যুগলবন্দী :: সৌমনা দাশগুপ্ত ও সাহেব দে

fail

[শুধু শারীরিক নয়, এই মানসিক দূরত্বের সময় আমরা চেয়েছিলাম শিল্পীরা কাছাকাছি আসুক। তাই এই উদ্যোগ – যুগলবন্দী। আলাদা আলাদা মাধ্যমে কাজ করা শিল্পীরা একজোট হয়েছেন। সৃষ্টি হয়েছে কবিতা থেকে ছবি বা ছবি থেকে কবিতা। এ’ভাবেই এ’ আয়োজনে কবি সৌমনা দাশগুপ্ত ও শিল্পী সাহেব দে।]


কবি পরিচিতি

সৌমনা দাশগুপ্ত

শূন্য দশকের কবি।

প্রকাশিত কবিতাবই–
১. বেদ পয়স্বিনী, কৃত্তিবাস প্রকাশন (২০০৬)
২. খেলাহাট (২০০৮), সপ্তর্ষি প্রকাশন
৩. দ্রাক্ষাফলের গান (২০০৮), যাপনচিত্র প্রকাশন
৪. ঢেউ এবং সংকেত (২০০১৮), সৃষ্টিসুখ প্রকাশন
৫. জিপার টানা থাকবে (২০১৯), সৃষ্টিসুখ প্রকাশন
৬. অন্ধ আমার আলোপোকা (২০০১৯), ধানসিড়ি প্রকাশন

প্রকাশিত উপন্যাস —
মাশান রহস্য (২০১৯)

২০০৮সালে কৃত্তিবাস পুরস্কার পেয়েছেন ‘বেদ পয়স্বিনী’ কাব্যগ্রন্থের জন্য।

পাখিপরব

সৌমনা দাশগুপ্ত

দাবানল ঘন হয়ে ওঠে
স্থানীয় খবর নিয়ে উড়ে আসে
আজান রঙের পাখি

একজন আমি-কে হেলে পড়তে দেখে কেঁপে উঠছেন শ্রীমান হোসপাইপ। আর জল ছেটাতে ছেটাতে আর সাবানসমগ্র লিখতে লিখতে গান গাইছে ধুঁধুল-কঙ্কাল। ফুল থেকে ফলে তার স্বপ্রকাশ ঝুলে ছিল লতানো গাছের আলে। ওইদিকে দ্যাখো, ওয়াটেজ কমাতে কমাতে নিভে যাচ্ছে কুয়াশাকুটির

অন্ধকার পিঠে নিয়ে হামা টানছে জঙ্গল

কামারশালে জমাট কান্না
অবোধ ঝিনুক এক হাঁ-মুখ বুজিয়ে

ফোটনকণার দল নেমে এল, নেমে এল সোনালি ঈগল। পাখি-ভাসা দিন। পাখি-ডোবা রাত। এঞ্জিনও ঝুলকালি মুছেটুছে সটান দাঁড়িয়ে। শুধু হুইসিল… সমান্তরাল দুটি আগুনের শিখা, যেন গোসাপের জিভ

দু-হাত ধরে ঝাঁকাবে সব ঘুঙুরলেখা
দাঁতে তোমার বাঁকিয়ে তোলা লোহা
হাপর তুমি টানতে থাকো কান্না লেখো কান্না লেখো

বলেছিল তারার মশাল, রাতের বেলায় বৃষ্টি হবে খুব। মুষলধারে নামছে স্মৃতি। এরই মধ্যে কেমন দ্যাখো, আমাকে নিয়েই দুপুর খেলছে রোদ। আমিও যাব চড়ক-গাজনে। শলাকা বিঁধছে জিভের আগায়

লাভাজমি ছিঁড়েখুঁড়ে বেরিয়ে আসছে ঘোড়া। উঁকি মারে তলতা বাঁশের গান, বাঁশির এ-দুর্গম ফুঁ… পুড়ে যায় শালগাছ শিখা থেকে শিকড় অবধি

কে যেন মুখের ‘পরে আচমকা
ফেলছে সার্চলাইট

পথ আমার জলেই শয়ান

এত এত কমলাকথা, অন্তরিক্ষে ফেলে আসা শ্বাস! পাতারা এসব বোঝে, ঝরে পড়ে হলুদ হলুদ। ক্লোরোফিল মুছে ফেলে নেমে আসে পাখি। সবুজ চোখেরা জ্বলে। বিলম্বিত এ-আঁধার। রাত এক জ্যাভলিন। সরাসরি রাতকে পিষেছি

শিলপাটা
বাটনা বাটার স্বর…
                   ভোর ডাকে…
                           ভোর ডাকে…


শিল্পী পরিচিতি

সাহেব দে

নানা রংয়ের মানুষ সাহেব দে। নানা বিষয়ে কৌতূহল আর নিজের অদম্য জেদ ও আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে শিল্পের জগতে প্রবেশ তাঁর। ছবি আঁকা ওঁর প্যাশন তো বটেই, বেঁচে থাকাও। নানা মাধ্যমে নিজেকে আবিষ্কার করতে ভালবাসেন সাহেব। নিজের স্বত্বাকে ছড়িয়ে দেন কখনো মিশ্র মাধ্যমে, কখনো ইন্টিরিয়রে। এখন নিজের ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত মানুষটির স্বশিক্ষিত শিল্পের যে পথচলা তার তুলনা একমাত্র তিনিই।

বড় ক’রে দেখার জন্য ছবিটিতে ক্লিক করুন

Facebook Comments

Leave a Reply