যুগলবন্দী :: অনিন্দিতা গুপ্ত রায় ও দীপশেখর চক্রবর্তী

fail

[শুধু শারীরিক নয়, এই মানসিক দূরত্বের সময় আমরা চেয়েছিলাম শিল্পীরা কাছাকাছি আসুক। তাই এই উদ্যোগ – যুগলবন্দী। আলাদা আলাদা মাধ্যমে কাজ করা শিল্পীরা একজোট হয়েছেন। সৃষ্টি হয়েছে কবিতা থেকে ছবি বা ছবি থেকে কবিতা। এ’ভাবেই এ’ আয়োজনে কবি অনিন্দিতা গুপ্ত রায় ও শিল্পী দীপশেখর চক্রবর্তী।]


কবি পরিচিতি

অনিন্দিতা গুপ্ত রায়

জন্ম (১৯৭২) ও বেড়ে ওঠা মালদহ জেলায় হলেও গত বাইশ বছর জলপাইগুড়ি জেলার স্থায়ী বাসিন্দা। ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র ও শিক্ষক। স্কুলজীবন থেকেই লেখালেখি শুরু। (১৯৯০)

 কবিতাই প্রথম পছন্দ। এছাড়া সংবাদপত্রে নিয়মিত কলাম, ফিচার, গল্প, প্রবন্ধ, সাহিত্য সমালোচনা, মুক্ত গদ্য ইত্যাদি লেখালেখি। প্রকাশিত কবিতার বই ১০ টি একটি অনুবাদ কবিতা সহ। গদ্যের বই একটি। সর্বশেষ কবিতার বই  “অববাহিকার লেখাগুলি “, প্রকাশক সিগনেট। বিভিন্ন সম্মাননার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ২০১৭ সালে অনুদিত গ্রন্থ “নির্বাচিত মায়া এঞ্জেল্যু” র জন্য ভাষানগর মল্লিকা সেনগুপ্ত পুরস্কার।

লেখার বাইরে এ জীবন ও জগতের সঙ্গে জড়িত বিবিধ সম্ভাব্য অসম্ভাব্য বিষয়ে আগ্রহ। বিতর্কে জড়ানো ও ব্যক্তি -আক্রমণের প্রতি প্রবল অনাগ্রহী। মানবতাই এক ও একমাত্র ধর্ম বলে বিশ্বাস করেন।

অভিসারগাথা

অনিন্দিতা গুপ্ত রায়

উপকূলরেখা ঘিরে আবছায়া যত
পুরনো মায়ার মতো স্মৃতিবিজড়িত
গা থেকে যমুনা খুলে এমন নীলাভ
তার খুব কাছাকাছি ডিঙি ডুবে গেলে
নেই–জেনে চন্দ্রাহত, সাঁতারবিমুখ
অন্ধকার লিখে রাখে আজন্ম ঋণ

অপেক্ষায় স্বরলিপি কড়িতে কোমলে
বালি ও জোৎস্না খুব মাখামাখি ওই
চোখের তারায় জমে দৃষ্টি ভেজালো
চাঁদ যাকে ভুল করে কাজল জেনেছে, কান্না এঁকেছে বসে ঢেউয়ের মাথায়
পা ছুঁয়ে বলেছে,তুমি কোথাও যেও না!

পাশাপাশি দুটিস্রোত দুই অভিমুখী
সমুদ্রভ্রমণে যাবে, ভ্রমের পাহাড়—
মাথা তুলে উঠে এসে মধ্যে দাঁড়াবে
পাটাতন ভেঙে জল গলা টিপে ধরে
সহস্র বাহুতে চেপে চুম্বনে, আহা
এ জীবন এ মৃত্যু একাসনে রাখি!

এই দ্যাখো কণ্ঠনালী নীল তবু সুধা
এই দ্যাখো কোলেকাঁখে অমৃত কলস!
পরিধির অন্যদিকে জোয়ারের টান
নস্যাৎ করে ডুব শরীরী প্রদাহ
ফেরানো মুখের ভাঁজে জলপ্রপাত
লবণ গন্ধ মেখে থমকে দাঁড়ালো

সীমানা হঠাৎ জেগে নিজেকে জানালে
পরিমিতি শিখে নিতে উন্মুখ হাওয়া
নির্ধারিত পৃথিবীর চেনা গতিপথে
উদাসীন ফিরে যায় অন্য বলয়ে।
সেখানে রাত্রি ঘন নীল জোনাকির
নাকি তা আগুনকনা ঢেউ ছিটকানো?

কাহিনীর ভাঙাগড়া সমাপন ফেলে
পাশ থেকে উঠে যেও মথুরানগরে!


শিল্পী পরিচিতি

দীপশেখর চক্রবর্তী

জন্ম ১৯৯১ সালে,বারাসাতে। প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাহিত্যে স্নাতোকোত্তর পাশ করার পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষণা সম্পূর্ণ করেছেন। লেখালিখির সূত্রপাত স্কুল জীবনে।
লেখালিখি ছাড়াও ছবি আঁকা এবং ছবি দেখা তার প্রিয় শখ। দেশ বিদেশের সিনেমার প্রতি তার অসীম আগ্রহ রয়েছে।
মার্কেজ, কাফকা, টনি মরিসন, ফকনার, জেমস জয়েস, বিভূতিভূষণতার প্রিয় লেখকদের অন্যতম। প্রিয় রঙ তার-গাঢ় নীল।

বড় ক’রে দেখার জন্য ছবিটিতে ক্লিক করুন

Facebook Comments

Leave a Reply