। চায়ের কাপ বাইরে কলতলায় রেখে এসে মাকে চেয়ার থেকে তোলে। খুব কষ্ট হয়। মা ভারী হয়ে গেছে খুব। তারপর আস্তে আস্তে বাথরুমে নিয়ে যায়। পায়খানা করিয়ে চান করায় ঘষে ঘষে। মায়ের ম্যাক্সি একটা বালতিতে ভিজিয়ে রাখে। পরে কাচবে। ভালো করে গা মোছায়। কাচা ম্যাক্সি পরায় তারপর আবার চেয়ারে এনে বসায়। যত্ন করে চুল আঁচড়ে দেয়। মাকে এই সময়টা একটু চেয়ারে বসিয়ে রাখে অতসী। নিজে বাথরুমে গিয়ে নিজের বাসি, পায়খানার ছোঁয়া ম্যাক্সি বদলে আসে। ততক্ষণে ফ্যানের হাওয়ায় সুলতার চুলটা একটু শুকোয়। বাকি তো সারাদিনই শোয়া।
মায়ের পায়খানা স্নান হয়ে গেলে যেন একটা বড় কাজ হয়ে যায় অতসীর। রান্না……সামান্য! পরে করলেও চলে। অতসীর আজকাল আর কিছু করতেও ইচ্ছে করে না। মনে হয়, “ধুর……” অতসী ওপর ওপর ঝাঁটা চালিয়ে বাসী ঘর ঝাঁট দেয়। শোবার ঘরের ধারেই রান্নার ব্যবস্থা করায় খাটের তলা শিশি বোতলের আস্তানা। তাছাড়া ভাড়ার জন্য অন্যঘরটা খালি করতে হয়েছে। সেইঘরের সব জিনিসও এইঘরেই ঢুকেছে। ঘরে তাই জায়গা খুব কম। আসবাবে ধুলো জমে থাকে। খাটের নিচের সংসারে ঝুল আর মাকড়সার বাস। কেষ্টপুরের মশা বিখ্যাত। তাই জানলায় নেট লাগাতেই হয়েছে। সে অবশ্য বাবা থাকতে থাকতেই। সেই সব নেটে ধুলো পড়ে কালো হয়ে থাকে। মলিন করে তোলে আলোর আনাগোনা। অতসী রোজই ভাবে “কাল মাকে জলখাবার দিয়ে ঝাড়াঝাড়ি করে নেব।“ কিন্তু কাল এলে আর ইচ্ছেই করে না!
মা চেয়ারে আর বসে থাকতে চাইছে না। বারবার বিছানা দেখাচ্ছে। অতসী বাসি বিছানা তোলে। তারপর ফ্রিজ থেকে দুধ বারকরে গরম করে। মুড়ি দুধ কলা দিয়ে মেখে চামচে করে খাইয়ে দেয়। নিজে বাসি রুটি একটা দুটো চা দিয়ে খেয়ে নেবে। মা আবার শুয়ে পড়লে অতসী চিন্তা করে বাজার করতে হবে কিনা। সামান্য চারামাছের ঝোল ভাতই তো খায়। টাটকা আনলে ভাল। তবে একেবারে কম তো নেওয়া যায় না! দুজনের আর কত লাগে! তাই একদিন আনলে দুদিন তো চলেই। ডিপ ফ্রিজ খুলে দেখল মাছ দুপিস পরে আছে। হয়ে যাবে। কিন্তু বেরোতে একবার হবেই। ব্লাউজগুলো ফ্যাশন ওয়ার্ল্ডে পৌঁছে দিয়ে আসতে হবে। কিন্তু হেমকরা হয় নি এখনো। দোকানে যাবার কথা মনে হলেই চোয়াল শক্ত হয়ে ওঠে অতসীর। গেলবারে ব্লাউজ ডেলিভারি দিতে গেছিল সন্ধেবেলায়। দোকানে মালিক ছাড়া আর কেউ ছিল না। ব্লাউজের প্যাকেটটা মাস্টারের সেলাই মেশিনের টেবিলে নামাতেই মাস্টার টেবিলের উপর অতসীর রাখা হাতের উপর হাত রাখে। পান খাওয়া ঠোঁটে কান এঁটো করা হাসি হাসে। তারপর বলে, “তোর একটা ব্লাউজ বানিয়ে দিতে হবে ফাসক্লাস করে! আয় মাপটা নিয়ে নিই।” অতসী ঠাণ্ডা চোখে তাকিয়ে থাকে। সেই শৈত্য প্রবাহে মালিকের উৎসাহ বরফ হয়ে গেলেও মালিকের ঠাণ্ডা চাহনিও বুঝিয়ে দেয় ব্লাউজ সেলাই করে ডেলিভারি দিতে গেলে সময় সুযোগ মত অতসীর ব্লাউজ বানানোর দরকারটা মালিক জরুরী মনে করে। পয়সা না নিয়েই সেবার বাইরে বেরিয়ে এসেছিল অতসী। হাঁপাতে হাঁপাতে বাড়ি ফিরে এসেছিল।
খালপাড়ের রাস্তা বরাবর হাঁটতে হাঁটতে ভাবে, “আচ্ছা, পরিমল কেমন আছে এখন? বাচ্চাটা বড় হয়ে গেছে নিশ্চয়ই! পরিমল বলেছিল না, আজীবন সাথ দেবে? দিচ্ছে তো! এই যে পরিমলের চিন্তার চক্করে পড়ে যাচ্ছে অতসী, সেটা পরিমলের সাথ দেওয়া নয়তো কি?” বাড়ি ফিরে এসে টিভি চালিয়ে দেয় অতসী। সিরিয়াল চলছে। নায়কের দুটো বউ, তাদের চোখা চোখা ডায়ালগ! অতসী ভাবে, “আচ্ছা, যদি আমি পরিমলের বাড়ি হাজির হয়ে বলি, ‘এই দ্যাখো, আমি তোমার বউ, তুমি ভুলে গেছ! পরিমল কি বলবে? আর পরিমলের বউ?” হাসি পায় অতসীর। অতসীই তো বলেছিল, “এখন কি করে বাবা মাকে ফেলে যাই, বল?” অতসীর বাবার ক্যান্সার হয়েছিল। মা পাগলের মত ছোটাছুটি আর সেবা করেছিল। বাড়িটুকু বাদে সব সঞ্চয় জলের মত ঢেলে দিয়েছিল চিকিৎসায়। দাদা তো তার আগেই বউ নিয়ে আলাদা হয়ে গেছিল। চিকিৎসার ব্যাপারে মাথা ঘামায় নি একদম। বলেছিল, “আমার সামান্য চাকরী……” তখন অতসী কত বছরের? ছাব্বিশ? তারপরও পঁচিশ বছর পার হয়ে গেছে। এতদিনের পুরনো স্মৃতি কেউ মনে রাখে? পরিমল মনে রাখবে কি করে?
বাবা মারা যাওয়ার পর পরিমল এসেছিল। অতসী সঞ্চয়শূন্য সদ্য বিধবা মাকে একা ফেলে পরিমলের হাত ধরার কথা ভাবতে পারে নি। মাও বলেনি। আজ ভাবলে আশ্চর্য লাগে, মা কী বুঝত না পরিমল কেন আসত? তাহলে মা নিজের অশক্ত বেলার কথা মনে করে অতসীর ভবিষ্যৎ ভাবল না! দীর্ঘশ্বাস বুক চিরে বেরিয়ে আসে। মা চলে গেলে পেনসনটুকুও থাকবে না।
রাত্রে খাওয়া দাওয়া হয়ে গেলে জানলায় দাঁড়ায় অতসী। ছোট্ট বারান্দা বোঝাই পুরনো ট্রাঙ্ক, বাক্সে। দাঁড়াবার জায়গা নেই। তাই বাইরেটা দেখতে গেলে জানলায়ই দাঁড়ায় অতসী। দাঁড়িয়ে দ্যাখে খালের উপর কুয়াশা জমেছে। ঘন সাদা কুয়াশা। আজকাল এই এক হয়েছে। শীতকাল ছাড়াও খালের উপর কুয়াশা জমে। কুয়াশা নিয়ে এক ভাবনার ঘূর্ণি শুরু হয়েছে অতসীর মনে। অতসীদের ভাড়াটে অনুময় আর সুদীপ্তি খুব বই পড়ে। তাদের ঘর থেকে মাঝে মাঝেই বই এনে পরে অতসী। এই ক’দিন হল একটা মহাভারত এনেছে। নতুন কার লেখা। কি যেন ঘোষ। অতসী নাম আগে শোনে নি। অবশ্য অতসী সাহিত্য পড়েই বা কতটা! সেই ছোটবেলায় বঙ্কিম, তারাশঙ্কর, শরদিন্দু, ফেলুদা যা পড়েছে। এই মহাভারত কেমন অন্যভাবে লেখা। খুব বাস্তব। মনে হচ্ছে যেন তারা আশেপাশেই ঘুরে বেড়াচ্ছে। যেমন পরাশর। পরাশর বললেন সত্যবতীকে, “আমি তোমাকে কামনা করি।“ মাস্টারও তো লাল ছোপধরা দাঁতে হেসে কামনা করেছিল…… তাহলে অতসীর গা ঘুলিয়ে উঠেছিল কেন? অতসী ভাবে, “না, মাস্টার কামনা করে নি। কামনার মধ্যে একটা স্পষ্টতা আছে সত্যির মতন। তাই সম্মানও আছে। কিন্তু মাস্টারেরটা লালসা। যা উচিৎ নয় ফাঁকতালে তা লুটে নেবার উল্লাস……চূড়ান্ত অসম্মানের।“ অতসী ভাবে, “আচ্ছা, কামনা কেমন হয়?“ অতসী জানে না। শুধু কথাটা ভাবলে তার যৌবন পেরনো শরীরটা কেমন অবাধ্য হয়ে ওঠে। পাগল পাগল লাগে। অতসী ভাবতে থাকে……”তারপর সত্যবতী সম্মত হলেন। আচ্ছা, সত্যবতী কি সম্মত হয়ে একটু হেসেছিলেন? লজ্জায় মাখামাখি হাসি? সেরকম হাসলে নারীকে তুলনাহীনা লাগে না?” অতসী দীর্ঘকাল আয়নায় মুখ দ্যাখে না। কি দেখবে? হনুর হাড়ের ঠেলে বেড়িয়ে আসা? চোখের কোণে কালো অনিদ্রা? তুলনাহীনা ভাবার মত মুর্খামি অতসী করতে চায় না। তবু ভাবনারা এসে পড়ে। অতসী ভাবে, “পরিমল বলেছিল না? হাসলে তোমার গালে টোল পড়ে তো…… তুলনাহীনা লাগে……” উত্তরে অতসী হেসেছিল না? শ্যামলা অতসী……দুগালে টোল ফেলে?
নিজের কথা প্রাণপণে ঠেলে সরিয়ে সত্যবতীর কথা ভাবতে চায় অতসী। “তারপর? তারপর ঘন কুয়াশায় সত্যবতী কি করলেন? এবার আর কল্পনা চলে না অতসীর। পাশের ঘর থেকে অনুময় সুদীপ্তির অনুমেয় শব্দে অনুময়দের উপস্থিতি অণু ছাড়িয়ে হিমালয় প্রমাণ হয়ে ওঠে অতসীর কাছে। প্রাণপণে শক্ত হতে হতে অতসী দ্যাখে খালপাড়ে সত্যবতী পরাশরের কুয়াশায় মিলিয়ে গেছে। শুধুই গাঢ় অন্ধকার। কিন্তু কুয়াশা, সত্যবতী, পরাশর পিছু ছাড়ে না অতসীর। ভোর ভোর উঠে দ্যাখে খালের উপর ঘন সাদা কুয়াশা। পরাশর যেন ঐ কুয়াশার মধ্যে দাঁড়িয়ে সত্যবতীকে ডাকছেন। অতসী কাঁচুলি পরে, নীবি পরে, ফুলহারে সেজে সত্যবতী হয়ে যেতে থাকে।
কুয়াশা আর পরাশর অতসীকে বড় অমোঘ আকর্ষণে টানতে থাকে। একদিন রাত্রে সত্যি অতসী বড় সুন্দর করে সাজে। মায়ের অনেক পুরনো বালুচরিটা পরে। একটু লিপস্টিকও লাগায়। টিপ পরে। তারপর খালের উপরের কুয়াশায় হেঁটে যাবে বলে ভাবতে থাকে। “আচ্ছা, কাল সকালে কি মিডিয়া আসবে? আসতেই পারে……অনুময়তো খবরের আপিসেই কাজ করে। দাদা আসবে তো? নিশ্চয়ই আসবে। অতসী তার মান্ধাতার মোবাইল থেকে মেসেজ করে দিয়েছে। মেসেজ পেয়ে দাদার আসতে আসতে আর একঘণ্টা। তার মধ্যেই……অতসী মনে মনে তৈরি হয়ে নেয়। পরাশর ডাকছেন……
মার দিকে একবার তাকায় অতসী। না, ভাববে না মায়ের কথা। মা ভাবে নি ওর কথা। খালপাড়ের কুয়াশা ডাকছে। অতসী আস্তে আস্তে খালের কুয়াশায় হেঁটে যাবে। পরাশর ডাকছেন। অতসী সাঁতার জানে না। পায়ে স্যান্ডালটা গলিয়ে যেতে গিয়েও ভাবে, “দাদা যদি মাকে এখানেই ফেলে রেখে দিয়ে চলে যায়? একমাস বাদে যদি আসে প্রোমোটার সাথে করে? কবে থেকেই তো বলছিল, এই অঞ্চলে এত ফ্ল্যাট হচ্ছে……যা দাম! এই ফালতু বাড়ি রেখে দিয়ে কি হবে? না, না। প্রোমোটার সঙ্গে করে আসতে পারে কিন্তু মাকে ফেলে রেখে দিয়ে চলে যাবে কি করে? নিশ্চয়ই বৃদ্ধাশ্রমে অন্তত: দেবে…… বৃদ্ধাশ্রমে মাকে ওরা ঠিকই দেখবে, তাই না?”
কুয়াশা গভীরতর হয়। গভীর ঘুমে সুলতা আধো জড়ানো গলায় কি বলেন……অতসী বুঝতে চায়। অতসী শুনতে পায়, মা বলছে, “অতু আয়, অতু আয়, পেচ্ছাপ যাব।“ অতসী চটি খুলে ঘরে ঢোকে। মাকে বাথরুমে নিয়ে যায়। তারপর বসেই থাকে। ঘুমন্ত মায়ের মুখে খালপাড়ের রাস্তার আলো এসে পড়ে। খালপাড়ের কুয়াশায় পরাশর অপেক্ষায় আছেন জেনেও অতসী উঠতে পারে না। থাকুন নাহয় পরাশর ওই কুয়াশায় আরও ক’দিন……।অন্তত: মা যে কদিন আছে………ততদিনে পরাশরও যদি পরিমলের মত……তাহলে? খালপাড়ের কুয়াশার মত হাসি ফুটে ওঠে অতসীর ঠোঁটে।

Facebook Comments

Posted in: March 2021, STORY

Tagged as: ,

Leave a Reply