অনিন্দিতা গুপ্ত রায়-এর কবিতা

fail

দেবীপক্ষ

আলোর ভিতর পা ডুবে যায় অন্ধকারে মুখ
ছিটকে আসা ফুলকি পোড়ায় চোখদুটি উৎসুক।
আগুনখেকো সর্বনাশের মাথায় ঢালি ঘি

নিঃসাড়ে শব পুড়তে থাকে জোর হাততালি দি
আলোয় কালোয় অদলবদল
চক্ষে লাগে ঘোর
সুতোর টানে নাচছে পুতুল বাদ্যি বাজে জোর

শব্দ ঢাকে কান্না মেয়ের রঙ ঢেকে দেয় ক্ষত
বিসর্জনের রাত পোহালে খড়বিচালি যত
ভাসতে থাকে, উলটো স্রোতে রাংতা মুকুট জরি
উপাসনার মঞ্চ থেকে খাচ্ছে গড়াগড়ি

ইচ্ছেমত রঙ চড়াবে ইচ্ছেমত ধুলো—
দমকা হাওয়ায় গেরস্থালী দারুণ এলোমেলো!

সীমানা কেউ ঠিক করেনি যেমন আলোর হাওয়ার
আগুন থেকেও সোনার কুচি যেমন খুঁজে পাওয়ার—

মারখাওয়া সব রাত্রি শেষে হয়ত কোথাও ভোর
মানচিত্রে, স্বদেশ আমার হয়ত বা মেয়ে—তোর!

ভাসান

তুমি ত জেনেছ কবে এদিকে শিকল আর ওইদিকে মুক্তির পথ
অতিক্রমের কাছে কতবার দ্রুত যেতে থেমেছে শকট
চলে গিয়ে ফিরে আসা, বেহায়া বর্ষাকাল, বৃষ্টিবাদল
অসময়ে গলাজল চৌকাঠ ছুঁয়ে ডাকে, পিছু নেয় —‘বল’
কী বলার কী শোনার, ভাষাহীন, কতটুকু নীরবতাময়
সেসবের অনুবাদে যতটা আত্মকথা যতখানি সীমিত সময়
বিভ্রম লিখে লিখে কুহকের পাশে বসি ছুঁয়ে থাকি হাত
কপালে একটি তারা সন্ধ্যার, নতমুখী ছুটি লেখা রাত
নির্ধারিত নিভে আসা আলোর ধর্ম তবু হাওয়া অপরাধী
নিজেকেই জেনে নিয়ে নদীজলে অভিমানে নেমেছে একাকী
নিরস্ত্র দেহে জমা ক্ষতগুলো এতদিনে ফুটে ওঠা ফুল
অলিন্দে ডাক আসে এইবার যেতে হবে
দিগন্তরেখা থেকে দূর!

[ছন্দ নিয়ে দু এক কথা: ছন্দ কিছু মন্দ তো নয়—না লেখায় না জীবনে। ছন্দ মানেই বন্ধও নয়। বরং মুক্তিও। যেকোনো বন্ধনের মতই ছন্দও আসলে এক মায়া টান। অনেক সহজ কথার চলাচল পথ বুকের ভিতর পৌঁছে যাওয়ার। গভীর গভীরতর বোধের পাশাপাশি যেমন পথের ধারের অনাম্নী ফুলের ফুটে ওঠা থাকে, তেমনি ছন্দের বারান্দায় দাঁড়িয়ে কখনো আলোবাতাসের স্বতঃস্ফূর্ত চলাচল মাখার অবসর জুটে যায়। সব কথা ছন্দে বাঁধার নয়। সব কথা ছন্দমুক্তিরও নয়। কখনো না-হাঁটা মেঠো পথে পা রেখে ভোরের কুয়াশা মেখে হেঁটে দেখো একবার—খুব অন্যরকম না? ছন্দে লিখি অনেকসময় শুধু নিজের জন্য যা লেখার। সিঁড়ি ভেঙে ভেঙে খোলাছাদে উঠে যাবার মত। সেখান থেকে অনেক দূরের তারার আলোও কেমন কাছের মনে হয় যে!]

Facebook Comments

Leave a Reply