যুগলবন্দী :: উমাপদ কর ও কৃষ্ণজিৎ সেনগুপ্ত

fail

[শুধু শারীরিক নয়, এই মানসিক দূরত্বের সময় আমরা চেয়েছিলাম শিল্পীরা কাছাকাছি আসুক। তাই এই উদ্যোগ – যুগলবন্দী। আলাদা আলাদা মাধ্যমে কাজ করা শিল্পীরা একজোট হয়েছেন। সৃষ্টি হয়েছে কবিতা থেকে ছবি বা ছবি থেকে কবিতা। এ’ভাবেই এ’ আয়োজনে কবি উমাপদ কর ও শিল্পী কৃষ্ণজিৎ সেনগুপ্ত।]


কবি পরিচিতি

উমাপদ কর

জন্ম ১৯৫৫, বহরমপুর, মুর্শিদাবাদে। বর্তমানে কলকাতাবাসী। ফিজিক্সে সাম্মানিকসহ স্নাতক। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মচারী। যৌথ সম্পাদনা: ‘শ্রাবস্তী’; কর্মী: ‘রৌরব’ লিটিল-ম্যাগাজিন। অল্পদিনের জন্য হলেও একসময় পারফর্মিং আর্টের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন। কবিতা, কবিতা-বিষয়ক ও অন্যান্য গদ্য এবং সামান্য গল্প তাঁর লেখালিখি। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ, চোদ্দটি। কয়েকটি— কয়েক আলোকবর্ষ দূরে, পরিযায়ী চলো, অপর বসন্ত, ধনুক কথায় স্বর, নদীতে সায়ং ভেসে যায়, আলোর হাঁসুয়া, নামিয়ে রাখা চোখ, আনারকলির তানপুরা, বালুমানুষের ঝুনঝুনাৎ (দীর্ঘ কবিতা)। প্রকাশিত গদ্যগ্রন্থ: রিলেদৌড়ের অনিঃশেষ, রবীন্দ্রকবিতা: আজকের উঠোনে এবং আবহমান পাঠঃ তেরো আকাশ। ভালবাসেন ঘুরতে, থিয়েটার দেখতে, গান শুনতে, বন্ধুদের সঙ্গে দেদার আড্ডা সপান। মনে করেন কবিতাই তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছে শত বিয়োগেও।

পাহারাদার

উমাপদ কর

কেউ নেই, কেউ কোত্থাও নেই
     শুধু তুই, ভোর পাহারাদার—
রাত ফিরি করতে করতে তারাদের শ্রান্তি
     তামার মানতাসা হয়ে দূরে পাহাড়ের বাজুতে,
         সিঁদুর হবে সিঁথিতে কপালে,
  কাকে দেখাবি তুই এই অঙ্গসাজ
      কেউ নেই, কেউ কোত্থাও নেই

তুইও ক্লান্তির ভেতর থেকে চোখ মেলে দেখিস
     দীর্ঘ ঘুমিয়ে থাকাদের হাঁ-মুখে নিঃশ্বাস নেওয়া,
   যেন ভুলে গেছে পরিপাটি করে শ্বাস ছাড়তে—
ঝাড়ুদার! পাহারাদার বনে কেন বসে আছিস উলটো কিরিচের ডগায়?
    আঙুল কাটেনি তোর? রক্ত কোথায়? কোথায় বিন্দু বিন্দু লাল?
বহুদিন খাপ খোলেনি যার, বহুযুগের বৈধব্যে ভোঁতা, ধাতুমলে গাদা
    যুদ্ধ করেনি কেউ, জঙ্গের বারুদ রাখেনি মনে, অসংলগ্ন বাঁচা—
দে পাহারা দে, একদা তীক্ষ্ণর ঘাড়ে চেপে দেখ— ধীরে আরও ধীরে
    রাতবাদুড়ের ডানায় মহাসৌর-নটের জবাকুসুমের ছোপ—
           কেউ কোত্থাও নেই, কাকে দেখাবি!

মরা গাছ আর ঘুম-মরা মানুষ স্বপ্ন দেখতে জানে না,
      তোর দাঁড়ে স্বপ্ন মরচে-পড়া গাম্বাট
      জানি না চোখ-দুটো কী কথা বলে!

দিন খরচ করতে একসময় সবার লেফট-রাইট,
     তখন হয়তো পাতার ফুটো কাঁপানো রশ্মি
     তখন হয়তো মেঘের জটলায় আকাশঝোপ
     তখন হয়তো ঝড়ের কোলাহল ধুলো-ধুলো
                  শান্তটুকু ভেঙে চৌচির
তোরও ডিউটি খতম, কেউ চোখ খুলল না, কেউ শিখল না
     প্রকৃতির অপার, দেখল না নিরন্তর যুদ্ধের স্বপ্ন
দে, তুই পাহারা দিয়ে ভোর করে তোল রাতের জোব্বা
         নাই বা থাকলো কেউ কোত্থাও…


শিল্পী পরিচিতি

কৃষ্ণজিৎ সেনগুপ্ত

জন্ম ১৯৭৪, বহরমপুর মুর্শিদাবাদে। বাণিজ্যে স্নাতক। শৈশব থেকেই ছবি আঁকার শুরু। লিটল ম্যাগাজিন ও কবি-সাহিত্যিকের সঙ্গে যুক্ত বহু প্রচ্ছদনির্মাণ সূত্রে। পাঁচটি একক চিত্রপ্রদর্শনী করেছেন কলকাতায়। লেখালিখিও করে চলেছেন শিল্পকলা বিষয়ে। মোট প্রকাশিত পুস্তক সংখ্যা এগারো। উল্লেখযোগ্যগুলো— ‘ছবি নিয়ে লেখা’, ‘চিত্রশিল্পী জ্যোতিরিন্দ্রনাথ’, ‘আগুন-তুলি’, ‘রেকর্ডের পোশাক’ ‘নিরন্ন, কর্মহীন’ ‘কালো রং লাল ছবি’ ইত্যাদি। “উদ্ভাস” নামে একটি চিত্রচর্চাকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক। সম্পাদিত কাজঃ ‘নিখিল কথা’, ‘ছাপাখানার গলি’(শিল্পকলা সংখ্যা, সংগীত সংখ্যা)। প্রিয় শখ গান শোনা আর সংগ্রহ করা।

বড় ক’রে দেখার জন্য ছবিটিতে ক্লিক করুন

Facebook Comments

Leave a Reply