যুগলবন্দী :: তাপস কুমার দাস ও তন্ময় কুমার দাস

fail

[শুধু শারীরিক নয়, এই মানসিক দূরত্বের সময় আমরা চেয়েছিলাম শিল্পীরা কাছাকাছি আসুক। তাই এই উদ্যোগ – যুগলবন্দী। আলাদা আলাদা মাধ্যমে কাজ করা শিল্পীরা একজোট হয়েছেন। সৃষ্টি হয়েছে কবিতা থেকে ছবি বা ছবি থেকে কবিতা। এ’ভাবেই এ’ আয়োজনে কবি তাপস কুমার দাস ও শিল্পী তন্ময় কুমার দাস।]


কবি পরিচিতি

তাপস কুমার দাস

লেখক ভারত সরকারের পারমাণবিক শক্তি দপ্তরে কর্মরত মহাকাশবিজ্ঞানের অধ্যাপক। বিভিন্ন সামাজিক, আর্থসামাজিক এবং রাজনৈতিক বিষয়ে লেখালেখি করে থাকেন। কবিতাও লেখেন, তাপসের একটি প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ আছে।

থাবা

তাপস কুমার দাস

ম্যা ম্যা করে ডাকি আমি, মাগো,
ম্যা ম্যা করে ডাকি – পাঁচন বাড়ি খেয়ে হাগো
মোতো, গড়াগড়ি যাও, তাতে কিছু আসে যায় দলীয় পতাকার?
এটুকুই জানি শুধু ট্যাক্স পেয়ারের পাল
রক্তচক্ষে – ‘কে রে তু্ই বাল?’
হাঁকার দিলেই রাষ্ট্র, হেগেমুতে একাকার
নাগরিক ভেড়ার দল যত – প্রভুপাদ, তোমারই মনোমত
চিহ্নে টিপে দেবো ঠিক নত
করে মাথা ইভিএমের বোতাম – কী আসে যায়
বেড আছে কিনা, অথবা এম্বুলেন্স – ঘোলাটে মাথায়
শির ছিঁড়ে পড়ে, বুক ফেটে কলিজার কুচি, কালচে জিভ আফসায়
সিলিন্ডার খালি বলে l পথের কুকুর যত
জড়ো হই তোমারি পায়ের তলায় প্রভু, এই দ্যাখো প্রথামতো
মাদী কুত্তী বৌ আমার, আর বারো বছরের মেয়ে
কুত্তার বাচ্ছা সে’তো, তোমারই করুণা চেয়ে
উল্টে পড়ে আছে একফোঁটা অক্সিজেন না পেয়ে
ধাঙ্গড়ের গাড়ি দেখে ম্যা ম্যা করে ডাকি, প্রভু
ম্যা ম্যা করে ডাকি, আমরা ভেড়ার পাল – তবু
একবার, একবার যদি নখ পাই, হে নাথ,
থাবা পাই, পাই ঝলকানো প্রচন্ড শ্ব-দাঁত
একটানে ফেঁড়ে দেবো জেনো প্রভু তোমার নধর দেহটি কাল
গলার নলিটি দু-ফাঁক – তারপর আহা লাল, তরল ঘন লাল !


শিল্পী পরিচিতি

তন্ময় কুমার দাস

আদতে শিল্পী  তন্ময় কাজ করেন কম্পিউটার গ্রাফিক্স নিয়ে।  অবসর সময়ে লেখালেখি করার অভ্যাস আছে। 

বড় ক’রে দেখার জন্য ছবিটিতে ক্লিক করুন

Facebook Comments

Leave a Reply