২৭ মার্চ ২০২১ শনিবার বিকেল পর্যন্ত : রণবীর পুরকায়স্থ

fail

রহিম গাজি স্যারের বাড়ি শুধু বাড়ি নয় একটি আস্তো গেরাম। তিন বিঘা জমির উপর সাত ভাইয়ের ভিটে। সবার আলাদা আলাদা ঘর। শুধু এজমালি পুকুরকে বলা হয় ফিসারি, বাসন ধোয়া কাপড় কাচা স্নান করার সঙ্গে মাছের চাষও হয়। হাঁস মুরগির খামারের পাশে সার দিয়ে নারকেল আর খেজুর গাছ। আম কাঁঠাল লেবু লটকন কুল ফলসা গাছের সঙ্গে শেফালি কামিনী পদ্ম জবার মতো কিছু ফুলের গাছও আছে, স্যারের ভিটেয় আছে রজনীগন্ধা জুঁইয়ের গাছ। অবিবাহিত স্যারের খুব শখ ফুল গাছের। ভিটে আলাদা হলেও তাদের ভূসম্পত্তি দলিল করে আলাদা হয়নি এখনও। গ্রামের মুরব্বি বড়ো ভাইয়ের অভিভাবকত্বে সুখেই আছে তারা। বিবাহিত বোনেরা ভাগ ছেড়ে দিয়েছে। যদিও ফল পসারি মাছ ডিম মুরগির ভাগ পায় সবাই। মাঝে মাঝে গরু খাসিও জবাই হয়। কুরবানির পশু সারা বছর ভাইদের সেবা যত্ন পায়, বোনরা এলেও ঘাস পাতা খাইয়ে যায়।বিস্তর হালের জোত জমিও আছে গাজি বাড়ির, যার হিসেব পত্র স্যার নিজেও জানেন না। দুফসল ধান হয়, সর্ষে ফুলকপি বাঁধাকপি বেচেও আয় হয় শীতকালে। দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার ভোজেরহাট ভাঙড় শাকসর এলাকায় পাকা ফসলের দিগন্ত বিসারি জমির মালিক আছে স্যারদের মতো হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার।
কিছু দূরে যেখানে সুন্দরের আবাদ, দুরন্ত নোনা জলের ঢেউ ঢেউয়ে জীবন যেখানে জটিল সেখানে জলের মাঝখানে জমি অপ্রতুল, প্রতিদিন প্রতিরাতে লড়াই করে বেঁচে থাকার কথকতা সেখানে।
স্যারের প্রাইভেট পড়ুয়ারা সব আসে দুরদুরান্ত থেকে। নদীর পারের গ্রাম থেকে সাইকেল চালিয়ে, ভুটভুটি করে নামে গদখালি নাহয় গোসাবা। সবদিক থেকেই যাওয়া যায় স্যারের বাড়ি। কারও বাড়ি বিদ্যাধরী কারও মাতলার পারে। কেউ আসে ছোটো মোল্লাখালি কিংবা চম্পকনগর থেকে। শুধু শঙ্কর আর বসির দুজন থাকে পাশাপাশির গ্রামে, পাখিরালয় আর হিরাপাড়া। শঙ্করের বাবা অনেক দূরের নদীতে খালে খাঁড়িতে ছোটো ছোটো মাছ ধরে কাঠিজাল দিয়ে, ছোটো ভাই বিষ্ণু বাপের সঙ্গে যায়। লুপ্ত প্রায় ছোটো মাছের দর পাওয়া যায় ভাল, গুটিদাতিনা আমোদি গুলবাটা গুলসা বজুরি গণগইন্যা বৈরাগী রামশোষ তাড়িয়াল কিংবা দূর বলেশ্বরের চন্দনার দর ভাল ক্যানিং বাজারে। পড়াশুনা করে বলে শঙ্করের সাতখুন মাপ, মা রেঁধে খাওয়ায় আদরের বড়োপুত্রকে। শ্রাবণ মাসে শঙ্করের বড়ো কষ্ট, মাছ জোটে না পাতে, পুরো মাসটাই নিরামিষ। শ্রাবণী সংক্রান্তির পর গুলবাটার টক দিয়ে আবার শুরু। মাঝখানের সময়ে সে নানা কাণ্ড করে, নিজের বাড়ির হাঁস হ্যান্ডেলে ঝুলিয়ে নিয়ে যায় স্যারের বাড়ি, ব্যাচের বন্ধুদের সঙ্গে হয় ফিস্টি। প্রতিবেশি বাড়ির মুরগিও নিয়ে যায়। একদিন পথের থেকে একটি পাঁঠা উঠিয়ে নিয়ে এল, স্যার তো প্রমোদ গোনেন, বলেন,
–এর পরেরটা কী? ওটাও উঠিয়ে আনবি নাকি একটা ? তোর ধলির বাচ্চা?
— আনব স্যার। আপনি অ্যালাও করলেই আনব?
— এখন না, শ্রাবণ মাস শেষ হোক, এত যখন শখ তখন আমিরিয়া হোটেল থেকে নিয়ে আসিস এক প্লেট।
–আমি আনব কেন, আপনিও তো খাওয়াতে পারেন একদিন।
ছাত্রের এসব কথা শুনে মুচকি হাসেন গাজি স্যার। স্যার একটু কিপ্টে হলেও ফি বছর মনসা মন্দিরে পাঁচ কেজি চাল আর পাঁচ কেজি ডাল পাঠিয়ে দেন, বলেন তার ডোল, চাঁদা।

শঙ্কররা যখন ছাত্র তখন গাজি স্যার ছিলেন বামপন্থী, তার ভাই বিষ্ণু ঝাণ্ডা বইত, আসলে তখন তো সবাই লাল, লালে লাল। সরকার বদলের পর স্যার দল বদল করেন নি, অনেক মারপিট খেয়েও পার্টি করেছেন, শেষে ভাই ভাইপোরা বলল, বদলে ফেল। বলল, জানে মেরে ফেলবে যে। তিনি নিমরাজি হয়ে নিরপেক্ষ রইলেন।
বড়ো ঘূর্ণিঝড়ের পর ত্রাণ বণ্টনের সময় দেখলেন খুব অনিয়ম হচ্ছে। পুরনো ছাত্র শঙ্কর হরিদাস আবদুল বসির আনন্দরা এসে তাদের দুঃখের কথা বলে স্যারকে। বলে,
—সবাই লুটেপুটে খাচ্ছে স্যার।
— তোরাও লুটবি নাকি?
— না স্যার, কেউ পাত্তাই, দিচ্ছে না, আপনি না নামলে হবে না।
গাজি মাস্টারের আর নিরপেক্ষ থাকা হয় না, সরকার পক্ষে যোগ দেন। শঙ্করকে বলেন,
—তোর জন্যই আবার রাজনীতিতে এলাম, সঙ্গে থাকবি তো?
স্যার সবাইকে আলাদা করে একই কথা বলেন। তারাও সমস্বরে বলে,
— আমরা আছি স্যার, থাকব আপনার সঙ্গে।
শঙ্করকে বলেন,
— তোর ভাই বিষ্ণু কী করছে? ওকে আনতে পারিস না?
— ওটা একটু ঘাড়ুয়া আছে স্যার, বাবার খুব বাধ্য, জাল নিয়ে নদীতে যায়। ও আবার ঝাণ্ডা ছাড়বে না।
—পড়াশোনা তো করে নি, মাছ ধরে আর কমরেডগিরি করে কদিন চলবে?
— আমাদের এরকম করেই চলে যাবে স্যার।
— তুইও একই রকম নাকি, মৎস্য মারিব খাইব সুখে?
— না স্যার আমার ব্যাপার ভিন্ন, বাপ ভাই ইনকাম করে, আমাকে এক পয়সাও দেয় না।
— তাহলে তোর চলে কী করে।
— মাকে পটিয়ে যা পাই।
— পলিটিকস করতে হলে একটা স্থায়ী ইনকাম থাকতে হবে। না হলে লাথের কাঁঠাল হয়ে পাকবি, কিছুই করতে পারবি না।
— পারব স্যার, দেখে নেবেন।
— কী দেখব? কাটমানি? আমার সঙ্গে কাজ করলে ওসব চলবে না।
— না স্যার, আপনার কথা মতো চলব।
—চলবি তো? তাহলে আজ রাতটা আমার সঙ্গে থাক। রাতে কী খাবি? মাছ না মুরগি?
— ইয়ে খাওয়াবেন না স্যার?
— তুই খাস নাকি?
— খাই স্যার। বসির আর আব্দুল খাইয়েছে কুরবানির ইদে। আপনার বাড়িতেও তো হয়।
— হয়, তবে আমি খাই না।
ছাত্র শিষ্যের রাতের খাবারটা পেটপুরেই হয় আর সেই রাতেই শঙ্কর হিরা হিজলতলি দুগ্ধ সমবায়ের সভ্য হয়ে যায়। বাপের একটি দুধেল গাই আছে,সঙ্গে বাছুর। মাকে পটিয়ে কিছুদিন পর আর একটি কিনে নেয়। এক বছরের ভিতর হয়ে যায় সম্পাদক, রহিম স্যার স্থায়ী সভাপতি। সমবায়ে লাভ হয় প্রচুর। স্যার বলেন সাবাস। বলেন এমএলএ করে দেবেন। ষোলর নির্বাচনে স্যার মন্ত্রীও হয়ে গেলেন। শঙ্করও একটি স্কুল পেয়ে যায়, পরিচালন সমিতির সভাপতি। আরও কত কী। দিলেন যেমন নিলেনও অনেক কিছু। দুগ্ধ সমবায়টা নিয়ে বসিরকে দিয়ে দিলেন স্যার। শঙ্করের একটু মন খারাপ হয়, আসলে সৎপথে আয়ের উৎসটা যে চলে গেল।

২০১৯ এর ১৭ নভেম্বর চিন দেশের উহান শহরে পঞ্চান্ন বছর বয়সী একজনের দেহে নোভেল করোনার সংক্রমণ হয়। সেই এক থেকে এখন সারা বিশ্বে বাইশ কোটি মানুষ আক্রান্ত, প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ মৃত। গাজি স্যারের বাড়িতে বাংলা ইংলিশ উর্দুর মোট ছখানা দৈনিক আসে, স্যার সব পড়েন আর দেশ বিদেশের সংবাদ চ্যানেল গুলোও তো রয়েছে। নভেম্বরের শেষ দিকেই বলেছিলেন মহামারী আসছে, প্রস্তুত থাকতে। বলেছিলেন আমফান ঝড়ের জন্য রেডি থাকতে। চার মাস ছমাস আগের সতর্কতার কথা শঙ্কর কিছুই বুঝে নি।
বাইশ মার্চ জনতা কার্ফুর চৌদ্দ ঘণ্টার পর চারবার হল লকডাউন। কাঁসর ঘণ্টা বাজল মোবাইলের টর্চ জ্বলল অকাল দীপালিকা হল, কাজের কাজ কিছু হল না। লক্ষ লক্ষ লোক হেঁটে হেঁটে দেশে ফেরার পথে মরল, কিছু যারা কায়ক্লেশে বাড়ি ফিরল, তারাও অনশনে মৃত প্রায়। ষোলবার আনলক হল। সামাজিক দূরত্ব, মুখ ঢেকে রাখা, হাত ধোয়া, ঘরের বাইরে না যাওয়া এসব তো চলছে চলবে শৃঙ্খল ভাঙার প্রক্রিয়ায়।
প্রথম দিকে খুব ভয় পেয়েছিল শঙ্কর, সর্দিজ্বরে কিছু দিন কাবু থাকার পর দেখল বাপ ভাইয়ের ইনকাম কমে গেছে, মায়েরও হাত খালি, সমবায় হাত ছাড়া হয়েছে কবে, ইস্কুল থেকেও কিছু হওয়ার নয় এই পরিস্থিতিতে। তাই, কোভিড যুদ্ধে নেমে পড়তেই হয়, স্যারের ডাককে উপেক্ষা করা যায় না। দেশ বিদেশ থেকে ঔষধপত্র আসছে, টাকা পয়সা আসছে, এসব পৌঁছে দেওয়ার কাজে নেমে পড়ে মুখে মাস্ক পরে। দুমাস পরে আমফান ঝড়ে সব তছনছ করে দেয়, বাড়িতে থাকাই অসম্ভব হয়। গ্রাম ছেড়ে শহরের দিকে পা বাড়ায় শঙ্কর। মা বাবা ভাই কেউই বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাজি নয়। বিষ্ণু বলল পাড়া প্রতিবেশির দুর্দিনে পাশে থাকবে, তার বাবারও তাই মত। মা বলল বাড়ির হাঁস ছাগল গাইগোরু দেখবে কে। শঙ্কর বলল প্রাণে বাঁচলে গাইগোরু আবার হবে। বিষ্ণু বলল,
— আর পাড়া প্রতিবেশি? জন্ম থেকে আছি যাদের সঙ্গে?
— তুই থাক তোর পাড়া প্রতিবেশি নিয়ে, সবই তো মুসলমান। ওদের দেখার লোক আছে। বসির আছে রহিম মাস্টার দেখবে।
তুমুল বৃষ্টির মধ্যে শঙ্কর বেরিয়ে যায় ঘর ছেড়ে। গোরুঘর থেকে তখন কালি আর ধলিও করুণ স্বরে হাম্বা ডেকে ওঠে। যেন মিনতি করছে অবলা জীব, যেও না।
শঙ্করের হিসেব অন্যরকম, সামনে ইলেকশন, বুঝে গেছে রাজনীতির বড়ো জটিল খেলা এবার। রহিম স্যার আর তেমন পাত্তা দিচ্ছে না ওকে। টিকিট ফিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা কম, স্যার নিজেই দাঁড়াতে পারবে কিনা জানে না। দশ বছরের সরকারি দলটাও নড়বড়ে, জেতার আশা কম। শঙ্কর এখন হিন্দিতে কথা বলতে শিখে গেছে, রাজভাষা জানলে নতুন দলে ভিড়ে যাওয়া সহজ। রহিম স্যারের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক প্রচার দিয়ে সে প্রাথমিক ভিত তৈরি করে রেখেছে। ঝড়ের সময় নতুন দলের হেস্টিংস অফিসে গিয়ে লাঠি খেলাও শিখে এসেছে।
ঝড় শেষ হতে গ্রামে ফিরে এসে দেখে কালি ধলি দুটোই নেই। তখনই মোক্ষম চালটা দেয় শঙ্কর হিরা। রটিয়ে দেয় বসিররা গাইগোরু দুটো কেটে খেয়েছে। গ্রামে গ্রামে শুরু করে কানাকানির প্রচার, নতুন বন্ধুদের নিয়ে হিন্দুবাড়ি গিয়ে উত্তেজিত ভাষণ দেয়, বলে, গোরু আমাদের মা, মাতৃহত্যার অপরাধীদের শাস্তি পেতেই হবে, আমাদের সরকার গড়তে হবে। শঙ্করের দল সাধারণ মানুষের সমর্থন পায় ধর্মভরা। বিধানসভা নির্বাচনে শঙ্কর হিরার প্রার্থী হওয়া নিয়ে কানাঘুষা শুরু হয়ে যায়।
ভাই বিষ্ণু কিন্তু আসল ঘটনাটা জানে আদ্যোপান্ত। গাইগোরু দুটো উধাও হওয়ার পুরো ঘটনাই সে জেনে গেছে। মার্চ মাসের আঠেরো তারিখে তখনও এদিক ওদিক দুশো কিলোমিটার বেগে ছুটছে ঝড়। অসহায় মানুষ নিজের সম্বল বাঁচাতে ব্যস্ত, তখন কি আর কেউ এত খেয়াল রাখে কার জিনিষ কে নিয়ে যাচ্ছে। শঙ্করের দলবল এসে রাতের অন্ধকারে দুটো গোরুরই বাঁধন খুলে নিয়ে যায়। বিষ্ণু তখন জলস্রোতে আটকে পড়া পাশের গাঁয়ের মদন কাপালির পরিবারকে উদ্ধার করে নিয়ে এসেছে গদখালি। সকাল বেলা ফেরিঘাটে দাঁড়িয়ে জানতে পারে তার দাদার কীর্তি। বিষ্ণু মা বাবা ছাড়া কাউকে বলেনি কিছু। কিন্তু বসিরদার উপর সাম্প্রদায়িক আরোপ লাগাতেই পার্টিকে জানিয়ে দেয়। পার্টি বলে কাউকে কিছু বলার দরকার নেই। প্রমাণ হবে না কিছুই। তার উপর আপন ভাই, সংবাদ মাধ্যম বলবে পারিবারিক কোন্দল, ভাইয়ে ভাইয়ে বিবাদ। ভোটে জিতে আবার ক্ষমতায় ফেরার স্বপ্নে বিভোর বিষ্ণু একটু দমে যায়। ছেঁড়া জাল সারাই করতে করতে বাবা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ছেলেকে বলে,
— কী আর করবি, ঝাণ্ডা ছাড়িস না বাপ।
— না ছাড়ব না। এবার আমরাই জিতব। হাওয়া জোটের পক্ষে, কী বিশাল বিগ্রেড হল!

এ এক অবাক করা নির্বাচন এবার। করোনার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ভোটের প্রচার, মিটিং আর ভোটের লাইন। তিন দলই ভাবছে তারা জিতবে, ভোটশকুন সংবাদ মাধ্যমও এবার বিভ্রান্ত। মুসলমান বিরোধী দল তো কয়েকজন মুখ্যমন্ত্রীও ঠিক করে রেখেছে। রহিমস্যারের সরকারি দল স্যারকে টিকিট দেবে না এবার। সবাই ভেবেছিল স্যার হয়তো বসিরের পক্ষে ছেড়ে দিয়েছেন জেতা সিট। কিন্তু শেষ মুহূর্তে চিত্রতারকা অসিত হালদারের নাম ঘোষিত হয়। শঙ্করের দলেও স্থানীয় কেউ মনোনয়ন পায় না, জয় সন্তোষী মা সিনেমা খ্যাত অনিতা দত্তকে নিয়ে আসা হয় মুম্বাই থেকে। আর তৃতীয় পক্ষে জোট প্রার্থী কুড়ি টাকা ভিজিটের ডাক্তার তজমুল আলি। বিষ্ণু আর তার বাবার নাওয়া খাওয়া মাছধরা বন্ধ, ঝাণ্ডা কাঁধে গ্রামে গ্রামে প্রচার করছে গলা ফাটিয়ে, ইনকিলাব জিন্দাবাদ।

আটদফা ভোটের প্রথম দফা শেষ হয় বেশ মার দাঙ্গা দিয়ে। রাজ্য ও কেন্দ্র পুলিশে খেলা হয় বিস্তর, এই খেলা চলবে একমাস পর্যন্ত। ভোটের শেষে শঙ্কর গাজি স্যারের বাড়ি যায় হাসি মুখে। বলে,
— যা হোক একটা ভোট হল স্যার!
— প্রতিবারই তো হয়। এ আর নতুন কী?
— এবার আলাদা স্যার, অন্যবার তো আমরা থাকি না। মিঠুনদা চিফ মিনিস্টার হলে কেমন হবে স্যার?
— বাংলায় তোরা জিতবি না, যে দল আছে তারাই থাকবে।
— থাকুক না, আমার তাতে কী?
— মানে? আবার পাল্টাবি?
— না, আপনার বাড়িতে থাকব আজ।
— আমার বাড়িতে থাকবি মানে? আমাকে নিয়ে কী যা তা বলেছিলিস মনে আছে?
— আছে স্যার, সবই তো আপনার কাছ থেকে শেখা
— বসিরকে নিয়ে ওসব বললি কেন?
— বুথে দেখা হয়েছিল, কথা হয়েছে, বসিরও আসবে বলেছে।
— থাকবে? তোদের রকম সকম বুঝি না, আজকেই থাকতে হবে তোদের? মাত্র শেষ হল ভোট, লোকে জানলে কী বলবে?
— যা ব্বাবা, স্যারের বাড়িতেও থাকতে পারব না? নিজের বাড়ি তো কবে থেকেই শত্রুপুরি।
— একমাস পরই ইন্দ্রপুরি হয়ে যাবে, রামরাজ্য গড়বি না?
— আপনিও স্যার? তবে আপনারা জিতবেন না।
— দেয়াল লিখন পড়েছিস? তাহলে কে জিতবে?
— ফাঁকতালে তজমুল বেরিয়ে যেতে পারে।
— তাই? বাংলার ভোটারকে এত বোকা ভাবিস? রাতে কী খাবি বল? ইয়ে খাবি? নিয়মভঙ্গ করতে পারি, আজ খেতে পারি তোদের সঙ্গে।
খুশিতে ডগমগ শঙ্কর স্যারের মুখে তাকিয়ে মুচকি হাসিতে বলে,
— আপনি তো সব জানেন, বলুন না স্যার?
রহিম গাজি স্যার শঙ্করের দুমুখো প্রশ্নের জবাব হাসিমুখের নীরব রহস্য দিয়ে ঢেকে রাখেন আপাতত।

Facebook Comments

Leave a Reply