অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়-এর কবিতা

ট্রাক – ১

চাকায় ছটি শিশুর ক্রন্দন ছুলে পেরিয়ে গেল ট্রাক
রাতে, ট্রাকই হলো প্রকৃত পুরুষ
যেকোন জুলাই বিকেলে সে বৃষ্টি নামায়
আর জাতীয় সড়কে টোটোসহ ভেসে যায়
বেহুলা—ডাক্তারি ভাষায় মৃত লক্ষ্মীন্দর…

জুলাই বিকেলে ট্রাক মায়াবী হরিণ
খনার বচন লেখা দগদগে পিঠ

সন্ধ্যায়, দাঁড়ায়েছে গাভীর দাঁতের ন্যায় সারিবদ্ধ পরিপাটি
ধাবা সংলগ্ন এলাকা দখল যেন
শরৎ বসুর বাড়ি, নেতাজী এলেন পাহাড়ে
স্বাধীন বিচারী ট্রাক, নামল সমতল নিকটে রাজধানী
একগাড়ি মৌসুমি বাতাস এনেছে এই লরি…

চাকায় শিশুর ক্রন্দন তুলে পেরিয়ে গেল ট্রাক
বারান্দায় মধ্যরাত, সিগারেট, পাকা কাঁঠালের জঙ্ঘা ঘরে…

অবাস্তব হাতির গল্প – ৩

পর্তুগালে হাতি নেই রোনাল্ডো রয়েছে
শুঁড় তুলে যে বর্ষা নামায় তাকেই তো
অরণ্য বলি, শাল গাছ বলি শুদ্ধ ভাষায়

ছাঁট মাংসের ঝাল ঝাল চচ্চড়ি নিয়ে আসি
চটির কাদায় বিদ্যুৎপৃষ্ট কিশোরের হাড়
যেন সে পেকে আম হয়েছিল বজ্রপাতের হেতু

বয়স্ক কুঁদরীর মতো টকটক তোমার ঠোঁট
আমার জিভের মতো গোলাপি কিছু নেই; এসো
হাতিদের রাস্তা ধরে হাঁটি
সন্দক লবণ, শুকনো কাঠ, রেলের চাকা হতে
আগুন তুলে নেব; পথের ধারে এই ভাত
উষ্ণ ও নরম; গলসি স্টেশনের ওই লাল
বাড়ি যেন; হাতি যখন টসটসে
এইখানে আসে, উঠোনের কাদাজাম খায় সারা রাত…

Facebook Comments

Leave a Reply