একুশের নির্বাচন ও সংখ্যার রাজনীতি : ড: অজয় অধিকারী

fail

প্রায় গোটা দেড় মাস ধরে রাজ্যের বিধান সভার নির্বাচন ৮ দফায় শেষ হলো। ২রা মে ফল প্রকাশ হয়েছে।আতঙ্কিত শাসক দল এবং ততোধিক আতঙ্কিত বিরোধী দল অবশেষে একটু গা-গতরের ব্যথা উপশম করার সুযোগ পেল। বর্তমান শাসক দল ৪৮ শতাংশের মত সমর্থন পেয়ে ও তাদের শাসন কালের মধ্যে সর্বোচ্চ আসন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় তৃতীয় বারের জন্য সরকার গঠনও সম্পূর্ণ করে ফেলেছে। বিরোধী বিজেপি খানিকটা হতভম্ব। ২০১৯ এর তুলনায় তাদের ভোট শতাংশ ও সম্ভাব্য আসন কমেছে। রাজকীয় প্রচার, বিপুল অর্থব্যয়ে তৃণমূল দলও ঐতিহাসিক অগ্রগতি দেখিয়েছে কিন্তু বিজেপির অর্থব্যয় এবং কর্পোরেট কায়দায় প্রচার হয়ত সর্বকালের রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়েছে। এই নির্বাচনে একটি তৃতীয় পক্ষও অংশগ্রহণ করেছে কিন্তু ধারে-ভারে কোন অবস্থাতেই সমস্ত এক্সিট পোল মিলিয়ে ধরলে এই তৃতীয় পক্ষের সম্ভাবনা ছিল ১০ শতাংশ আসন (৩০ টির মত) কিন্তু তারা শেষ করেছে মাত্র একটি আসন নিয়ে। এই রাজ্যের আঠাশ বছরের কংগ্রেস ও চৌত্রিশ বছরের বাম শাসনের কণা মাত্র ২১ এর বিধানসভায় আর নেই।
সম্পূর্ণ নতুন একটি বিরোধী দল ৭৭ টি আসন নিয়ে শাসক দলের মোকাবিলা করবে আগামী ২০২৬ সাল পর্যন্ত। পশ্চিমবঙ্গ এক নতুন দ্বিমাত্রিক রাজনৈতিক সমীকরণে পা রাখতে চলেছে যেখানে বাম-কংগ্রেস শূন্য।

রাজ্যের চলমান ভোট কাল

মার্চের সাতাশ তারিখ থেকে মে মাসের দু তারিখ পর্যন্ত ভোট প্রক্রিয়া চললেও এর রেশ ছিল বিগত প্রায় দুবছর। বলাই যেতে পারে যে উনিশের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে মুখোমুখি দুই দল বিজেপি এবং তৃণমূল সারা রাজ্য জুড়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দেয়। ছোটখাটো জনসভা বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প ঘোষণা ও উদ্বোধন , সোশ্যাল মিডিয়ায় লাগাতার প্রচার, ছোট ছোট নিজস্ব নিউজ পোর্টাল তৈরি করে উভয় দলের সমর্থনে ঢালাও প্রচার করা, ইত্যাদি গত দু-বছর ধরেই তীব্র প্রতিযোগিতা মূলক আবহাওয়া তৈরি করা হয়েছিল।
অন্যদিকে গত এক বছর ধরে স্থানীয় সংবাদপত্র গুলিতে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের লাগাতার প্রচার, অসার ও নির্লজ্জ সংসদীয় ব্যবস্থাকে প্রায় উলঙ্গ করে ফেলেছিল। গণনা করলে দেখা যেত সরকারি সু-নজরে থাকা সংবাদপত্র গুলি এক একটি দিনে নূন্যতম পনের থেকে অধিকতম ত্রিশটি করে বিজ্ঞাপন করছে এবং সেটি সম্পূর্ণ সরকারি তহবিল তছনছ করে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়ত গণনা করলে দেখা যাবে বিভাগ গুলির সারাবছরের খরচ যোগ করলে বিজ্ঞাপনের মোট খরচ থেকে হয়ত কম হবে।এরপর পড়ে থাকে জাতীয় ও আঞ্চলিক টিভি ও মিডিয়াগুলোতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের দুই শাসকদলের তথাকথিত সাফল্যের প্রচারে কোটি কোটি সরকারি তহবিলের টাকা খরচের নোংরা প্রতিযোগিতা। নির্বাচনের সরকারি ঘোষণার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত আমাদের দেশের উদার গণতন্ত্র নির্বাচিত সরকারকে এত ক্ষমতা দিয়ে রেখেছে যে তারা মুখের (প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী) ছবি সমেত নিজের সরকারের নাম পরে বকলমে নিজের দলের প্রচার জনগণের পয়সায় নিশ্চিন্তে সেরে নিতে পারেন।
যে দেশের অর্ধেক মানুষ বিশুদ্ধ পানীয় জল পায় না, সামান্য অক্সিজেনের অভাবের জন্য রাস্তায় হাঁপিয়ে মরে যায়, সেখানে সরকারি অর্থে নেতা নেত্রীদের কোটি টাকার বিজ্ঞাপন, কাট-আউট আমাদের সভ্যতার গোঁড়া কত শক্ত সেই বিষয়ে হয়ত প্রশ্ন তুলে দেয়। খাদ্যহীন, নিরাপত্তাহীন, হত দরিদ্র মানুষের কাছে “মন কি বাত” বা “বাংলার গর্ব মমতা” এই জাতীয় বিজ্ঞাপন কি অশ্লীল সংস্কৃতি তৈরি করে চলেছে।

রাজনৈতিক পরিসর

লোকসভা থেকে স্থানীয় নির্বাচন (পঞ্চায়েত, পৌরসভা) সমস্ত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো কিছু রাজনৈতিক বক্তব্যকে সামনে রেখে নির্বাচনের ময়দানে লড়াই করে। অন্তত এটাই বৃহত্তর গণতন্ত্রের একটি দস্তুর, মূলত এই রাজনৈতিক বক্তব্যগুলির মধ্যে দিয়ে আগামী দিনের শাসক হতে চাওয়া দলগুলো তাদের দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যগুলোকে নির্বচনের সামনে খাড়া করে। আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো যেখানে নির্বাচকদের একটি বিশাল অংশ সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবে পিছিয়ে পড়া, সেখানে দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক বক্তব্যগুলোর যথেষ্ট প্রাধান্য থাকা উচিত।
মূলত এই রাজনৈতিক বক্তব্যগুলোর চরিত্র দুই রকমের হয়ে থাকে। প্রথমত দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এবং দ্বিতীয়ত স্বল্পমেয়াদী রাজনৈতিক পরিকল্পনা। একটি সরকারের কৃষি নীতি, শিল্প নীতি স্বাস্থ্য নীতি, শিক্ষা ও শিল্প প্রসার নীতি, পাবলিক ফাইনান্সের আগামী নীতি, ভবিষ্যৎ কর প্রয়োগ নীতি গুলো গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক দিশা নির্ধারিত হয়।
স্বল্প পরিসরে পরিকল্পনার মধ্যে যে বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হতে পারে তা হলো; আগামী পাঁচ বছরে রোজগার সৃষ্টির রূপরেখা, প্রশাসনিক সংস্কারের পরিকল্পনা, নাগরিক অধিকার রক্ষায় পরিকল্পনা, পঞ্চায়েত ও পুরসভার নির্বাচন সুনিশ্চিত করে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের মাত্রা নির্ধারণ করা ইত্যাদি।
দুর্ভাগ্যজনক হলেও এটা সত্যি যে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলি তাদের “ভোট ইস্তেহারে” অস্পষ্টভাবে এই দিকগুলি সামান্য ছুঁয়ে গেলেও কোটি টাকার প্রচারে শুধু একে ওপরকে গালাগালি দেওয়া, হেলিকপ্টারে ধুলো ওড়ানো ও ফিল্ম জগতের গ্ল্যামার বয় ও গার্লদের প্রদর্শনী ছাড়া আর বিশেষ কিছু করেনি।
চূড়ান্ত দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধি, পেট্রোল ডিজেলের রেকর্ড ছোঁয়া দাম, ভেটের দুই মাস আগে পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে মানুষ আলু কিনেছে ৪৫-৫০টাকা প্রতি কেজি, লকডাউনের মধ্যে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক সম্বলহীন নি:স্ব হয়ে ঘরে ফিরে আসা, রাজ্য সরকারি স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মীদের মধ্যে বেতন ভাতা ও চাকরীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রবল বিক্ষোভ, মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগ, স্কুল শিক্ষক নিয়োগ, প্যারা টিচারদের চাকুরী শর্ত, ইত্যাদি নিয়ে কোলকাতায় রাজপথ উত্তপ্ত থেকেছে গত প্রায় এক থেকে দেড় বছর।কোন কোন ক্ষেত্রে এই লাগাতার বিক্ষোভকে চলতে দেওয়া হয়েছে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে দীর্ঘ টালবাহানার পর আন্দোলনের নেতৃত্বকে দ্বিধাবিভক্ত দেখিয়েছে। এমনও উদাহরণ সামনে আনা যায় যে বিক্ষোভকারীরা পরে শাসক দলের নির্বাচন প্রচারে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
একটু পিছনে গেলে অর্থাৎ ২০০৯ এর লোকসভা নির্বাচনের পর যখন তৎকালীন বাম সরকার দুর্বল হচ্ছে (তৃণমূল ও কংগ্রেস জোটের আসন ১৯টি) তখন বাম সরকারের বিরুদ্ধে যে বিক্ষোভগুলো চলছিল তারা এই ধরনের তুলনামূলক শক্ত ভাবে তার মোকাবিলা করতে পারেনি। ২০১৯ থেকে ২০২১ এর নির্বাচন পর্যন্ত রাজ্য সরকার বিরোধী একাধিক আন্দোলন যার কার্য্য-কারণ সম্পর্ক যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক ছিল সেগুলো এক কথায় বললে মুখ থুবড়ে পড়েছে। সরকার জনগণের মনে অ-জনপ্রিয় হলেও কোথাও যেন প্রশাসনের কাজকর্ম ও বোঝাপড়া চূড়ান্ত পেশাদার মনে হয়েছে।
একটি ঘটনা এখানে উল্লেখ করা যায়, কোলাঘাটে একটি প্রমোদ-নৌকা ডুবে বাম আমলে কয়েকজন জলে ডুবে মারা যায়। আজকের মুখ্যমন্ত্রী ওই দুর্ঘটনার জন্য তৎকালীন বাম সরকারকে ৪৮ ঘণ্টা ত্রস্থ করে রেখেছিলেন।অন্যদিকে গত ছয় মাস ধরে চলতে থাকা কেন্দ্রীয় সরকারের নয়া কৃষি নীতির উপর দিল্লি ও সংলগ্ন অঞ্চলে চলছে অভিনব কৃষক বিদ্রোহ, ২০১৯ এর ডিসেম্বরে পাস হয় নতুন ও বিতর্কিত নাগরিক বিল ও তার বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে গণ আন্দোলন, একটি সভ্য দেশে “গোলি মারো শালো কো” বলে একটি সম্প্রদায়কে চিহ্নিত করে ব্যাপক ও পরিকল্পিত দাঙ্গা সৃষ্টি করার মত ইস্যু ইত্যাদি ছিল ২১ এর বিধানসভার বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিসর।
নির্বাচনের প্রচার ও কোলাহলে কিন্তু কোন দলই বিশেষ করে বিজেপি ও তৃণমূল এই ইস্যুগুলোকে সামনে না এনে ঠাণ্ডা ঘরে পাঠিয়ে দিয়েছে। তৃতীয় পক্ষ হিসেবে বাম-কং জোট খুব শক্তিহীন স্বরে হয়ত এই পরিসরে ইস্যুগুলো তোলার চেষ্টা করেছিল কিন্তু ভোটের ফলাফল প্রমাণ করে দেয় সে এবার ভোটে বাম-কং জোটের কথা মানুষ শুনলেও প্রচার মাধ্যম ও ভোটার শুনতে পায়নি বা শোনেননি।
তাহলে কি বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিসরে নির্বাচন হয়নি? যদি রাজনৈতিক পরিসর ভোটারদের বিবেচনার বিষয়বস্তু না হয়ে থাকে তবে কেন বস্তুগত ধারণা বা নির্মিত ধারণায় উপর পশ্চিমবঙ্গের ভোট সংগঠিত হয়েছে যেখানে ৮০ শতাংশ ভোটার অংশগ্রহণ করলো, অর্থাৎ আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি সরকার নির্বাচিত করলো?

নির্বাচনের ফলাফল

নির্বাচনের ফলাফল বোঝাতে সাধারণত চূড়ান্ত ভাবে পরিসংখ্যানের সাহায্য নেওয়া হয়। ভারতের নির্বাচনে আবার ধর্মভিত্তিক, জাতি ভিত্তিক, উপজাতি ভিত্তিক, ভাষা ভিত্তিক সমস্ত পরিসংখ্যানের নিবিড় অনুশীলন চলে। বিভিন্ন পেশাদার সংস্থা বাণিজ্যিক ভাবে কিংবা নিতান্তই শিক্ষামূলক সংস্থা হিসেবে জটিল এই ভোট পরিসংখ্যানের চর্চা করে চলেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচীকে কোন গুরুত্ব না দিয়ে শুধুমাত্র এই সব পরিসংখ্যানের উপর নির্ভর করে ভোট জয়ের রণনীতি (Strategy) তৈরি করে সাফল্য অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এইক্ষেত্রে আই-প্যাক নামক পেশাদারী সংস্থার নাম উল্লেখ না করলে অন্তত এবারের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার ফলাফল বোঝা সুদূর পরাহত থেকে যাবে। তবে এই প্রসঙ্গে সমাজ বিজ্ঞানের প্রচলিত সেই বিখ্যাত কথা উল্লেখ না করলেই নয়, – “মিথ্যা তিন প্রকার – মিথ্যা, ডাঁহা মিথ্যা ও পরিসংখ্যান”।
এবার ফলাফলের বিশ্লেষণে অন্তত একটি অভিমুখ পাবো। শুরু করা যাক মুর্শিদাবাদ জেলায় – ‘মুর্শিদাবাদ’ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে যেখানে ১৯৫২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এই কেন্দ্রে মোট ৯ বার কংগ্রেস (২০১৬ তে বাম-কং জোট) এবং ৬ বার বামফ্রন্ট (মূলত ফরোয়ার্ড ব্লক) প্রার্থী এখানে জয়ী হয়েছে।
ভরা কংগ্রেস আমলেও ১৯৬২ সালে সিপিএম সমর্থিত নির্দল এবং ভরা বাম আমলে ১৯৮৭ সালে ও ২০১১ সালে কংগ্রেস প্রার্থী এই কেন্দ্রে জয়লাভ করেছিল।
২০১১, ২০১৬ ও ২০২১ এর ফলাফলে সামান্য ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা এখানে প্রয়োজন, ২০২১ এর ফলাফলের বোঝাপড়া পরিষ্কার করার জন্য।
২০১১ – কংগ্রেস – ৪৬.০৩%(জয়ী)
ফরোয়ার্ড ব্লক – ৪২.১৫%
বিজেপি – ৬.০৭%
২০১৬ – কংগ্রেস – ৪৮.৯৬% (জয়ী)
(ঘোষিত বাম-কং জোট)
তৃণমূল – ৩৬.১১%
বিজেপি – ১২.৪৩%
বিক্ষুব্ধ বাম – ০২.৫৯%
২০২১ – কংগ্রেস – ১২.৫৮%
(ঘোষিত বাম-কং জোট)
তৃণমূল – ৪০.৭৮%
বিজেপি – ৪১.৮৬%
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য খুব জরুরী। ২০১১ ও ২০১৬ সাল এ বিধানসভায় কংগ্রেসের জয়ী প্রার্থীর নাম শাওনী সিংহ রায়। ২০১৬ নির্বাচনে কং-বাম জোট এই আসনে মরিয়া লড়াই করে যা প্রতিবেদক নিজে চাক্ষুষ করেছে। বিধানসভার মধ্যে দুটি পৌরসভা ও তিনটি পঞ্চায়েত সবই তখন বাম ও কংগ্রেসের দখলে। কিন্তু ওই সময় কংগ্রেসের গড় মুর্শিদাবাদ খুব দ্রুত গতিতে তৃণমূলের কাছে জমি হারাচ্ছে। ২০১৩ এর নির্বাচনে জেতা কংগ্রেসের জেলাপরিষদ উত্তর ভারতের আশির দশকের আয়ারাম – গয়ারাম পদ্ধতিতে দখল হচ্ছে – সরকারি দল তৃণমূলের দ্বারা। আজকের বিজেপির বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তখন এই জেলায় শেষ কথা। এরকম অবস্থায় বিক্ষুব্ধ বাম (ফরোয়ার্ড ব্লক) প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও শাওন সিংহ রায় ২০১৬ তে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে।
এরপর এই বিধানসভার অন্তর্গত প্রথমে জিয়াগঞ্জ – আজিমগঞ্জ পৌরসভা (বামেদের জয়ী ২০১৫) এবং মুর্শিদাবাদ পৌরসভা (কংগ্রেসের জয়ী) ২০১৭ সালে তৃণমূলে আত্মসমর্পণ করে। ২০১৮ এ শাওনী সিংহ রায় কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেন। দল পরিবর্তন আইন পাশ কাটিয়ে ২০২১ পর্যন্ত তৃণমূল সরকারের সমস্ত সুবিধা গ্রহণ করেন এবং ২০১৮ সালের দখল হওযা জেলাপরিষদে বিশেষ পদাধিকার বলে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় সরকারি ক্ষমতাও ভোগ করেন। এরই মধ্যে ২০১৯ এর লোকসভা ভোটের ছয় মাস আগে বামেদের যেসব নেতা পৌরসভা ও পঞ্চায়েতে দল পরিবর্তন করে তৃণমূল হয়ে নিজেদের পদ বাঁচিয়েছিল তারা ধাক্কা খায় পুরানো কংগ্রেসিদের দ্বারা যারা কিনা ২০১৬ থেকে তৃণমূল হয়েছিল। এই দ্বিতীয় ধাক্কায় বাম থেকে তৃণমূলেরা সরে গিয়ে কংগ্রেস/তৃণমূলের নেতারা স্থানীয় ক্ষমতা দখল করে। এবং ২০১৮ এর পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই সমস্ত কোণঠাসা বাম – কংগ্রেস অংশ বিজেপির দিকে ঝুঁকে পড়ে।
২০১৯ এর লোকসভার হিসেবে মুর্শিদাবাদ জেলায় ফলাফল ঠিক এই রকম
তৃণমূল – ৩৮.৪৬%
কং+সিপিএম – ২১.৩৩% (জোট হয়নি)
বিজেপি – ৪০.১৯%
প্রায় সাড়ে তিন হাজার ভোটে বিজেপি এগিয়ে ছিল।
২০১৯ এর ডিসেম্বরে CAA/NRC আইন প্রয়োগের পর সম্ভবত ১৩ই ডিসেম্বর ২০১৯ সারা জেলায় বিজেপি বিরোধী যে বিশৃঙ্খল আন্দোলন শুরু হয় সেখানে রাজনীতির রঙ যতটা না ছিল প্রকাশ্য ধর্মীয় রঙ যথেষ্ট জোরালো হয়ে উঠেছিল। ট্রেনের লাইন উপড়ে ফেলা, স্টেশন ও স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া ইত্যাদি প্রকাশ্যে দিনের আলোতেই ঘটেছে। ভারতবর্ষে এই ধরনের ধ্বংসাত্মক আন্দোলন কম হলেও বিরল নয়, কিন্তু রাজ্য প্রশাসনের এরকম নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন এই জেলায় সমঝদার হিন্দু – মুসলমান নির্বিশেষে নাগরিকদের কাছে কিন্তু বোধগম্য হয়নি।
এক বাম সমর্থক (উচ্চ শিক্ষিত ও সচেতন) এই প্রতিবেদককে প্রশ্ন করে “আমি বিজেপিকে আটকাতে তৃণমূলকে ভোট দিতে চাই; কিন্তু তৃণমূলের প্রার্থী সেই হয়েছে যে ২০১১ সালে বাম প্রার্থীকে হারিয়ে জয়ী হয়েছে, ২০১৬ সালে বাম – কংগ্রেস জোট প্রার্থী হয়ে তৃণমূলকে হারিয়েছে এবং আজ একই প্রার্থী তৃণমূলের হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ছে।“
তার আরও প্রশ্ন যে ২০১৮ সালে সারা জেলায় পঞ্চায়েত দখল করার পর তৃণমূলের বিরুদ্ধে একমাত্র বিজেপি সামান্য দাঁড়াতে পেরেছে এবং সেই ফলাফলে ২০১৯ এ লোকসভার নিরিখে কিন্তু বিজেপি এগিয়ে। তার প্রশ্ন ২০১১ থেকে ২০১৬ হয়ে ২০১৯ পর্যন্ত শাসক তৃণমূল শুধু দল পরিবর্তন করিয়ে প্রথমে কংগ্রেস থেকে তৃণমূল, তারপর বাম থেকে তৃণমূল যে দমনের রাজনীতি করেছে এবং পরে পারস্পরিক গোষ্ঠী বিবাদে বাম – কং – ও তৃণমূলের হিন্দু ভোটের একটি বড় অংশ একই ভাবে বিজেপির আশ্রয়ে ধরা পরেছে।
একজন বাম ভোটার দেশের বৃহত্তর স্বার্থে কতটা উদার হতে পারে যে, সে বিজেপিকে আটকাতে তৃণমূলকে ভোট দিয়ে সেই প্রার্থীকে জেতাবে যাকে সে ২০১৬ তে কংগ্রেসের জোট প্রার্থী হিসেবে তৃণমূলের বিরুদ্ধ জিতিয়ে ছিল।
সারণী – ০১
২০১১ ২০১৬ ২০২১
তৃণমূল + জোট ৩৮.৯% ৪৪.৯% ৪৭.৯%
(১৮৪) (২১১) (২১৩)

কংগ্রেস ৯.১% ১২.৩% ২.৯৪%
(৪২) (৪৪) (০)

বামফ্রন্ট ৪০.০৬% ২৪.৮% ৭.০১
(৬১) (৩২) (১)

বিজেপি ৪.১% ১০.২% ৩৮.১৪%
(০) (৩) (৭৭)
সারণী -০১ ধরে বলা যায় ২০১১ র নির্বাচনে ৪০.০৬ শতাংশ ভোট পেয়ে বামেরা তৃণমূল ও কংগ্রেস জোটের কাছে পরাজিত হয়েছিল যাদের মিলিত ভোট শতাংশ ছিল প্রায় ৪৮ শতাংশ।
কংগ্রেস – তৃণমূলের জোট বছর দেড়েকের মধ্যে ভেঙে যায় কিন্তু এই পর্যায়ে কংগ্রেসের বহু বিধায়ক ঘর পরিবর্তন করে ফেলে। ২০১৬ নির্বাচনে একদিকে বাম – কংগ্রেসের মিলিত জোট, অন্যদিকে একলা তৃণমূল এবং তৎকালীন তৃতীয় পক্ষ হিসেবে উঠে আসে (২০১৪ র লোকসভায় প্রায় ১৭ শতাংশ ভোট পাওয়া) বিজেপি। স্মৃতি খুব দুর্বল না হলে একথা বলাই যায় যে কারচুপির নিরিখে ২০১১ র ভোটের থেকে ২০১৬ র নির্বাচন অনেক শিথিল ছিল। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গে নিরপেক্ষ ভোটদান এক অলৌকিক মাত্রা নেয়। গ্রাম শহর সর্বত্র নীরব সন্ত্রাসের ফলে কেন্দ্রীয় বাহিনী বুথের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে আর গ্রাম ও শহরের গলিপথে তৃণমূলের বাহিনী বিরোধী ভোটারদের পথ আটকে রাখে। বিজেপি ২০১৪ তে ক্ষমতায় এসে বিধানসভা জয়ের মত পরিবেশ পাবে না বলেই হয়ত পারস্পরিক কোন বোঝাপড়ায় খানিকটা ‘বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো’ ধরনের ভোট হয়। ২০১৬ র ফলাফল: তৃণমূল – ৪৪.৯%, কংগ্রেস – ১২.৩%, বামফ্রন্ট – ২৪.৮% ও বিজেপি – ১০.২%।
2011 র তুলনায় বামেদের ভোট কমে প্রায় ১৬ শতাংশ, আর তৃণমূলের ভোট বৃদ্ধি পায় প্রায় ৬ শতাংশ। কংগ্রেসের ভোট বাড়ে প্রায় ৩.০২ শতাংশ ও বিজেপির ভোট বাড়ে প্রায় ৬ শতাংশ। এই তিন দলের বৃদ্ধির পরিমাণ বামেদের মোট কমে যাওয়া ভোটের সঙ্গে সমান। যদি ভোটে কারচুপি না হয়ে থাকে (ধরে নিয়ে) বলা যায় যে বাম ভোটের সবথেকে বড় অংশ (৬ শতাংশ) তৃণমূলের ঝুলিতে পড়েছিল। কিন্তু কংগ্রেসের এই বৃদ্ধি কি তৃণমূলের থেকে একটিও আসেনি ধরে নেওয়া খুব যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত হবে?
আবার বিজেপির যে ৬ শতাংশ ভোট বৃদ্ধি হল সেই অংশে তৃণমূল থেকে কি অবাঙালী হিন্দু ভোট আসেনি ধরে নেওয়া যুক্তিযুক্ত হবে? পরিসংখ্যান কখনও কি এতটাই লিনিয়ার হয়? এক্ষেত্রে যদি ধরে নিই যে বিজেপির ৬ শতাংশ ভোট বৃদ্ধির ৩ শতাংশ করে তৃণমূল থেকে ও বাম থেকে এসেছে, তবে চিত্র বদল হয়ে দাঁড়ায় এই যে বামেদের ভোট ৬ শতাংশ নয় ৯ শতাংশ তৃণমূলে গিয়েছিল।
এই তথ্য বেশি যুক্তিপূর্ণ মনে হয় কারণ ২০১৪ তে বিজেপি কেন্দ্রে সরকার তৈরি করার পর ও বামেদের এই রাজ্যে লোকসভায় আসন মাত্র দুটোতে নেমে আসার পর ২০১৬ র নির্বাচনে বামপন্থীদের সাথে যে টুকু সংখ্যালঘু ভোট ছিল সেটাও নি:শ্বেসিত হয় এবং সেই অংশ তৃণমূলেই জমা পড়ে।
২০১৯ সালের লোকসভাতে যদি শুধু মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুর জেলার দিকে তাকান তবে সহজেই এই কথা বোঝা যাবে। এই তিন সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলায় স্বাধীনতার পর থেকে কংগ্রেসের যে ভোট ছিল সেটা প্রায় পুরোটাই তৃণমূলে সরে গেছে। এই সরে যাওয়া ইচ্ছাকৃত না অনিচ্ছাকৃত সেটি পরের বিষয় কিন্তু সমবেত ভাবে সংখ্যালঘু ভোট তৃণমূলে জড় হয়েছে শুধু বিজেপির বিভেদ রাজনীতিকে প্রতিহত করার জন্য এই তথ্য একটি রাজনৈতিক সত্য।
সুতরাং ডিসেম্বর ২০১৯ এর নাগরিক বিল পাশ হবার পর (যতই তৃণমূলের সাংসদদের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে থাকুক) সামগ্রিক ভাবে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম ভোট তৃণমূলের ঘর ভরিয়েছে। এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের এটা বুঝতে দেরি হয়না যে, বিজেপির থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এইরকম একটা অবস্থার জন্যই অপেক্ষা করছিল। তৃণমূল নেত্রীরও এই রাজনৈতিক ছবির আগাম স্পষ্ট ধারণা ছিল। এবং সপ্তম দফার পর যখন প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয় তিনি আফসোস করে বলেই ফেলেছিলেন “মালদা – মুর্শিদাবাদ তো আমার অধিকাংশ সিট”। অনেকেই এই দুই জেলায় বিদ্যমান রাজনৈতিক সমীকরণে এই কথা মানানসই মনে করেননি। কিন্তু পোলারাইজেশন পজিটিভ ও নেগেটিভ দুটো দিকই মমতা ব্যানার্জীর পক্ষে গেছে। হয়ত সেটা উনি একটি দিক নিয়ে বিশ্বাসী ছিলেন কিন্তু অন্য দিকটায় পুরোপুরি নিশ্চিত ছিলেন না। হিন্দু ভোটের পোলারাইজেশান নিয়ে মমতা নিশ্চিত ছিলেন না। বিজেপি নিশ্চিত ছিল (ভুল অর্থে) কিন্তু একজনই সঠিকভাবে হিন্দু ভোটের ৭০ শতাংশ নিয়ে নিশ্চিত ছিলেন – তিনি আর কেউ নন পি.কে.॥
তৃণমূলের জয়ের পর কে কি বলছে তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ভোটের আগে তৃণমূল কোন মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা থেকে শুরু করেছিলো,সেই অবস্থা নিরূপণ করা। যে দল ভাঙানোর শক্তিতে তৃণমূল গত দশ বছরে তার রাজনৈতিক স্বপ্ন “বিরোধী শূন্য বাংলা” প্রায় সফল করে ফেলেছিল, সেই একই অস্ত্রে তৃণমূলকে টুকরো টুকরো করে ফেলে বিজেপি। সাংসদ থেকে পঞ্চায়েত পর্যন্ত ভিত নড়ে যায় তৃণমূলের। অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সম্ভাবনাহীন কঠিন সিটে টালিগঞ্জের মুখ এবং বর্তমান নেতৃত্বের উপর ভরসা রাখতে তৃণমূল বাধ্য হয়। আত্মশক্তি এতটাই কম ছিল যে প্রধান নেত্রী প্রায় দেড় মাস ধরে হুইলচেয়ারে থাকতে বাধ্য হন, এবং মূল বিরোধী দল এই ঘটনা নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করতেও বোকার মত বাধ্য হন।
কিন্তু এই প্রবল যুদ্ধে যেখানে যেখানে ২০১৬ সালের মত কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহারের সুযোগ আর থাকবে না এবং যেখানে অন্তত ২০ শতাংশ হিন্দু ভোট তৃণমূলকে পেতেই হবে তার মূল কারিগর প্রশান্ত কুমার ছিলেন নিশ্চল। ২০১৯ এর তিন বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের পরীক্ষাগারে তার হাইপোথিসিস প্রমাণিত হয়ে গেছিল।
আমফানের ত্রাণ বিতরণের ও বাংলার আবাস যোজনার ব্যাপক কাটমানির বদনামের মত ক্ষত পূরণের জন্য “বাংলার গর্ব মমতা” ও শেষ পেরেক হিসেবে “দুয়ারে সরকার” এর মত প্রকল্প দক্ষিণ বঙ্গে ক্ষয়ে যাওয়া অংশ ভরাট করে। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম, দুই বর্ধমান, হুগলী ও নদীয়ায় ভোট সমীকরণ শুধু গোষ্ঠী ভিত্তিক অনুদান ও অনুদানের প্রতিশ্রুতির উপর পুন:নির্মাণ করে ফেলা হয়। ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণ ২০১৯ এর লোকসভার পর যে অবস্থায় পৌঁছেছিল স্থানীয় স্তরে বিভিন্ন অঞ্চলের হিন্দি – ভাষী অবাঙালীদের একটা বড় অংশকে যে কোন মূল্যে তৃণমূলের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা হয়।
এখানে মনে রাখতে হবে যে মাত্র ২০ শতাংশ হিন্দু ভোট, যার মধ্যে ১২-১৪ শতাংশ তৃণমূল দলের নিজস্ব স্বার্থ গোষ্ঠীর সাথে যুক্তই ছিল অর্থাৎ ৬–৮ শতাংশ অতিরিক্ত ভোট তৃণমূলের প্রয়োজন ছিল। সমাজ বিজ্ঞানের কলকাঠি যারা নাড়াচাড়া করে তারা জানে যে প্রশান্ত কিশোর বা আই প্যাক এই কাজ যোগ্যতার সাথে বহুবার করে এসেছে।
শ–দেড়েক দল বদলুদের প্রার্থী করে বিজেপি প্রশান্ত কিশোরের এই পরিকল্পনায় আরও পুষ্টি জুগিয়েছে। সিঙ্গুরের বিজেপি ভোটার তৃণমূল ও রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে পৃথক করতে পারেনি। যেমন পারেনি লকেট চ্যাটার্জীকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কু-কর্মের জন্য। বাম-কংগ্রেস জোটে আই এস এফ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে, কিন্তু ১.৫ শতাংশ ভোট পেয়ে আই এস এফ ফরোয়ার্ড ব্লক, সি পি আই ও আর এস পি র থেকে অনেক বেশি যোগ্যতার পরিচয় রেখেছে। ভদ্রবিত্ত বাঙালির (হিন্দু-মুসলমান উভয়েই) আব্বাসকে নিয়ে নাক সিঁটকানো থাকবেই যারা আবার মৌলানা বরকতি, সিদ্দিকুল্লা, কিংবা ইদ্রীশ আলিদের সাম্প্রদায়িকতাকে নজরে আনে না। আবার শরিয়ত পন্থী মধ্যবিত্ত মুসলমান শ্রেণীর এক বড় অংশ ঠিক রাজনৈতিক কারণে নয় বরঞ্চ সুফি-পীর-দরবেশ পন্থী আব্বাসকে ধর্মীয় গোঁড়ামির জন্যই পছন্দ করে না। তবে আব্বাস যদি ভবিষ্যতে বাম জোটে থাকে তবে আগামী দিনের রাজনীতির দিশা নিয়ন্ত্রণে অবশ্যই সার্থক হবে।
Nothing succeeds than success – এই কথাটাই ২০২১ এর তৃণমূলের জন্য রাখতে চাই। সাথে এটাও বলতে চাই আসবাব পূর্ণ ঘরের মধ্যে যদি আগুন জ্বালতেই হয় তবে ঘরে জলের জোগান রাখতে হবে। জলের ড্রামে কেরোসিন রাখলে বিভ্রান্তি ও বিপদ বাড়তে পারে।
যত বলা হোক এটা উন্নয়নের ভোট, বিজেপিকে রুখে দিতে বাঙালি ভারতবাসীকে পথ দেখালো ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব খুবই শ্রুতিমধুর, সভ্যতার সাথে হয়ত সামঞ্জস্যপূর্ণ কিন্তু বাস্তবতা হয়ত নয়। পোলারাইজেশন ও পারস্পরিক দেওয়া নেওয়ার রূপরেখার উপর ২০২১ এর পশ্চিমবঙ্গের ভোট হয়েছে; সম্ভবত ইতিহাস এভাবেই এই ঘটনাকে মনে রাখবে। এবারে নির্বাচনে তিন পক্ষের তিনটি এক বাক্যের প্রচার কৌশল দিয়ে এই প্রতিবেদন শেষ করব।
বিজেপি – “ দিদি ও দিদি ই ই…” – অশ্লীল তম বক্তব্য
তৃণমূল – “ তারপর-তারপর-তারপর” – ভয়ংকর তম বক্তব্য
মোর্চা – “ ভিক্ষা নয় অধিকার চাই” – বিশ্বাস করতে চাই।
পশ্চিম বঙ্গের চলমান রাজনীতি থেকে সমস্ত সংকীর্ণতা মুছে গিয়ে সুশাসন, শান্তি ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা হোক। পারস্পরিক হিংসা ও দোযারোপ আমাদের কোন কাজে আসবে না।

[লেখক – অধ্যক্ষ, রানী ধন্যাকুমারী কলেজ, জিয়াগঞ্জ, মুর্শিদাবাদ।]

Facebook Comments

Leave a Reply